বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 59 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??
44:1 নং আয়াহ : হা মীম [31:1-2]।
কুরআন সুস্পষ্ট, কোনও অস্পষ্টতা নেই।
44:2 নং আয়াহ : এবং সুস্পষ্ট কিতাবের (কুরআনের) শপথ [18:1]।
কুরআন নাযিলের উদেশ্য কি??
44:3 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা কুরআনকে একটি মুবারক/ কল্যাণময় (কদরের) রাতে নাযিল [97:1] করেছি। নিশ্চয়ই আমরা (কুরআন দ্বারা মানব/ জিন জাতির জন্য) সতর্ককারী [36:70]।
কদরের রাত কতটা গুরুত্বপূর্ণ??
44:4 নং আয়াহ : তাতে (সেই রাতে) স্থির/ ধার্য করা হয় প্রত্যেক (মহাবিশ্বের জন্য) বিজ্ঞানময় বিষয়,
কদরের রাতে ফেরেস্তারা নেমে আসেন।
44:5 নং আয়াহ : আমাদের নির্দেশ অনুযায়ি। নিশ্চয়ই আমরা (সেই রাতে) রাসূল/ ফেরেস্তা সমূহ [97:4] প্রেরণ করি।
44:6 নং আয়াহ : আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে রহমত (অনুগ্রহ) স্বরূপ। নিশ্চয়ই তিনি সমস্ত কিছু শ্রবণকারী ও মহাজ্ঞানী।
সত্যের প্রতি নমনীয় না হলে, সত্য উপলদ্ধি করা সম্ভব নয়।
44:7 নং আয়াহ : তিনি মহাবিশ্বের প্রতিপালক এবং তাতে যা কিছু আছে, তারও প্রতিপালক [45:36]। (এটা সুস্পষ্ট ভাবে বোঝার জন্য) তোমাদেরকে দৃঢ়তার সঙ্গে সত্যের প্রতি নমনীয় হতে হবে।
আল্লাহ সকলের প্রভু।
44:8 নং আয়াহ : তিনি ছাড়া কোনও উপাস্য/ ঈশ্বর নেই [37:35]। তিনিই জীবন দেন এবং মৃত্যুও [67:2]। তিনি তোমাদের প্রভু এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও প্রভু, যারা গত হয়ে গেছে [2:21]।
সত্য নয়, সংশয়ে পড়ে ইসলাম নিয়ে হাঁসি মজা করছে।
44:9 নং আয়াহ : না (অন্য কিছু নয়) বরং তারা শুধুমাত্র সন্দেহ/ সংশয়ে পড়ে (ইসলামকে নিয়ে) হাঁসি মজা/ ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করছে।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ভবিষ্যৎ বাণী।
44:10 নং আয়াহ : সুতরাং অপেক্ষা করুন সেই দিনের, যে দিন বায়ুমন্ডল সুস্পষ্ট ভাবে (গ্ৰীন হাউস) গ্যাস সমূহ দ্বারা ভরে উঠবে [13:41, 21:44]।
44:11 নং আয়াহ : যা মানবজাতিকে ঘিরে ফেলবে। এটা বেশি কষ্টদায়ক [55:35, 30:41] শাস্তি।
বিপদে মানুষে ধার্মিক হয়ে যায়, আল্লাহকে ডাকে।
44:12 নং আয়াহ : (যখন তাদের যখন বিপদ আসে, তখন বলে) “হে আমাদের প্রভু, আমাদের উপর থেকে বিপদ দূরে করে দিন [41:49-51]। নিশ্চয়ই আমরা তো সত্য স্বীকার কারী” [10:12, 11:10]।
রাসূল/ হাদীশ ছাড়া কুরআন গ্ৰহণ করা অসম্ভব।
44:13 নং আয়াহ : আর কিভাবে জ্ঞানের সর্বোচ্চ সীমা/ কুরআন গ্ৰহণ করবে [45:20]?? অথচ নিশ্চয়ই তাদের কাছে এসেছে সুস্পষ্ট রাসূল (আর তাকেই তারা অস্বীকার [45:6] করছে)!
তারা নাবী (সা) কে “প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত” পাগল বলতেন।
44:14 নং আয়াহ : (বিপদ কেটে গেলেই) তারা আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এবং তারা বলে- “ এ (মুহাম্মাদ) একজন ‘প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত’ পাগল” [51:52]।
# এখানে আরবি শব্দ ‘মুয়াল্লামুন’। যার একাধিক অর্থ হতে পারে। যেমন- জ্ঞানী, শিক্ষিত, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, অভিজ্ঞ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে হাদীশ অস্বীকারকারীগণ বলেন- “নাবী (সা) মূর্খ ছিলেন না, তিনি শিক্ষিত ছিলেন”। অথচ 29:48 এ পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে- “তিনি পড়া লেখা করেন নি”। আর 7:157 ও 62:2 এও।
বিপদ কেটে গেলে আবার মানুষ কুফরি/ শিরক করা শুরু করে।
44:15 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যদি আমরা কিছুক্ষণের জন্য তাদের উপর থেকে শাস্তি সরিয়ে নিই, তাহলে তারা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে [39:49]।
রাসূলকে অস্বীকারের প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
44:16 নং আয়াহ : যে দিন আমরা তাদেরকে কঠিন ভাবে ধরব, নিশ্চয়ই আমরা (রাসূলকে অস্বীকারের) প্রতিশোধ নেব [32:14, 45:34]।
44:17 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা তাদের (আরব জাতির) পূর্বে [36:6] ফিরআউনের জাতিকে পরীক্ষা করেছি। তাদের কাছে এসেছিল একজন সম্মানিত রাসূল।
# এখানে একজন কেন, দুজন সম্মানিত রাসুল হওয়া উচিৎ ছিল (26:15, 20:43)! তাদের কাছে মূসা ও হারূন (আ) গিয়েছিলেন। সুতরাং প্রচলিত ব্যাকারণের দৃষ্টিতে এটা ভুল। তবে এটা কুরআনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য্য। বিস্তারিত জানার জন্য 73:15 আয়াহ সহ টিকা দেখুন।
ফিরআউনের কাছে মূসা (আ) এর দাবি কি ছিল??
44:18 নং আয়াহ : (তিনি বলেছিলেন) “তোমরা আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে সোপর্দ করো [7:105, 20:47, 26:17]। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য বাস্তবিক একজন রাসূল।
# এখানেও একজন রাসূল বলা হচ্ছে। অথচ তারা ছিলেন দুজন রাসূল। উত্তর আগের আয়াহতে রয়েছে।
ফিরআউনকে মূসা (আ) এর শিক্ষা।
44:19 নং আয়াহ : আর আল্লাহর চেয়ে নিজেকে বড় হিসাবে দেখো না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে এসেছি সুস্পষ্ট প্রমাণ/ নিদর্শন [17:101, 27:12] নিয়ে।
মূসা (আ) ফিরআউনকে ভয় পাচ্ছিলেন।
44:20 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমি আমার প্রভুর কাছে ও তোমাদের প্রভুর কাছে আশ্রয় চাই এই হতে যে, তোমরা আমাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করবে [20:45]।
44:21 নং আয়াহ : আর যদি তোমরা ইমান না আন, তবে আমার থেকে দূরে থাকো”।
# আমার থেকে দূরে থাকো বলতে- আমাকে আঘাত করা হতে দূরে থাক।
মূসা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন।
44:22 নং আয়াহ : শেষে তিনি (মূসা) তার প্রভুকে ডেকে বললেন- “ওরা অপরাধী সম্প্রদায়”।
উত্তরে আল্লাহ যা যা বললেন।
44:23 নং আয়াহ : (বলা হল) “তাহলে রাতে বেরিয়ে পড়ুন আমার বান্দাদের নিয়ে। নিশ্চয়ই তোমাদের পিছনে ধাওয়া করা হবে”।
44:24 নং আয়াহ : আর (লোহিত) সাগরকে শান্ত থাকতে দিন, নিশ্চয়ই তারা হবে- ডুবে যাওয়া সৈন্য বাহিনী।
ফিরআউন সম্প্রদায় কি কি হারিয়েছিল??
44:25 নং আয়াহ : কতশত বাগান ও ঝর্ণাধারা সমূহ ছেড়ে এসেছে।
44:26 নং আয়াহ : আর (কতশত) শস্যক্ষেত ও সম্মান জনক/ সম্ভ্রান্ত বসতবাড়ি।
44:27 নং আয়াহ : আর (কতশত) বিলাস সামগ্রী, যা নিয়ে তারা আনন্দফূর্তি করত।
বানী ইসরাঈল ফিরআউন সম্প্রদায়ের উত্তরাধিকারী হয়েছিল।
44:28 নং আয়াহ : এমনই হয়েছিল (তাদের পরিণতি)। এবং অন্য সম্প্রদায়কে আমরা তাদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছি [26:59, 17:104]।
ফিরআউন সম্প্রদায়ের জন্য কেউ আফসোস করে নি।
44:29 নং আয়াহ : অতঃপর না তাদের জন্য কেঁদেছিল আকাশ, আর না পৃথিবী (১)। তাদের অবকাশও দেওয়া হয় নি [10:90]।
১ এটা আরবি বাক রীতি, প্রবাদ। যার অর্থ- কেউ তাদের জন্য আফসোস করেনি। অথবা তাদের সমর্থকও কেউ ছিল না। প্রশ্ন হবে- “তাদের জন্য কেউ কেন আফসোস করে নি”?? উতর রয়েছে 89:11 তে।
আল্লাহ বানী ইসরাঈলকে উদ্ধার করেছিলেন।
44:30 নং আয়াহ : অবশ্যই আমরা বানী ইসরাঈলকে উদ্ধার করেছিলাম অপমানজনক শাস্তি হতে [2:49]।
ফিরআউন ছিল সর্বোচ্চ সীমালঙ্ঘনকারী।
44:31 নং আয়াহ : ফিরআউনের থেকে। নিশ্চয়ই সে ছিল সর্বোচ্চ সীমালঙ্ঘনকারী [89:11, 28:4]।
ইয়াহুদী, খৃষ্টানদের জ্ঞানের শীর্ষে পৌঁছানোর ভবিষ্যৎ বাণী।।
44:32 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে মহাবিশ্বে বসবাসকারী অন্য মানুষদের উপর মনোনীত করবো জ্ঞান অর্জনের কারণে।
তাওরাতে ছিল পরবর্তী জীবনের সুস্পষ্ট বার্তা।
44:33 নং আয়াহ : তাদেরকে আমরা দিয়েছিলাম আয়াত সমূহ (কিতাব)। যার মধ্যে ছিল পরবর্তী জীবনের সুস্পষ্ট বার্তা [20:133]।
# ইয়াহুদীরা তাদের ধর্মগ্রন্থ থেকে পরবর্তী জীবন সম্পর্কিত তথ্য গুলো বাদ দিয়ে দিয়েছে। ঐ জন্য বাইবেলের প্রথম 5 টি পুস্তকে পরবর্তী জীবন সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। এখানেই শেষ নয়, পবিত্র কুরআনের অন্যত্রেও এই ধরণের বক্তব্য রয়েছে (87:16-19)।
নাবী (সা) এর যুগে ইয়াহুদীরা যা যা বলত।
44:34 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই এখন ওরা (বানী ইসরাঈল/ ইয়াহুদীরা) বলে,
44:35 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কোনও কিছুই নেই [45:24]। আর আমরা কখনও উত্থিত হবে না [84:1-5]।
44:36 নং আয়াহ : (বলে) “তোমরা (মুসলিমরা) আমাদের বাপদাদাদেরকে (জীবিত করে) নিয়ে এসো। যদি হয়ে থাক সত্যবাদী [45:25-26]।
# পরবর্তী আয়াত গুলোতে ইয়াহুদীদের দাবির বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে 44:38-40 এ।
ইয়াহুদীদের ধ্বংসের ভবিষ্যৎ বাণী।
44:37 নং আয়াহ : তারা উত্তম, নাকি তুব্বা জাতি?? আর তাদের পূর্বে যারা ছিল?? নিশ্চয়ই তাদেরকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। কেননা, তারা ছিল অপরাধী সম্প্রদায়।
# তুব্বা জাতি সম্পর্কে 50:14 তেও কথা বলা হয়েছে। তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পবিত্র কুরআন ও হাদীশে নেই। ঐতিহাসিকদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। তবে মনে করা হয়- ইয়ামেনে তাদের রাজধানী ছিল এবং তারা ইরাক, সিরিয়া, আরব দেশ গুলো সহ আফ্রিকার কিছু অংশেও শাসন করতো।
# আয়াহটি বলতে চাইছে যে, ইয়াহুদীরা তুব্বাদের মতো শক্তিশালী শাসক সম্প্রদায় ছিল না। তারা যদি ধ্বংস হয়, ইয়াহুদীরাও ধ্বংস হতে পারে। বর্তমানের ইয়াহুদীরাও অত্যাচারী/ অপরাধী সম্প্রদায়ে পরিণতি হয়েছে। তারা জোর করে ফিলিস্তিন দখল করে ফিলিস্তিনীদের বেদখল করে দিয়েছে। সুতরাং তারাও ধ্বংস হবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।
মহাবিশ্ব খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করা হয় নি।
44:38 নং আয়াহ : আর আমরা মহাবিশ্ব, পৃথিবী ও তাতে থাকা সমস্ত কিছু খেলাচ্ছলে [69:16-17] সৃষ্টি করি নি।
44:39 নং আয়াহ : আমরা উভয় (মহাবিশ্ব ও পৃথিবী) কে নিদিষ্ট উদেশ্য ছাড়া সৃষ্টি করি নি। কিন্তু তাদের বেশিরভাগই তা জানে না।
নির্ধারিত সময়ে বিচার দিবস প্রতিষ্ঠিত হবে।
44:40 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই মিমাংসা দিবসটি তাদের সকলের জন্যেই নির্ধারিত সময়ে [69:16-17] আসবে [16:1]।
আল্লাহর দয়া প্রাপ্ত বন্ধু, তার বন্ধুদের জন্য শাফায়াত করবে।
44:41 নং আয়াহ : সেদিন এক বন্ধুর জন্য অন্য কোনও বন্ধুর কোনও কাজে আসবে না [43:67]। আর তাদেরকে কোনও সাহায্য করা হবে না।
44:42 নং আয়াহ : তবে আল্লাহ যার প্রতি করুণা করবেন, সে ছাড়া [43:86, 20:109, 19:87, 34:23]। নিশ্চয়ই তিনি মহা শক্তিশালী, মহা করুণাময়।
# হাদীশ অস্বীকারকারীরা বলেন- “শাফায়াত বলে কিছু হবে না”। কিন্তু এই আয়াহ তাদের দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে দিল।
পাপীদের খাদ্য হবে কুলগাছ।
44:43 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই কুল গাছ হবে,
44:44 নং আয়াহ : পাপীদের খাদ্য [37:66, 56:52-53]।
পাপীদের পানীয় নক্ষত্রের প্লাজমা ও তার পরিণতি।
44:45 নং আয়াহ : (প্লাজমা) তাদের পেটে [56:54] গলিত তামার মতো উথলাথে থাকবে।
44:46 নং আয়াহ : যেভাবে ভাবে উথলায় ম্যাগমা [37:67]।
পাপীকে জাহান্নামের মাঝখানে রাখা হবে।
44:47 নং আয়াহ : (বলা হবে) “তাকে ধর, টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামের মাঝখানে [22:22, 32:20] নিয়ে যাও।
তার মাথায় নক্ষত্রের প্লাজমা ঢালা হবে।
44:48 নং আয়াহ : তারপর ঢালতে থাক তার মাথায় প্লাজমার শাস্তি”।
পাপীদেরকে কি কি বলা হবে??
44:49 নং আয়াহ : (বলা হবে) “এখন স্বাদ নাও (শাস্তির)। তুমি নাকি মহাশক্তিশালী ও মহা সম্মানিত ছিলে??
44:50 নং আয়াহ : এটা (জাহান্নাম) সেই বিষয়ই, যে সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ [52:14] করতে”।
জান্নাতীরা কোথায় থাকবে??
44:51 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে।
44:52 নং আয়াহ : তারা থাকবে ঝর্ণাধারা সমূহে পরিপূর্ণ জান্নাতে।
জান্নাতীদের পোষাক।
44:53 নং আয়াহ : তারা পাতলা ও মোটা রেশমের কাপড় পড়ে [76:21, 55:76] সামনাসামনি বসবে [76:13]।
জান্নাতীদের সঙ্গে হুরদের জুটি বানিয়ে দেওয়া হবে।
44:54 নং আয়াহ : এমনই হবে। তাদের সঙ্গে সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট হুরদের সঙ্গে জুটি বানিয়ে দেওয়া হবে।
# একটা ভুল ধারণা রয়েছে। তা হল- হুর নারী। এটা ভুল ধারণা। হুর শব্দের অর্থ হল- সাদা পোষাক পরিহিত/ পরিহিতা। হুর কারা পাবে, কতগুলো পাবে?? উত্তর রয়েছে 55:70 ও 55:72 আয়াত ও টিকায়। যান, গিয়ে দেখে আসুন।
■ জান্নাতে মানুষ থাকবে নির্ভয়ে ■ সমস্ত রকমের ফল সেখানে থাকবে।
44:55 নং আয়াহ : তারা সেখানে নির্ভয়ে চাইতে পারবে সমস্ত রকমের [50:35] ফলমূল [2:25]।
# যদিও ফলমূল তাদের কাছে ঝুলে (69:23) থাকবে। হাত বাড়ালেই পেতে পারবে। কিন্তু তবুও যদি কেউ হাত বাড়াতে না চান, তাহলে চাইলেই পেয়ে যাবেন।
জান্নাতে মৃত্যু হবে না।
44:56 নং আয়াহ : সেখানে তাদেরকে মৃত্যুর স্বাদ গ্ৰহণ করতে হবে না। প্রথমে যে মৃত্যু [37:59] হয়ে গেছে, তা ভিন্ন [55:26-27]। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন।
44:57 নং আয়াহ : ওটাই আপনার প্রভুর [64:9, 3:185] অনুগ্রহ। আর ওটাই মহা সাফল্য [5:119]।
কুরআন বোঝা খুব সহজ।
44:58 নং আয়াহ : যাইহোক মূলত আপনার ভাষায় তাকে (কুরআনকে) আমরা সহজ করে দিয়েছি [18:1]। যাতে তারা তা হতে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
কর্ম করে পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
44:59 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি (পরিণতির) অপেক্ষা করুন, নিশ্চয়ই তারাও অপেক্ষা [52:31, 10:102] করছে।