বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 83 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো মূলত কি??
36:1 নং আয়াহ : ইয়া সীন [31:1-2]।
কুরআন মূলত কেমন??
36:2 নং আয়াহ : শপথ বিজ্ঞানময় [54:5] কুরআনের।
নাবী (সা) মূলত কে??
36:3 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আপনি (মুহাম্মাদ) সম্মানিত রাসূলদের [48:29, 3:144] অন্তর্ভুক্ত।
নাবী (সা) চুড়ান্ত সফলতার পথের উপরেই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
36:4 নং আয়াহ : (আপনি) চূড়ান্ত সফলতার পথের উপরেই প্রতিষ্ঠিত [45:18] রয়েছেন।
কুরআন কার পক্ষ হতে নাযিলকৃত??
36:5 নং আয়াহ : (এই কুরআন) নাযিল করা হচ্ছে মহা শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়ের পক্ষ [32:2, 69:43] থেকে।
নাবী (সা) কে আরবে প্রেরণের কারণ কি??
36:6 নং আয়াহ : যেন আপনি সতর্ক [44:3] করতে পারেন এমন এক কাওম (আরব জাতি) কে, যাদের পূর্বপুরুষদেরকে (দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও) সতর্ক করা হয় নি [13:30, 32:3]। ফলে তারা উদাসীন হয়ে আছে।
# আরবে ইসমাঈল (আ) এর পর নাবী মুহাম্মাদ (সা) এর আগে পর্যন্ত আর কোনও নাবী রাসূল হন নি। এখানে সেটাই বলা হল।
# এখানে প্রশ্ন হবে- পবিত্র কুরআন কি শুধু আরবদের জন্য”। না, সমগ্র মানবজাতির জন্য (2:185)। তাহলে এখানে কেন বলা হল যে, যাদেরকে সতর্ক করার জন্য?? উত্তর সহজ- কারণ আরব জাতিও মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও অন্যান্য জাতির কাছে নাবী রাসূল এলেও (13:7) আরবে আসেন নি।
মাক্কাহর নেতা নেতৃত্বদের সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বাণী।
36:7 নং আয়াহ : অবশ্যই তাদের (নেতা ও নেতৃত্বদের) বেশিরভাগের উপর (আল্লাহর) কথা অবধারিত। সুতরাং তারা সত্য স্বীকার করবে না।
36:8 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা (পরবর্তী জীবনে) তাদের গলা থেকে চিবুক পর্যন্ত বেড়ি [69:30-33] লাগিয়ে দেব। ফলতঃ তারা ঊর্ধ্বমুখি [68:42] হয়ে থাকবে।
তারা আল্লাহর দর্শন হতে বঞ্চিত থাকবে।
36:9 নং আয়াহ : এবং তাদের সামনে প্রাচীর ও পিছনে প্রাচীর দেওয়া থাকবে। অতঃপর তাদেরকে ঢেকে দেওয়া হবে। ফলতঃ তারা (আল্লাহকে) দেখতে [83:15] পাবে না।
তারা গোঁড়ামি ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল।
36:10 নং আয়াহ : (তাদের অবস্থা এমন যে) আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা সতর্ক না করুন, তাদের জন্য উভয়ই সমান [5:19]। তারা সত্য স্বীকার করবে না।
কাকে কাকে ইসলাম সম্পর্কে সতর্ক করা সম্ভব??
36:11 নং আয়াহ : মূলত আপনি তাকেই সতর্ক করতে পারেন, যে বিধান মেনে চলতে চায় এবং না দেখেই সীমাহীন দয়াময়কে ভয় করে [87:10]। সুতরাং তাকেই সুসংবাদ দিন ক্ষমার ও সম্মান জনক প্রতিদানের।
মৃত্যুর পরও পাপ এবং পূণ্য চলবে।
36:12 নং আয়াহ : অবশ্যই আমরা মৃতকে (কোনও একদিন) জীবিত করবো এবং আমরা সবই লিখে রাখি যা তারা আগে পাঠায় ও যা পিছনে ছেড়ে আসে [82:5]। আর আমরা প্রতিটা বিষয় সংরক্ষণ করছি একটি সুস্পষ্ট ইমাম/ কিতাবে [83:7-9, 83:18-21]।
আল্লাহ ‛নাম না জানা’ এক শহরের উদাহরণ দিলেন।
36:13 নং আয়াহ : আর তাদের জন্য সেই শহরের একটি উদাহরণ বর্ণনা করুন, যেখানে রাসূলগণ এসেছিলেন।
36:14 নং আয়াহ : আমরা তাদের কাছে দুজন রাসূলকে পাঠালাম। তারা তাদেরকে অস্বীকার করলো। তখন আমরা তাদের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য তৃতীয় আর একজন (রাসূল) কে পাঠালাম। অতঃপর তারা বলল- “নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত রাসূলগণ”।
# এখানে কোন শহরের কথা বলা হয়েছে, তা জানা যায় নি। এখানে শহরটা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হল- এখানে যে বার্তাটা রয়েছে, সেটা। অনেকেই বাইবেলের ঈশা (আ) এর পরবর্তী একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। যা রয়েছে বাইবেলের নিউ টেষ্টামেন্টের Book of Acts এর 11:27 এ। বলা হয়েছে- “ঈশা পরবর্তী অন্তিখিয়াতে কিছু ভাববাদী এসেছিলেন”।
যারা পবিত্র কুরআনের উল্লেখিত শহরকে অন্তিখিয়া বলে মনে করেন, তারা ভুলে যান- ঈশা (আ) এবং নাবী (সা) এর মাঝখানে কোনও নাবী রাসূল ছিল না। এই সম্পর্কে সহীহ হাদীশ রয়েছে। নাবী (সা) বলেছেন- “ঈশা ও আমার মাঝখানে কোনও নাবী নেই”(বুখারী, হাদীশ 3442)। প্রশ্ন হতে পারে- পবিত্র কুরআনে রাসূলদের কথা বলা হয়েছে, নাবীর কথা নয়। উত্তর সহজ- হ্যাঁ, কিন্তু বাইবেলে তো নাবী (Prophats) শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং পবিত্র কুরআন যে শহরের কথা বলছে, তা বাইবেলের অন্তিখিয়া নয়।
রাসূলদের প্রতি মানুষের অভিযোগ।
36:15 নং আয়াহ : তারা (শহরবাসীরা) বলল- “তোমরা আমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর কিছুই নও [14:11, 17:95]। সীমাহীন দয়ালু কোনও কিছুই (কোনও কিতাব) নাযিল করেন নি। তোমরা শুধুই মিথ্যা বলছো”।
36:16 নং আয়াহ : তারা (রাসূলগণ) বললেন- “আমাদের প্রভু (সত্যটা) জানেন যে, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত রাসূলগণ।
রাসূলদের মূল দায়িত্ব মূলত কি??
36:17 নং আয়াহ : আমাদের উপর সুস্পষ্ট ভাবে ‛প্রচার করা’ ছাড়া অন্য কোনও দায়িত্ব [16:35] নেই”।
রাসূলদেরকে পাথর মেরে হত্যার ধমকি দেওয়া হল।
36:18 নং আয়াহ : (শহরবাসীরা) বলল- “আমরা তোমাদেরকে (নিজেদের জন্য) ক্ষতিকর মনে করছি। যদি তোমরা (ইসলাম প্রচার থেকে) বিরত না হও, তাহলে অবশ্যই তোমাদেরকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করব। এবং তোমাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে কষ্টদায়ক শাস্তি দেওয়া হবে।
বিধান/ সংবিধান কারা মেনে নেয় না??
36:19 নং আয়াহ : (রাসুলগণ) বললেন- তোমাদের ক্ষতির কারণ তোমাদের সঙ্গেই আছে (আর তা হল তোমাদের অপকর্ম)। তোমাদেরকে শুধু সংবিধান প্রদান করা হয়েছে কিন্তু তোমরা উগ্ৰ/ সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায় (তাই সংবিধান মেনে নিতে চাইছো না।
সমস্ত নাবী রাসুলদের অনুসরণ করতে হবে।
36:20 নং আয়াহ : আর শহরের একপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল- “হে আমার জাতি, তোমরা রাসুলদের অনুসরণ [1:6 কর।
# অন্যান্য রাসূলদের যে সমস্ত বিষয় পবিত্র কুরআন বা হাদীশ দ্বারা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা ছাড়া সমস্ত বিষয়ের অনুসরণ করতে হবে। যেমন, বর্তমানে মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা নিষিদ্ধ। যদিও ইবরাহীম (আ) তা করেছিলেন (9:113-114)। কিন্তু বর্তমানে তা করা হারাম।
এছাড়াও বর্তমানে অমুসলিম নারী/ পুরুষকে বিবাহ করা হারাম (2:221), তাদের সঙ্গে সংসার করাও হারাম (60:10)। যদিও নূহ ও লূত (আ) অমুসলিম নারীর সঙ্গে সংসার করেছিলেন। ফিরআউনের স্ত্রীও ফিরআউনের সঙ্গে সংসার জীবনে ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তা নিষিদ্ধ। অর্থাৎ অন্যান্য নাবী রাসূলদের যে সমস্ত বিষয় নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে, তা ছাড়া সমস্ত বিষয়ের অনুসরণ করতে হবে।
কার/ কাদের অনুসরণ করতে হবে??
36:21 নং আয়াহ : তোমরা অনুসরণ কর তার, যে তোমাদের থেকে বেতন/ প্রতিদান [52:40] চায় না [38:86], তার সঙ্গে তারা পথপ্রাপ্তও।
# সুতরাং একথা পরিষ্কার যে, বেতনভুক্ত ইমামদের পিছনে নামাজ আদায় করা যাবে না। কেননা, তারা বেতন চায়। তবে এও বলে রাখা জরুরি যে, হাদীয়া দেওয়া ও নেওয়া বৈধ। কেননা, বলা হচ্ছে- “যারা চায় না”। শুধু না চাইলেই হবে। প্রশ্ন হবে- চাইলে সমস্যা কোথায়?? চাইলে আপনি গুরুত্বহীন হয়ে যাবেন, অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে যেতে হবে। সত্য বলার ক্ষমতা থাকবে। চাইলে আপনি প্রার্থী হয়ে যাবেন, চাকরদের বৈশিষ্ট্য চাওয়া। না চাইলে মালিক হতে পারবেন।
তাহলে ইমামদের সংসার চলবে কিভাবে?? নামাজীদের সংসার কিভাবে চলে?? নামাজীরা যদি রোজগার করে সংসার চালিয়ে মাসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন, তাহলে ইমাম পারবেন না কেন?? আর এ জন্যেই হোসেন কুরানী মাসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন না। এছাড়াও মাসজিদে মহিলাদের যেতে দেওয়া হয় না, এটাও মাসজিদে না যাওয়ার অন্যতম কারণ।
■ মানুষ কোষ দ্বারা সৃষ্ট ■ কেন আল্লাহর ইবাদত করতে হবে??
36:22 নং আয়াহ : আর আমি কেন তার ইবাদত করব না, যিনি আমাকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ সমূহ/ কোষ সমূহ দ্বারা বিকশিত করেছেন [30:30] এবং তারই দিকে তোমাদেরকে ফিরে [69:16-17] যেতে হবে!
কেন ভিন্ন ঈশ্বর গ্ৰহণ করবো না??
36:23 নং আয়াহ : আমি কি তাকে বাদ দিয়ে ভিন্ন কোনও কাউকে ঈশ্বর/ উপাস্য গ্ৰহণ [47:19] করব?? অথচ যদি দয়াময় চান আমার কোনও ক্ষতি করতে, তাহলে তাদের (মিথ্যা ঈশ্বর/ উপাস্যদের) শাফায়াত আমার কোনও কাজে আসবে না [20:109]। আর না তারা আমাকে উদ্ধার [3:173] করতে পারবে।
ভিন্ন ঈশ্বর গ্ৰহণ করা সুস্পষ্ট ভ্রান্তি।
36:24 নং আয়াহ : (যদি এমনটা করি) তাহলে নিশ্চয়ই আমি সুস্পষ্ট ভাবে ভ্রান্ত বলে গণ্য [37:35] হব।
একজন সাধারণ মূমীনের কথার গুরুত্ব ও সম্মান।
36:25 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমি স্বীকার করে নিয়েছি তোমাদের প্রভু (আল্লাহ) কে। সুতরাং তোমরা আমার কথা শোন” [10:2]।
# একজন মূমীন/ আল্লাহকে স্বীকারকারীর ‛কথা’ কতটা গুরুত্ব রাখে, তা এই আয়াহ জানিয়ে দিল। তার কথাও বিবেচনা যোগ্য, তার কথাও গুরুত্ব সহ শুনতে হবে। হতে পারে সে জ্ঞানী নয়, কিন্তু সে মূমীন। আর তার জন্য এটাই যথেষ্ট।
# 36:20 থেকে 36:25 পর্যন্ত বক্তব্যটা সেই মানুষের, যে শহরের একপ্রান্ত থেকে দৌড়ে এসেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তী বক্তব্য থেকে তা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।
দৌড়ে আসা ‛সেই’ মানুষটি জান্নাতী।
36:26 নং আয়াহ : তাকে বলা হল- প্রবেশ কর জান্নাতে [26:32]। সে বলল- “হায়, যদি আমার জাতি তা জানত!
36:27 নং আয়াহ : আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন”।
# 36:26 ও 36:27 আয়াতর বক্তব্য সেই মানুষের, যে শহরের একপ্রান্ত থেকে দৌড়ে এসেছিল। তবে পার্থক্য রয়েছে। আগের বক্তব্য ছিল ইহজীবনে থাকাকালীন, আর এই দুই আয়াতের বক্তব্য জান্নাতে প্রবেশের পরের।
শাস্তি দেওয়ার জন্য সর্বদা ফেরেস্তাদের প্রয়োজন হয় না।
36:28 নং আয়াহ : আর তার (মৃত্যুর) পর তার জাতির বিরুদ্ধে আমরা মহাশূন্য হতে কোনও সৈন্য বাহিনী নামাই নি। তার প্রয়োজনও ছিল না।
# মানুষরা বলতেন- “আল্লাহ আমাদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ফেরেস্তা নামাচ্ছেন না কেন”?? এখানে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হল। কিছু আয়াত দেখে আসুন- 6:8, 15:8, 25:7 ও 25:22 আয়াহ।
36:29 নং আয়াহ : শুধু একটি বিকট শব্দ [11:67, 51:44] হল। অতঃপর তারা নিথর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
প্রত্যেক রাসূলকে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপের শিকার হতে হয়েছে।
36:30 নং আয়াহ : ধ্বংস হবে সেই সমস্ত বান্দারা। যাদের কাছে যখনই কোনও রাসূল এসেছে, তখনই তারা তাকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ [43:7] করেছে।
বহু প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস উদ্ধার করা আর কখনও সম্ভব হবে না।
36:31 নং আয়াহ : তারা কি দেখে না/ বিচার বিবেচনা করে না যে, আমরা তাদের পূর্বে কত শত মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিয়েছি [32:26, 30:9]। নিশ্চয়ই তারা তাদের মধ্যে আর কখনও ফিরে আসবে না।
# “নিশ্চয়ই তারা তাদের মধ্যে আর কখনও ফিরে আসবে না”। দুটি অর্থ হতে পারে। A) পুনর্জন্ম সম্ভব সম্ভব নয় (23:99-100)। B) তাদের ইতিহাস উদ্ধার করা কখনও সম্ভব হবে না।
সবাইকে আল্লাহর কাছে যেতেই হবে।
36:32 নং আয়াহ : আর তাদের সবাইকে আমাদের কাছে উপস্থিত [42:29] করা হবে [69:16-17, 84:1-5]।
পৃথিবী কোনও একদিন জীবনহীন ছিল।
36:33 নং আয়াহ : তাদের জন্য একটি নিদর্শন হল- এই গ্ৰহ জীবনহীন ছিল। তারপর আমরা তাকে জীবন সম্পন্ন করেছি [30:50]। আর আমরা তাতে উৎপাদন করে থাকি বিভিন্ন শস্য, আর তা হতে তারা খায়।
36:34 নং আয়াহ : আমরা তাতে সৃষ্টি করেছি খেঁজুর ও আঙ্গুর বাগান সমূহ। আর আমরা তাতে প্রবাহিত করেছি ঝর্ণাধারা সমূহ।
36:35 নং আয়াহ : যেন তারা তা হতে খেতে পারে বিভিন্ন ফলমূল। অথচ তাদের হাত সমূহ তা সৃষ্টি করে নি। তবুও কি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে না??
পৃথিবীর বহু কিছুই নারী ও পুরুষ হিসাবে সৃষ্ট।
36:36 নং আয়াহ : পবিত্র (তিনি), যিনি পৃথিবী যা উৎপন্ন করে, তার মধ্যে বহু কিছুই নারী ও পুরুষ হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। তাদের (মানুষদের) মধ্যেও রয়েছে নারী পুরুষ। আর সেই সমস্ত কিছুইও (নারী পুরুষ [89:3] হিসাবে সৃষ্ট), যা তারা জানেও না [16:8]।
পৃথিবীতে দিন ধীর গতিতে চলমান।
36:37 নং আয়াহ : আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হল- রাত। আমরা দিনকে তার মধ্যে (পৃথিবীর মধ্যে) ধীর গতিতে চলমান করেছি। ফলতঃ তারা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে [39:5, 21:33]।
# যদি আপনি স্পেস ষ্টেশনে যান, তাহলে দেখতে পাবেন- দিন ধীর গতিতে চলমান, তার পিছনে দিনের সমান ধীর গতিতে অন্ধকার এগিয়ে যাচ্ছে। চাইলে ইউটিউবে যান, সেখানে স্পেস ষ্টেশন থেকে ধারণ করা পৃথিবীর ভিডিও রয়েছে। দেখে নিন।
■ সূর্যের পরিণতি। ■ পৃথিবী সূর্যের টানে ছুটছে। ■ পৃথিবী সূর্য কেন্দ্রিক ঘুরছে।
36:38 নং আয়াহ : এবং সূর্য তার মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে [81:1]। ওটা মহা শক্তিশালী ও মহা জ্ঞানীর নির্ধারিত ব্যবস্থা।
ভিন্ন অনুবাদ : এবং সূর্য তার গন্তব্যের দিকে ছুটে চলেছে। ওটা মহা শক্তিশালী ও মহা জ্ঞানীর নির্ধারিত ব্যবস্থা।
# “সূর্য তার গন্তব্যের দিকে ছুটে চলেছে”। এই আয়াহ দুটি বিষয় জানাচ্ছে- A) সূর্য ছুটছে, সঙ্গে পৃথিবীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কেননা, পৃথিবী স্থির হলে, পৃথিবী পড়ে থেকে যেত এবং সূর্য পালিয়ে যেত। এর মানে, পৃথিবী স্থির নয়, গতিশীল (91:6)।
B) পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে। কেননা, সূর্য তো পৃথিবীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মানে, সূর্যের দ্বারা সম্ভব নয় পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরা। কেননা, সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরলে পৃথিবীকে পৃথিবীকে টেনে নিয়ে যাবে কিভাবে! মানে, সূর্য গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে, সঙ্গে পৃথিবীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আবার পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছেও।
চাঁদ একদিন পৃথিবীর অভিকর্ষ গণ্ডি ছেড়ে বেরিয়ে যাবে।
36:39 নং আয়াহ : আর চাঁদের জন্য আমরা নির্ধারণ করে রেখেছি ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথ সমূহ। অবশেষে তার পরিণতি হবে শুকনো খেঁজুর ডাল/ শাখার মতো।
# চাঁদ প্রতিনিয়ত পৃথিবী হতে দূরে সরে যাচ্ছে। একদিন পৃথিবীর গণ্ডি ছেড়ে বেরিয়ে যাবে (54:1) এবং সূর্যে গিয়ে আছড়ে পড়বে (75:8-9)। আর এই ঘটনাটি যদি কেউ সৌরজগৎ থেকে দূরে গিয়ে মিলকিওয়ে গ্যালাক্সির কোনও স্থান হতে দেখে, তাহলে দেখে তার এটাই মনে হবে যে, যেন শুকনো খেঁজুর ডাল/ শাখা খেঁজুর গাছ থেকে ভূমিতে ঝরে পড়ে গেল।
# এখানে একটা প্রশ্ন হবে- “পৃথিবী থেকে চাঁদের বিচ্ছিন্ন হওয়া বোঝাতে আল্লাহ খেঁজুর ডাল/ শাখার ঝরে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন কেন”?? উত্তর খুব সহজ- আসলে পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে। কিন্তু চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে বৃত্তাকার পথে। তাই না??
অন্য দিকে খেঁজুর গাছের ডাল/ শাখা নিচে থাকে না, থাকে একেবারে উপরে। আর তা সম্পূর্ণ বৃত্তাকার ভাবে থাকে। মাঝখানে মূল খেঁজুর কাণ্ড, তার চারিদিকে ডাল/ শাখা গুলো একটি বৃত্তাকার অংশ গঠন করে। যা চাঁদের কক্ষপথকে নির্দেশ করছে।
মহাবিশ্বের কোনও কিছুই স্থির নয়, সমস্ত বস্তুই ঘুরছে।
36:40 নং আয়াহ : আপাতত সূর্য চাঁদকে নাগালে নিতে পারবে না। আর না রাত দিনকে অতিক্রম করতে পারবে [36:37]। আর মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তুই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরে চলেছে।
নূহ (আ) নৌকা আমাদের জন্য নিদর্শন।
36:41 নং আয়াহ : আর তাদের জন্য এও একটি নিদর্শন [54:15] যে, আমরা তাদের পূর্বপুরুষদেরকে বোঝাই করা জলযানে আরোহণ করিয়েছি।
ভাসমান শহর/ আকাশ যানের ভবিষ্যৎ বাণী।
36:42 নং আয়াহ : আমরা তাদের জন্য সৃষ্টি করব তারই মতো কিছু। যাতে তারা তাতে বসবাস করতে পারে।
# এখানে সমুদ্রে ভাসমান শহরের দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া ভাসমান শহর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। যা হবে স্থলভাগের শহরের মতোই, কিন্তু তা হবে সমুদ্রে ভাসমান।
ভিন্ন অনুবাদ : আমরা তাদের জন্য সৃষ্টি করব তারই মতো ভিন্ন কিছু। যা হবে তাদের বাহন।
# নৌকা/ জলযান সেই যুগে ছিল। স্থলযানও ছিল। তাহলে এখানে যে ‛ভিন্ন কিছু’ সৃষ্টির কথা বলা হচ্ছে, তা কি?? জলযান ও স্থরযান ছাড়া আর কি সৃষ্টি হয়েছে?? আকাশ যান, তাই না?? হ্যাঁ, এখানে আকাশ যানের ইঙ্গিত করা হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন- 22:27 আয়াহ।
আকাশ পথ ব্যাবহারের ভবিষ্যৎ বাণী।
36:43 নং আয়াহ : আমরা চাইলেই তাদেরকে মাঝ আকাশে/ মাঝ সমুদ্রে মৃত্যু দিতে পারি, তখন তাদের ডাকে সাড়া দানকারী কাউকে পাবে না। আর না পাবে পরিত্রাণ।
আল্লাহ কেন পাপীদেরকে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেন না??
36:44 নং আয়াহ : কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ করা হয়, যাতে তারা কিছুকাল জীবন উপভোগ [3:178] করতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করো, অতীত থেকে শিক্ষা নাও।
36:45 নং আয়াহ : আর যখন তাদেরকে বলা হয়- “সতর্ক হও সেই সম্পর্কে, যা তোমাদের সামনে/ ভবিষ্যতে আসতে চলেছে। এবং (শিক্ষা নাও) যা পিছনে/ অতীতে ঘটেছে, তা থেকে। যাতে তোমাদের উপর রহম করা হয়।
আল্লাহর আয়াত সমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মানুষদের রীতি।
36:46 নং আয়াহ : যখনই তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তাদের কাছে এসেছে আয়াত সমূহ, তখনই তারা তা হতে মুখ ফিরিয়ে [42:48, 26:5-6] নিয়েছে।
কাফিররা যেভাবে আল্লাহ ও মূমীনদেরকে ব্যাঙ্গ করতেন।
36:47 নং আয়াহ : আর যখন তাদেরকে বলা হয়- “আল্লাহ তোমাদেরকে রিযিক হিসাবে যা দিয়েছেন, তা হতে দান কর”। তখন সত্য অস্বীকারকারীরা সত্য স্বীকারকারী দেরকে বলে- “আমরা কি ভাবে তাদেরকে খাওয়াবো, আল্লাহ চাইলেই যাদেরকে খাওয়াতে [42:27] পারতেন! তোমরা সুস্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছ”।
মূমীনদেরকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন।
36:48 নং আয়াহ : তারা বলে- “যদি তোমরা হয়ে থাক সত্যবাদী (তাহলে বলো) কখন পূর্ণ হবে এই (কিয়ামতের) ওয়াদা” [69:16:17, 21:104]??
তারা আল্লাহর ডাকের অপেক্ষা করছে।
36:49 নং আয়াহ : তারা শুধু অপেক্ষা করছে, যখন তারা কুকর্ত করবে, সেই অবস্থায় যেন একটি ডাক [36:53] তাদের কাছে পৌঁছায় [37:19]।
কিন্তু ডাক এসে গেলে কি হবে??
36:50 নং আয়াহ : (আর যদি ডাক এসে যায়) তখন তারা না পারবে কোনও ওসিয়ত করতে, আর না পারবে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে।
শিংগায় তৃতীয় বার ফুঁ দেওয়ার পরিণতি।
36:51 নং আয়াহ : আর যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, তখন তারা ‛সংকোচিত মহাবিশ্ব’ [84:1-4] থেকে বের হয়ে তাদের প্রভুর দিকে ছুটে আসবে [54:7, 70:43]।
# এর আগের দুই বার শিংগায় ফুঁ দেওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে 27:87 ও 39:68 দেখুন।
পুনরুত্থান ঘুম থেকে জেগে ওঠার মতো।
36:52 নং আয়াহ : তারা বলবে- হায়, আমাদের একি কি অবস্থা! কে আমাদেরকে ঘুমের অবস্থা থেকে উঠালো! (বুঝতে পারার) বলবে- “এটা তো সেই ওয়াদা, যে ওয়াদা আল্লাহ করেছিলেন। আর রাসূলগণ সত্যই [64:7, 31:28] বলেছিলেন”।
# অনেক হাদীশ অস্বীকারকারী এই আয়াহ দেখিয়ে বলেন যে, “কবর জীবন হল ঘুমের জীবন। সুতরাং কবর আযাব মিথ্যা”। কিন্তু তাদের এই দলিল সহজেই খন্ডন করা যেতে পারে। আসলে, কবরের শাস্তি আজীবনের জন্য নয়, নিদিষ্ট সময়ের জন্য। তারপর মানুষরা করব জীবনে ঘুমিয়েই থাকবে। তারপর তাকে তোলা হবে। তখন সে এটাই বলবে- “কে আমাদেরকে ঘুমের অবস্থা থেকে উঠালো”?? কবরের শাস্তির পক্ষে জোরদার দলিল হল 9:101 আয়াহ।
পুনরুত্থানের ডাক ও তার পরিণতি।
36:53 নং আয়াহ : একটি ডাক [54:6, 50:41] দেওয়া হবে, অতঃপর তাদের সবাইকে আমাদের কাছে হাজির করা হবে [54:7, 70:43]।
মৃত ব্যক্তি ‛নিজ কর্মের’ প্রতিদান ছাড়া কিছুই পাবে না।
36:54 নং আয়াহ : অতঃপর (ঘোষণা করা হবে) আজ কোনও ব্যক্তির উপর সামান্যও অবিচার করা হবে না [21:47, 50:29]। তোমাদেরকে সেই কর্মের প্রতিদান [40:17] দেওয়া হবে, যে কর্ম তোমরা করে এসেছ [37:39, 45:28]।
# এই আয়াহ বলছে- মৃত ব্যক্তির জন্য আমরা যা কিছু করে থাকি, তার কোনও প্রতিদান মৃত পাবেন না। তিনি শুধু তার সেই কর্মের প্রতিদান পাবেন, যা তিনি করে গেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল- তিনি যদি এমন কোনও কর্ম করে যান, যা সাদকায়ে জারিয়াহ হতে পারে, তাহলে তার জন্য তিনি পূণ্য/ পাপ মৃত্যুর পরও পেতে পারেন। এই সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের 82:5 ও 36:12 তে কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়াও ভালো/ খারাপ কর্মের সুপারিশ করার জন্যও পূণ্য/ পাপ হতে পারে। এমনকি পূণ্য/ পাপ মৃত্যুর পরও চলতে পারে (4:85)।
#প্রশ্ন হবে- তাহলে জানাজা?? উত্তর সহজ- জানাজা থেকে কোনও প্রতিদান মৃত পাবেন না। জানাজা হল- মৃতের জন্য দুয়া, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা। এখন দুয়া কবুল করবেন কিনা, তাকে ক্ষমা করবেন কিনা, তা আল্লাহর ইচ্ছা।
আমরা যদি মৃতের জন্য জানাজা অনুষ্ঠান না করি, তাতে মৃতের কোনও ক্ষতি হবে না। যাইহোক, 9:80 ও 9:84 আয়াত থেকে জানা যায়- যাদেরকে ক্ষমা করা হবে না, তাদের জানাজা আদায় করার প্রয়োজন নেই। এর সঙ্গে 9:113 আয়াহ একবার দেখে নিন।
জান্নাতীদের খুশি, ছায়া ও আসন।
36:55 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই জান্নাতের বাসিন্দারা আজ আনন্দে আত্মহারা থাকবে।
36:56 নং আয়াহ : তারা এবং তাদের সঙ্গী/ সঙ্গীনিরা [43:70] ছায়ায় [13:35, 56:30-31] মধ্যে সুসজ্জিত আসনে হেলাল দিয়ে বসবে।
জান্নাতীরা যা চাইবে, সেই সমস্ত কিছুই পাবে।
36:57 নং আয়াহ : তাদের জন্য থাকবে ফলমূল [13:35, 69:23]। আর তাদের জন্য সেই সমস্ত কিছুই থাকবে, যা তারা চাইবে/ কামনা করবে [50:35]।
জান্নাতীদের আল্লাহর পক্ষ থেকে ‛সালাম’ দেওয়া হবে।
36:58 নং আয়াহ : তাদেরকে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে বলা হবে- “সালাম” [56:26]। যিনি করুণাময়।
অপরাধীদের আলাদা করে দেওয়া হবে।
36:59 নং আয়াহ : (বলা হবে) হে অপরাধীরা, আজ আলাদা [56:7-10] হয়ে যাও।
অপরাধীদের আর কি কি বলা হবে??
36:60 নং আয়াহ : (বলা হবে) হে আদমের সন্তানগণ, আমি কি তোমাদের প্রতি এই নির্দেশ দিই নি যে, তোমরা শাইত্বানের ইবাদত করো না/ করবে। কেননা, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু??
36:61 নং আয়াহ : আর (এই নির্দেশ কি দিই নি) যে, তোমরা আমার ইবাদত [20:14, 21:25, 51:56] কর, এটাই চূড়ান্ত সফলতার পথ??
মস্তিষ্ক ব্যবহারের নির্দেশ।
36:62 নং আয়াহ : কিন্তু তা সত্ত্বেও সে (শাইত্বান) তোমাদের মধ্যে অনেক বড় একটা অংশকে পথভ্রষ্ট করল। তবুও তোমরা মস্তিষ্কের [8:22, 10:100] ব্যবহার করলে [67:19] না!!
তারপর অপরাধীদের জাহান্নাম দেখানো হবে।
36:63 নং আয়াহ : (বলা হবে) এটাই জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদের সঙ্গে করা হয়েছিল [52:12-15]।
সত্য অস্বীকারের বিনিময় কি হতে পারে??
36:64 নং আয়াহ : তোমরা সত্য অস্বীকার করেছিলে, তার বিনিময়ে তাতে প্রবেশ কর।
অপরাধীদের হাত কথা বলবে, পা সাক্ষী দেবে।
36:65 নং আয়াহ : আজ তাদের মুখ সমূহে মোহর মেরে দেওয়া হবে [6:22-23]। আমাদের সঙ্গে কথা বলবে তাদের হাত সমূহ [41:21-22] এবং সাক্ষী দেবে তাদের পা সমূহ [24:24]। সেই বিষয়ে, যা তারা অর্জন করেছিল।
চশমা তৈরির ভবিষ্যৎ বাণী।
36:66 নং আয়াহ : আর যদিও আমরা চাই- তাদের চোখের উপর (চশমা) লাগিয়ে দিতে। তা ছাড়া তারা পথ চলবে কিভাবে, দেখবে কিভাবে!
মহাকাশে/ অভিকর্ষ শূন্য স্থানে মানুষের কেমন অবস্থা হতে পারে!
36:67 নং আয়াহ : এবং যদিও আমরা চাই- তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এমন স্থানে (মহাকাশে/ মহাশূন্যে) পাঠাই। যেখানে তাদের সামর্থ্য থাকবে এগিয়ে যেতে, আর না টারে পিছিয়ে আসতে [6:125]।
মস্তিষ্ক ব্যবহারের নির্দেশ।
36:68 নং আয়াহ : আর আমরা যখন কাউকে দীর্ঘায়ু দিই, তখন তার প্রকৃতি উল্টিয়ে দিই [30:54, 16:70]। তবুও কি তারা মস্তিষ্কের [8:22, 10:100] ব্যবহার করবে না??
কুরআন কোনও কবিতার বই নয়।
36:69 নং আয়াহ : আমরা তাকে কোনও কবিতা [69:41] শেখাই নি, আর তার জন্য তা শোভনীয় নয়। তা সংবিধান ছাড়া অন্য কিছু নয়, তা সুস্পষ্ট কুরআন।
কুরআনের কাজ জীবিতদেরকে সতর্ক করা।
36:70 নং আয়াহ : যেন তা (কুরআন) সতর্ক করতে পারে জীবিতকে। আর তা সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য সত্যের দিশা।
# জীবিতকে! নাকি জীবিতদেরকে! হ্যাঁ, আপাতদৃষ্টিতে এটা পবিত্র কুরআনের ব্যাকারণগত ভুল বলে মনে হতে পারে। আসলে তা নয়, বরং তা পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য্য। বুঝতে পারেন নি?? আসলে এখানে এক বচনে বক্তব্য পেশ করা হয়েছে এজন্য যে, একজন মানুষ সমস্ত মানুষের সমান। যেমন 5:32 এ বলা হয়েছে- “একজন মানুষকে হত্যা করা, সমস্ত মানুষকে হত্যা করার সমান”। বিস্তারিত জানতে 73:15 এর টিকা দেখুন।
আল্লাহর হাত কত গুলো??
36:71 নং আয়াহ : তারা কি দেখে/ ভাবে না যে, তাদের জন্য আমাদের হাত সমূহ [5:64] সৃষ্টি করেছে চতুস্পদ জন্তু/ গবাদিপশু, এখন তারাই সেগুলোর মালিক।
গবাদি পশু গুলোকে আল্লাহ মানুষের বশীভূত করে দিয়েছেন।
36:72 নং আয়াহ : আর আমরা সেগুলোকে (গবাদি পশুকে) তাদের বশীভূত করে দিয়েছি। সুতরাং এখন তার মধ্যে কিছু তাদের বাহন [16:8] এবং কিছু তারা খাদ্য [5:1] হিসাবে খায়।
36:73 নং আয়াহ : তাদের জন্য তাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের উপকারিতা ও পানিও (দুধ)। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞ হবে [14:7-8, 76:3] না??
মানুষ কেন মিথ্যা/ কাল্পনিক ঈশ্বর গ্ৰহণ করে??
36:74 নং আয়াহ : তা সত্ত্বেও তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে ঈশ্বর/ উপাস্য হিসাবে। (এই আশায় যে) হয়ত তারা সাহায্য [10:28, 19:81-82] পাবে।
কাল্পনিক ঈশ্বরদের অবস্থা।
36:75 নং আয়াহ : তাদের (অন্য ঈশ্বরদের) সামর্থ্য নেই তাদেরকে সাহায্য করার [22:73]। বরং তারাই তাদেরকে (অন্য ঈশ্বরদেরকে) রক্ষা করার জন্য সৈন্য হিসাবে সদা সর্বদা উপস্থিত।
আল্লাহ নাবী (সা) কে মোটিভেট করছেন।
36:76 নং আয়াহ : সুতরাং তাদের কথাবার্তা যেন আপনাকে দুঃখিত/ চিন্তিত না করে। নিশ্চয়ই আমরা জানি, যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে।
নিজ মতাদর্শের পক্ষে কুতর্ক করা মানুষের বৈশিষ্ট্য।
36:77 নং আয়াহ : তারা কি দেখে/ ভাবে না যে, আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুক্রাণু [76:2] থেকে। অথচ এখন সে সুস্পষ্ট কুতর্ককারী [16:4}।
যেমন নাস্তিকরা আল্লাহকে শেখানোর চেষ্টা করে।
36:78 নং আয়াহ : সে এখন আমাদেরকে বোঝানোর জন্য উদাহরণ দেয়। অথচ সে ভুলে যায় তার নিজের সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে! আর বলে- “যখন হাড় সমূহ পচে গলে যাবে/ কণায় পরিণত হবে [75:3-4], তখন কে তাকে জীবিত [17:51] করবে”??
কে মৃতদেরকে জীবিত করবেন??
36:79 নং আয়াহ : বলুন- “তিনিই জীবিত করবেন, যিনি তাকে প্রথমবার [50:15] সৃষ্টি করেছিলেন [84:1-4]। তিনি তার প্রত্যেকটা সৃষ্টি সম্পর্কে জানেন” [23:17]।
গাছ অক্সিজেন দেয়।
36:80 নং আয়াহ : যিনি তোমাদের জন্য অস্তিত্বে এনেছেন গাছ সমূহ, যা আগুন জ্বলার জন্যও ব্যবহৃত হয়। অতঃপর তোমরা তা হতে অক্সিজেন [81:18] পাও।
মহাবিশ্ব একটি নয়, একাধিক মহাবিশ্ব রয়েছে।
36:81 নং আয়াহ : (তিনি কি আল্লাহ) নন, যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি কি তার মতো (মহাবিশ্ব) সৃষ্টি করতে সক্ষম নন [1:1]?? হ্যাঁ, অবশ্যই (সক্ষম)। কেননা, তিনি স্রষ্টাদের মধ্যে মহাস্রষ্টা ও মহাজ্ঞানী।
মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রয়োজনীয় ‛শক্তি’ কোথায় থেকে এসেছিল??
36:82 নং আয়াহ : মূলত যখন তিনি কোনও কিছু করার ইরাদা/ ইচ্ছা [51:47] করেন, তখন সেজন্য বলেন- “হও”, আর তা হতে শুরু [2:117] হয়ে যায়।
# মহাবিশ্ব সৃষ্টি/ বিগব্যাঙ ঘটার জন্য প্রচুর পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন ছিল। সেই কোথায় থেকে এসেছিল, সেই সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন হাইপোথিসিস/ থিওরি উপস্থাপন করেন। কিন্তু প্রায় সমস্ত হাইপোথিসিস/ থিওরির অবস্থা একই। তা হল- হাইপোথিসিস/ থিওরি গুলোর হাতা মাথা নেই।
পবিত্র কুরআন বলে- আল্লাহ গুপ্তে ছিলেন (57:3)। তিনি নিজেকে সময় (বুখারী, হাদীশ 6181) হিসাবে প্রকাশ (57:3) করেন এবং বলেন- “কুন বা হও”। অর্থাৎ মহাবিশ্ব সৃষ্টি/ বিগব্যাঙ ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হল আল্লাহর শব্দ, শব্দই শক্তির উৎস।
এটা কল্পনা নয়। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- বিগব্যাঙ ও বিগক্রাঞ্চ, বিগব্যাঙ ও বিগক্রাঞ্চ, বিগব্যাঙ ও বিগক্রাঞ্চ চলতে থাকবে। একটা পর্যায়ে মহাবিশ্ব হওকিং রেডিয়েশনের মাধ্যমে আল্লাহতে নিঃশেষ হয়ে যাবে (55:26)। অর্থাৎ মহাবিশ্ব আল্লাহর অংশ, আল্লাহতে পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যাবে।
মহাবিশ্ব গুলোর মালিকানা আল্লাহর।
36:83 নং আয়াহ : সুতরাং পবিত্র (সেই সত্ত্বা) যার হাতে রয়েছে সমস্ত (মহাবিশ্ব গুলোর) মালিকানা [18:51, 46:4]। আর তার দিকেই ফিরে যেতে হবে।