৩৯ নং সূরাহ | সূরাহ যুমার | Surah no 39 | Surah Zumar |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 75 টি।

কুরআন এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে।

39:1 নং আয়াহ : কিতাব (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে [32:2]। যিনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।

কুরআন ‛যথাযথ’ পদ্ধতি‌তে নাযিল করা হয়েছে।

39:2 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই কিতাবটি (কুরআন) আমরা নাযিল করেছি আপনার কাছে যথাযথ [41:42] পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে [2:97, 26:193-194]। এত‌এব খালিস্ব/ একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদাত করুন, তার মনোনীত [5:3, 3:19] দীন [9:33] অনুসরণের মাধ্যমে 

■ ইসলাম ত্রুটিমুক্ত। ■ ইবাদতের জন্য ‛উসিলা ধরা’ হারাম।

39:3 নং আয়াহ : জেনে রেখ, ‛খালিস্ব/ ত্রটি মুক্ত’ দীন শুধুমাত্র তাঁর‌ই প্রেরণ করা। আর যারা তাঁকে বাদ দিয়ে অন‍্য যে সমস্ত আওলীয়া/ অভিভাবক গ্ৰহণ করেছে [41:31], তারা বলে- “আমরা তাদের ইবাদাত এজন্য করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটে পৌঁছে দেবেন” [10:18]। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মাঝে মিমাংসা [22:69] করে দেবেন সেই বিষয়ে, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মিথ্যা‌বাদী ও কট্টরপন্থা অবলম্বন‌কারী [31:19] কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীকে পথ [26:4] দেখান না [13:27, 42:13]।

# আল্লাহ পথ দেখান না কেন?? 42:52 ও 6:88 তে বলা হচ্ছে- “আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে পথ দেখান”। এখন যে কুরআন অস্বীকার করে, তাকে আল্লাহ কিভাবে পথ দেখাবেন!

আল্লাহর ‛সন্তান গ্ৰহণ করা’ যৌক্তিক নয়।

39:4 নং আয়াহ : যদি আল্লাহ সন্তান গ্ৰহণ করবেন বলে ইচ্ছা [19:35, 19:92-93] করতেন, তাহলে তিনি যত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্য হতে কোনও কিছু‌কে [2:116-117] মনোনীত করতেন [112:3, 6:101]। তিনি পবিত্র [19:92]। তিনি আল্লাহ, তিনি পরম একক, তিনি প্রবল ভাবে অপ্রতিরোধ্য।

■ পৃথিবী গোল। ■ মহাবিশ্বের প্রত‍্যেকটা বস্তুই ঘুরছে।

39:5 নং আয়াহ : তিনি মহাবিশ্ব‌কে সৃষ্টি করেছেন নিঁখুত সুক্ষ্মাতি সুক্ষ্ম অনুপাত সহ [51:7]। তিনি পৃথিবীর উপর রাতের সঙ্গে দিনকে, দিনকে রাতের সঙ্গে সেই ভাবে ধীরে ধীরে পাকিয়ে দেন [57:6], যেভাবে ধীরে ধীরে মাথায় পাগড়ি পাকিয়ে (১) দেওয়া হয় [79:30]। নিয়ন্ত্রণাধীন রেখেছেন সূর্য ও চন্দ্রকে [14:33, 16:12]। প্রত‍্যেকটা বস্তু‌ই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরতে থাকবে নিদিষ্টকাল পর্যন্ত [21:33, 36:40]। জেনে রেখ, তিনি মহা শক্তিশালী ও অতি ক্ষমাশীল।

১) এখানে মানুষের মাথার সঙ্গে ‛পৃথিবীর’ তুলনা করা হয়েছে। মানে, পৃথিবী গোল- এটা পরোক্ষভাবে বলা হল। দ্বিতীয়ত, মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে, দেখা যাবে- রাত ও দিন পৃথিবীতে পাকান হচ্ছে। যেভাবে মাথায় পাগড়ি পাকান হয়।

■ মানুষ সৃষ্টির তিনটি পর্যায়। ■ আদি জীব বহিরাগত।

39:6 নং আয়াহ : তিনিই তোমাদের‌কে সৃষ্টি করেছেন একটি আদিকোষ থেকে [76:3]। পরবর্তীতে তা থেকেই সৃষ্টি করেন তার মতো কোষ [4:1]। আর তিনি তোমাদের জন্য (মহাকাশ থেকে) পৃথিবীতে নাযিল/ প্রেরণ করেছেন আট শ্রেণীর আনয়াম/ জীব [50:7]। তিনিই তোমাদের‌কে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের গর্ভ সমূহের মধ্যে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনটি (এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম, এণ্ডোডার্ম) পর্যায়ে/ ধাপে [56:61]। উনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রভু, শক্তির উৎস তিনি‌ই [18:39]। তিনি ছাড়া কোনও ঈশ্বর/ উপাস্য নেই [21:18, 23:91]। এত‌এব তোমাদেরকে (ভুল বুঝিয়ে) কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে??

আল্লাহ ‛ইবাদাতের উপর’ নির্ভরশীল নন।

39:7 নং আয়াহ : যদি তোমরা কুফরী/ ‛সত‍্য অস্বীকার’ করে থাক, তবে (জেনে রেখ) তিনি তোমাদের (ইবাদতের) উপর নির্ভর‌শীল নন [14:8, 25:77, 64:6]। তবে তিনি তাঁর বান্দাদের দ্বারা কুফরী/ ‛সত্য অস্বীকার করা’ পছন্দ করেন না। তিনি তোমাদের কৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন [14:7, 76:3]। কোন‌ও বোঝা বহনকারী অন‍্যের বোঝা [17:15, 35:18] বহন করবে না। এরপর তোমাদের‌কে তোমাদের রব/ প্রভুর দিকে ফিরে যেতে হবে [69:16-17]। অতঃপর তোমাদের‌কে জানিয়ে দেওয়া হবে সেই বিষয়ে, যে সমস্ত আমল/ কর্ম তোমরা (ইহজীবনে) করছিলে [17:13, 99:7-8]। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের মস্তিষ্ক সমূহের অবস্থা সবচেয়ে ভালো জানেন [8:43, 11:5]।

মুশরিকদেরকে দুমুখো নীতি।

39:8 নং আয়াহ : আর যখন মানুষ‌কে দুঃখ কষ্ট/ ক্ষতি স্পর্শ করে, তখন সে তার রব/ প্রভুকে একাগ্র ভাবে [29:65, 41:51] ডাকে। এরপর যখন তিনি তার পক্ষ হতে নিয়ামত/ অনুগ্রহ করে‌ন, তখন পূর্বে যে জন্য তাঁকে ডেকেছিল, সে তা ভুলে যায় [11:10-11]। এবং আল্লাহর সমকক্ষ [41:9] দাঁড় করায়, যেন (সাধারণ) মানুষ‌দেরকে তার পথ থেকে বিভ্রান্ত [6:26, 14:3, 31:6] করতে পারে। আপনি বলুন- “তুমি সামান্য কিছু সময় উপভোগ করে নাও অকৃতজ্ঞতার স্বাদ [29:65], নিশ্চয়ই তুমি আগুনের অধিবাসী” [77:46]।

কিয়ামুল লাইল (রাতের নামাজের) গুরুত্ব।

39:9 নং আয়াহ : সে কি তার সমান, যে রাতের বিভিন্ন অংশে সিজদায় ও দাঁড়িয়ে [25:64] আনুগত্য প্রকাশ‌কারী, পরবর্তী জীবন‌কে ভয় করে এবং তার রব/ প্রতিপালকের রহমত/ অনুগ্রহের আশা করে [12:87]?? আপনি বলুন- “যারা জ্ঞান রাখে আর যারা জ্ঞান রাখে না, তারা কি সমান [35:19-20]?? মূলত তারাই যিকির/ জ্ঞান (শিক্ষা/ পরামর্শ) গ্ৰহণ করে, যারা বোধ বুদ্ধির অধিকারী” [2:269]।

■ ইহজীবনে‌ও প্রতিদান। ■ পৃথিবী খুব ছোট গ্ৰহ নয়।

39:10 নং আয়াহ : আপনি বলুন- “(আল্লাহ বলেন) হে আমার সত্য স্বীকার করা বান্দারা, তোমরা তোমাদের রব/ প্রতিপালকের বিধান মেনে চল। যারা ইহজীবনে উত্তম আমল/ কর্ম করে, তাদের জন্য ইহজীবনেই রয়েছে কল‍্যাণ [2:201]। আল্লাহর পৃথিবী আকারে বেশ বড় [29:56]। মূলত ধৈর্যশীলদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে কোনও হিসাব ছড়াই [8:46]।

নাবী (সা) কে বিশুদ্ধ ভাবে ইবাদতের নির্দেশ।

39:11 নং আয়াহ : আপনি বলুন- “আমাকে আদেশ করা হয়েছে যে, যেন আমি খালিস্ব/ বিশুদ্ধ [72:20] ভাবে তাঁর দীন অনুসরণের মাধ্যমে [40:65] তাঁর ইবাদাত করি [39:2, 39:14]।

নাবী (সা) কে সবার আগে ‛অনুগত’ ‌হ‌ওয়ার নির্দেশ।

39:12 নং আয়াহ : এবং আমাকে এও আদেশ করা হয়েছে যে, আমি যেন [40:66] মুসলিমদের (আল্লাহর অনুগতদের) মধ্যে প্রথম হ‌ই” [3:19, 6:14]।

অবাধ্য হলে নাবী (সা) এর‌ও রেহাই নেই/ ছিল না।

39:13 নং আয়াহ : বলুন- “যদি আমি আমার রব/ প্রভুর অবাধ্য হ‌ই, তাহলে আমি ভয় [10:15] করি মহাদিবসে আযাব/ শাস্তির” [72:22, 46:8]।

নাবী (সা) ‛শিরক বিহীন’ ভাবে ইবাদত করছেন।

39:14 নং আয়াহ : আপনি বলুন- “আমি আল্লাহ’র ইবাদাত করি খালিস্ব/ বিশুদ্ধ [72:20] ভাবে তাঁর [40:14] দীন অনুসরণের [40:65] মাধ্যমে” [39:2, 39:11]।

আল্লাহ‌র নয়, মিথ্যা ঈশ্বর ও মূর্তি পূজার স্বাধীনতা।

39:15 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যার ইবাদাত/ উপাসনা [109:1-6] করতে [26:4] চাও, করতে [10:99] পার” [39:39, 6:107-108]। (তবে তাদেরকে) বলুন- “নিশ্চয়ই কিয়ামাতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারাই”। তারা, যারা (মিথ্যা ঈশ্বরের ইবাদত করে) ক্ষতিগ্রস্ত করছে নিজেদের [23:103] এবং নিজেদের পরিবারের [66:6]। জেনে রেখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি”।

মিথ্যা ঈশ্বর‌দের নয়, শুধু আল্লাহ‌কে ভয় করতে হবে।

39:16 নং আয়াহ : তাদের জন্য থাকবে তাদের মাথার দিকেও আগুনের আচ্ছাদন, পায়ের নিচেও থাকবে (আগুনের) আচ্ছাদন [7:41]। ঐ রকম পরিণতির বিষয়ে আল্লাহ তার বান্দাদের সতর্ক করছেন যে- হে আমার বান্দারা, শুধুমাত্র আমাকেই ভয় কর [6:81]।

ত্বাগুতের নয়, আল্লাহ অভিমূখীর জন্য সুসংবাদ।

39:17 নং আয়াহ : আর যারা ত্বাগুত [2:257, 16:36] থেকে দূরে থাকে, তার ইবাদত বর্জন করে, আল্লাহ অভিমুখী হয় [13:27, 42:13], তাদের জন্য রয়েছে [2:25]  সুসংবাদ। সুতরাং আমার বান্দাদের সুসংবাদ দিন।

আল্লাহ যাদেরকে পথ দেখান, যারা বোধ বুদ্ধি সম্পন্ন।

39:18 নং আয়াহ : যারা ‛বিভিন্ন কথা’ শোনে, তার মধ্যে উত্তম বিষয়ের অনুসরণ করে, তাদের‌কে আল্লাহ পথ দেখান [13:27, 42:13]। আর তারাই [50:37] বোধ বুদ্ধির অধিকারী।

নাবী (সা) কাউকে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করতে পারবেন না।

39:19 নং আয়াহ : যার উপর আযাবের ঘোষণা হয়ে যাবে, পৌঁছে যাবে আগুনের (জাহান্নামের) মধ্যে, তাকে কি আপনি উদ্ধার করতে পারবেন??

# হাদীশ অস্বীকার‌কারীরা এই আয়াহ দেখিয়ে বলেন যে, “মুহাম্মাদের ক্ষমতা নেই সুপারিশ করার”। কিন্তু এখানে সুপারিশের কথা বলাই হচ্ছে না। এখানে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করার কথা বলা হচ্ছে। আর এই ক্ষমতা রয়েছে আল্লাহর। যেমনটা আমরা হাদীশে দেখতে পাই (বুখারী, হাদীশ 22)। আর র‌ইল কথা সুপারিশের, এক্ষেত্রে সাধারণ মূমীন‌ও সুপারিশ করবেন। দলিল! চলে আসুন 43:86 তে। যখন সাধারণ মূমীন‌ সুপারিশ করবেন, তখন নাবী (সা) সুপারিশ করতে পারবেন না?? বোকার দল!

জান্নাতে ‛বহুতল বিশিষ্ট প্রাসাদ’ থাকবে।

39:20 নং আয়াহ : কিন্তু যারা তাদের রব/ প্রভুকে ভয় করে, তাদের জন্য (জান্নাতে) থাকবে ‛বহুতল বিশিষ্ট প্রসাদ’। যেখানে তার (জান্নাতী‌র) নিয়ন্ত্রণাধীনে প্রবাহিত হবে নদ-নদী। এটা আল্লাহর ওয়াদা, তিনি কখনও তার ওয়াদা খেলাফ/ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না [3:9, 13:31]।

■ ভূগর্ভস্থ পানির উৎস। ■ লতাপাতা ভালো উর্বরক।

39:21 নং আয়াহ : আপনি কি লক্ষ্য করেন (১) নি যে, আল্লাহ সামায়া/ বায়ুমন্ডল থেকে বৃষ্টি নাযিল করেন/ নামান [56:69], অতঃপর তা চুঁইয়ে চুঁইয়ে পৃথিবীর ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দেন, তারপর তা দিয়ে বিভিন্ন রঙ সহ বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি/ লতাপাতা উৎপন্ন করেন, তারপর তা শুকিয়ে যায়?? অতঃপর আপনি দেখন যে, তা হলুদ রঙের হয়ে যায়। তারপর তাকে পরিণত করেন উর্বর বস্তুতে। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে বোধ বুদ্ধির অধিকারী‌দের জন্য।

১) “লক্ষ‍্য করেন নি”- এটা আরবি বাক রীতি। এর অর্থ চোখ দিয়ে দেখা নয়। বরং তার অর্থ হল- ভেবে দেখা, বিচার বিবেচনা করা।

ধ্বংস হবে গোঁড়া/ কুসংস্কার মান‍্যকারী মানুষ‌রা।

39:22 নং আয়াহ : আল্লাহ যার মস্তিষ্ক ইসলামে‌র জন্য উন্মুক্ত করে দেবেন [13:27, 42:13], সে তার রব/ প্রভুর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নূরের (কুরআনের) উপর থাকবে। অতঃপর ধ্বংস হবে গোঁড়া‌/ কুসংস্কার মান‍্যকারী [64:16], যাদের মস্তিষ্ক গুলো আল্লাহর যিকির/ বিধান [29:45, 39:23] হতে বিমুখ হয়ে গেছে [2:99]। তারাই সুস্পষ্ট ভ্রান্তি‌র মধ্যে রয়েছে।

■ কুরআন সর্বোত্তম হাদীশ। ■ কুরআন অস্পষ্টতা মুক্ত।

39:23 নং আয়াহ : আল্লাহ নাযিল করছেন আহসানাল হাদীশ/ সর্বোত্তম হাদীশ। এমন কিতাব, যাতে মুতাশাবিহা/ অস্পষ্টতা থাকবে না, (এজন্য) তাতে এক‌ই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি থাকবে। যারা তাদের রব/ প্রভুকে ভয় করে, (কুরআন পড়ার সময়) তাদের দেহ শিহরিত হয়। তারপর তাদের দেহ এবং কলব (কেন্দ্র/ মস্তিষ্ক) গুলো আল্লাহর যিকির/ বিধানের প্রতি বিনম্র হয়ে ওঠে [39:22]। ওটা (কুরআন) পথ/ পথনির্দেশ [6:88, 42:52], এর দ্বারা তিনি যাকে চান, তাকে পথ দেখান [13:27, 42:13]। আর আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত [2:26] করেন, তখন তার জন্য আর কোনও পথ প্রদর্শক থাকল না [18:17]।

অত‍্যাচারীদের জন্য সবচেয়ে “কষ্টকর বাক‍্য”।

39:24 নং আয়াহ : যে কিয়ামত দিবসে মুখমণ্ডলের সাহায্যে [25:34, 17:97] নিকৃষ্টতম আযাব/ শাস্তি থেকে বাঁচতে চাইবে, (সে কি তার সমান, যে নিরাপদ থাকবে)?? জ্বালিম/ অত‍্যাচারীদেরকে বলা হবে- “তোমরা যা অর্জন করেছিলে [36:54], এখন তার স্বাদ [3:181] নাও” [22:22, 52:14]।

মাক্কাবাসী‌দের পূর্ববর্তী‌রাও সত্য অস্বীকার করেছিল।

39:25 নং আয়াহ : তাদের (মাক্কাবাসী‌দের) পূর্ববর্তী‌রাও (নাবী রাসূলদেরকে) অস্বীকার করেছিল। ফলে তাদের উপর আযাব/ শাস্তি এসেছিল এমন দিক থেকে, তা তারা কল্পনাও করে নি [37:77]।

শাস্তি শুধুমাত্র পরকালে নয়, ইহকালেও হয়।

39:26 নং আয়াহ : এত‌এব আল্লাহ তাদের‌কে ইহজীবনে‌ অপমান আস্বাদন করিয়েছেন। আর পরবর্তী জীবনে ভোগ করবে বড় শাস্তি [9:101, 68:33]। কিন্তু হায়, যদি তারা জানতো!!

কুরআনে রয়েছে বহু প্রবাদ/ উদাহরণ।

39:27 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা কুরআনে মানব জাতির জন্য বহু প্রবাদ/ উদাহরণ পেশ করেছি [18:54]। যাতে তারা (এসব থেকে) শিক্ষা নেয়।

কুরআনে কোনও ধরণের কঠিনতা নেই।

39:28 নং আয়াহ : কুরআন আরবি [12:2] ভাষায়। যা কঠিনতা মুক্ত [54:17, 18:1]। যেন তারা (মানুষ‌রা) তাক‌ওয়া (অপকর্ম হতে দূরত্ব) অবলম্বন করতে পারে।

একাধিক ঈশ্বর কেন বর্জনীয়, তার উত্তম উদাহরণ।

39:29 নং আয়াহ : আল্লাহ একটি উদাহরণ দিচ্ছেন, যা এমন ‛একজন ব‍্যক্তির’, যার রয়েছে বহু মালিক এবং তারা (মালিকরা) পরস্পর বিরোধী [21:22, 23:91]। ‛অন্য জন ব‍্যক্তি‌’ সম্পূর্ণ ভাবে একজন মালিকের অনুগত। দুজন (কর্মচারীর) অবস্থা কি সমান হতে পারে?? (বলুন) আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু তাদের অনেকেই অজ্ঞ/ জানে না।

নাবী (সা) বর্তমানে মৃত।

39:30 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আপনার মৃত্যু হবে, আর (যারা আপনাকে মৃত্যু নিয়ে খোঁটা দিচ্ছে) নিশ্চয়ই তাদের‌ও মৃত্যু হবে [3:144, 21:34]।

# অনেকে বলেন- “নাবী (সা) কবরে জীবিত, মানে তাঁর শরীর নষ্ট হয় নি। নাবী রাসূলদের শরীর নষ্ট হয় না”। হ‍্যাঁ হাদীশ রয়েছে (ইবনে মাজাহ, হাদীশ 1085) কিন্তু উক্ত হাদীশ‌টি জায়ীফ। চাইলে একবার Sunnah.com থেকে ইবনে মাজাহ 1085 দেখে আসুন।

জাহান্নামীদের মধ্যে মারাত্মক তর্কাতর্কি হবে।

39:31 নং আয়াহ : এরপর নিশ্চয়ই তোমরা কিয়ামত দিবসে তোমাদের রব/ প্রভুর কাছে/ সামনে [7:38-39] তর্কাতর্কি [33:67-68] করবে [40:47-48]।

সবচেয়ে বড় ‛সীমালঙ্ঘনের কাজ’ কোনট??

39:32 নং আয়াহ : এত‌এব তার চেয়ে বড় জালিম/ সীমালঙ্ঘনকারী আর কে আছে, যখন তার কাছে সত্য আসা সত্ত্বেও আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা বলে, মিথ্যা অপবাদ দেয় মহা সত্যের উপর [29:68]। কাফির (সত‍্য অস্বীকার‌কারী) দের আবাসস্থল কি [2:162] জাহান্নাম নয় [39:71, 43:74-75]??

মুত্তাকী হ‌ওয়ার উপায়- “নাবী (সা) কে সত্য মেনে নেওয়া”।

39:33 নং আয়াহ : আর যে (মুহাম্মাদ) মহা সত্য নিয়ে এসেছে এবং যারা তাকে (মুহাম্মাদ‌কে) সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই (হতে পারবে) মুত্তাকী (অপকর্ম হতে দূরত্ব অবলম্বন‌কারী)।

সৎকর্মশীল‌রা যা কামনা করবে, তা-ই পাবে।

39:34 নং আয়াহ : তাদের জন্য তাদের রব/ প্রভুর কাছে তা-ই থাকবে, যা তারা চাইবে/ কামনা করবে [32:17, 41:31]। ওটাই মুহসিন/ সৎকর্মশীল‌দের জাযা/ পুরষ্কার।

সৎকর্মশীল‌দের ছোট ছোট পাপ গুলো বিচার্য নয়।

39:35 নং আয়াহ : কারণ তারা (ভুল ভ্রান্তি‌তে) যে সব অসৎকর্ম [4:31] করে ফেলে ছিল, আল্লাহ তা তাদের থেকে দূর করে দেবেন [25:70]। তাদের জাযা/ প্রতিদান দেবেন শুধু সৎকর্মের, যে আমল/ কর্ম [36:54] তারা করেছিল।

আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য ‛যথেষ্ট’।

39:36 নং আয়াহ : আল্লাহ-ই কি তার বান্দাদের জন্য কাফি/ যথেষ্ট [65:3] নন [4:45, 8:64]?? অথচ তারা আপনাকে আল্লাহ‌কে বাদ দিয়ে অন‍্য (ঈশ্বর) দের ভয় দেখায় [6:81, 7:195]। আর (জেনে রাখুন) আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত [2:26] করেন, তার জন্য আর কোনও পথ প্রদর্শক [18:17] থাকল না।

আল্লাহ বান্দার পক্ষ থেকে ‛প্রতিশোধ’ নেন।

39:37 নং আয়াহ : আর আল্লাহ যাকে [42:17, 13:27] পথ দেখান, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আল্লাহ কি আযীয (শক্তিশালী) ও ইনতিকাম/ প্রতিশোধ গ্ৰহণকারী (১) নন [3:4, 14:47]??

১) আল্লাহ মানুষদের থেকে প্রতিশোধ নেবেন! সাধারণ‌ত মানুষ মানুষের থেকে প্রতিশোধ নেই, আল্লাহ মানুষদের থেকে প্রতিশোধ নেন! এটা হজম যোগ্য নয়। ব‍্যাপার‌টা এমন নয়। কেমন! একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীশ- “তোমরা নির্যাতিত/ নির্যাতিতার দুয়াকে ভয় কর। কেননা তার দুয়া ও আল্লাহর মধ্যে কোনও পর্দা থাকে না”(বুখারী, হাদীশ 2448)। অর্থাৎ আল্লাহ তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেবেন। সুবিধার জন্য তিরমিযীর 1940 ও আবুদাউদের হাদীশ 3635 দেখে আসুন।

মিথ্যা ঈশ্বরদের ‛করুণ’ বাস্তবতা।

39:38 নং আয়াহ : আর যদি আপনি তাদের‌কে জিজ্ঞাসা করেন- কে সৃষ্টি করেছে মহাবিশ্ব ও পৃথিবী?? অবশ্যই তারা বলবে- “আল্লাহ” [39:62]। বলুন- “তোমরা আল্লাহ‌কে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক [46:4-5], তারা কি আমাকে রক্ষা করতে পারবে, যদি আল্লাহ আমার ক্ষতি করার ইরাদা/ ইচ্ছা করেন?? অথবা তিনি যদি আমাকে রহমত/ অনুগ্রহ করতে ইরাদা/ ইচ্ছা করেন, তারা কি তাঁর রহমতে/ অনুগ্রহে বাধা [22:73] দিতে পারবে [6:81]?? আপনি বলুন- “আমার জন্য আল্লাহ‌ই যথেষ্ট [8:62]। নির্ভর‌কারীরা তাঁর উপরেই নির্ভর করে”[65:3]।

ইসলামে ‛ভিন্ন ধর্ম পালনের’ স্বাধীনতা।

39:39 নং আয়াহ : আপনি বলুন- “ হে আমার কাওম/ জাতি, তোমরা স্বাধীন ভাবে [39:15] তোমাদের আমল/ধর্মকর্ম করে যাও [2:256, 109:1-6]। আর আমি আমার আমল/ ধর্মকর্ম করি। (তবে) শীঘ্রই তোমরা জানতে [20:135] পারবে (কে সঠিক)”।

39:40 নং আয়াহ : (আর এও যে) কার উপর আযাব/ শাস্তি এসে তাকে অপমান করবে, কার উপর দীর্ঘস্থায়ী আযাব/ শাস্তি আসে!

ভিনধর্মী ও নাস্তিকদের উপর ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ নিষিদ্ধ। 

39:41 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা আপনার উপর কিতাব/ কুরআন নাযিল করেছি ‛মানব জাতির’ জন‍্য, যা নিঁখুত [39:3]। অতঃপর যে পথ পাবে, তা তার নিজের জন্য। আর যে বিভ্রান্ত হবে, তার বিভ্রান্তি মূলত তার নিজের‌ই বিরুদ্ধে যাবে [17:15]। আর আপনি তাদের ওয়াকীল/ নিয়ন্ত্রক [17:54, 88:22] নন [25:43, 42:48]।

মৃত্যু ও ঘুমের মধ্যে ব‍্যক্তি ‛ব‍্যক্তিত্ব‌হীন’ হয়ে যায়।

39:42 নং আয়াহ : আল্লাহ মৃত্যুর সময় তার নাফস/ ব‍্যক্তিত্ব কেড়ে নেন। তার‌ও, যার মৃত্যু হয় নি কিন্তু রয়েছে ঘুমের মধ্যে। অতঃপর যার মৃত্যু চূড়ান্ত, তার ব‍্যক্তিত্ব নিজের কাছে রেখে দেন, অন‍্যদের ব‍্যক্তিত্ব নিদিষ্ট সময়ের জন্য পাঠিয়ে দেন। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনা‌র মধ্যে রয়েছে বহু নিদর্শন। তাদের জন্য, যারা চিন্তা ভাবনা/ গবেষণাকারী সম্প্রদায়।

আল্লাহ ছাড়া মিথ্যা ঈশ্বর‌দের সুপারিশ।

39:43 নং আয়াহ : তারা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন‍্যদেরকে শাফায়াত‌/ সুপারিশকারী [10:18, 43:86] হিসাবে গ্ৰহণ করেছে [6:51, 30:13]?? বলুন- “যদিও তারা কোনও কিছুর মালিক [39:43] নয়, কিছু বোঝেও না (শাফায়াত/ সুপারিশ করবে কিভাবে)”??

সমস্ত ধরণের সুপারিশ আল্লাহর অধিকারে।

39:44 নং আয়াহ : বলুন- “সমস্ত ধরণের শাফায়াত/ সুপারিশ আল্লাহর এখতিয়ারে [2:255, 20:109, 21:28]। মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর মালিক তিনিই। পরবর্তীতে তোমরা তার দিকেই ফিরে যাবে”।

নাস্তিক/ ‛বঙ্গীয় নাস্তিকদের’ দুমুখো নীতি ও বাস্তবতা।

39:45 নং আয়াহ : আর যখন আল্লাহর তৌহিদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তখন যারা পরবর্তী জীবন স্বীকার করে না, তারা মানসিক কষ্ট অনুভব করে। তবে যখন আল্লাহ ছাড়া অন‍্য ঈশ্বর‌দের আলোচনা করা হয়, তখন তারা উৎফুল্ল হয়ে ওঠে।

মহাবিশ্ব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকৃতি থেকে বিকশিত।

39:46 নং আয়াহ : বলুন- “হে আল্লাহ, আপনি মহাবিশ্বকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র [2:117, 51:47] আকৃতি হতে বিকশিত করেছেন [81:15]। আপনি জানেন অদৃশ্য ও দৃশ্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে। আপনি সেই বিষয়ে আপনার বান্দাদের মধ্যে মিমাংসা করে দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত [16:92]।

দুটি পৃথিবী‌ও মুক্তিপণ হিসেবে কাজে আসবে না।

39:47 নং আয়াহ : যদিও এমন যে, যারা জালিম/ অত‍্যাচারী যা কিছু আছে পৃথিবীতে, সেই সমস্ত কিছু ও তার সঙ্গে তার সম পরিমাণ‌ও মুক্তিপণ [3:91, 10:54] হিসাবে দিতে চাইবে কিয়ামত দিবসে নিকৃষ্টতম শাস্তি থেকে বাঁচতে। আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকাশিত হবে তাদের জন্য (তাদের আমল/ কর্ম সমূহ), যা তারা করেছিল। কিন্তু তা (দেখতে পাওয়ার কথা) ভাবেও নি।

ব‍্যঙ্গ বিদ্রুপ করার পরিণতি খুবই নিকৃষ্ট।

39:48 নং আয়াহ : আর প্রকাশ করা [99:7-8] হবে তা, যা তারা অর্জন করেছিল এবং তাদেরকে ঘিরে ধরবে [21:41, 45:33] তা, যে সম্পর্কে তারা ব‍্যঙ্গ বিদ্রুপ করত।

সফলতায় নিজের ‛জ্ঞান মূখ্য’ নয়।

39:49 নং আয়াহ : অতঃপর যখন মানুষ‌কে দুঃখকষ্ট স্পর্শ করে, তখন আমাদেরকে ডাকে। তারপর যখন আমরা আমাদের পক্ষ থেকে নিয়ামত/ অনুগ্রহ করি, তখন বলে- “মূলত আমি যা পেয়েছি, তা আমার ইলম/ জ্ঞানের [41:50, 12:76] কারণে [11:13]”। না, তা নয় বরং এটা ফিতনা/ পরীক্ষা। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই জানে না।

# প্রশ্ন হবে কেন?? কারণ আমরা মানুষরা নিজেদের‌কে স্বয়ং সম্পন্ন ভাবলেও আমরা মূলত ‛পানা’ ছাড়া কিছুই ন‌ই। যার বাঁচা, মরা,  উন্নতি, অহংকার সব‌ই পানির উপর। তাই পানার যেমন জ্ঞানের গর্ব বোকামি/ বাড়াবাড়ি বলে গণ‍্য হবে, আমাদের জ্ঞানের গর্ব ঠিক তেমনই।

পূর্ববর্তীদের জ্ঞান দ্বারা অর্জন গুলো কাজে আসে নি।

39:50 নং আয়াহ : অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তী‌রাও এমন ‛কথা’ [39:49] বলে ছিল। কিন্তু তারা যা কিছু অর্জন করেছিল, তাদের অর্জন তাদের কোনও কাজে [45:10, 111:2] আসে নি।

বরং অর্জন গুলো তাদের বিরুদ্ধে গিয়েছিল।

39:51 নং আয়াহ : সুতরাং তাদের নিকৃষ্ট অর্জন গুলোর প্রতিদান তাদের উপর আপতিত হয়েছিল। আর তাদের মধ্যে যারা জালিম/ অত‍্যাচারী তাদের নিকৃষ্ট অর্জন গুলো তাদের উপর আপতিত হবে। আর তারা (আল্লাহ‌কে) হারিয়ে [35:44] দিতে [11:20] পারবে [29:22, 72:12]

আল্লাহ চাইলে রিজিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

39:52 নং আয়াহ : তারা কি জানে না যে, আল্লাহ চাইলে যার ইচ্ছা তার রিজিক প্রশস্ত করে দিতে পারেন। আবার সংকীর্ণ [13:26, 17:30] করে (দিতেও পারেন)। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার বহু নিদর্শন রয়েছে। তাদের জন্য, যারা মূমীন/ সত্য স্বীকার‌কারী ক‌ওম/ সম্প্রদায়।

আল্লাহর রাহমাত থেকে নিরাশ হ‌য়ো না।

39:53 নং আয়াহ : বলুন- “হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর ‛অত‍্যাধিক পরিমাণ পাপ‌ও চাপিয়ে’ নিয়ে থাক, তবুও তোমরা আল্লাহর রহমত/ অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না [15:56, 12:86]। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন [15:49] তোমাদের যুনূব/ পাপ সমূহ। নিশ্চয়ই তিনি আল গাফূর/ মহা ক্ষমাশীল ও আর-রাহীম/ সীমাহীন করুণাময়।

সময় থাকতে আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন।

39:54 নং আয়াহ : আর তোমরা তোমাদের রব/ প্রভুর দিকে ফিরে এস এবং তোমাদের উপর আযাব/ শাস্তি আসার পূর্বেই তার কাছে ‛নিজের খারাপ ইচ্ছা গুলোকে সমর্পণ করো’ [37:26]। (আযাব/ শাস্তি আসার) পরে তোমাদের‌কে আর সাহায্য করা হবে না।

সময় থাকতে কুরআন ও হাদীশের অনুসরণ করুন।

39:55 নং আয়াহ : তোমাদের প্রতি তোমাদের রব/ প্রভুর পক্ষ থেকে উত্তম যা কিছু [42:17, 57:25] নাযিল করা হয়েছে, তার অনুসরণ কর হঠাৎ আযাব/ শাস্তি আসার পূর্বেই। হয়ত তোমরা বুঝতেই পারবে না (আযাব/ শাস্তি এসে পড়বে)।

মানুষ কুরআন গবেষণা না করার জন্য আফসোস করবে।

39:56 নং আয়াহ : যাতে কাউকে বলতে না হয়- “হায় আমি আল্লাহর (নির্দেশে‌র) প্রতি দায়িত্বে/ কর্তব্যে [80:23] অবহেলা করেছিলাম [4:82]। নিশ্চয়ই আমি তো ব‍্যাঙ্গ-বিদ্রুপ‌কারীদের অন্তর্ভুক্ত [74:45] ছিলাম”।

মানুষ মুত্তাকী না হ‌ওয়ার জন্য আফসোস করবে।

39:57 নং আয়াহ : অথবা কাউকে একথাও বলতে না হয়- “যদি আল্লাহ [92:12] আমাকে [76:3] পথ [13:27] দেখাতেন [25:27], তাহলে আমিও অবশ্যই মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বন কারীদের) অন্তর্ভুক্ত [39:33] হতাম”।

মানুষ সৎকর্ম‌শীল না হ‌ওয়ার জন্যেও আফসোস করবে।

39:58 নং আয়াহ : অথবা আযাব/ শাস্তি দর্শন করার পর কাউকে বলতে না হয়- “যদি একবার (পূর্ব জীবনে) ফিরে যাওয়ার [6:27, 23:99-100] সুযোগ পেতাম, তাহলে আমিও মুহসিন/ সৎকর্ম‌শীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম”।

আফসোস‌কারীকে ‛যা বলা’ হবে।

39:59 নং আয়াহ : (তাকে বলা হবে) “বরং হ‍্যাঁ, অবশ্যই আমার আয়াত সমূহ [67:8] তোমার কাছে [6:130] পৌঁছে ছিল [39:71, 40:50]। তখন তুমি তা অস্বীকার [41:14] করেছিলে [67:9], অহংকার দেখিয়ে ছিলে [23:105]। আর তুমি হয়েছিলে কাফির/ সত্য অস্বীকার‌কারীদের অন্তর্ভুক্ত” [39:32]। 

আল্লাহর উপর মিথ‍্যারোপ/ অপবাদের পরিণতি।

39:60 নং আয়াহ : আপনি দেখবেন- যারা আল্লাহর উপর মিথ‍্যারোপ করে/ অপবাদ দেয়, কিয়ামাতের দিন তাদের মুখ গুলো (দুশ্চিন্তা ও ভয়ে) বিবর্ণ হয়ে যাবে [75:24, 80:40-41]। জাহান্নাম কি মুতাকাব্বির/ অহংকারকারীদের জন্য যোগ্য আবাসস্থল [16:29] নয় [39:72]??

মুত্তাকী‌দের উদ্ধার করা হবে।

39:61 নং আয়াহ : আর উদ্ধার করবেন তাদের‌কে, যারা ছিল [69:17, 19:72] মুত্তাকী (অপকর্ম [39:33] থেকে দূরত্ব [26:90, 26:31] অবলম্বন‌কারী)। সফলতার কারণে [91:9, 87:14]। তাদের‌কে স্পর্শ করবে না কোনও ধরণের ক্ষতি, আর না তারা চিন্তিত হবে [2:262]।

আল্লাহ মহাবিশ্ব সমূহের স্রষ্টা, তিনিই নিয়ন্ত্রক।

39:62 নং আয়াহ : আল্লাহ সমস্ত কিছু‌র খালিক/ স্রষ্টা, আর তিনিই সমস্ত কিছুর ওয়াকীল/ নিয়ন্ত্রক [2:255]।

39:63 নং আয়াহ : তাঁর‌ই অধীনে মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণের [85:15] ব‍্যবস্থা সমূহ [55:29, 39:62]। যারা আল্লাহর আয়াত সমূহ অস্বীকার [39:32] করে, তারাই খাসির/ ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত [6:31]।

নাবী (সা) এর প্রতি মাক্কাহর নেতাদের নির্দেশ।

39:64 নং আয়াহ : বলুন- “হে জাহিল/ মূর্খরা, তোমরা কি আমাকে আল্লাহকে [22:73] বাদ দিয়ে অন‍্যের [46:4-5] ইবাদাত [39:15] করার নির্দেশ দিচ্ছ [25:3, 16:20-21, 16:86]”??

নাবী (সা) এর প্রতি আল্লাহর নির্দেশনা।

39:65 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আপনার প্রতি ও আপনার পূর্ববর্তী (রাসূল) দের প্রতি এই ওহী করা হয়েছে যে, “যদি আপনি শিরক [28:88, 70:20] করেন, তাহলে আপনার সমস্ত আমল/ সৎকর্ম ধ্বংস হয়ে যাবে [6:88, 4:48], আপনি খাসিরীন/ ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন” [10:95, 41:23]।

নাবী (সা) কে আল্লাহর কৃতজ্ঞ হ‌ওয়ার নির্দেশ।

39:66 নং আয়াহ : বরং আপনি শুধু আল্লাহর ইবাদত/ উপাসনা করুন এবং শাকির/ কৃতজ্ঞদের [17:67, 100:6] অন্তর্ভুক্ত হোন।

বিগ ক্রাঞ্চ হবেই। মানে, বিচার দিবসের প্রস্তুতি।

39:67 নং আয়াহ : আর তারা আল্লাহকে যথাযথ কাদর/ মর্যাদা দেয় না। অথচ কিয়ামত দিবসে সামগ্রিক ভাবে গ্ৰহ গুলো থাকবে তার মুঠোয় ও গ‍্যালাক্সি গুলো গুটান/ সংকোচিত [21:104, 69:16-17] অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে (১)। তারা যাদেরকে তাঁর সঙ্গে শরিক করে, তা হতে তিনি সুবহান/ পবিত্র ও তায়ালা/ সমস্ত কিছু‌র ঊর্ধ্বে [16:1, 17:43]।

১) এখানে ‛ডান হাত’ বলতে, আমাদের মতো ডান হাত নাও হতে পারে। আরবিতে ‛ডান হাত’ শব্দের ব‍্যবহার করা হয় ক্ষমতা/ শক্তির প্রতীক হিসাবেও। সম্ভবত এখানে শক্তি‌র প্রতীক হিসাবে‌ই ব‍্যবহৃত হয়েছে। যেমন 51:47 এ হাত শব্দের ব‍্যবহার হয়েছে ‛শক্তি’ বোঝাতে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার শিংঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার ফলাফল।

39:68 নং আয়াহ : এবং (পুনরুত্থানের পর) শিংঙ্গায় (দ্বিতীয় বার) ফুঁ (১) দেওয়া হবে। তখন (সংকোচিত) মহাবিশ্বে যারা [69:17] থাকবে, তারা সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে। তবে আল্লাহ যাকে রক্ষা করবেন, তার বিষয়টি ভিন্ন (২)। তার পরে আবার (তৃতীয় বার) ফুঁ দেওয়া হলে সবাই দাঁড়িয়ে যাবে এবং দেখতে থাকবে (হুঁশ ফিরবে)।

১) প্রশ্ন হবে- উপরিউক্ত আয়াহ‌তে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার শিংঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তৃতীয় বার শিংঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার উল্লেখ কোথায় আছে?? এর জন্য আপনাকে একটু কষ্ট করে 27:87 তে যেতে হবে।

২) একটি হাদীশ- “ এক ইয়াহুদী রাসূল (সা) এর কাছে এসে বললেন : হে আবুল কাসিম, আমি জিম্মি ও মুসলিম দেশের নিরাপত্তাপ্রাপ্ত মানুষ, আমাকে অমুক জন চড় মেরেছে। অতঃপর রাসূল (সা) প্রশ্ন করলেন : কেন তুমি তার গালে চড় মেরেছ?? আনসারী বললেন : সে বলেছে যে, যিনি (আল্লাহ) মানুষের মধ্যে মূসা (আঃ) কে মনোনীত করেছেন অথচ আপনি আমাদের মাঝে বিদ্যমান।

আবু হুরাইরাহ (রা) বলেন : রাসূল (সা) খুব‌ই রেগে হলেন, রাগের চিহ্ন তার মুখমণ্ডলে ফুটে উঠল।তারপর বললেন : নাবীদের মধ্যে একজনকে অপর জনের উপর মর্যাদা দিও না। কারণ যখন কিয়ামতের দিন (দ্বিতীয় বার) শিংঙ্গায় ফুঁ দেঝয়া হবে, তখন (সংকোচিত) মহাবিশ্বের সবাই বেহুশ হয়ে পড়বে, কেবল আল্লাহ যাদের চাইবেন তারা ব্যতীত।

অতঃপর পরের বার যখন শিংঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, তখন সর্বপ্রথম আমিই চেতনা ফিরে পাব এবং দেখতে পাব যে, মূসা (আ) আরশ ধরে রয়েছেন। আমার জানা নেই যে, তূর পাহাড়ে তার বেহুশ হওয়াটাই তাঁর এখনকার বেহুশ না হওয়ার কারণ, নাকি আমার আগেই তাকে চেতনা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে?? আর আমি এ কথাও বলি না যে, কোন‌ও নাবী ইউনুস ইবনু মাত্তা (আ) এর তুলনায় উত্তম/ মর্যাদাবান” (মুসলিম, হাদীশ 2373/1)।

সংকোচি‌ত মহাবিশ্বের উপর পুনরুত্থান ঘটবে।

39:69 নং আয়াহ : এবং পৃণ্ডটি (১) তার রব/ প্রভুর নূর/ আলোর প্রতিফলনে আলোকিত হবে। হাজির করা হবে কিতাব/ আমলনামা [45:29]। হাজির করা হবে নাবীদেরকে ও শহীদদেরকে [5:109, 40:51]। তাদের (সত্য অস্বীকার‌কারীদের) মধ্যে মিমাংসা করে দেওয়া হবে ন‍্যায়পূর্ণ ভাবে এবং তাদের কারোর উপর কোনও ভাবে জুলুম/ অবিচার করা হবে না [21:47, 40:17]।

১) কোন পৃণ্ড?? মহাবিশ্বের সমস্ত পদার্থ, গ‍্যালাক্সি গুলো একত্রিত হয়ে যে পৃণ্ডের সৃষ্টি করবে, যার উপর বিচার দিবস অনুষ্ঠিত হবে। এখানে সেই পৃণ্ডটির কথা বলা হচ্ছে। বিস্তারিত 69:16-17 তে রয়েছে। যান, গিয়ে থেখে আসুন।

আমল/ কর্ম অনুযায়ি পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।

39:70 নং আয়াহ : এবং প্রত‍্যেক নাফস/ সত্ত্বাকে পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, যে যা আমল/ কর্ম করেছে [36:54]। আর আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানে‌ন সেই সম্পর্কে, তারা যে আমল/ কর্ম করে থাকে।

রিসালাত সম্পর্কে জাহান্নামীদের প্রশ্ন করা হবে।

39:71 নং আয়াহ : এবং যারা কুফরী/ সত্য অস্বীকার করেছিল, তাদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে (১) যাওয়া হবে এবং খুলে দেওয়া হবে তার (জাহান্নামের) দরজা গুলো [15:44]। তার (জাহান্নামের) রক্ষীরা বলবে- “তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছে কি রাসূল গণ [6:130] আসেন নি, তোমাদের রব/ প্রভুর আয়াত সমূহ তিলাওয়াত করে শোনান নি, এই সাক্ষাৎ দিবস সম্পর্কে সতর্ক করে‌ন নি [39:59, 40:51]”?? তারা বলবে- “হ‍্যাঁ, অবশ্যই এসেছিলেন [23:106, 67:9-10]। কিন্তু কাফির/ সত্য অস্বীকার‌কারীদের উপর আযাব/ শাস্তির বাণী সত্যে [21:97-98] পরিণত হয়ে [6:30] গেল (এখন আর উপায় নেই)”।

১) একত্রিত মহাবিশ্ব‌ই তো জাহান্নাম! তাড়িয়ে নিয়ে যাবে, বলা হচ্ছে কেন?? না, একত্রিত মহাবিশ্ব‌ জাহান্নাম নয়, ভবিষ্যতে জাহান্নামে পরিণত হবে। দ্বিতীয় বিগ ব‍্যাঙের মধ্য দিয়ে একত্রিত মহাবিশ্বের এক একটি নক্ষত্র জাহান্নামে পরিণত হবে। তাই বলা হচ্ছে- “তাদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে”। দেখে আসুন 77:33 আয়াহ।

জাহান্নামীদের ভদ্রভাবে জাহান্নামে দেওয়া হবে।

39:72 নং আয়াহ : বলা হবে- “তোমরা জাহান্নামের দরজা [15:44] সমূহ দিয়ে দাখিল হ‌ও/ প্রবেশ কর [7:38] ও তাতে সুদীর্ঘ কাল থাক” [52:24, 22:22]। কত‌ই না নিকৃষ্ট মুতাকাব্বির/ অহংকার‌কারীদের [39:60] আবাসস্থল [26:29, 98:6]।

জান্নাতীদের জন্য ফেরেস্তা‌রা ‛দুয়া’ করবে।

39:73 নং আয়াহ : এবং তাদের‌কে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, যারা তাদের রাব/ প্রভুর জন্য তাক‌ওয়া (যারা অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন‌ করেছিল। অবশেষে তারা যখন (তার) জান্নাতের কাছে কাছে পৌঁছাবে, তখন তার (জান্নাতের) দরজা [50:38] গুলো খুলে দেওয়া হবে। তাদের‌কে তার (জান্নাতের) রক্ষীরা বলবে- “সালামুন আলাইকুম (১), ত্বিবতুম (তোমাদের উপর সালাম/ শান্তি, তোমরা সুখী হ‌ও)। তাতে (জান্নাতে) দাখিল হ‌ও সুদীর্ঘ কালের জন্য” [13:23]।

১) ফেরেস্তা‌রা ‛সালামুন আলাইকুম’ বলবে?? হ‍্যাঁ। তবে, তা উচ্চারণ করবে না। মানে! আসলে এটাকে আরবি ব‍্যাকারণে ‛খবর বা তথ্য’ বলা হয়। আপনি 13:24 এ যান, বিস্তারিত জানতে পারবেন।

■ জান্নাতী‌দের বক্তব্য ■ জান্নাতেও গ্ৰহ উপগ্রহ রয়েছে।

39:74 নং আয়াহ : এবং তারা বলবে- “আল হামদু লিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)। যিনি তার ওয়াদা সত্যে পরিণত [7:44] করেছেন, আমাদের‌কে জান্নাতের [3:133, 57:21] গ্ৰহের/ গ্ৰহ গুলোর (১) ওয়ারিশ/ মালিক বানিয়ে‌ছেন [3:194]। আমরা এখন (জান্নাতের) যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। এত‌এব ক‌ত‌ই উত্তম আমিলীন/ সৎকর্মকারীদের প্রতিদান।

১) জান্নাত আমাদের মহাবিশ্বের মতোই মহাবিশ্ব। তবে আমাদের মহাবিশ্বের বিপরীত মহাবিশ্ব। সেখানে গ‍্যালাক্সি, নক্ষত্র, গ্ৰহ উপগ্রহ থাকবে। এমনকি সেখানে দিন, রাত‌, সকাল ও সন্ধ্যা‌ও থাকবে। চাইলে দেখে আসুন 19:62 আয়াহ।

বিচার দিবসের পর‌ও ফেরেস্তাদের দায়িত্ব শেষ নয়।

39:75 নং আয়াহ : আপনি দেখতে পাবেন- মালাইকা/ফেরেস্তারা আরশের চারপাশে তাদের রাব/ প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছে প্রশংসা সহ [40:7, 69:17]। তাদের মধ্যে দায়িত্ব বন্টিত হবে ন‍্যায়পূর্ণ ভাবে। আর তারা বলতে থাকবে- “আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন/ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, কেননা তিনি মহাবিশ্ব সমূহের রব/ প্রতিপালক।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন