৫৩ নং সূরাহ | সূরাহ নাজাম | Surah no 53 | Surah Najm |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 62 টি।

নক্ষত্র সংকোচিত হয়।

53:1 নং আয়াহ : শপথ নক্ষত্রের, যখন তা সংকুচিত হয়ে যায় [81:1]।

নাবী পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী ছিলেন না।

53:2 নং আয়াহ : তোমাদের সঙ্গী/ বন্ধু (মুহাম্মাদ) না পথভ্রষ্ট হয়েছে, আর না বিপথগামী [6:56]।

নাবী (সা) ওহীর নামে নিজ থেকে কিছুই বলতেন না।

53:3 নং আয়াহ : আর তিনি মনগড়া কথা [69:44-47] বলেন না [21:27]।

53:4 নং আয়াহ : (যা বলেন) তা ওহী ছাড়া অন্য কিছু নয়, যা তার প্রতি প্রেরণ করা হয়।

নাবী (সা) এর শিক্ষক ছিলেন জিবরীল (আ)।

53:5 নং আয়াহ : তাকে (ওহী) শিক্ষা দেয় মারাত্মক ক্ষমতাসম্পন্ন সত্ত্বা।

জিবরীল (আ) বিশেষ জ্ঞান সম্পন্ন।

53:6 নং আয়াহ : যিনি বিশেষ জ্ঞান সম্পন্ন। অতঃপর সে (নিজ আকৃতি‌তে) স্থির ছিল।

নাবী (সা) প্রথমবার জিবরীল (আ) কে দেখলেন।

53:7 নং আয়াহ : এবং তিনি ছিলেন ঊর্ধ্ব দিগন্তে (আকাশ জুড়ে)।

53:8 নং আয়াহ : তারপর তিনি কাছে এসেছিলেন এবং শূন্যে ভেসে ছিলেন [81:23]।

জিবরীল (আ) আসল আকৃতি‌তে কতটা কাছে এসেছিলেন??

53:9 নং আয়াহ : (এতো কাছে এসেছিলেন যে) ব‍্যাবধান থাকলো মাত্র দুই ধনুক বা তারচেয়েও কম [53:13]।

# অনেকে বলেন- “ব‍্যাবধান থাকলো মাত্র দুই ধনুক বা তারচেয়েও কম” বলতে আল্লাহর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ নাবী (সা) আল্লাহ‌কে দেখেছেন। কিন্তু তা সত্য নয়, 53:13 এর টিকা দেখুন।

53:10 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি (জিবরীল) ওহী পৌঁছেছিলেন [2:97], যা তিনি (আল্লাহ) তার বান্দার প্রতি প্রেরণ করে ছিলেন।

জিবরীল (আ) কে দেখার ক্ষেত্রে নাবী (সা) এর দৃষ্টিভ্রম হয় নি।

53:11 নং আয়াহ : তিনি (মুহাম্মাদ) যা দেখেছেন তার মস্তিষ্ক তা ভুল ভাবে গ্ৰহণ করে নি [53:17]।

53:12 নং আয়াহ : তিনি (মুহাম্মাদ) যা দেখেছেন এখন কি সেই বিষয়ে তোমরা তার সঙ্গে তর্কবিতর্ক করবে??

নাবী (সা) দ্বিতীয়বার আসল আকৃতিতে দেখেছিলেন।

53:13 নং আয়াহ : আর অবশ্যই তিনি (মুহাম্মাদ) তাকে (জিবরীলকে) আরও একবার (আসল আকৃতি‌তে) দেখেছিলেন।

# অনেকেই 53:9 ও 53:13 এর ব‍্যখ‍্যায় বলেন- নাবী (সা) আল্লাহ‌কে দেখেছেন। তা সত্য নয়। কেননা, নাবী (সা) নিজে বলেছেন- “আল্লাহকে নয়, তিনি দু‌ই বার জিবরীল‌ (আ) কে আসল আকৃতিতে দেখেছেন” (মুসলীম, হাদীশ 177/1)। এছাড়াও 53:17 তা’ই বলছে।

দ্বিতীয়বার কোথায় দেখেছিলেন??

53:14 নং আয়াহ : সিদরাতুল মুনতাহা‌র (মহাবিশ্ব সমূহের শেষ প্রান্তে‌র) কাছে।

মহাবিশ্ব সমূহের শেষ প্রান্তে‌ই রয়েছে জান্নাত।

53:15 নং আয়াহ : যার একেবারে নিকটেই অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া।

জিবরীল (আ) এর আকৃতি।

53:16 নং আয়াহ : তখন সিদরা (জিবরীলের আসল আকৃতি দ্বারা) আছন্ন ছিল, যা দ্বারা আছন্ন থাকাই উচিৎ ছিল (জিবরীলের আকারের জন্য)।

নাবী (সা) আল্লাহকে দেখেন নি।

53:17 নং আয়াহ : না তার (মুহাম্মাদের) দৃষ্টি বিভ্রম হয়েছে, আর না তার দৃষ্টি সীমা অতিক্রম [6:103] করেছে।

# “সীমা অতিক্রম করে নি” বলতে কি?? আসলে মানুষ সীমিত ক্ষমতার অধিকারী, তার দৃষ্টি‌ও সীমিত। নাবী (সা) নিজেও আমাদের মতো মানুষ ছিলেন (10:110, 41:6)। আর কোনও মানুষ/ কোনও চোখ আল্লাহ‌কে দেখতে পেতে পারে না (6:103, 42:51)। আর একটি হাদীশ‌ও রয়েছে। নাবী (সা) নিজে বলেছেন- “আল্লাহকে নয়, তিনি দু‌ই বার জিবরীল‌ (আ) কে আসল আকৃতিতে দেখেছেন” (মুসলীম, হাদীশ 177/1)।

তিনি আর কি কি দেখেছেন??

53:18 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তিনি (মুহাম্মাদ) তার প্রভুর বড় বড় বহু নিদর্শন [43:42] দেখেছেন।

# ‛বড় বড় নিদর্শন’ বলতে- আসলে কি?? মিরাজ সম্পর্কে আমরা হাদীশের মাধ্যমে যা যা জানতে পেরেছি, সেই সমস্ত বিষয়ে‌র কথা বলা হচ্ছে। যেমন, জান্নাত ও জাহান্নাম ইত্যাদি।

দেবী লাত, উযযা ও মানাত আল্লাহর কন্যা নয়।

53:19 নং আয়াহ : যাইহোক, তোমরা কি ভেবে দেখেছো আল লাত ও আল উযযা সম্পর্কে??

# অনেক ইসলাম বিদ্বেষী‌ই বলেন- ‛আল লাত’ থেকে ‛আল্লাহ’ শব্দের উৎপত্তি। কিন্তু তা সঠিক নয়। ‛আল লাত’ নামের কোনও দেব দেবী ভারতে ছিল না, কিন্তু বেদে ‛আল্লাহ’ শব্দের ব‍্যবহার হয়েছে (ঋকবেদ- 1:13:9, 22:1:11, 3:30:10, 9:67:30)। এছাড়াও বাইবেলেও ‛আল্লাহ’ শব্দের ব‍্যবহার হয়েছে (Mat- 47:46, Luk- 15:34)।

   তবে প্রশ্ন হতে পারে- “আল্লাহ শব্দের উৎপত্তি কিভাবে হলো”?? উৎপত্তি হয় নি, আল্লাহ নামটি শুরু থেকেই ছিল। এই জন্যে‌ই পৃথিবীর প্রধান ধর্মের ধর্মগ্রন্থ গুলোতে ‛আল্লাহ’ নামটি রয়েছে। 

53:20 নং আয়াহ : এবং মানাত সম্পর্কে‌ও?? যা তোমাদের তৃতীয় দেবী।

# আসলে মাক্কার কিছু মানুষ দাবি করতো যে, লাত, উযযা ও মানাত নামক দেবী গুলো আল্লাহ’র কন‍্যা। এখানেই শেষ নয় তারা ফেরেস্তা‌দের‌ও নারীবাচক নামকরণ করেছিল। এখানে তাদেরকে জবাব দেওয়া হচ্ছে। যে সম্পর্কে 53:19-20 ও 53:27 এ কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ অসাধারণ একটি যুক্তি পেশ করছেন।

53:21 নং আয়াহ : তোমরা তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান পছন্দ করো [16:58-59], কিন্তু তার (আল্লাহর) জন্য নির্ধারণ [19:92, 2:116] করে দিয়েছ কন‍্যা [112:3, 6:101] সন্তান!

53:22 নং আয়াহ : এই বন্টন তো মারাত্মক প্রতারণাপূর্ণ/ অযৌক্তিক বন্টন।

আল্লাহ ছাড়া দেবদেবী‌দের নাম কিভাবে ধর্মগ্রন্থে প্রবেশ করলো??

53:23 নং আয়াহ : এগুলো হলো সেই নাম, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষ‌রা দিয়েছ [2:79]। যে সম্পর্কে আল্লাহ কোনও প্রমাণ নাযিল করেন নি। তারা অনুসরণ করে শুধুমাত্র অনুমানের এবং নিজের খেয়ালখুশি গুলোর। তবে নিশ্চয়ই (এখন) তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তাদের কাছে [76:3, 18:29] এসেছে পথ নির্দেশ।

শুধুমাত্র দুয়া করে পাওয়া সম্ভব নয়।

53:24 নং আয়াহ : মানুষ চাইলেই কি পেয়ে [53:39] যাবে??

# শুধুমাত্র দুয়া করলেই পাওয়া যাবে না। চেষ্টা‌ও করতে হবে। নয়তো দুয়া অর্থহীন। প্রশ্ন হবে- তাহলে দুয়া করবো কেন?? উত্তর রয়েছে 53:39 এর টিকায়। যান, গিয়ে একবার দেখে আসুন।

ইহকাল ও পরকালের সমস্ত কিছুই আল্লাহর।

53:25 নং আয়াহ : অত‌এব (জেনে রেখো) পরকাল ও ইহকালের সমস্ত কিছু আল্লাহর‌ই [53:31]।

কে/ কারা শাফায়াত করতে পারবে??

53:26 নং আয়াহ : আর মহাবিশ্বে কত‌ই না ফেরেস্তা আছে, তাদের শাফা‌য়াত/ সুপারিশ কোনও কাজে আসবে না। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এবং যার প্রতি সন্তষ্ট, তাকে অনুমতি [19:87, 20:109, 34:23] দেওয়ার পর (শাফায়াত করতে পারবে)।

ফেরেস্তাদের ‛নারী বাচক’ নামকরণকারী কাফির‌।

53:27 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা পরবর্তী জীবন স্বীকার করে না, তারাই ফেরেস্তাদের নারীবাচক নামকরণ করে।

সত‍্যের সামনে ধারণা মূল্য‌হীন।

53:28 নং আয়াহ : আর তাদের কাছে এ সম্পর্কে বাস্তবিক কোনও জ্ঞান নেই, তারা শুধুমাত্র প্রচলিত ধারণার অনুসরণ করছে। তবে নিশ্চয়ই সত‍্যের সামনে ধারণার [49:12] কোনও মূল্য নেই।

যে ইহজীবন চায়, তাকে পরোয়া করার দরকার নেই।

53:29 নং আয়াহ : সুতরাং তাকে পরোয়া করবেন [15:94, 73:10] না, যে আমাদের সংবিধান (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে [16:35, 16:82] নেয়। কেননা, সে ইহজীবন ছাড়া কিছু‌ই চায় না।

আল্লাহ নাবী (সা) কে সান্ত্বনা দিলেন।

53:30 নং আয়াহ : ওটাই তাদের জ্ঞানের সীমা [25:63, 28:55, 7:199]। নিশ্চয়ই আপনার প্রভু ভালো জানেন তার সম্পর্কে, যে তার পথ থেকে বিচ‍্যুত হয়েছে। এবং তিনি ভালো জানেন তার সম্পর্কেও, যে পথ প্রাপ্ত [53:2]।

# “তাহলে আমরা জানতে পারবো না, কে পথভ্রষ্ট এবং কেন পথপ্রাপ্ত”?? অবশ্যই, অবশ্যই জানতে পারবো। যার পথ পবিত্র কুরআন ভিত্তিক, সে পথপ্রাপ্ত। যার পথ পবিত্র কুরআন ভিত্তিক নয়, সে পথভ্রষ্ট। বিস্তারিত জানতে দেখুন 6:153 আয়াহ।

মহাবিশ্ব সমূহের সৃষ্টি প্রতিদান দেওয়ার জন্য।

53:31 নং আয়াহ : সুতরাং মহাবিশ্ব সমূহে যা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সমস্ত কিছুই তার। যেন তাদের‌কে প্রতিদান দিতে পারেন, যারা অসৎ কর্ম করে। এবং যেন উত্তম প্রতিদান দিতে পারেন তাদেরকেও, যারা সৎকর্ম করে [10:4]।

নিজেদেরকে ‛বিশুদ্ধ/ উচ্চ’ ভাবা হারাম।

53:32 নং আয়াহ : যারা ছোট ছোট পাপ করে ফেলে কিন্তু  বড় বড় পাপ থেকে ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকে, সে ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই আপনার প্রভু ক্ষমায় উদার [4:31]। আর তিনি তো তোমাদের‌ (প্রকৃতি সম্পর্কে) জানেন (তোমরা পাপ করবেই)। (এ জন্য জানেন) যখন তিনি‌ই তোমাদের‌কে ‛গ্ৰহ’/ গ্ৰহের উপাদান থেকে থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং পরবর্তীতে মাতৃগর্ভে [76:2, 4:1] ভ্রুণ অবস্থা থেকে। সুতরাং নিজেরা নিজেদের‌কে ‛বিশুদ্ধ/ উচ্চ’ ভেবে নিও না [4:49]। তিনি ভালো জানেন তার সম্পর্কে, যে তাক‌ওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বন) করে [49:13]।

# হিন্দু ধর্মে চারটি মানুষ 4 টি ভাগে বিভক্ত। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ‍্য ও শুদ্র। এর ব্রাহ্মণ‌রা নিজেদেরকে ঈশ্বরের ‛বিশুদ্ধ/ উচ্চতম’ সৃষ্টি ভাবে। কারণ, তারা নাকি ব্রহ্মা‌র মুখ থেকে সৃষ্টি হয়েছে (ঋকবেদ, 10:90:12)। তবে, পবিত্র কুরআন বলে- “বিশুদ্ধ/ উচ্চতর হ‌ওয়ার মানদণ্ড হল- অপকর্ম হতে দূরে থাকা”।

নাস্তিকদের ফিতরাত/ প্রকৃতি কেমন??

53:33 নং আয়াহ : আপনি কি দেখেছেন সেই ব‍্যক্তি‌কে, যে (সত্য হতে) মুখ ফিরিয়ে নেয়??

53:34 নং আয়াহ : এবং (তাকে, যে) সামান্য গবেষণা করে, তারপর বন্ধ করে দেয়??

# অথচ পবিত্র কুরআন বলে- “প্রতিটা আয়াত নিয়ে গবেষণা করতে (38:29)। সম্পূর্ণ/ পরিপূর্ণ পবিত্র কুরআন নিয়ে গবেষণা করতে (47:24)।

53:35 নং আয়াহ : আচ্ছা তার কাছে কি গায়িবের জ্ঞান আছে যে, সে (প্রকৃত সত্য) দেখতে পেয়ে গেছে??

# এখানে নাস্তিকদের ফিতরাত/ প্রকৃতি সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছে। যারা সত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় অল্পস্বল্প কুরআন পড়াশোনা/ গবেষণা করেই। আর এমন ভাব নেন, যেন তার কাছে গায়িবের জ্ঞান এসে গেছে, তিনি প্রকৃত সত‍্যের সন্ধান পেয়ে গেছে।

মূসা (আ) সাহীফা সমূহ পেয়েছিলেন।

53:36 নং আয়াহ : নাকি তাকে জানানো হয় নি, যা ছিল মূসার সাহীফা সমূহে??

ইবরাহীম (আ) সাহীফা সমূহ পেয়েছিলেন।

53:37 নং আয়াহ : এবং ইবরাহীমের [87:18-19]?? যে নিজ দায়িত্ব পূর্ণ ভাবে পালন করে‌ছিল।

# “এখানে মূসার কিতাব‌কে ‛সাহীফা সমূহ’ বলা হচ্ছে কেন”?? 98:2 এ কুরআন‌কেও ‛সাহীফা সমূহ’ বলা হয়েছে। এর কারণ একটাই- সমস্ত সাহীফার মূল বক্তব্য ছিল এক‌ই (16:36, 41:43)। তাই যে কোনও একটি সাহীফা‌ই সমস্ত সাহীফা‌র সমান।

নিজের দায়িত্ব নিজেকেই পূরণ করতে হবে।

53:38 নং আয়াহ : কোন‌ও বোঝা/ দায়িত্ব বহনকারী অন‍্যের বোঝা/ দায়িত্ব বহন করবে না।

# ‛বোঝা/ দায়িত্ব’ বলতে কি?? পবিত্র কুরআন গবেষণা করার দায়িত্বের কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ নিজে গবেষণা ‘না করে’ অন‍্যের উপর নির্ভর করে পবিত্র কুরআন অস্বীকার কারী হ‌য়ো না। পবিত্র কুরআন গবেষণা‌র দায়িত্ব প্রত‍্যেকের (80:23)। পবিত্র কুরআন অস্বীকার করার ব‍্যাপারে পরিপূর্ণ খোলা মন ও মুক্ত নিয়ে ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা উচিৎ। একগুঁয়েমি ত‍্যাগ করে পবিত্র কুরআন গবেষণা করে তবেই পবিত্র কুরআন অস্বীকার করা উচিৎ।

চেষ্টা ছাড়া কিছু‌ই পাওয়া যাবে না।

53:39 নং আয়াহ : আর মানুষ চেষ্টা ছাড়া কিছুই পায় না/ পাবে না।

# সঠিক পথ পাওয়ার চেষ্টায় পবিত্র কুরআন গবেষণার কোনও বিকল্প নেই। আর চেষ্টা করলেই সঠিক পথ পাওয়া সম্ভব। এই সম্পর্কে বলা হয়েছে- “এত‌এব যে পথ পাবে, সে তার নিজের চেষ্টাতেই পাবে” (17:25)।

# শুধুমাত্র দুয়া করলেই পাওয়া যাবে না। আরও জনতে 53:24 আয়াহ দেখুন। প্রশ্ন হবে- তাহলে দুয়া করবো কেন?? উত্তর সহজ- আপনি যা পেতে চাইছেন, তা প্রত‍্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আল্লাহর। উদাহরণ দিই?? ধরুণ, আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। রাস্তার পাশে একটা আম বাগান আছে। আপনার আম খেতে ইচ্ছা হল। আপনি বাগানে ঢুকে, গাছে উঠে আম পেড়ে খেয়ে নিলেন।

   আপনি চেষ্টা করলেন, আম পেয়ে গেলেন। কিন্তু আপনার মনে হল যে, আম বাগানের মালিক আপনি নন! আপনার কি উচিৎ ছিল না যে, বাগানের মালিকের থেকে আগে চাওয়া, অনুমতি দিলে আম পেড়ে খাওয়া! উচিৎ ছিল নিশ্চয়ই, তাই না?? কিন্তু আপনার ‛না চেয়ে’ চেষ্টা করে আম পেড়ে খাওয়া টা মূলত চুরি বলে গণ‍্য হবে। তাই নয় কি?? সুতরাং আগে দুয়া/ প্রার্থনা করতে হবে, তারপর চেষ্টা করতে হবে।

আল্লাহ প্রতিটা চেষ্টা গ্ৰহণ করেন।

53:40 নং আয়াহ : আর এও যে, তার প্রচেষ্টা (যদি একেবারে ছোট্ট‌ও হয়, তবুও) গ্ৰহণ করা হবে [20:15]।

যতটা চেষ্টা, ততটা প্রতিদান।

53:41 নং আয়াহ : তারপর তাকে তার চেষ্টার জন্য পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে [21:94]।

আল্লাহ‌ই আমাদের শেষ ঠিকানা।

53:42 নং আয়াহ : আর এও যে, আপনার প্রভুর কাছেই হবে শেষ ঠিকানা [69:16-17]।

পরবর্তী জীবনে আল্লাহর সিদ্ধান্ত হাঁসি কান্নার কারণ হবে।

53:43 নং আয়াহ : এবং এও সত্য যে, (তার সিদ্ধান্ত‌ই পরবর্তী জীবনে) হাঁসি ও কান্নার কারণ হবে।

তিনি মৃত্যু দেন, পরবর্তীতে জীবন দেন।

53:44 নং আয়াহ : এবং এও সত্য যে, তিনি মৃত্যু দেন [56:60] ও (মৃত্যু পরবর্তীতে) জীবন দেন [81:7]।

দুই প্রজাতির নারী ও পুরুষ সঙ্গী/ সঙ্গীনি হিসাবে সৃষ্ট।

53:45 নং আয়াহ : আর এও সত‍্য যে, তিনি সৃষ্টি করেছেন দুই প্রজাতির  পুরুষ ও নারী‌কে সঙ্গী/ সঙ্গীনি হিসাবে।

# ‛দুই প্রজাতির’ বলতে কি?? মানুষ ও জিনদের কথা বলা হচ্ছে। মানব জাতি যেমন নারী ও পুরুষে বিভক্ত, জিনরাও তেমন‌ই।

একটি শুক্রাণু‌ই ডিম্বাণু‌কে নিষিক্ত ও সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

53:46 নং আয়াহ : একটি মাত্র [75:37] শুক্রাণু থেকে, যখন তা (ডিম্বাণুকে) নিষিক্ত করে।

পুনরুত্থান সম্পর্কে একটি অসাধারণ যুক্তি।

53:47 নং আয়াহ : আর এও যে, এজন্য তাকে পুনরায় সৃষ্টি করা [36:78-79, 17:51, 19:66-67, 50:15, 75:39-40] তা‌র‌ই দায়িত্ব।

আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে হবে।

53:48 নং আয়াহ : এবং এও সত‍্য যে, তিনি সম্পদ প্রদান করেন এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করেন।

আল্লাহ শীরা নক্ষত্রের মালিক।

53:49 নং আয়াহ : এবং এও সত্য যে, তিনিই শীরা/ শিরিয়াস নক্ষত্রের [41:37) মালিক (অথচ তোমরা ঐ নক্ষত্রের উপাসনা করছো)।

নূহ (আ) এর পর পথমে আদ জাতি ধ্বংস হয়।

53:50 নং আয়াহ : আর এও সত্য যে, তিনিই প্রথমে আদ জাতিকে ধ্বংস করেছেন [69:6-8]।

# ‛প্রথমে’ বলতে কি?? আসলে নূহ (আ) এর জাতির পর প্রথমে আদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

আদ জাতির পর সামূদ জাতি ধ্বংস হয়।

53:51 নং আয়াহ : এবং সামূদ জাতিকেও। তাদের কাউকে অবশিষ্ট [11:61-67, 7:73-79] রাখেন নি।

আদ ও সামূদের আগে নূহ (আ) এর জাতি ধ্বংস হয়।

53:52 নং আয়াহ : এবং এদের পূর্বে নূহের জাতিকে ধ্বংস করেছেন [11:36-44, 54:9-16, 71:2-28]। নিশ্চয়ই তারা ছিল অত‍্যাচারী ও উগ্ৰ জাতি।

লূত (আ) এর জাতির পরিণতি।

53:53 নং আয়াহ : এবং তিনিই উল্টে দেওয়া জনবসতি‌ সমূহ‌কে শূন্যে তুলে নিক্ষেপ [11:82] করেছিলেন। 

53:54 নং আয়াহ : অতঃপর তাকে ঘিরে ধরলো, যা (গ্ৰহাণু বৃষ্টি) ঘিরে [11:82, 7:84] ধরার ছিল।

নাবী (সা) কে মোটিভেট করার জন্য আল্লাহ প্রশ্ন করলেন

53:55 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি আপনার প্রভুর কোন অনুগ্রহ/ দয়ার প্রতি সন্দেহ পোষণ করবেন??

# নাবী (সা) মাঝে মধ্যে মনে হোত যে, আর কতদিন অত‍্যাচার সহ‍্য করতে হবে! সেই জন্য আল্লাহ উক্ত 4 টি জাতির উদাহরণ তুলে ধরে প্রশ্ন করছেন যে, “আপনি আপনার প্রভুর কোন অনুগ্রহ/ দয়ার প্রতি সন্দেহ পোষণ করবেন”?? অর্থাৎ সন্দেহ পোষণের দরকার নেই, আল্লাহ তার নীতিতে কাজ করে চলেছেন।

নাবী (সা) শুধুমাত্র একজন সতর্ককারী।

53:56 নং আয়াহ : এই সতর্ককারী (মুহাম্মাদ‌) অতীতের সতর্ককারীদের মতোই একজন সতর্ককারী [11:12, 13:7]।

নাবী (সা) আসার অপেক্ষায় ছিল অন‍্যান‍্য কিতাবীরা।

53:57 নং আয়াহ : (যিনি) তোমাদের নিকটে আসার ছিল, তিনি [26:196-197] এসেছেন।

53:58 নং আয়াহ : আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ‌ই (সঠিক ভাবে দিন ক্ষণ) প্রকাশ করতে সক্ষম ছিল না।

53:59 নং আয়াহ : তাহলে এখন তোমরা এই হাদীশ/ বাণী শুনে অবাক হচ্ছো কেন??

# তোমরা তো তার (নাবীর) জন্য অপেক্ষা করছিলে। এখন তিনি কিতাব পেয়েছেন, তাহলে তা শুনে অবাক হচ্ছো কেন/ অস্বীকার করছো কেন?? এতদিন তো তার জন‍্যেই অপেক্ষা করছিলে!

কুরআন গবেষণা‌র নির্দেশ।

53:60 নং আয়াহ : অথচ তোমরা হাঁসি-ঠাট্টা করছো এবং সে সম্পর্কে গবেষণা [80:23] করছ না।

53:61 নং আয়াহ : (সে সম্পর্কে গবেষণা করা তো দূরের কথা) তোমরা তো উদাসীন।

সিজদা ও ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্য।

53:62 নং আয়াহ : সুতরাং (গবেষণা করে দেখো) সিজদা [41:37] ও ইবাদত [51:56] শুধু আল্লাহর জন্য।

❤️ সিজদাহর আয়াহ ❤️

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন