বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 89 টি।
বিচ্ছিন্ন আক্ষর গুলো আসলে কি??
43:1 নং আয়াহ : হা মীম [15:1]।
কুরআন সুস্পষ্ট, তাতে কোনও অস্পষ্টটা নেই।
43:2 নং আয়াহ : সুস্পষ্ট কিতাবের/ কুরআনের শপথ [18:1]।
কুরআন আরবিতে নাযিল করা হয়েছে কেন??
43:3 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা তাকে কুরআন রূপে আরবিতে নাযিল করেছি। যেন তোমরা মস্তিষ্কের [41:3] ব্যবহার কর।
কুরআন রয়েছে উম্মুল কিতাবে সুরক্ষিত।
43:4 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তা রয়েছে উম্মুল/ মূল কিতাবে [85:22, 56:78, 13:38-39]। তা (কুরআন) উচ্চ মর্যাদা সম্পন্নসম্পন্ন ও বিজ্ঞানময় [36:2, 54:5]।
মাক্কাবাসীদের আজব দাবি, আল্লাহর জবাব।
43:5 নং আয়াহ : তবে কি আমরা সংবিধান প্রত্যাহার করে নেব এ কারণে যে, তোমরা (মাক্কাবাসী) উগ্ৰ সম্প্রদায়??
# মাক্কাবাসীদের দাবি ছিল- আল্লাহ যেন পবিত্র কুরআন নাবী (সা) এর থেকে প্রত্যাহার করে নেন (43:31)। এখানে সেই প্রসঙ্গেই আল্লাহ কথা বলছেন। যাইহোক, এখন প্রশ্ন হবে- “আল্লাহ কি পবিত্র কুরআন প্রত্যাহার করে নিতে পারতেন”?? অবশ্যই পারতেন। দেখুন 17:86 আয়াহ। যদিও প্রসঙ্গ ভিন্ন।
43:6 নং আয়াহ : পূর্ববর্তীদের কাছেও তো আমরা কত শত নাবী পাঠিয়েছি (অর্থাৎ তোমাদের কাছে এই প্রথম নাবী আসে নি)।
প্রত্যেক নাবী রাসূল ব্যাঙ্গ বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন।
43:7 নং আয়াহ : এবং তাদের কাছে এমন কোনও নাবী আসে নি [13:32, 21:2], যাকে তারা ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ [36:30, 21:41] করে নি।
নাবী রাসূলদেরকে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপের পরিণতি।
43:8 নং আয়াহ : আমরা তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যারা শক্তিতে ছিল এদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ (যেমন ফিরআউন)। এবং তাদের উদাহরণ এখন অতীত [32:26]।
অনেকেই মনে করেন- আল্লাহই মহাবিশ্বের স্রষ্টা।
43:9 নং আয়াহ : আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন- “কে সৃষ্টি করেছে মহাবিশ্বকে?? তাহলে তারা অবশ্যই বলবে- “তাদের সৃষ্টি করেছেন মহা শক্তিশালী ও মহাজ্ঞানী” [29:61, 39:38]।
পৃথিবীর প্লেট গুলো ম্যাগমার উপর ভাসমান।
43:10 নং আয়াহ : যিনি পৃথিবীর উপরিভাগ (প্লেট গুলো) কে নৌকা/ দোলনা (১) বানিয়েছেন। এবং তিনি তোমাদের জন্য তার (ক্রাষ্ট/ ভূত্বকের) ভিতর (২) দিয়ে যাতায়াতের পথ বানিয়েছেন। যাতে তোমরা খুব সহজে যাতায়াত করতে পারো।
১ সমুদ্রে যেভাবে নৌকা/ জাহাজ গুলো ভাসমান, ঠিক তেমন ভাবেই পৃথিবীর প্লেট গুলো ম্যাগমার উপর ভাসমান।
২ যেমন, পাতাল রেল।
যতটা বাষ্প হয়, ততটা বৃষ্টি হয়।
43:11 নং আয়াহ : এবং যিনি বায়ুমন্ডল থেকে নিদিষ্ট পরিমাণ (যতটা বাষ্প হয়, ততটা) বৃষ্টি নামান [56:69]। অতঃপর তা দ্বারা মৃত ভূমিকে জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরকে জীবিত করে করে [84:1-5] আনা হবে।
DNA ডবল হেলিক্স গুলো আল্লাহর সৃষ্ট।
43:12 নং আয়াহ : আর যিনি সমস্ত (DNA) ডবল হেলিক্স গুলোকে সৃষ্টি করেছেন। এবং তোমাদের জন্য বানিয়েছেন জলযান এবং জন্তু, যাতে তোমরা আরোহণ করতে পারো।
বায়ু যান/ বিমানের ভবিষ্যৎ বাণী।
43:13 নং আয়াহ : যাতে তোমরা তার (বায়ু যানের) উপর নিয়ন্ত্রণ পেতে পারো [22:27]। আর তোমরা স্মরণ করো তোমাদের প্রভুর সেই নিয়ামত/ অনুগ্রহ, যখন তোমরা তার (বায়ু যানের) উপর নিয়ন্ত্রণ পাবে। তখন বলবে- “পবিত্র তিনি, যিনি তা (বায়ু যান) আমাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন। আমরা এটাকে (বায়ু যান) কে বশীভূত করতে পারতাম না [36:42]।
43:14 নং আয়াহ : এবং নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রভুর দিকে ফিরে যাবো”।
আল্লাহ পুত্র বা কন্যা গ্ৰহণ করেন নি।
43:15 নং আয়াহ : তা সত্ত্বেও তারা তার বান্দাদের মধ্যে থেকে কাউকে কাউকে (ঈশা ও উযাইরকে) তার অংশ (পুত্র) সাব্যস্ত করছে [9:30]। নিশ্চয়ই মানুষ সুস্পষ্ট সত্য অস্বীকারকারী।
43:16 নং আয়াহ : তিনি কি তার সৃষ্টির মধ্যে থেকে কোনও কিছুকে (ফেরেস্তাদেরকে) কন্যা হিসাবে গ্ৰহণ করেছেন, আর তোমাদের জন্য পুত্র নির্ধারণ [53:21-22] করেছেন!
# উপরিউক্ত দুই আয়াতের কিছু রেফারেন্স উল্লেখ করি। সময় হলে গিয়ে একবার দেখে আসবেন- 6:101, 72:3, 2:116-117 ও 19:91-93 আয়াত।
কন্যা সন্তান দুঃচিন্তা ও লজ্জার বিষয় নয়।
43:17 নং আয়াহ : আর যখন তাদের কাউকে খবর দেওয়া হয় সেই (কন্যা) সন্তানের, যা তারা দয়াময়ের প্রতি আরোপ করে [43:19], তখন তার মুখ মন্ডল বিবর্ণ হয়ে যায়, আর দুঃচিন্তায় ও লজ্জায় পড়ে যায় [16:58-59]।
# অথচ আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন- “আদমের পুত্র ও কন্যারা সম্মানিত (17:70)। আরও বলেছেন- “পুরুষ হোক কিংবা নাবী, তারা একে অপরের সমান”(3:195)।
কন্যা সন্তানের লালনপালন কেমন হওয়া উচিৎ??
43:18 নং আয়াহ : তারা (আল্লাহর জন্য) নির্ধারণ করে (সেই সন্তানকে) যার লালিত পালিত হওয়া উচিৎ ‛আদর যত্নে, সাজ সজ্জায় ও অলংকারে’। যার সঙ্গে প্রকাশ্যে ঝগড়া/ তর্কবিতর্ক করা অনুচিৎ।
তৎকালে ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহর কন্যা গণ্য করা হোত।
43:19 নং আয়াহ : আর তারা দয়াময়ের বান্দা/ ইবাদত কারী ফেরেস্তাদেরকে নারী হিসাবে গণ্য করে। তারা কি তাদেরকে সৃষ্টির সময় দেখেছিল [37:150]?? তাদের কথা গুলো লিখে রাখা হবে [82:10-12, 50:17-18] এবং (এ বিষয়ে) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।
মূর্তি পূজার পক্ষে মূর্তি পূজারীদের যুক্তি।
43:20 নং আয়াহ : এবং তারা বলে- “দয়াময় ইচ্ছা না করলে আমরা তাদের (মূর্তিদের) পূজা করতাম না [6:148, 6:106-107]। তাদের এ বিষয়ে কোনও জ্ঞানই নেই, তারা শুধুই অনুমান [53:28] করছে [41:40, 26:4, 64:2]।
মূর্তিপূজার পক্ষে আল্লাহ কোনও কিতাব দেন নি।
43:21 নং আয়াহ : আমরা কি তাদেরকে এর পূর্বে তার (মূর্তি পূজার) স্বপক্ষে কোনও কিতাব [30:35, 46:4] দিয়েছি, যা তারা আঁকড়ে ধরে আছে??
# হিন্দু ধর্মে মূর্তি পূজার পক্ষে প্রমাণ নেই। বরং বিপক্ষে প্রমাণ রয়েছে। যদিও পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মূর্তি পূজা করে হিন্দুরা। অবাক করা ব্যাপার হল- তারা মূর্তি পূজাকে ধর্ম মনে করে। মূর্তি পূজার বিপক্ষে দলিল গুলো হিন্দু ধর্ম থেকেই উল্লেখ করা হয়েছে 30:42 এর টিকায়।
মূর্তি পূজার পক্ষে মূর্তি পূজারীদের শেষ যুক্তি হল- বাপদাদা।
43:22 নং আয়াহ : না, (তাদেরকে মূর্তি পূজার পক্ষে প্রমাণ হিসাবে কোনও কিতাব দেওয়া হয় নি) বরং তারা বলে- “আমরা আমাদের বাপদাদাকে এই মতবাদের উপর পেয়েছি। আমরা তাদের অনুসরণ করছি এবং আমরা সঠিক পথ প্রাপ্ত”।
নাবী রাসূলদের বিপক্ষে গোঁড়াদের শেষ যুক্তি হল- বাপদাদা।
43:23 নং আয়াহ : আর এভাবেই আমরা আপনার পূর্বে কোনও সভ্যতায় সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তাদের মধ্যে শক্তিশালীরা শুধু এটাই বলেছিল- “আমরা আমাদের বাপদাদাকে যে মতবাদের উপর পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করবো”।
সত্য অস্বীকার/ প্রত্যাখ্যান গোঁড়াদের হাতিয়ার।
43:24 নং আয়াহ : (সতর্ককারীরা) বললেন- “তোমরা যে মতবাদের উপর তোমাদের বাপদাদাকে পেয়েছ, যদি তার তুলনায় নির্ভুল পথ দেখাই (তবুও কি তার অনুসরণ করবে না)”?? তারা বলতো- “তোমরা (সতর্ককারীরা) যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছো, নিশ্চয়ই আমরা তা অস্বীকার/ প্রত্যাখ্যান করলাম”।
সত্য অস্বীকার করার পরিণতি কেমন হয়েছিল??
43:25 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা তখন তাদের থেকে (সতর্ককারীদের অস্বীকার ও নাবী রাসূলদের উপর অত্যাচারের) প্রতিশোধ নিয়েছি। অতঃপর দেখুন- সত্য অস্বীকার করার কি পরিণতি [30:42, 32:26] হয়েছে!!
ইবরাহীম (আ) তার জাতিকে কি কি বলেছিলেন??
43:26 নং আয়াহ : এবং (স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা) যখন ইবরাহীম তার পিতাকে ও তার জাতিকে উদেশ্য বলেছিলেন- “তোমরা যার (মূর্তির) ইবাদাত/ পূজা করছো, তার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।
মানুষ কোষ সমূহ দ্বারা সৃষ্ট।
43:27 নং আয়াহ : কিন্তু যিনি আমাকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ সমূহ/ কোষ সমূহ দ্বারা বিকশিত করেছেন [36:22, 30:30], তার ইবাদাত করব। নিশ্চয়ই তিনি শীঘ্রই আমাকে পথ দেখাবেন” [37:99]।
ইবরাহীম (আ) কোন কালিমা রেখে গিয়েছেন??
43:28 নং আয়াহ : আর তিনি রেখে গিয়েছেন একটি কালিমা/ বাণী [2:129] পরবর্তীদের জন্য। যাতে তারা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে।
ইবরাহীম (আ) দুয়ার ফল হলেন- নাবী (সা)।
43:29 নং আয়াহ : বরং আমরা তাদেরকে (মাক্কাবাসীদের কে) ও তাদের বাপদাদাকে [36:6] যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছি [20:134]। যতক্ষণ না তাদের কাছে সত্য ও সুস্পষ্ট প্রচারকারী রাসূল এসেছে [17:15]।
কিন্তু ইবরাহীম (আ) এর বংশধররা কুরআন অস্বীকার করেছিল।
43:30 নং আয়াহ : আর যখন তাদের কাছে মহাসত্য আসলো, তখন তারা বলল- “এটা (কুরআন) তো জাদু [6:7]। নিশ্চয়ই আমরা তা (কুরআন) অস্বীকার/ প্রত্যাখ্যান করলাম”।
দাবি- দুই শহরের প্রধান ব্যক্তির উপর কুরআন নাযিল হয় নি কেন??
43:31 নং আয়াহ : আর তারা বলে- “এই কুরআন কেন নাযিল হল না দুই শহরের (মাক্কা ও তায়েফের) কোনও নেতার উপর [28:86, 42:52]”??
দাবির পেক্ষিতে আল্লাহ জবাব দিচ্ছেন।
43:32 নং আয়াহ : তারা কি আপনার প্রভুর রহমত/ দয়া (নবুওয়াত) বন্টন করতে চায়?? আমরাই তাদের মধ্যে বন্টন করি ইহজীবনের জীবিকা। এবং মর্যদা সমূহের [6:132, 46:19] ক্ষেত্রে কাউকে কারোর উপর উন্নীত করি। যাতে একে অপরের অধিনস্ত হিসাবে মেনে নেয়। আর আপনার প্রভুর রহমত/ দয়া (নবুওয়াত) তা হতে উত্তম, যা তারা জমা (ধনসম্পদ) করে।
# তিনটি উত্তর রয়েছে- A) আল্লাহ নবুওয়াত ভাগ করেন না। B) ইহজীবনে ধনী হওয়া, গোত্র প্রধান, নেতা হওয়ার মতো ব্যবস্থা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে একে অপরের উপর নির্ভর করে ইহজীবন চলতে পারে। C) আল্লাহ নাবী (সা) সান্ত্বনা দিলেন যে, ধনী হওয়া, গোত্র প্রধান, নেতা হওয়ার চেয়ে নাবী হওয়া উত্তম। সুতরাং তাদের কথায় মন খারাপ করার কিছুই নেই।
মুসলিমরা আল্লাহর ইবাদত করে, তাহলে অমুসলিমরা ধনী কেন??
43:33 নং আয়াহ : আর যদি সমস্ত মানুষ জাতি (সত্য অস্বীকারের ক্ষেত্রে) একমতালম্বি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকত, তাহলে যারা দয়াময়কে অস্বীকার করে, তাদের ঘরবাড়ির দেওয়াল গুলো, ছাদ গুলো ও সিড়ি গুলোকে রূপা নির্মিত বানিয়ে দিতাম এবং তারা তাতে (সিড়ি দিয়ে ছাদে) উঠত।
43:34 নং আয়াহ : এবং তাদের ঘরবাড়ির দরজা ও পালঙ্ক দিতাম, যার উপর তারা হেলাল দিয়ে বসতে পারতো।
43:35 নং আয়াহ : এবং সোনারও। তবে ঐ সমস্ত বিষয় ইহজীবনের ভোগ সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়। মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের জন্য আপনাকে প্রভুর কাছে রয়েছে পরবর্তী জীবন।
# অর্থাৎ আল্লাহ চাইলে অমুসলিমদেরকে আরও ধনী করে দিতে পারতেন। তাদেরকে রূপার ও সোনার ঘরবাড়ি দিতে পারতেন। এজন্য দেন নি যে, সম্পদের লোভে মানুষ সত্য অস্বীকার করা শুরু করবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে মুত্তাকীদের ইবাদতের পেক্ষিতে সমস্ত পাওনা বুঝে নিতে পরকাল যথেষ্ট। যা রয়েছে আমাদের প্রভুর কাছে। প্রশ্ন হতে পারে- তাহলে কি মুসলিমরা ইহজীবনে কিছুই পাবে না?? পাবে, সেটা আল্লাহর পক্ষ থেকে বাড়তি অনুগ্রহ/ দয়া।
আল্লাহর বিধান/ বাণী থেকে দূরে যাওয়ার পরিণতি।
43:36 নং আয়াহ : আর যে দূরে যায় রহমানের বাণী/ বিধান (কুরআন) থেকে [13:28], তখন তার জন্য শাইত্বানকে নিয়োগ করে দিই, যে তার সঙ্গী [19:83, 7:27] হয়ে যায়।
# জন্মগত ভাবে প্রত্যেক মানুষের কাছে একটি জিন/ শাইত্বান থাকে, এমনকি নাবী (সা) এর কাছেও ছিল” (মুসলীম, হাদীশ 2814/1)। এখানে দ্বিতীয় শাইত্বান নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে 50:27 আয়াহ দেখুন।
প্রত্যেক ইসলাম ত্যাগী ও নাস্তিক নিজেকে সঠিক ভাবে কেন??
43:37 নং আয়াহ : এবং নিশ্চয়ই তারা (শাইত্বানরা) তাদেরকে বাধা দেয় সঠিক পথে আসতে। কিন্তু তারা ভাবে যে, তারা সঠিক পথেই আছে [47:25]।
# কেউ বলতে পারেন- “তাহলে এখানে মানুষের দোষ কোথায়”?? উত্তর সহজ- আল্লাহর বিধান থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর সঠিক পথে আসতে শাইত্বান বাধা দেয়। এর মানে, ইসলাম ত্যাগ করার বা আল্লাহর বিধান থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের। 2:26 দেখে নিন।
কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা।
43:38 নং আয়াহ : শেষে যখন আমার কাছে পৌঁছাবে, তখন (তার সঙ্গী শাইত্বানকে) বলবে- “হায়, যদি তোমার ও আমার মধ্যে দুই পূর্বের দূরত্ব [26:135] থাকতো! সুতরাং সে (শাইত্বান) কতই না নিকৃষ্ট [14:22, 50:27] সঙ্গী!
# দুই পূর্বের দূরত্ব বলতে কি?? পৃথিবীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে- সূর্য বছরে দুই দিন অর্থাৎ সূর্য বছরে একদিন ভূমধ্য রেখা অতিক্রম করে উত্তর গোলার্ধে সর্বোচ্চ রেখায় পৌঁছায় 21 শে জুন। সেই জন্য উত্তর গোলার্ধে দিন বড় হয় এবং রাত ছোট হয়। উত্তর গোলার্ধের যে (23.5°) রেখায় সেদিন সূর্য সরাসরি আলো দেয়, সেই রেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়।
তারপর আবার সূর্য ধীরে ধীরে ভূমধ্যরেখায় ফিরে আসে। তখন দিন রাত সমান সমান হয়ে যায়। তারপর সূর্য আবার দক্ষিণ গোলার্ধে সর্বনিম্ন রেখায় 22 শে ডিসেম্বর পৌঁছায়। তখন যে *23.5°) রেখায় সেদিন সূর্য সরাসরি আলো দেয়, সেই রেখাকে মকর ক্রান্তি রেখা বলা হয়। তারপর আবার ধীরে ধীরে সূর্য ভূমধ্যরেখায় ফিরে আসে। তখন আবার ভূমধ্যরেখায় দিন ও রাত সমান সমান হয়ে যায়।
উপরিউক্ত আয়াহ এখানে দুই পূর্বের দূরত্ব বলতে- উত্তর গোলার্ধের 23.5° ও দক্ষিণ গোলার্ধের 23.5° এর দূরত্বের কথা বলছে। প্রশ্ন হবে- দুই পূর্বের সঙ্গে সঙ্গে দুই পশ্চিমের কথা বলল না কেন?? উত্তর সহজ- দুই পূর্বের সূর্যোদয়ের মধ্যে দূরত্ব যতটা, দুই পশ্চিমের অস্ত স্থানের দূরত্ব তো একই। তাই আলাদা করে বলার প্রয়োজন ছিল না। যাইহোক সূর্য বছরে দুই দিন ভূমধ্যরেখা থেকে থেকে উদিত হয়, ভূমধ্যরেখায় অস্ত যায়। যেদিন দিন ও রাত সমান সমান হয়ে যায়। এবং সম্পর্কে 55:17 তে কথা বলা হয়েছে।
বিচার দিবসে মানুষের আফসোস তার জন্য কল্যাণকর হবে না।
43:39 নং আয়াহ : (বলা হবে) “আজ তোমাদের অনুতাপ তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে না [89:23]। যেহেতু তোমরা সীমালঙ্ঘন করেছিলে, সেহেতু তোমরা (তুমি ও শাইত্বান) শাস্তিতে সমান অংশিদার হবে”।
গোঁড়া/ সত্যের প্রতি বধির ও অন্ধকে পথ দেখানো।
43:40 নং আয়াহ : তবে কি আপনি বধিরকে শোনাতে চাইছেন?? অথবা আপনি কি সুস্পষ্ট গোঁড়ামির মধ্যে পড়ে থাকা অন্ধকে পথ দেখাতে চাইছেন [27:80]??
নাবী (সা) কে মাদীনাহতে নিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যৎ বাণী।
43:41 নং আয়াহ : সুতরাং যদি আমরা আপনাকে বের করে (মাদীনাহতে) নিয়ে যাই [93:4, 17:80]। তবুও এদের (মক্কার মানুষদের) থেকে অবশ্যই প্রতিশোধ নেব (কেননা, তারা সত্য অস্বীকার করেছে)।
নাবী (সা) কে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখাবার ভবিষ্যৎ বাণী।
43:42 নং আয়াহ : অথবা আমরা যদি আপনাকে (জান্নাত ও জাহান্নাম ইত্যাদি) দেখিয়ে দিই [53:13-18, 40:77], যা এদেরকে ওয়াদা [44:16] করেছি। তবুও নিশ্চয়ই আমরা তাদের উপর পূর্ণ ভাবে ক্ষমতাবান।
# আসলে মাক্কাবাসীদের অনেকেই বলতেন- “যেই জান্নাত ও জাহান্নামের কথা বলছো, তা কি তুমি নিজে দেখেছ?? তার উত্তর দেওয়া হচ্ছে এখানে যে, আপনাকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখালে কি এরা শাস্তি থেকে বেঁচে যাবে নাকি??
নাবী (সা) কে ওহীর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার নির্দেশ।
43:43 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি দৃঢ় ভাবে ধারণ করুন, যা আপনার কাছে ওহী [46:9, 10:15] করা হয়েছে। নিশ্চয়ই আপনি চূড়ান্ত সফলতার [1:5] পথের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।
ওহী সম্পর্কে নাবী (সা) ও তার জাতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
43:44 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই তা (ওহী) আপনার ও আপনার জাতির (মাক্কাবাসীর) জন্য সম্মানজনক বিষয় (১)। শীঘ্রই আপনাদেরকে (এই সম্পর্কে) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে [5:67, 27:84]।
১) সম্মান জনক এটা যে, নাবী (সা) এর প্রতি প্রেরিত ওহী মহাবিশ্ব সমূহের জন্য (21:107)। আর নাবী (সা) তাদের জাতির একজন।
মিরাজে নাবী (সা) এর সঙ্গে অন্যান্য নাবী রাসূলদের সাক্ষাৎ।
43:45 নং আয়াহ : তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে দেখবেন, যাদেরকে আপনার পূর্বে আমাদের রাসূলদের মধ্যে হতে পাঠিয়েছি। আমরা কি রহমানকে বাদ দিয়ে অন্য কোনও ঈশ্বরের [37:35] ইবাদত করার নির্দেশ [16:63, 21:25] দিয়েছি??
# কেউ বলতে পারেন- রাসূলদেরকে কি জিজ্ঞাসা করা সম্ভব?? কিভাবে জিজ্ঞাসা করা সম্ভব?? আসলে 43:42 এ মিরাজে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর মিরাজে রাসূলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটবে, সেখানে রাসূলদেরকে জিজ্ঞাসা করার কথা বলা হচ্ছে। মিরাজে রাসূলদের সঙ্গে নাবী (সা) এর সাক্ষাৎ ঘটেছিল এই মর্মে বহু হাদীশ বর্ণিত হয়েছে। যেমন, বুখারীর 3207 নং হাদীস।
মূসা (আ) কে ফিরআউনের কাছে পাঠানো হল।
43:46 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা মূসাকে আমাদের নিদর্শন সহ পাঠিয়েছিলাম ফিরআউন ও তার মন্ত্রী পরিষদের কাছে। তিনি বলেছিলেন- “নিশ্চয়ই আমি মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন রাসূল” [44:17]।
# এখানে ‛একজন রাসূল’ কেন হল?? দুজন রাসূল হওয়া উচিৎ ছিল। কারণ, মূসা (আ) ও হারূন (আ) উভয়ই ছিলেন। প্রচলিত ব্যাকারণের দৃষ্টিতে এটা ভুল। তবে এটা কুরআনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য্য। আর পবিত্র কুরআনে একবার নয়, বহুবার ‛একজন’ শব্দটি এসেছে। যেমন, 7:104 এ। বিস্তারিত জানার জন্য 73:15 আয়াহ ও তার টিকা দেখুন।
তারা মূসা (আ) কে নিয়ে হাসিঠাট্টা করা শুরু করলো।
43:47 নং আয়াহ : অতঃপর যখন তিনি (মূসা) আমাদের নিদর্শন সমূহ সহ তাদের কাছে আসলেন, তখন তারা তা নিয়ে হাসিঠাট্টা [43:7] করতে লাগলো।
তাদের বহু নিদর্শন দেখানো হল।
43:48 নং আয়াহ : আমরা তাদেরকে একেরপর এক নিদর্শন [17:101] দেখাই, পরেরটা পূর্বের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল। আমরা তাদেরকে শাস্তি প্রদান [7:133-135] করেছিলাম, যাতে তারা (আল্লাহর পথে) ফিরে আসে [32:31]।
ফিরআউনের ও মন্ত্রিপরিষদদের প্রতিক্রিয়া।
43:49 নং আয়াহ : তারা বলল- “হে জাদুকর, আমাদের জন্য তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে দুয়া করো। যার (শাস্তি সরিয়ে দেওয়ার) ওয়াদা তিনি তোমার কাছে করেছেন। (যদি তিনি শাস্তি সরিয়ে দেন) তাহলে নিশ্চয়ই আমরা পথপ্রাপ্ত হব (আমরা তোমার পথে আসবো)।
43:50 নং আয়াহ : কিন্তু যখনই আমরা তাদের উপর থেকে শাস্তি সরিয়ে নিতাম, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করতো [7:130-135]।
মিশর ছিল নদনদীতে ভরপুর একটি দেশ।
43:51 নং আয়াহ : অতঃপর একদিন ফিরআউন তার জাতিকে (জনসভায়) ডেকে বলল- “হে আমার জাতি, মিশরের রাজত্ব কি আমার নয়?? আর এই বয়ে চলা নদনদী গুলো কি আমার নিয়ন্ত্রাণাধীন নয়?? তোমরা কি দেখছ না??
# দুটি বিষয় রয়েছে। A) মিশরে প্রচুর পরিমাণে নদনদী ছিল। B) নদনদী গুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অর্থাৎ নদনদীতে বাঁধ নির্মাণ করা ছিল।
মূসা (আ) এর কথা আঁটকাতো।
43:52 নং আয়াহ : অথবা আমি কি এই ব্যক্তির (মূসার) চেয়ে উত্তম নই?? সে তো হীন/ নিচ, স্পষ্ট করে নিজের বক্তব্য রাখতে [20: 25-28] পারে না [26:13, 28:34]।
# মূসা (আ) এর কথা আঁটকে আঁটকে বের হতো, সুস্পষ্ট ভাবে কথা বলতে পারতেন না। বিঃ দ্রঃ হোসেন কুরানীরও কথা আঁটকায়। তবে আল্লাহর দয়ায় বক্তব্য রাখার সময় আঁটকায় না।
মিশরীয় শাসকদের হাতে সোনার চূড়ি থাকতো।
43:53 নং আয়াহ : তবে তাকে (মূসাকে) কেন দেওয়া হল না সোনার তৈরি বালা/ চূড়ি?? অথবা কেন তার সঙ্গে দলবেঁধে ফেরেস্তা এলো না” [15:8]??
# সেই যুগের রীতি ছিল যে, শাসক/ নেতার হাতে সোনার বালা/ চূড়ি থাকবে।
শাসকরা যুগ যুগ ধরে জনগণকে বোকা বানিয়ে আসছে।
43:54 নং আয়াহ : সে (ফিরআউন) এভাবে তার জাতিকে বোকা বানালো। আর তখন তারা (জনগণ) তাকে সত্য বলে মেনে নিল। নিশ্চয়ই তারা ছিল ফাসিক/ সত্য ত্যাগী সম্প্রদায় [11:97]।
ফিরআউন আল্লাহকে রাগিয়ে দিয়েছিল।
43:55 নং আয়াহ : অতঃপর সে যখন আমাদেরকে রাগিয়ে দিল/ বিরক্ত করে তুললো [7:133-135], তখন আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম। তাদের সবাইকে আমরা ডুবিয়ে দিলাম।
# সবাইকে বলতে?? ফিরআউন, তার মন্ত্রী পরিষদ, তার সেনাবাহিনী ও তার সমর্থক জনগণ।
ফিরআউনদের শাসন ইতিহাসে পড়ানোর ভবিষ্যৎ বাণী।
43:56 নং আয়াহ : অতঃপর তাদেরকে আমরা বানিয়ে দিলাম অতীত ইতিহাস এবং পরবর্তীদের জন্য যোগ্য উদাহরণ [11:100]।
মাক্কাহবাসী ঈশা (আ) এর প্রসঙ্গ শুনতে চাইতেন না।
43:57 নং আয়াহ : আর যখনই মারইয়াম পুত্র ঈশার উদাহরণ পেশ করা হয়, তখনই আপনার জাতি (মাক্কাহবাসী) শোরগোল [41:25] শুরু করে দেয়।
43:58 নং আয়াহ : তারা বলল- “আমাদের ঈশ্বর/ উপাস্য (মূর্তি) গুলো উত্তম, নাকি সে (ঈশা)?? তারা তা (এই তুলনা) করছে শুধু তর্কাতর্কি করার জন্যেই। বরং (সত্য এই যে) তারা ঝগড়াটে সম্প্রদায়।
ঈশা (আ) বানী ইসরাঈলের জন্য আদর্শ ছিলেন।
43:59 নং আয়াহ : তিনি (আল্লাহর) বান্দা ছাড়া কিছুই নন, আমরা তাকে নিয়ামত দান করে ছিলাম। তাকে আমরা উপস্থিত করেছিলাম বানী ইসরাঈলের [61:6, 3:49] জন্য আদর্শ করে।
# ঈশা মানবজাতির জন্য আসেন নি?? না, বাইবেলে এর প্রমাণ আজও রয়েছে। দেখুন- “But He answered and said, “I was not sent except to the lost sheep of the house of Israel” (Matthew, 15:24)। অর্থাৎ “আমাকে বানী ইসরাঈলের পথ হারানো ভেড়াদের জন্য ছাড়া ভিন্ন কোনও জাতির জন্য পাঠানো হয় নি”। আর এ জন্য যিশু/ ঈশা (আ) তার ধর্ম অন্যান্য জাতির কাছে প্রচার করতে নিষেধ করেছেন (Matthew, 10:5-6)।
মানুষকে আল্লাহ ধমকি দিলেন।
43:60 নং আয়াহ : আর আমরা চাইলে তোমাদের স্থলে ফেরেস্তাদের নিয়ে আসতে পারি, যারা পৃথিবীতে খলিফা/ প্রতিনিধি [35:39] হোত।
# মানুষ জাতি আল্লাহর প্রতিনিধি (2:30)। কিন্তু মানুষ জাতি এই দায়িত্ব পালন না করে, শুধু নিজ স্বার্থ খুঁজতে থাকে, সেই জন্য আল্লাহ এ কথা বলেছেন যে, “আমরা চাইলে তোমাদের স্থলে ফেরেস্তাদের নিয়ে আসতে পারি, যারা পৃথিবীতে খলিফা/ প্রতিনিধি হোত”।
কুরআনে কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে।
43:61 নং আয়াহ : এবং নিশ্চয়ই তা (কুরআন) কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান [84:1-5, 89:21-22]। সেই সম্পর্কে সন্দেহ করো না [69:16-17]। আমার অনুসরণ করো [4:80]। এটাই চূড়ান্ত সফলতার পথ [17:9]।
শাইত্বানের বাধা অমান্য করতে হবে।
43:62 নং আয়াহ : এবং শাইত্বান যেন কিছুতেই বাধা দিতে না পারে [2:208, 5:49]। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু [20:117]।
ঈশা (আ) কে প্রেরণের কারণ।
43:63 নং আয়াহ : যখন ঈশা এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণ [3:49, 5:110] সমূহ নিয়ে, তখন বলেছিলেন- “তোমাদের কাছে এসেছি বিজ্ঞান পূর্ণ বিষয় (ইঞ্জিল) নিয়ে। আর তোমাদের কাছে এসেছি সেই সমস্ত সুস্পষ্ট করার জন্য, যে সমস্ত বিষয় নিয়ে মতভেদ করতে। সুতরাং আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করো এবং আমার অনুসরণ করো [3:50]।
ঈশা (আ) নিজেকে আল্লাহ দাবি করেন নি।
43:64 নং আয়াহ : (এও বলেছিলেন) নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রভু, তোমাদেরও প্রভু। সুতরাং তার ইবাদত করো। এটাই চূড়ান্ত সফলতার পথ” [3:51, 5:116-117]।
# বাইবেল বিকৃত হওয়া সত্ত্বেও বাইবেলে আজও তার প্রমাণ রয়েছে- “I can of Myself do nothing. As I hear, I judge; and My judgment is righteous, because I do not seek My own will but the will of the Father who sent Me” (Jhon, 5:30)। এর অর্থ হল- “আমি নিজ হতে কিছুই করতে পারি না। যেমন শুনি, তেমন বিচার করি এবং আমার বিচার সঠিক। কারণ হল- আমি নিজের ইচ্ছায় কিছুই করি না। কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, সেই পিতার ইচ্ছা মতো চলি”।
এ ছাড়াও আরও বলা হয়েছে- “Then one of the scribes came, and having heard them reasoning together, perceiving that He had answered them well, asked Him- ‘Which is the first commandment of all’?? Jesus answered him- ‛The first of all the commandments is- Hear, O Israel, the Lord our God, the Lord is one. And you shall love the Lord your God with all your heart, with all your soul, with all your mind, and with all your strength’. This is the first commandment” (Mark, 12:28-30)।
এর অর্থ হল- “ইয়াহুদী ধর্মগুরুদের মধ্যে একজন কাছে এসে তাদের আলোচনা শুনলেন৷ যীশু তাদের ঠিক উত্তর দিয়েছেন জেনে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন- “শাস্ত্রে সমস্ত আদেশের মধ্যে কোনটি প্রধান আদেশ”?? যীশু উত্তর দিলেন- এটাই প্রধান আদেশ যে, ‘শোন হে ইস্রায়েল, আমাদের ঈশ্বর প্রভু মাত্র একজন’। এবং তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, মন, প্রাণ ও সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমার ঈশ্বর প্রভুকে ভালবাসবে”।
খৃষ্টানরা ঈশা (আ) এর নীতি নির্দেশনা নিয়ে মতভেদ করেছিল।
43:65 নং আয়াহ : কিন্তু তারা (তার নীতি ও নির্দেশনা নিয়ে) মতভেদ করলো, তৈরি হল বিভিন্ন দল [3:105]। সুতরাং সেদিনের কষ্টদায়ক শাস্তির কারণে ধ্বংস হবে তারা, যারা সীমালঙ্ঘন করেছে।
খৃষ্টানরা প্রমাণ দিতে না পেরে কিয়ামত আনার দাবি করতো।
43:66 নং আয়াহ : তারা কি শুধু এই জন্য অপেক্ষা করছে যে, হঠাৎ তাদের উপর কিয়ামত এসে যাক এবং তারা বুঝতেও পারবে না??
কাউকে বন্ধু বানানোর শর্ত হল- সে যেন মুত্তাকী হয়, নয়ত বিপদ।
43:67 নং আয়াহ : প্রত্যেক বন্ধুরা সেদিন একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে। তবে মুত্তাকীরা (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বন কারীরা) ছাড়া [44:41-42]।
বিচার দিবসে কাদের ভয় ও চিন্তা থাকবে না??
43:68 নং আয়াহ : (তাদেরকে বলা হবে) “হে আমার বান্দারা, আজ তোমাদের কোনও ভয় নেই, আর তোমরা চিন্তিতও হয়ো না”।
43:69 নং আয়াহ : (আরও বলা হবে) যারা আমাদের আয়াত সমূহ স্বীকার করেছিল এবং যারা ছিল মুসলীম/ অনুগত।
পৃথিবীর স্বামী-স্ত্রীরা, জান্নাতেও স্বামী-স্ত্রী হবে।
43:70 নং আয়াহ : তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো তোমাদের স্বামী/ স্ত্রীদের নিয়ে, আজ তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করা হবে”।
জান্নাতীদের থালা ও পানির পাত্র হবে সোনার।
43:71 নং আয়াহ : তাদেরকে (খাবার) পরিবেশন করা হবে সোনার থালাতে। আর পানির পাত্র গুলোও হবে সোনার। সেখানে থাকবে সেই সমস্ত কিছু, যা তাদের মস্তিষ্ক সমূহ চাইবে [50:35]। তা দেখে তৃপ্ত হবে তাদের চোখ গুলো। (বলা হবে) “তোমরা এখানে থাকবে অনন্তকাল”।
# “76:15-16 তে বলা হয়েছে, এটা পরস্পর বিরোধী তথ্য হয়ে গেল না”?? না, সব জান্নাতীদের মর্যাদা একই রকম হবে না। সূরাহ ওয়াকিয়াতেই দুই ধরণের জান্নাতীদের কথা বলা হয়েছে (ডানপন্থী ও অগ্ৰগামী)। এছাড়াও জাহান্নাম খেটেও বহু মানুষ জান্নাতে আসবে। উচ্চ মর্যাদার জান্নাতীরা সোনার পাত্র পাবে।
ইহজীবনে নিজ আমলের বিনিময়ে জান্নাত পাওয়া যাবে।
43:72 নং আয়াহ : আর (এটা) সেই জান্নাত, তোমাদেরকে যার ওয়ারিশ বানানো হল। সেই সমস্ত আমল/ কর্মের বিনিময়ে, যা তোমরা করেছিলে [36:54, 45:29]।
# এরমানে- আপনার মৃত্যুর পর, আপনার বংশধর যত ধরণের আমলই করুক, তা থেকে আপনি উপকৃত হবেন না। তবে মৃত্যুর পরও নিজ আমল থেকে পূণ্য পাওয়া সম্ভব। এর জন্য দেখুন 36:12 ও 82:5 আয়াত। আরও দেখুন 4:85 আয়াহ।
জান্নাতে থাকবে প্রচুর মাত্রায় ফলমূল।
43:73 নং আয়াহ : এখানে রয়েছে তোমাদের জন্য প্রচুর মাত্রায় [56:32-33] ফলমূল [77:42], যা হতে তোমরা খাবে” [2:25, 69:23]।
জাহান্নামীদের পরিণতি।
43:74 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে থাকবে অনন্তকাল।
জাহান্নামীরা জাহান্নামে হতাশ হয়ে পড়বে।
43:75 নং আয়াহ : তাদের শাস্তি কখনও কমানো হবে না, আর তারা তার (জাহান্নামের) মধ্যে হতাশ পড়বে [22:22, 32:20]।
আল্লাহ কাউকে শাস্তি দিতে চান না।
43:76 নং আয়াহ : আর আমরা তাদেরকে শাস্তি দিতে চাই না [3:108, 50:29], কিন্তু তারা মানুষের উপর অত্যাচার করত (এ কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে হচ্ছে)।
জাহান্নামীরা জাহান্নামের প্রহরীর কাছে যে আবেদন করবে।
43:77 নং আয়াহ : এবং তারা চিৎকার করে ডেকে বলবে- “হে মালিক (জাহান্নামের প্রহরী), আপনার প্রভু আমাদের উপর থেকে (শাস্তি) সরিয়ে [40:49, 74:30] নিক”। তিনি বলবেন- “নিশ্চয়ই তোমরা এভাবেই (শাস্তি পেতে) থাকবে”।
উত্তরে জাহান্নামীদের যা বলা হবে।
43:78 নং আয়াহ : আর (তাদেরকে বলা হবে) “আমরা সত্য নিয়ে তোমাদের কাছে [23:105-110, 40:50] এসেছিলাম। কিন্তু তোমাদের মধ্যে অনেকেই ছিলে সত্যকে অপছন্দকারী”।
ইসলামের বিরোধিতার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পর্কে আল্লাহর জবাব।
43:79 নং আয়াহ : তবে তারা কি (নিজেদের মধ্যে গোপন পরামর্শের মাধ্যমে) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে[52:42, 7:99]?? তবে নিশ্চয়ই আমরাও (তাদের ব্যাপারে) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি [3:54, 8:30, 86:15-16]।
# আল্লাহর সিদ্ধান্তটা কি?? বর্তমানে ইসলামকে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম, পৃথিবীতে ইসলাম গ্ৰহণের হিড়িক পড়ে গেছে। চাইলে Pew Research Center এর রিপোর্ট গুলো দেখতে পারেন, যা দেখতে গুগলে সার্চ করে নিতে পারেন। আর এটা আজ নয়, নাবী (সা) এর যুগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। দেখুন 9:32-33, 48:28, 61:8-9 আয়াত।
গোপন কথা এবং পরামর্শও ফেরেস্তারা লিখছে।
43:80 নং আয়াহ : নাকি তারা ভাবছে যে, আমরা তাদের গোপন কথাবার্তা ও গোপন পরামর্শ শুনতে পাই না?? হ্যাঁ, অবশ্যই সব শুনি। আর আমাদের রাসূলরা/ ফেরেস্তারা তাদের কাছে তো আছেই, তারা সবই লিখছে [82:10-12, 50:17-18]।
আল্লাহ সন্তানহীন, খৃষ্টানদেরকে খোলা চ্যালেঞ্জ।
43:81 নং আয়াহ : বলুন- “যদি সত্যিই রহমানের (জন্ম দেওয়া) সন্তান থাকত [19:91-93], তাহলে আমি তার প্রথম ইবাদতকারী হতাম”।
# বাইবেলে Jhon এর 3:16 তে বলা হয়েছে- “For God so loved the world that He gave His only begotten Son, that whoever believes in Him should not perish but have everlasting life”। অর্থাৎ “ঈশ্বর পৃথিবীকে এত প্রেম করলেন যে, তার একমাত্র ‛জন্ম দেওয়া’ পুত্রকে দান করে দিলেন …”।
কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হল- “For God so loved the world that he gave his only Son, so that everyone who believes in him may not perish but may have eternal life” (NRSV)। এখানে “জন্ম দেওয়া পুত্র” শব্দটি কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু তবুও এখানে ঈশা (আ) কে only Son (একমাত্র পুত্র) বলা হয়েছে। তবে only Son বাইবেলে ঈশা (আ) ছাড়াও আরও বহু জনকে ঈশ্বরের পুত্র বলা হয়েছে। তাহলে ঈশা (আ) একমাত্র পুত্র হলেন কিভাবে?? যেমন, “Adam, the son of God”(Luke, 3:38)। সাধারণ ও পাপী মানুষকেও বাইবেলে ঈশ্বরের পুত্র বলা হয়েছে (Genesis, 6:2)। প্রশ্ন এটাই যে, তাহলে “ঈশা (আ) ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র কিভাবে হলেন??
আল্লাহ মহাবিশ্বের শাসক, আরশের অধিকারী।
43:82 নং আয়াহ : তিনি মহাবিশ্বের শাসক, আরশ/ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আধিকারী [85:15]। তারা (তার সম্পর্কে) যা বলে, তা হতে তিনি পবিত্র।
ইসলাম বিরোধিতাকে গুরুত্ব না দেওয়ার নির্দেশ।
43:83 নং আয়াহ : সুতরাং তাদেরকে ছেড়ে দিন। তারা অপবাদ দিক/ বিরোধিতা করুক, খেল তামাশায় লিপ্ত থাকুক। যতক্ষণ না সাক্ষাৎ পায় তারা সেই দিনের, যে দিনের ওয়াদা তাদেরকে করা হয়েছে।
আল্লাহ মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর ঈশ্বর।
43:84 নং আয়াহ : আল্লাহ হলেন তিনি, যিনি মহাবিশ্বেও ঈশ্বর, আর পৃথিবীতেও ঈশ্বর। তিনি মহা বিজ্ঞানী ও মহা জ্ঞানী।
কিয়ামতের দিনক্ষণের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছে।
43:85 নং আয়াহ : আর বরকতময় (তিনি), যা মালিক মহাবিশ্ব, পৃথিবী এবং যা আছে উভয়ের মধ্যে । তার কাছেই রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান। তারই দিকে তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।
# এখানে এ কথা কেন বলা হল যে, কিয়ামতের দিনক্ষণের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছে?? উত্তরটা সহজ। যিশু বা ঈশা (আ) কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, কিয়ামত কখন হবে?? তার উত্তরে তিনি বললেন- “But about that day or hour no one knows, not even the angels in heaven, nor the Son, but only the Father” (NIV, Matthew, 24:36 ও Mark, 13:32)। এর অর্থ- “সেই দিন বা সময় সম্পর্কে কেউ জানে না, না জানে ফেরেস্তারা (পবিত্র আত্ম), আর না জানে পুত্র (আমি)। জানে শুধু পিতা বা ঈশ্বর”।
বাইবেলের এই Verse প্রমাণ করে- যিশু বা ঈশা (আ) ঈশ্বর ছিলেন না। যদি তিনি ঈশ্বর হতেন, তাহলে তিনি কিয়ামতের দিনক্ষণ জানতেন। এমনকি যদি তিনি 3 জন ঈশ্বরের একজন হতেন, তাও তিনি জানতেন। কিন্তু তিনি এবং পবিত্র আত্মা বা জিবরীল (আ) ঈশ্বর ছিলেন না। তাই তারা কিয়ামতের দিনক্ষণ জানতেন না।
সাধারণ মূমীনও শাফায়াত করবে।
43:86 নং আয়াহ : তারা তাকে (আল্লাহকে) বাদ দিয়ে যাকে ডাকে [10:18, 6:51], তারা শাফায়াত করার ক্ষমতা রাখে না [39:43-44]। তবে যে সত্যের স্বীকারোক্তি দেয়, সে ছাড়া [19:87, 34:23]। যদিও এটা তারাও জানে।
# ‛সত্যের স্বীকারোক্তি’ বলতে?? যে জেনে শুনে ও বুঝে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে। এই মর্মে হাদীশও রয়েছে মুসলিমে, 183 নং হাদীশ। যদিও হাদীশ অস্বীকারকারীরা বলেন- “শাফায়াত বলে কিছু হবে না”। কিন্তু এই আয়াহ তাদের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিল।
খৃষ্টানরাও ঈশ্বরের নাম হিসাবে ‛আল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করতেন।
43:87 নং আয়াহ : আর আপনি যদি তাদের (খৃষ্টানদের) কে জিজ্ঞাসা করেন- “কে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছে”?? অবশ্যই তারা বলবে- “আল্লাহ” [31:25, 39:38]। তবুও তারা বিভ্রান্ত হয়ে কোথায় যাচ্ছে??
# আয়াহ বলছে- খৃষ্টানরা ‛আল্লাহ’ শব্দটার সঙ্গে পরিচিত ছিল। বর্তমান ইংরেজি বাইবেলেও আল্লাহ শব্দ খানিকটা বিকৃত ভাবে হলেও বেঁচে আছে Matthew 27:46 ও Mark 15:34 এ। এছাড়াও Old testament এর Plasm 22:1 এও এই বক্তব্য রয়েছে। শব্দটা হল- Eli (এলি)। কোথাও কোথাও Eloi (এলোই, যা Elohim)। আর Scofild বাইবেলে Genesis 1:1 এর টিকায় পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে- হিব্রু Elohim শব্দটি মূলত Alah (আরবিতে আল্লাহ)।
আল্লাহ নাবী (সা) এর ‛কথার/ হাদীশের’ শপথ করেছেন।
43:88 নং আয়াহ : শপথ তার এই উক্তির- “হে আমার প্রভু, নিশ্চয়ই এই সমস্ত সম্প্রদায় (ইহুদি, খৃষ্টান ও মুশরিকরা) ইমান আনবে না”।
# আরবি বাক রীতিতে শপথ করা হয় কোনও কিছুর গুরুত্ব বোঝাতে। এখানে নাবী (সা) এর কথার/ হাদীশের গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ নাবী (সা) এর কথার/ হাদীশের শপথ করেছেন, অথচ হাদীশ অস্বীকারকারীরা বলেন- “হাদীশ মানবরচিত”! অথচ কুরআনে নাবী (সা) কে হাদীশ বর্ণনা করার নির্দেশ দিয়েছেন (91:11)।
43:89 নং আয়াহ : সুতরাং তাদের (খৃষ্টানদের) কে উপেক্ষা করুন [73:10] এবং বলুন- “সালাম [25:63], শীঘ্রই তোমরা (খৃষ্টানরা) জানতে পারবে”।
# খৃষ্টানরা কি জানতে পারবে?? এটা যে, ঈশা (আ) আল্লাহ নন, আল্লাহর পুত্র নন। কিভাবে??
কই পাচ্ছি না তো সুরাহ বাকারাহ্ থেকে মুমিনুন পর্যন্ত্য সুরাহ্ পর্যন্ত্য।