বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 96 টি।
সৌরজগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।
56:1 নং আয়াহ : যখন প্রতিক্ষিত ঘটনাটি (সৌরজগতের ধ্বংস) ঘটবে [75:8-9, 79:8]।
সৌরজগতের ধ্বংস আঁটকানো সম্ভব নয়।
56:2 নং আয়াহ : তখন ঘটনাটি আঁটকানোর মতো কেউ থাকবে না [52:7-8]।
মানুষ একদিন সৌরজগতের বাইরে যাবে।
56:3 নং আয়াহ : তাতে (সৌরজগতের ধ্বংসে) কেউ শেষ হয়ে যাবে, কেউ পালিয়ে [51:22-23] বাঁচতে পারবে।
# মানুষ একদিন আমাদের অকল্পনীয় বড় মহাবিশ্ব থেকেও বের হতে পারবে। দেখুন 55:33 আয়াহ।
সৌরজগৎ ধ্বংসের আগে পৃথিবীর যে অবস্থা হবে।
56:4 নং আয়াহ : (তার আগে) যখন (টেকটোনিক প্লেটের) সঞ্চালনে পৃথিবীকে প্রকম্পিত [73:14] করা হবে।
56:5 নং আয়াহ : আর পাহাড় পর্বত [101:5] গুলোকে চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে।
56:6 নং আয়াহ : অতঃপর তা (পাহাড় পর্বত) বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় [20:105] পরিণত হবে।
বিচার দিবসে মানুষ তিন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে।
56:7 নং আয়াহ : এবং (বিচার দিবসে) তোমরা তিনটি দলে বিভক্ত হবে।
ডানপন্থীরা উত্তম।
56:8 নং আয়াহ : সুতরাং ডানের দল, কতই না উত্তম ডানের দলটি [84:7-9, 90:18]
বামপন্থীরা নিকৃষ্ট।
56:9 নং আয়াহ : আর বামের দল, কতই না নিকৃষ্ট বামের দলটি [90:19, 84:10-13]।
অগ্ৰগামী আসলে কারা??
56:10 নং আয়াহ : অগ্ৰগামীরাই সর্বক্ষেত্রে অগ্ৰাধিকার পাবে।
# অগ্ৰগামী কারা?? যাদের বিচার হবে না। এখন প্রশ্ন হবে- “তারা কারা”?? হাদীশ রয়েছে, নাবী (সা) বলেছেন- “আমার উম্মতের 70 হাজার মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের মধ্যে 4 টি গুণ থাকবে- A) তারা শরীরে লোহা গরম করে দাগ দেয় না। B) ঝাড়ফুঁক করে না, করায় না। C) কুলক্ষণ ও সুলক্ষণে বিশ্বাস করে না। D) সর্বদাই আল্লাহর উপর নির্ভর করে”(বুখারী, হাদীশ 6541 ও মুসলিম, হাদীশ 220/1)। এছাড়াও অন্য হাদীশে বলা হয়েছে- “প্রত্যেক হাজারের সঙ্গে থাকবে আরও 70 হাজার (49 লক্ষ) মানুষ”। এখানেই শেষ নয়, এই হাদীশে আরও বলা হয়েছে- “আরও থাকবে আমার প্রভুর 3 মুঠো পরিমাণ” (ইবনে মাজাহ, হাদীশ 4286)। এখন আল্লাহর ঐ 3 মুঠোয় কত মানুষ থাকবে, তা অকল্পনীয়।
মানুষের মধ্যে কারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে??
56:11 নং আয়াহ : তারাই তো (আল্লাহর) নৈকট্য লাভ করবে।
অগ্ৰগামীদের পরিণতি।
56:12 নং আয়াহ : তারা থাকবে নিয়ামত/ অনুগ্রহে পূর্ণ জান্নাতে।
ডানপন্থীরা সংখ্যায় বেশি হবে।
56:13 নং আয়াহ : পূর্ববর্তী (ডান হাতে আমলনামা পাওয়া মানুষরা) সংখ্যায় হবে বেশি।
অগ্ৰগামীরা ডানপন্থীদের তুলনায় সংখ্যায় কম হবে।
56:14 নং আয়াহ : পরবর্তী (অগ্ৰগামীরা) সংখ্যায় হবে কম।
অগ্ৰগামীদের আসন কেমন হবে??
56:15 নং আয়াহ : তারা (অগ্ৰগামীরা) বসবে স্বর্ণ খচিত আসন সমূহে।
অগ্ৰগামীদের বসার পদ্ধতিটা কেমন হবে??
56:16 নং আয়াহ : তারা সেখানে হেলাল দিয়ে পরস্পর মুখোমুখি [37:44] হয়ে বসবে।
# সাধারণ জান্নাতীরাও সাধারণ আসনে হেলাল দিয়ে বসবে। দেখুন 55:76, 76:13 আয়াত।
অগ্ৰগামীদের খাবার পরিবেশন করবেন কারা??
56:17 নং আয়াহ : তাদের কাছে (খাবার পরিবেশন করার জন্য) ঘোরাফেরা [76:19] করবে ‛সুদীর্ঘ কাল স্থায়ী’ সন্তানরা (১)।
১) সন্তানরা বলতে কারা?? মানুষদের মৃত নাবালক সন্তানরা, এদেরকে 52:24 এ বলা হয়েছে ‛গিলমান’। এই নাবালক মৃত সন্তানদের মাতাপিতা যে কোনও ধর্মের হতে পারে (বুখারী, হাদীশ 1386)। আর বুখারীর 7047 এ বলা হয়েছে- “অমুসলিমদের মৃত নাবালক সন্তানরা জান্নাতী”। নাবালক বলতে?? 15 বছরের আগ পর্যন্ত সন্তানরা নাবালক থাকে (বুখারী, হাদীশ 2664)।
56:18 নং আয়াহ : (ঘোরাফেরা করবে) পানপাত্র, হাতল যুক্ত পাত্র এবং মদের ঝর্ণা [47:15] হতে তুলে আনা পেয়ালা ভর্তি মদ [37:45-47] নিয়ে।
অগ্ৰগামীদের জান্নাতী মদের বৈশিষ্ট্য।
56:19 নং আয়াহ : যা (পান করে) না তাদের মাথা ঘুরাবে, আর না জ্ঞান কম হবে।
অগ্ৰগামীদের পছন্দ মতো ফল নিয়ে ঘুরবে পরিবেশনকারীরা।
56:20 নং আয়াহ : আর ঘোরাফেরা করবে তাদের পছন্দ মতো ফল মূল [77:41-42] নিয়ে।
অগ্ৰগামীদের জন্য থাকবে ভিন্ন ভিন্ন পাখির মাংস রান্না।
56:21 নং আয়াহ : তাদের জন্য থাকবে ভিন্ন ভিন্ন পাখির মাংস রান্না। তা হতে তারা চাইলেই নিয়ে খেতে পারবে।
অগ্ৰগামীদের বিশেষ প্রতিদান হবে হূর।
56:22 নং আয়াহ : আর তাদের জন্য সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট/ বিশিষ্টা হুরগণ [55:56, 44:54]
# অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে যে, হুর হল- নারী। আসলে তা নয়। হুর শব্দের অর্থ- সাদা পোষাক পরিহিত/ পরিহিতা। জান্নাতে নারীরা পুরুষ হূর পাবে, পুরুষরা নারী হূর পাবে (2:25, 4:57)। তবে হুর তাদের জন্য, যারা অবিবাহিত অবস্থায় মারা গিয়েছেন। যদিও বিবাহিত/ বিবাহিতারাও চাইলে হুর পেতে পারে (50:35)।
হুরদের সৌন্দর্য্যের উদাহরণ।
56:23 নং আয়াহ : তাদের উদাহরণ [55:58] হল- যেন লুকিয়ে রাখা মুক্তা
56:24 নং আয়াহ : এটা তাদের সেই কর্মের প্রতিদান, যা তারা করেছিল।
জান্নাতে কোনও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা হবে/ থাকবে না।
56:25 নং আয়াহ : তারা সেখানে শুনবে না কোনও ফালতু কথাবার্তা, আর না শুনবে পাপযুক্ত [78:35, 19:62, 15:47, 7:43] কথাবার্তা
অগ্ৰগামীদের সকাল ও সন্ধ্যায় সালাম প্রদান করা হবে।
56:26 নং আয়াহ : তবে তাদেরকে বলা হবে- “সালাম, সালাম” [36:58]।
# দুই বার সালাম বলার অর্থ হল- সম্ভবত সকাল ও সন্ধ্যায় সালাম বলা হবে। এর সমর্থনে 19:62 দেখতে পারেন।
# শুধুই কি “সালাম, সালাম” বলা হবে?? না, এমনটা বলা হবে না। বরং বলা হবে- “সালাম, সালাম”। কিন্তু কিভাবে/ কোন পদ্ধতিতে বলা হবে, সেটা এখানে বলা হচ্ছে না। মানে সালাম বলা হবে, “সালাম” শব্দটা বলা হবে না। তাদেরকে বলা হবে- আসসালামু আলাইকুম। এটাই সালাম।
উদাহরণ দিই। আমি একজনকে গালি দিলাম। তার মানে এই নয় যে, “গালি” শব্দটা বললাম। বরং গালি হিসাবে তাকে শুয়োরের বাচ্চা বা কুকুরের বাচ্চা বললাম। মানে “শুয়োরের বাচ্চা, কুকুরের বাচ্চা” বলাটা গালি। গালি বলতে “গালি” শব্দটা নয়। তেমনই সালাম বলতে এখানে- “সালাম” শব্দটা নয়। সালাম বলতে এখানে- “আসসালামু আলাইকুম”।
তারমানে এখানে “সালাম” শব্দটি ‛খবর’ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ নাকেরা হিসাবে। যারা ব্যাকারণ বোঝেন না, তারা মনে করেন- “সালাম” এখানে মারেফা। কিন্তু তা নয়। বরং সালাম এখানে ‛খবর’ এবং নাকেরা।
ডানপন্থীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সমস্ত দয়া পাবেন।
56:27 নং আয়াহ : সুতরাং ডানের দল, কতই না উত্তম ডানের দলটি [90:18, 84:7-9]।
ডানপন্থীদের স্থান হবে কাঁটা বিহীন কুল গাছ সমূহে এবং কলা বাগানে।
56:28 নং আয়াহ : তারা (জান্নাতে) থাকবে কাঁটা বিহীন কুল গাছ সমূহের মধ্যে।
56:29 নং আয়াহ : (কলা গাছ) সমূহের মধ্যে, যাতে থাকবে থরে থরে সাজানো কলা।
জান্নাতের ছায়া ও নদনদী কেমন হবে??
56:30 নং আয়াহ : (সেখানে) বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে থাকবে ছায়া [13:35]।
# একটি হাদীশ- “জান্নাতের গাছের ছায়া এত বিস্তীর্ণ হবে যে, একজন ঘোড়ায় চড়ে 100 বছর ছায়ার মধ্যে যাত্রা করতে পারবে”(বুখারী, হাদীশ 4881)।
56:31 নং আয়াহ : আর তারা থাকবে সদা সর্বদা প্রবাহিত হতে থাকা জলধারার কাছে।
জান্নাতে গাছের ফলমূল কখনও শেষ হবে না।
56:32 নং আয়াহ : আর তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাবে ফলমূল [69:23]।
56:33 নং আয়াহ : যা না কখনও শেষ [38:54] হবে, আর না তাদেরকে খেতে কখনও নিষেধ করা হবে [13:35]।
জান্নাতীরা পাবেন শয্যা সঙ্গী/ সঙ্গিনী।
56:34 নং আয়াহ : আর তাদের জন্য থাকবে শয্যা সঙ্গী/ সঙ্গিনী, যারা হবে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন।
জান্নাতে সবাই হবে সুদর্শন/ সুদর্শনা।
56:35 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে নতুন রুপে সৃষ্টি করব।
# জান্নাতে কেউ বৃদ্ধ বৃদ্ধা থাকবে না। আর সবাই হবে 32-33 বছরের সুদর্শন সুদর্শনা (78:33, 55:70)।
জান্নাতে সবাই হবে চিরকুমার/ চিরকুমারী।
56:36 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা তাদেরকে চিরকুমার/ চিরকুমারী বানিয়ে দেব।
# জান্নাতে কারোর বয়স বাড়বে না, কেউ বৃদ্ধ বৃদ্ধা হবে না। সবাই হবে চিরকুমার/ চিরকুমারী।
জান্নাতে প্রেম করা যাবে, আর সবাই হবে সমবয়সী।
56:37 নং আয়াহ : তারা হবে প্রেমিক/ প্রেমিকা এবং সম বয়স্ক।
56:38 নং আয়াহ : এই সমস্ত কিছু ডানের দলের জন্য।
অন্যান্য নাবী (আ) দের অনেকেই হবে ডানপন্থী।
56:39 নং আয়াহ : তারা পূর্ববর্তী উম্মাতদের মধ্যে থেকে অনেক,
নাবী (সা) এর উম্মাতের অনেকেই হবে ডানপন্থী।
56:40 নং আয়াহ : এবং শেষ উম্মাতদের মধ্যে থেকেও অনেক।
বামপন্থীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সমস্ত শাস্তি পাবে।
56:41 নং আয়াহ : আর বামের দল, কতই না নিকৃষ্ট বামের দলটি [90:19, 84:10-13]।
■ নক্ষত্র গুলোই জাহান্নাম। ■ নক্ষত্রে পারমাণবিক বিক্রিয়া হয়।
56:42 নং আয়াহ : তারা থাকবে পারমাণবিক বিক্রিয়া এবং প্লাজমার কেন্দ্রে [69:16-17, 77:31:33]।
# নক্ষত্রে সারাক্ষণ চলতে থাকে ফিউশন প্রক্রিয়া। যার ফলে প্রতিনিয়ত হাইড্রোজেন হেলিয়ামে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপাদন করে। জাহান্নামীরা থাকবে নক্ষত্রের একেবারে কেন্দ্রে। আর নক্ষত্রের কেন্দ্র থেকে কয়েক লক্ষ কিমি দূরে পারমাণবিক বিক্রিয়া চলতে থাকে। এখানে সেটাই বলা হচ্ছে যে, তারা থাকবে পারমাণবিক বিক্রিয়া ও প্লাজমার কেন্দ্রে।
জাহান্নামে থাকবে কালো ছায়া/ দাগ।
56:43 নং আয়াহ : এবং (তারা) থাকবে গ্যাস সৃষ্ট কালো ছায়া/ কালো দাগের মধ্যে।
# কালো ছায়া/ কালো দাগকে সূর্যের ক্ষেত্রে আমরা সৌর দাগ/ সৌর কলঙ্ক বলি।
জাহান্নামে কালো ছায়া/ দাগ শীতল ও আরামদায়ক হবে না।
56:44 নং আয়াহ : যা না হবে শীতল, আর না হবে তাদের জন্য আরামদায়ক।
# ছায়া/ দাগ হলেও তা মোটেও শীতল হবে না। আর আরামদায়ক তো কখনও হবে না। কেননা, সূর্যের তাপের উৎস সূর্যের বাইরে নয়, বরং ভিতরে।
■ বামপন্থীদের বৈশিষ্ট্য। ■ তারা জাহান্নামে যাবে কেন??
56:45 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তারা ওর পূর্বে বিলাসীতায় মত্ত ছিল [7:31]।
56:46 নং আয়াহ : আর তারা বিরতিহীন ভাবে বড় বড় পাপ কর্মে লিপ্ত ছিল।
তারা আর কি কি বলতো??
56:47 নং আয়াহ : আর তারা বলত- “যখন আমরা মারা যাব এবং হাড়গোড় গ্ৰহের পদার্থের সঙ্গে মিশে যাবে, তখন কি আমরা আবার উত্থিত হব??
56:48 নং আয়াহ : অথবা আমাদের বাপদাদা ও পূর্ববর্তীরাও”??
56:49 নং আয়াহ : বলুন- “নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তীরাও [37:16-18]।
তাদেরকে জবাব।
56:50 নং আয়াহ : অবশ্যই একত্রিত করা হবে নিদিষ্ট সময়ে, নির্ধারিত দিনে” [20:15, 69:16-17]।
জাহান্নামীদের খাদ্য কি হবে??
56:51 নং আয়াহ : তারপর নিশ্চয়ই হে পথভ্রষ্টরা এবং মিথ্যাবাদীরা,
56:52 নং আয়াহ : তোমাদেরকে খেতে দেওয়া হবে কুল গাছের কাঁটা [88:6]।
56:53 নং আয়াহ : অতঃপর তোমরা তা দিয়েই তোমাদের পেট সমূহ পূর্ণ করবে [88:7]।
জাহান্নামীদের পানীয় কি হবে এবং কিভাবে তা পান করবে??
56:54 নং আয়াহ : অতঃপর তার উপর পান করানো হবে প্লাজমা [56:42, 88:5]।
56:55 নং আয়াহ : অতঃপর তোমরা পিপাসার্ত উঠের মতো পান করতেই থাকবে।
# উটের এক ধরণের রোগ হয়, যে কারণে উট লাগাতার পানি পান করতে থাকে।
56:56 নং আয়াহ : এটা কিয়ামত দিবসে তাদের জন্য আপ্যায়ন।
মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি।
56:57 নং আয়াহ : আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি [2:21] করেছি, তাহলেও সেই সত্যটা স্বীকার করছো না কেন??
বীর্য সম্পর্কে ভাবার নির্দেশ।
56:58 নং আয়াহ : তোমরা ভেবে দেখছো কি বীর্য সম্পর্কে, যা তোমরা বের করো??
56:59 নং আয়াহ : তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, নাকি আমরা তা সৃষ্টি করি??
শরীরেই রয়েছে ‛মৃত্যুর কারণ’।
56:60 নং আয়াহ : আমরা তোমাদের শরীরের মধ্যেই ‛মৃত্যু্র কারণ’ স্থাপন করেছি। আর আমরা (এ ব্যাপারে) অক্ষম নই।
# আমরা মরি কেন?? আসলে মৃত্যু নির্ভর করে কোষের মৃত্যুর উপর। সাধারণত কোষের মৃত্যু হয়, কোষ বিভাজনের মাধ্যমে আবার নতুন কোষ তৈরি। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। কিন্তু একটা পর্যায়ে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে কমে যায়। তখন নতুন কোষ তৈরি হওয়ার চেয়ে কোষের মৃত্যু অধিক হয়।
একটা পর্যায়ে কোষের মৃত্যুর হার এত বেশি বেড়ে যায় যে, শারীরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো জীবিত কোষ শরীরে থাকে না। তখন আত্মাকে বহন করার ক্ষমতা কোষ হারিয়ে ফেলে। তখন মৃত্যুর ফেরেস্তা এসে প্রাণ হরণ করে নিয়ে যাবে। এই হল- মৃত্যু।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল- নতুন কোষ তৈরি হওয়া কমে যায় কেন?? আসলে ক্রোমোজোমের চারটি শাখার শেষ প্রান্তে টিলোমিয়ার (Telomere) থাকে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে (40 বছর পর থেকে) টিলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে।
ফলতঃ শরীরে কোষ বিভাজন কমতে থাকে। আর একটা পর্যায়ে টিলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য শূন্য হয়ে যায়, তখন কোষ বিভাজিত হতে পারে না, বিভাজন থেমে যায়। এর ফল হল- মৃত্যু। অর্থাৎ মৃত্যুর কারণ আমাদের শরীরেই স্থাপিত রয়েছে।
মানুষের সৃষ্টি প্রক্রিয়া পরিবর্তন হবে।
56:61 নং আয়াহ : এও যে, আমরা তোমাদের সৃষ্টির/ জন্মের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন নিয়ে আসব এবং এমন ভাবে সৃষ্টি করব/ জন্ম দেব, যা তোমরা (এখন) জানই না।
# আগে শুধু স্বামী স্ত্রীর যৌনমিলনে স্ত্রী গর্ভধারণ করত, কিন্তু এখন স্ত্রী শরীরে জাইগোট তৈরি হলেই ভিন্ন কোনও নারী গর্ভে প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে। এমনকি স্বামীর থেকে শুক্রাণু, স্ত্রীর থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে তাকে নিষিক্ত করিয়ে ভিন্ন কোনও নারীর গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়ত কৃত্রিম গর্ভধারণও সম্ভব হবে। এখানে সেই সম্পর্কেই ভবিষ্যৎ বাণী করা হয়েছে।
বিগব্যাঙ সম্পর্কে ‛জানার’ ভবিষ্যৎ বাণী।
56:62 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই তোমরা একদিন জানতে পারবে প্রথমবার সৃষ্টি (প্রথম বিগব্যাঙ) সম্পর্কে [51:47, 21:104]। সুতরাং তোমরা জ্ঞান অর্জন করছো না কেন??
# প্রথমবারের সৃষ্টি সম্পর্কে জানাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেন?? কারণ সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করলেই জানতে পারা যাবে মহাবিশ্বের সংকোচন ও বিগ ক্রাঞ্চ সম্পর্কে। আর তাহলে খুব জানা যাবে পুনরুত্থান সম্পর্কে (21:104, 69:16-17)।
বীজ/ গাছ সম্পর্কে তথ্য গুলো সম্পর্কে ভাবার নির্দেশ।
56:63 নং আয়াহ : তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যে বীজ তোমরা বপন কর, তার সম্পর্কে??
56:64 নং আয়াহ : তোমরা কি তার জন্য পুষ্টি উপাদান সৃষ্টি করেছো, নাকি আমরা তার পুষ্টি উপাদান সৃষ্টি করেছি??
56:65 নং আয়াহ : আমরা চাইলে তা পরিণত করতে পারি খড়কুটায়। তখন তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়তে।
# কিভাবে?? বীজে/ গাছে পুষ্টি উপাদান সাপ্লাই বন্ধ করে দিলেই হবে। বিশেষ কিছু করতে হবে না।
56:66 নং আয়াহ : (তখন বলবে হয়ত) “নিশ্চয়ই আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লাম!
56:67 নং আয়াহ : (এও বলবে যে) আমরা বঞ্চিতও হয়ে গেলাম”।
ভূগর্ভস্থ পানি কোথায় থেকে আসে??
56:68 নং আয়াহ : তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যে পানি তোমরা পান [80:26] কর, সেই সম্পর্কে??
# বলে রাখা ভালো- প্রাচীন যুগের মানুষরা জানত না যে, ভূগর্ভস্থ পানির উৎস কি?? 56:68 ও 56:69 আয়াতে বলা হচ্ছে- ভূগর্ভস্থ পানির উৎস বৃষ্টির পানি।
আল্লাহই মেঘ থেকে বৃষ্টি নামান।
56:69 নং আয়াহ : তা কি তোমরা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, নাকি আমরা নামাই??
# গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে- “এখন তো কৃত্রিম বর্ষণ সম্ভব, এখন তো মানুষও বৃষ্টি নামাতে পারে। তাই এই আয়াহ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল”। আসলে কুরআন ভুল নয়, এখানে সামান্য বোঝার ভুল রয়েছে। বৃষ্টি পৃথিবীতে নেমে আসে কেন?? পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ বলের কারণে। তাই না??
এখন বলুন- মধ্যাকর্ষণ বল কি আল্লাহর সৃষ্ট, নাকি বিজ্ঞানীরা তা সৃষ্টি করেছেন?? অবশ্যই আল্লাহ। এতএব বৃষ্টি আল্লাহই নামিয়ে আনেন। তবে হ্যাঁ, বিজ্ঞানের ব্যবহার করে “বৃষ্টি প্রক্রিয়া শুরু করা” যেতে পারে। বৃষ্টি শুরু করা, আর নামিয়ে আনা- দুটি ভিন্ন বিষয়। আল্লাহ নামিয়ে আনার কথা বলছেন।
পৃথিবীর মিঠা পানির ভান্ডার লবণাক্ত হতে পারে।
56:70 নং আয়াহ : আমরা চাইলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর না কেন??
# প্রশ্ন হবে- কিন্তু কিভাবে?? সমুদ্র/ সাগর/ মহাসাগরের পানি লবণাক্ত কেন?? নদনদী মাটি থেকে লবণ নিয়ে সমুদ্র/ সাগর/ মহাসাগরে যায়। কোটি কোটি বছর ধরে সমুদ্র/ সাগর/ মহাসাগরের পানি লবণাক্ত হয়েছে। অথচ ঐ মাটি দিয়েই ভূগর্ভস্থ পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তা মিঠা। এখানে সেটাই বলা হচ্ছে।
কয়লা দ্বারা তাপ/ তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভবিষ্যৎ বাণী।
56:71 নং আয়াহ : তোমরা ভেবে দেখেছ কি যে, তোমরা (কয়লা দ্বারা) যে তাপ [87:5] উৎপাদন কর, সেই সম্পর্কে??
# কয়লা দ্বারা যে তাপ মানুষ উৎপাদন করে, তারই উন্নত সংস্করণ হল- তাপ বিদ্যুৎ। পবিত্র কুরআন কয়লা দ্বারা তাপ উৎপাদনের কথা বলে প্রকৃতপক্ষে তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথাই এখানে বলেছে।
56:72 নং আয়াহ : তোমরা কি গাছ সৃষ্টি করেছিলে, নাকি আমরা তা সৃষ্টি করেছিলাম??
পৃথিবীতে জীবনের জন্য গাছ কতটা জরুরি??
56:73 নং আয়াহ : আমরা তাকে (গাছকে) বানিয়েছি জ্ঞান অর্জনের বিষয়বস্তু [36:80]। যা গ্ৰহের বাসিন্দাদের জন্য অপরিহার্য।
ভিন্ন অনুবাদ : আমরা তাকে (তাপকে) বানিয়েছি জ্ঞান অর্জনের বিষয়বস্তু। যা জন্য গ্ৰহের বাসিন্দাদের অপরিহার্য।
# দিনের বেলা পৃথিবীর নিদিষ্ট অংশে সূর্য তাপ আসে, ফলে পৃথিবী গরম হয়। রাতে সূর্য তাপ আসে না, কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই অংশের তাপমাত্রা শূন্য হয়ে যায় না। যদি শূন্য হয়ে যেত, তাহলে পৃথিবী জীবন ধারণের জন্য উপযোগী থাকত না। কিন্তু পৃথিবীতে বায়ুমণ্ডল থাকার জন্য পৃথিবীতে নিদিষ্ট তাপমাত্রা বজায় থাকে। আর এই তাপমাত্রা জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য। সেটাই এখানে বলা হচ্ছে।
আল্লাহর পবিত্রতা বর্নণার নির্দেশ।
56:74 নং আয়াহ : এতএব পবিত্রতা বর্ণনা করুন আপনার প্রভুর নামের, যিনি মহান [56:96, 55:78]।
নক্ষত্র সমূহ ব্ল্যাকহোলে ধ্বংস হয়।
56:75 নং আয়াহ : সুতরাং (তাদের কথা মান্য) নয়, আমি শপথ করছি নক্ষত্র সমূহের ধ্বংস [79:2, 81:2] হওয়ার স্থানের।
56:76 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই তা বিরাট বড় শপথ। যদি তোমরা জানতে!
কুরআন মহা সম্মানিত।
56:77 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তা কুরআন, যা মহা সম্মানিত [85:21]।
কিতাবিম মাকনূন/ লৌহে মাহফুজ্ব।
56:78 নং আয়াহ : যা রয়েছে কিতাবিম মাকনূন/ গুপ্ত কিতাবে (লৌহে [85:22] মাহফুজ্বে)।
লৌহে মাহফুজ্ব স্পর্শ করতে পারে শুধু ফেরেস্তারা।
56:79 নং আয়াহ : তা (লৌহে মাহফুজ্ব) পবিত্ররা ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ [26:210-212] করতে পারে না।
# এই আয়াহকে অনেকে এভাবে উপস্থিত করেন- “তা (পবিত্র কুরআন) পবিত্ররা (ফেরেস্তারা) ছাড়া কেউ স্পর্শ করতে পারে না”। কিন্তু প্রসঙ্গ দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে/ পরিষ্কার হতে বাধ্য। এছাড়াও এর সমর্থনে বর্ণিত একটি হাদীশ নিয়ে আসেন- “পবিত্র না হয়ে যেন কেউ কুরআন স্পর্শ না করে”(ইরওয়া, হাদীশ 122, মিশকাত, হাদীশ 465)। কিন্তু বহু মুহাদ্দিস এই হাদীশকে দ্বাইফ/ জয়ীফ বলেছেন। যদিও কেউ কেউ সহীহ বলেছেন।
কুরআনে কার পক্ষ থেকে এসেছে??
56:80 নং আয়াহ : তা (কুরআন) মহাবিশ্ব সমূহের প্রভুর পক্ষ [32:2] থেকে নাযিল করা হচ্ছে [2:97]।
56:81 নং আয়াহ : তবুও কি তোমরা এই হাদীশ/ বাণীকে তুচ্ছ ভাববে [86:13-14]??
কুরআনকে জীবিকা বানিয়ে ফেলার ভবিষ্যৎ বাণী।
56:82 নং আয়াহ : তোমরা (মানুষকে) মিথ্যা বলতে বলতে (কুরআনকেই) তোমাদের জীবিকা [38:86] বানিয়ে ফেলবে!
আল্লাহ ধর্ম ব্যাবসায় বাধা দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।
56:83 নং আয়াহ : তাহলে তোমরা তাকে কেন বাধা দাও না, যখন (তার হারাম উপার্জন) খাদ্যনালিতে পৌঁছায়??
আল্লাহ তাদেরকে ব্যঙ্গ করছেন, যারা বাধা দেয় না।
56:84 নং আয়াহ : আর তোমরা শুধুমাত্র (হাতে হাত দিয়ে বসে) তাকিয়ে দেখতেই [3:110, 3:104, 5:2, 5:79] থাকো!
# নাবী (সা) বলেছেন- “যদি মানুষ কোনও অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখেও তার হাত ধরে তাকে বিরত না করলে, অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে ব্যাপকভাবে শাস্তি দিবেন” (তিরমিযী, হাদীশ 3057)।
নাবী (সা) বলেছেন- “যদি তোমাদের মধ্যে কোন লোক কোন অন্যায় সংঘটিত হতে দেখে তাহলে সে যেন তার হাত দ্বারা (ক্ষমতা প্রয়োগে) তা প্রতিহত করে। যদি এই যোগ্যতা তার না থাকে সে যেন তার মুখ দ্বারা তা প্রতিহত করে। যদি এই যোগ্যতাও তার না থাকে তাহলে সে যেন তার অন্তর দ্বারা তা প্রতিহত করে (অন্যায়কে ঘৃণা করে)। আর এটা হলো দুর্বলতম ঈমান (মুসলিম, হাদীশ 49/1)।
নাবী (সা) আরও বলেছেন- “যদি অন্যায়ে বাধা না দাও, তাহলে আল্লাহর কাছে দুয়া করলেও তিনি তোমাদের দুয়া কবুল করবেন না”(তিরমিযী, হাদীশ 2169)। আর আজ আমরা তা’ই দেখতে পাচ্ছি।
যে কোনও কারোর চেয়ে আল্লাহ আমাদের অধিক নিকটবর্তী।
56:85 নং আয়াহ : তোমাদের চেয়ে আমরা তার অধিক নিকটবর্তী [50:16], কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
# সুতরাং এটা ভাবার দরকার নেই যে, “যে যা করছে করুক, আল্লাহ কি আমাকে দেখছে নাকি”?? অবশ্যই আল্লাহ দেখছেন (84:15, 3:15)।
আল্লাহ আবারও তাদেরকে ব্যঙ্গ করছেন, যারা বাধা দেয় না।
56:86 নং আয়াহ : যদি তোমরা তার অধিনস্ত গোলাম না হয়ে থাকো,
56:87 নং আয়াহ : তাহলে কেন তাকে (সৎ পথে) ফিরিয়ে আনছো না?? যদি তোমরা হয়ে থাক সত্যবাদী!
# অর্থাৎ তোমরা হারাম উপার্জনকারীকে এত ভয় পাচ্ছ কেন?? তোমরা কি তার অধিনস্ত গোলাম??
# একটি হাদীশ- “তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে হোক অত্যাচারী অথবা অত্যাচারের শিকার। তিনি (আনাস) বললেন- হে আল্লাহর রাসূল, অত্যাচারের শিকারকে সাহায্য করব, তা তো বুঝলাম। কিন্তু অত্যাচারীকে কিভাবে সাহায্য করব?? তিনি বললেন- তুমি তার হাত ধরে তাকে অত্যাচার করতে বাধা দেবে” (বুখারী, হাদীশ 2444)।
আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্তদের পরিণতি।
56:88 নং আয়াহ : অতঃপর যদি সে হতে পারে (আল্লাহর) নৈকট্য লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
56:89 নং আয়াহ : তার জন্য থাকবে বিশ্রাম, উত্তম জীবন উপকরণ ও নিয়ামতে পূর্ণ জান্নাত।
ডানপন্থীদের পরিণতি।
56:90 নং আয়াহ : আর যদি সে হয় ডানের দলের অন্তর্ভুক্ত,
ডানপন্থীকে সালাম দেওয়া হবে।
56:91 নং আয়াহ : তাহলে (তাকে বলা হবে) তোমাকে সালাম, হে ডানের দলের [56:27-40] অন্তর্ভুক্ত।
# ‛সালাম’ বলতে শুধুমাত্র সালাম উচ্চারণ, নাকি সালাম হিসাবে ‛আসসালামু আলাইকুম’ বলা হবে?? এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে 56:26 এর টিকায়। গিয়ে একবার দেখে আসুন।
যদি সে ‛বাধা সৃষ্টি’ কে পরোয়া না করে, তার পরিণতি।
56:92 নং আয়াহ : অতঃপর যদি সে হয় অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত।
56:93 নং আয়াহ : তাহলে তাকে আপ্যায়ন করা হবে প্লাজমা [55:44, 22:19, 44:48] দ্বারা।
56:94 নং আয়াহ : এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ [4:56] করা হবে।
কুরআন সুদৃঢ় সত্য।
56:95 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই [41:53] এটা (কুরআন) সুদৃঢ় সত্য [69:50-51]।
আল্লাহর পবিত্রতা বর্নণার নির্দেশ।
56:96 নং আয়াহ : এতএব পবিত্রতা বর্ণনা করুন আপনার প্রভুর নামের, যিনি মহান [55:78]।