বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 37 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আহলে কি??
45:1 নং আয়াহ : হা মীম [31:1-2]।
কুরআন কোথায় থেকে এসেছে??
45:2 নং আয়াহ : কিতাবটি (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে [2:97, 32:2]। যিনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।
মহাবিশ্ব আল্লাহর নিদর্শনে ভরপুর।
45:3 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই মহাবিশ্বে ও পৃথিবীতে রয়েছে সত্য স্বীকারকারীদের জন্য অসংখ্য নিদর্শন।
সমগ্র মহাবিশ্বে ‛জীবন’ ছড়িয়ে রয়েছে।
45:4 নং আয়াহ : এবং তোমাদের (মানুষ জাতির) সৃষ্টির মধ্যেও [51:21]। আর সমগ্র মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা জীবজন্তু/ প্রাণীকুলের [42:29] মধ্যেও দৃঢ় ভাবে সত্য গ্ৰহণকারী সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।
সূর্যের উত্তরায়ণ/ দক্ষিনায়ণ ও পৃথিবীর আবহাওয়া।
45:5 নং আয়াহ : আর রাত ও দিনের ছোট বড় হওয়ার মধ্যে [43:38]। এবং বায়ুমন্ডল থেকে রিযিক (বৃষ্টি) নামার মধ্যে, যা দিয়ে তিনি মৃত ভূমিকে জীবিত করেন। বায়ুর গতিপথ পরিবর্তনের মধ্যেও [32:27] নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্য, যে সম্প্রদায় মস্তিষ্কের ব্যবহার [8:22] করে।
হাদীশ বর্জন করে কুরআন স্বীকার করা মূল্যহীন।
45:6 নং আয়াহ : ঐ গুলো আল্লাহর আয়াত সমূহ। যা আপনার কাছে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বর্ণনা করা হচ্ছে। সুতরাং তোমরা হাদীশ ছেড়েই কি আল্লাহর আয়াত সমূহ স্বীকার করবে??
# যদি 77:50 দেখেন, তাহলে সেখানে একেবারে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হচ্ছে- “হাদীশের পর তারা আর কি স্বীকার করবে”! মানে কুরআনের পর হাদীশ, হাদীশের পর আর কোনও কিছু নয়।
নাবী (সা) নামে মিথ্যা হাদীশ তৈরির পরিণতি কেমন হবে??
45:7 নং আয়াহ : (সেদিন) ধ্বংস হবে প্রত্যেক ‛মিথ্যাবাদী/ মিথ্যা তথ্য (হাদীশ) সৃষ্টিকারী ও পাপী’ [31:6]।
# নাবী (সা) বলেছেন- “যে আমার নামে মিথ্যা (হাদীশ) বলবে, সে তার জায়গা জাহান্নামে বানিয়ে নেবে” (বুখারী, হাদীশ 107)।
আল্লাহর আয়াত সমূহকে গুরুত্ব না দেওয়ার পরিণতি।
45:8 নং আয়াহ : যখন সে আল্লাহর আয়াত সমূহ শোনে, যা তার কাছে পাঠ করা হয়, তখন অহংকারে অটল থাকে, যেন তা শোনেই নি। সুতরাং তাকে কষ্টদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।
অল্প জ্ঞানী ইসলাম বিদ্বেষীর পরিণতি।
45:9 নং আয়াহ : আর যখন সে আমাদের আয়াত সমূহ সম্পর্কে সামান্য/ কল্প কিছু জানে, তখন সে তা ব্যঙ্গ বিদ্রুপের বিষয় হিসাবে গ্ৰহণ করে। তাদের জন্য থাকবে অপমানজনক শাস্তি।
যারা আল্লাহকে আউলিয়া গ্ৰহণ করে না, তাদের পরিণতি।
45:10 নং আয়াহ : তাদের পিছনে থাকবে জাহান্নাম, তারা যা কিছু অর্জন করবে, তা তাদের কোনও কাজে লাগবে না। তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে আউলিয়া [2:107, 19:82] হিসেবে গ্ৰহণ করেছে, সেগুলোও তাদের কোনও কাজে লাগবে না। তাদের জন্য থাকবে মহাশাস্তি/ মারাত্মক শাস্তি।
কুরআন অস্বীকারের পরিণতি।
45:11 নং আয়াহ : এটাই পথ। আর যারা তাদের প্রভুর আয়াত সমূহ (কুরআন) অস্বীকার করেছে, তাদের জন্য থাকবে অতিশয়/ মারাত্মক কষ্টদায়ক শাস্তি।
# ‛এটাই’ বলতে- কোনটা?? “তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে আউলিয়া হিসেবে গ্ৰহণ করেছে, সেগুলোও তাদের কোনও কাজে লাগবে না” (45:10)। যদিও এখানে আউলিয়া বলতে- উপাস্য। এরপর 3:51 দেখে নিন। পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
■ সমুদ্র নিয়ন্ত্রণে আসবে। ■ সমুদ্রে ভাসমান শহর।
45:12 নং আয়াহ : আল্লাহ (তিনি), যিনি মহাসাগর/ সমুদ্র গুলো তোমাদের নিয়ন্ত্রাণাধীন [16:14] করে দেবেন। যেন তারই নির্দেশে তোমরা তাতে ভাসমান শহর নির্মাণ করতে পারো। এবং যেন তোমরা তার অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো। আর যেন কৃতজ্ঞ হও।
মানবজাতির সর্বোচ্চ পাওনা, যোগ্যতা ও মর্যাদা।
45:13 নং আয়াহ : আর তিনি তোমাদের নিয়ন্ত্রাণাধীন করে দেবেন মহাবিশ্বে আছে যা কিছু আছে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে [31:20]। এবং তার/ আল্লাহর (নিয়ন্ত্রণে) যা কিছু আছে। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে বহু নিদর্শন। তাদের জন্য, যারা চিন্তা ভাবনা/ গবেষণাকারী সম্প্রদায়।
কাফিরদের ক্ষমা করে দেওয়ার নির্দেশ।
45:14 নং আয়াহ : সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজনদেরকে বলুন- তারা (মূমীনরা) যেন তাদেরকে (কাফিরদেরকে) ক্ষমা করে [15:85, 42:43] দেয়, যারা আল্লাহর (শাস্তি) দিবস গুলোর প্রত্যশা করে না। যেন তিনি (আল্লাহ) ঐ সম্প্রদায়কে প্রতিদান দিতে পারেন, যা কিছু তারা অর্জন করেছিল তার।
প্রত্যেকেই নিজ কর্মের জন্য দায়ি হবে।
45:15 নং আয়াহ : যে সৎকর্ম করে, তা নিজের জন্যেই করে। আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার নিজের উপরেই বর্তাবে [74:38, 35:18]। তারপর তাকে তোমাদেরকে তোমাদের প্রভুর দিকেই ফিরিয়ে [69:16-17] আনা হবে।
বানী ইসরাঈলকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছিল।
45:16 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা পূর্বে বানী ইসরাঈলকে দিয়েছিলাম (বহু) কিতাব, শাসন ও নবুওয়াত। তাদেরকে আমরা রিযিক দিয়েছিলাম পবিত্র বস্তু হতে [2:57, 20:80]। তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম [2:47, 2:122] মহাবিশ্ব সমূহকে বসবাসকারী (মানুষদের) উপর।
# কিন্তু তাদের থেকে শ্রেষ্ঠত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন হবে- কেন?? কারণ, তারা “সৎকর্মের নির্দেশ ও অসৎকর্মে বাধা দেওয়া” বন্ধ করে দিয়েছিল (5:79)। বর্তমানে মুসলিমদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে (3:104, 3:210)। কিন্তু বর্তমান মুসলিমরাও “সৎকর্মের নির্দেশ ও অসৎকর্মে বাধা দেওয়া” বন্ধ করে দিয়েছে। তাই শ্রেষ্ঠত্বের খেতাব আর মুসলিমদের নেই। পরিশেষে বলব- 56:82-87 আয়াত গুলো টিকা সহ দেখুন।
বানী ইসরাঈল মতবিরোধ ও উগ্ৰতা অবলম্বন করেছিল।
45:17 নং আয়াহ : আর তাদেরকে দিয়েছিলাম দীনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নির্দেশনা। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও তারা মতবিরোধ করেছিল [3:105] ও উগ্ৰতা অবলম্বন করেছিল [2:87]। নিশ্চয়ই আপনার প্রভু তাদের মধ্যে মিমাংসা করে দেবেন কিয়ামত দিবসে। সেই বিষয়ে, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করতো।
# এজন্য আল্লাহ যা বলেছেন, তা রয়েছে 2:143, 31:19, 29:72 ও 28:83 তে। আর নাবী (সা) মুসলিম জাতিকে সাবধান করে বলেছিলেন- “চরমপন্থা/ কট্টরতা/ উগ্ৰতা হতে সাবধান। চরমপন্থা/ কট্টরতা/ উগ্ৰতা অবলম্বনকারী ধ্বংস হয়ে গেছে” (আবূ দাউদ, হাদীশ 4608)।
■ নাবী (সা) শারিয়াতের প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। ■ জ্ঞান হীনের অনুসরণ নিষিদ্ধ।
45:18 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা আপনাকে শারিয়তের বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত রেখেছি। সুতরাং তার (শরিয়তের) অনুসরণ করুন [6:50]। তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করবেন না [18:28], যারা জ্ঞান রাখে না।
# এই বক্তব্য প্রমাণ করে- নাবী কুরআন বিরোধী কোনও কিছু করেন নি/ বলেন নি। এই মর্মে হাদীশও রয়েছে। বলা হয়েছে- “নাবীর চরিত্র ছিল কুরআন” (মুসলীম, হাদীশ 746)। সুতরাং বুখারী ও মুসলীম সহীহ সহ হাদীশের গ্ৰন্থ গুলোতে কুরআন বিরোধী হাদীশ থাকার কথা নয়, কিন্তু তবুও শত শত কুরআন বিরোধী সহীহ হাদীশ দেখা যায়। যা সামগ্রিক ভাবে ইসলামকে হাঁস্যকর ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। যেমন, বুখারীর হাদীশ- “নারীদের বুদ্ধিতে ত্রুটি রয়েছে, এবং তাদের বুদ্ধি পুরুষদের অর্ধেক”(বুখারী, হাদীস 304)। অথচ কুরআন বলে- “পুরুষ বা নারী, তারা একে অপরের সমান” (3:195)।
# অবাক করা ব্যাপার হল- আমরা সাধারণত তাদেরই অনুসরণ করি, যারা জ্ঞান রাখে না।
অত্যাচারীরা একে অপরের সাহায্যকারী।
45:19 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আপনার জন্য আল্লাহ থাকতে তাদের (চক্রান্ত) কোনও কাজেই আসবে না [52:42]। অত্যাচারীরা একে অপরের ওলী/ সাহায্যকারী। আল্লাহ মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের ওলী/ সাহায্যকারী।
# পৃথিবীর সবাই জানে যে, ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের জনগণের উপর অত্যাচার করে। আর সেই অত্যাচারে সহযোগিতা করে যাচ্ছে আমেরিকা। আর আমেরিকার প্রভাব প্রতিপত্তিতে, প্রভুত্বে সহযোগিতা করে যাচ্ছে ইসরাইল।
কুরআন জ্ঞানের শেষ সীমা।
45:20 নং আয়াহ : এটা (কুরআন) মানবজাতির জন্য জ্ঞানের শেষ সীমা। আর পথপ্রদর্শক ও রহমত দৃঢ় ভাবে সত্য গ্ৰহণকারী সম্প্রদায়ের জন্য।
অসৎকর্মকারী ও ইমান এনে সৎকর্মকারী সমান নয়।
45:21 নং আয়াহ : যারা অসৎকর্মে লিপ্ত রয়েছে, তারা কি ভাবে যে, যারা সত্য স্বীকার করে সৎকর্ম করে [30:44], তাদেরকে সমান গণ্য করা হবে [5:100, 41:34]?? তাদের জীবন একই রকম?? আর মৃত্যু একই ভাবে [47:11] হবে?? কতই না নোংরা তাদের চিন্তা ভাবনা।
মহাবিশ্ব এমন ভাবে সৃষ্ট যে, তার উপরই পুনরুত্থান হবে।
45:22 নং আয়াহ : আর আল্লাহ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত সুক্ষ্মতার সঙ্গে [30:8]। যেন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রতিদান [21:104, 84:1-5] দেওয়া যায়, সে যা অর্জন করবে। তাদের উপর একটুও অবিচার [36:54] করা হবে না।
নিজ ইচ্ছাকে ঈশ্বরের নির্দেশ হিসাবে মেনে নেওয়া শিরক।
45:23 নং আয়াহ : আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে নিজ ইচ্ছাকে ‛ইলাহ/ ঈশ্বর হিসাবে’ [25:43] মেনে নিয়েছে, অথচ জ্ঞান (কুরআন) তার কাছে রয়েছে?? (সে কুরআন দ্বারা নিজেকে যাচাই করতে পারে, কিন্তু করছে না) এজন্য আল্লাহই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন [2:26, 2:99]। আর মোহর মেরে দিয়েছেন তার কানে, মস্তিষ্কে ও তার চোখের উপর দিয়েছেন পর্দা [16:106-108]। সুতরাং আল্লাহর পর তাকে আর কে পথ দেখাবে [18:17]। তবুও কি তোমরা জ্ঞান অর্জন [34:6, 17:107] করবে না??
# প্রশ্ন হবে- ‛ইচ্ছাকে ঈশ্বর হিসাবে মেনে নেওয়া’ বলতে আসলে কি?? তার অর্থ হল- তার যেটা ইচ্ছা হয়, সেটাই করে। তার ইচ্ছাকে সে ঈশ্বরের নির্দেশ হিসাবে পালন করে। যেভাবে আমরা “আল্লাহর নির্দেশ” পালন করি।
# এজন্য একজন মুসলিমের কাছে তার নিজ ইচ্ছার কোনও মূল্য নেই। আমাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশই শেষ কথা। তবে কিছু ক্ষেত্রে আল্লাহ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ি চলার স্বাধীনতা দিয়েছেন। যেমন- ভাত খাবেন নাকি রুটি, সেটা আপনার ইচ্ছা।
মৃত্যু সম্পর্কে তৎকালীন নাস্তিকদের দাবি।
45:24 নং আয়াহ : আর তারা বলে- “ইহজীবনই একমাত্র জীবন। এখানেই মরি, এখানেই বাঁচি [6:29, 23:37, 69:27]। শুধুমাত্র সময়ের প্রভাবেই আমাদের মৃত্যু আসে [62:8, 10:4]। তাদের কাছে ঐ সম্পর্কে অনুমান [53:28] ছাড়া কোনও জ্ঞানই নেই।
পুনরুত্থান সম্পর্কে নাস্তিকদের প্রশ্ন।
45:25 নং আয়াহ : যখন তাদের কাছে প্রমাণের জন্য আমাদের আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তাদের কাছে এই ছাড়া কোনও যুক্তি থাকে না যে- “আমাদের পিতৃপুরুষদের কে জীবিত করে উপস্থিত করো, যদি হয়ে থাকো সত্যবাদী”।
আল্লাহ তাদেরকে জবাব দিলেন।
45:26 নং আয়াহ : বলুন- “আল্লাহ তোমাদেরকে জীবন দেন [2:28], তিনিই মৃত্যু দেবেন। তারপর তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন [69:16-17, 84:1-5]। যাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই (এই বিজ্ঞান সম্পর্কে) জানে না
মহাবিশ্বের অপব্যবহার করা হারাম।
45:27 নং আয়াহ : আর মহাবিশ্বের মালিকানা আল্লাহর।সুতরাং যেদিন কিয়ামত প্রতিষ্ঠা হবে, সে দিন ক্ষতিগ্রস্ত হবে (মহাবিশ্বের) অপব্যবহারকারীরা [45:13]।
# অন্য দিক থেকে বললে- এটা ভবিষ্যৎ বাণী। আজ পৃথিবীর অপব্যবহার হচ্ছে। ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের অপব্যবহার হবে। তাই তা আগেই হারাম ঘোষণা করে দেওয়া হল। পৃথিবীর অপব্যবহার সম্পর্কে জানতে 13:40 ও 44:10-11 আয়াত।
ইহজীবনে করা আমল/ কর্ম দ্বারা বিচার হবে।
45:28 নং আয়াহ : আপনি দেখবেন- প্রত্যেকে থাকবে নতজানু অবস্থায়। এবং প্রত্যেককে ডাকা হবে কিতাব/ আমলনামা সহ [21:47]। (বলা হবে) “আজ তোমাদেরকে সেই কর্মের প্রতিদান [40:17] দেওয়া হবে, যে কর্ম তোমরা করেছিলে” [36:54, 37:39]।
আমাদের সমস্ত কর্ম লিপিবদ্ধ হচ্ছে।
45:29 নং আয়াহ : (বলা হবে) এই কিতাব/ আমলনামা আমাদের তৈরি করা, যা তোমাদের বিরুদ্ধে সঠিক সাক্ষ্য দিচ্ছে [82:10-12, 18:49]। নিশ্চয়ই আমরা সংরক্ষণ করতাম, যে সমস্ত কর্ম তোমরা করতে।
সুস্পষ্ট সফলতা আসলে কি??
45:30 নং আয়াহ : অপরদিকে যারা সত্য স্বীকার করেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে তাদের প্রভু তার রহমতের মধ্যে (জান্নাতে) প্রবেশ করাবেন [3:185]। ওটাই তো সুস্পষ্ট সাফল্য [85:11]।
বিচার দিবসে সত্য অস্বীকারকারীদের কি বলা হবে??
45:31 নং আয়াহ : আর যারা সত্য অস্বীকার করেছিল, (তাদেরকে বলা হবে) আমার আয়াত গুলো কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয় নি [39:71]?? কিন্তু তোমরা (তা শুনে) অহংকার করেছিলে। তোমরা ছিলে অপরাধী সম্প্রদায়।
কিয়ামত প্রসঙ্গে নাস্তিকরা কি বলত??
45:32 নং আয়াহ : আর যখন বলা হতো যে, “আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কিয়ামত আসবেই, তাতে কোনও সন্দেহ নেই” [22:7, 40:59]। তখন তোমরা বলতে- “আমরা জানি না কিয়ামত কি জিনিস। আমাদের মনে হয় তা শুধুই ধারণা মাত্র। এজন্য এতে আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতে পারছি না”।
অপরাধীদেরকে শাস্তি চারিদিক থেকে তাদেরকে ঘিরে ধরবে।
45:33 নং আয়াহ : তাদের কাছে তাদের অসৎকর্ম গুলো প্রকাশ করা হবে, যা তারা করেছিল। আর তারা যা (পরকালের শাস্তি) নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতো, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলবে।
আল্লাহ আমাদেরকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুলে যাবেন!
45:34 নং আয়াহ : তাদেরকে বলা হবে- “আজ আমরা তোমাদেরকে ভুলে যাবো, যেমন তোমরা এই দিনের সাক্ষাৎ কে ভুলে গিয়েছিলে [7:51, 32:14]। এখন তোমাদের আশ্রয়স্থল হল আগুন (জাহান্নাম)। আজ তোমাদের জন্য কোনও সাহায্য কারী নেই [45:19]।
অপরাধীদের উপরিউক্ত পরিণতি কেন হবে??
45:35 নং আয়াহ : ঐ (পরিণতি) এজন্য যে, তোমরা আল্লাহর আয়াত গুলোকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপের বস্তু হিসাবে গ্ৰহণ করেছিলে। এবং ইহজীবনের লোভ লালসা তোমাদেরকে ধোকা দিয়েছিল। সুতরাং আজ তোমাদেরকে তা (জাহান্নাম) হতে বের করা হবে না [22:22]। আর না তাদেরকে দেওয়া হবে ওজর আপত্তি পেশ [30:57] করার সুযোগ”।
ঈশ্বর হিসাবে আল্লাহ সমস্ত প্রশংসার দাবিদার কেন??
45:36 নং আয়াহ : সুতরাং (ঈশ্বর হিসাবে) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যেই। কেননা তিনি মহাবিশ্বের প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক এবং মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক।।
অহংকার করার যোগ্য কে??
45:37 নং আয়াহ : আর মহাবিশ্বে অহংকার করার যোগ্য শুধু তিনি। এবং তিনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।