৩১ নং সূরাহ | সূরাহ লুকমান | Surah no 31 | Surah Luqman |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 34 টি।

বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??

31:1 নং আয়াহ : আলিফ লাম মীম।

31:2 নং আয়াহ : ঐ গুলো বিজ্ঞানময় কিতাবের [36:2] আয়াত সমূহ [10:1, 15:1]।

কুরআন পথ প্রদর্শক ও দয়া।

31:3 নং আয়াহ : (ঐ কিতাব) পথ নির্দেশনা ও দয়া সৎকর্মশীল‌দের জন্য।

■ সৎকর্ম‌শীল কারা?? ■ সফল হবে কারা??

31:4 নং আয়াহ : (সৎকর্ম‌শীলরা তারা) যারা স্বালাত/ আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করে এবং (রাষ্ট্রকে) যাকাত/ Tax দেয়। তারাই পরবর্তী জীবনে ইয়াকীন/ দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।

31:5 নং আয়াহ : তারাই তাদের প্রভুর দেখানো সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর তারাই সফল হবে।

কুরআন বিরোধী হাদীশ তৈরির ভবিষ্যৎ বাণী‌।

31:6 নং আয়াহ : মানুষের মধ্যে এমন মানুষ‌ও রয়েছে, যারা (ধর্মীয়) জ্ঞান‌হীন মানুষ‌কে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরানো‌র জন্য তৈরি করে/ করবে লাহ‌ওয়াল/ কুরআন বিরোধী হাদীশ [16:25]। তারা তাকে (কুরআন‌কে) ব‍্যাঙ্গ বিদ্রুপের বিষয় হিসাবে গ্ৰহণ করে। তাদের জন্য থাকবে অপমান জনক শাস্তি।

বেশিরভাগ মুসলিমের বর্তমান অবস্থা।

31:7 নং আয়াহ : আর যখন তাকে আমাদের আয়াত পড়ে শুনানো হয়, তখন সে অহংকারের সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নেয়। যেন সে শুনতেই পায় নি। যেন তার দুই কানে বধিরতা রয়েছে। এত‌এব তাকে কষ্টদায়ক শাস্তি‌র সুসংবাদ দিন।

জান্নাত কাদের জন্য??

31:8 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা সত্য স্বীকার করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য থাকবে নিয়ামত পূর্ণ জান্নাত সমূহ।

31:9 নং আয়াহ : তারা তাতে অনন্তকাল থাকবে। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। এবং তিনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।

গ‍্যালাক্সি ও পৃথিবী‌র সৃষ্টি সম্পর্কিত তথ্য।

31:10 নং আয়াহ : তিনি কোনও দৃশ্যমান স্তম্ভ ছাড়াই গ‍্যালাক্সি গুলোকে মহাশূন্যে ভাসিয়ে [35:41] রেখেছেন। তিনি পৃথিবীতে (প্লেট সঞ্চালনের মাধ্যমে) পর্বতমালা গুলো উদগত করেছেন [13:3-4, 78:6-7]। যাতে পৃথিবীর ক্রাষ্ট/ ভূত্বক তোমাদের‌কে নিয়ে টলাটলি না করে। এবং তিনি (প্লেট সঞ্চালনের মাধ্যমে) তাতে (পৃথিবীতে) ছড়িয়ে দিয়েছেন জীবজন্তু ১ গুলোকে। এবং আমরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পানি প্রেরণ ২ করেছি (ধূমকেতুর মাধ্যমে)।  অতঃপর তা (পানি) দিয়ে উৎপন্ন করি উত্তম প্রকারের উদ্ভিদ সমূহ ও তার সঙ্গী/ সঙ্গী‌নি।

১ আসলে আজ থেকে 20-25 কোটি বছর আগে পৃথিবীর প্লেট গুলো একত্রিত অবস্থায় ছিল। যার নাম ছিল পেনজিয়া। তখন সমস্ত ধরণের জীবজন্তু একত্রিত ভূখণ্ডে‌ই ছিল। তারপর প্লেট গুলোর সঞ্চালন হয়, প্লেট গুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। এভাবেই জীবজন্তু গুলো ছড়িয়ে পড়ে।

২ আজ বিজ্ঞানে এটা প্রমাণিত যে, পানির উৎপত্তি পৃথিবীতে হয় নি। বরং পানি পৃথিবীতে ধূমকেতুর মাধ্যমে এসেছে।

অন‍্যান‍্য ঈশ্বর সম্পর্কে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

31:11 নং আয়াহ : এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি। এখন তোমরা আমাকে দেখাও যে, তিনি ছাড়া আর যারা (তোমাদের ঈশ্বর/ উপাস‍্য) আছে, তারা কি সৃষ্টি [18:51, 23:91] করেছে?? বরং সীমালঙ্ঘনকারীরা সুস্পষ্ট ভ্রান্তি‌র মধ্যে আছে।

লুকমানকে বিজ্ঞানের জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল।

31:12 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা লুকমান‌কে বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞান দিয়েছিলাম [2:269]। (বলেছিলাম) কৃতজ্ঞতা স্বীকার‌কারী হ‌ও। এবং যে কৃতজ্ঞ হয়, তার কৃতজ্ঞ হ‌ওয়া মূলত নিজের জন‍্যেই [14:7]। এবং যে অকৃতজ্ঞ হয়, (সে জেনে রাখুক) আল্লাহ (টিকে থাকার জন্য) অভাবমুক্ত [112:2] ও প্রশংসিত [45:36]।

শিরক হল সবচেয়ে বড় অন‍্যায়/ অপরাধ।

31:13 নং আয়াহ : এবং (শুনুন সেই সময়ের কথা) যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিচ্ছিলেন- “হে আমার পুত্র, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না। নিশ্চয়ই শিরক হল সবচেয়ে বড় অন‍্যায়/ অপরাধ” [42:5]।

■ মায়ের মর্যাদা। ■ শিশুকে দু-বছর মাতৃদুধ পান করানো ফরজ।

31:14 নং আয়াহ : আর আমরা মানুষ‌কে কঠোর নির্দেশ দিয়েছি তার মাতাপিতার সঙ্গে উত্তম ব‍্যবহারের [17:23-24, 46:15]। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট ১ সহ‍্য করে পেটে বহন [4:34] করে ও প্রসব করে/ জন্ম দেয়। এবং তাকে দু বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করায় [2:233, 65:6]। সুতরাং কৃতজ্ঞ হ‌ও আমার প্রতি এবং তোমার মাতাপিতার প্রতি ২। শেষে আমার দিকেই ফিরে [21:104, 69:16-17] আসতে হবে। 

১ একটি হাদীশ। নাবী (সা) বলেছেন- “তোমার মায়ের দুই পায়ের নিচে তোমার জান্নাত”(নাষাঈ, হাদীস 3104)।

২ এজন্য নাবী (সা) বলেছেন- “যে মানুষের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে পারে না, সে আল্লাহর‌ প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না” (আবু দাউদ, হাদীশ 4811)।

■ শিরক আপোষহীন বিষয়। ■ মাতাপিতা অমুসলীম হলে করণীয়।

31:15 নং আয়াহ : কিন্তু তারা (মাতাপিতা) যদি আমার সঙ্গে শিরক করার জন্য তোমাকে চাপ সৃষ্টি করে, যে সম্পর্কে তোমার কোনও জ্ঞান নেই [29:8, 16:43], তাহলে তাদের (মাতাপিতার) কথা শুনবে না। তবে ইহজীবনে তাদের সঙ্গে উত্তম ব‍্যবহার করবে। এবং অনুসরণ কর তার পথ, যে (মুহাম্মাদ) আমার অভিমুখী হয়েছে [42:10]। শেষে আমর দিকেই তোমাদের‌কে ফিরে আসতে হবে। তখন তোমাদের জানানো হবে সেই কর্ম সম্পর্কে, যা তোমরা করছিলে (তা কতটা সঠিক/ বেঠিক)।

# একটি হাদীস। “নাবী (সা) কে বলা হল যে, আমার মা মুশরিক (মূর্তি পূজা করে)। আমি কি তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবো?? নাবী বললেন- “হ‍্যাঁ, তার সঙ্গে সর্বোত্তম আচার ব‍্যবহার করো” (বুখারী, হাদীশ 3183)।

আল্লাহ প্রত‍্যেক বস্তুকে একত্রিত করবেন।

31:16 নং আয়াহ : (লুকমান পুত্র‌কে বলেছিলেন) “হে আমার পুত্র, যদি কোনও বস্তু হয় সরিষার দানা পরিমাণ‌ও [10:61, 34:3] হয়, আর তা শিলাখন্ডের নিচে থাকুক কিংবা মহাবিশ্বের যেখানে‌ই থাকুক, আল্লাহ তাকে বের করে [42:29] নিয়ে আসবেন [69:16-17, 84:1-5]। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুক্ষ্মাতি সুক্ষ্ম বস্তু দর্শী ও সমস্ত বিষয়ে‌র জ্ঞান রাখেন।

ধৈর্য্য ধারণ করা অতি সাহসের কাজ।

31:17 নং আয়াহ : হে আমার পুত্র, স্বালাত/ আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করো এবং ভালো কাজের নির্দেশ [3:104, 3:110] দেবে, খারাপ কাজে বাধা ১ দেবে [5:79]। ধৈর্য্য ধারণ করো ঐ সময়ে, যখন তোমার উপর বিপদ [2:155] আসে। নিশ্চয়ই তা অতি সাহসের কাজ ১।

১ নাবী (সা) বলেছেন- “যদি মানুষ কোন‌ও অত‍্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখেও তার হাত ধরে তাকে বিরত না করলে, অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে ব্যাপকভাবে শাস্তি দিবেন” (তিরমিযী, হাদীশ 3057)।

   নাবী (সা) বলেছেন- “যদি তোমাদের মধ্যে কোন মানুষ কোন অন্যায় সংঘটিত হতে দেখে, তাহলে সে যেন তার হাত দ্বারা (ক্ষমতা প্রয়োগে) তা প্রতিহত করে। যদি এই যোগ্যতা তার না থাকে সে যেন তার মুখ দ্বারা তা প্রতিহত করে। যদি এই যোগ্যতাও তার না থাকে তাহলে সে যেন তার অন্তর দ্বারা তা প্রতিহত করে (অন্যায়কে ঘৃণা করে)। আর এটা হলো দুর্বলতম ঈমান (মুসলিম, হাদীশ 49/1)।

   নাবী (সা) আরও বলেছেন- “যদি অন‍্যায়ে বাধা না দাও, তাহলে আল্লাহর কাছে দুয়া করলেও তিনি তোমাদের দুয়া কবুল করবেন না”(তিরমিযী, হাদীশ 2169)। আর আজ আমরা বিশ্বব‍্যাপি তা’ই দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের দুয়া কবুল করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

২ আমাদের সমাজে ধৈর্য্য ধারণকারী মানুষকে ভীতু/ কাপুরুষ হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু পবিত্র কুরআন ধারণকার করাকে অতিসাহসের কাজ বলে গণ্য করেছে। এটা এজন্য যে, মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেন বিপদেই, তাই বিপদে ধৈর্য্য রাখাকেই প্রকৃতপক্ষে অতিসাহসের কাজ বলে গণ্য করা হয়েছে।

মানবতাহীনতা ও গ্ৰহের/ গ্ৰহবাসীদের উপর অত‍্যাচার করা হারাম।

31:18 নং আয়াহ : এবং তুমি মানবতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না [47:22] এবং গ্ৰহের/ গ্ৰহবাসীদের উপর অত‍্যাচার করো না [40:75]। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনও অত‍্যাচারকারী দাম্ভিককে পছন্দ করেন না [4:36]।

# একটি হাদীশ- “দয়ালু‌দের উপর দয়ালু (আল্লাহ) দয়া করেন। সুতরাং তোমরা গ্ৰহবাসীদের উপর দয়া কর। তাহলে যিনি মহাবিশ্ব জুড়ে রয়েছেন, তিনি তোমাদের উপর দয়া করবেন”(আবু দাউদ, হাদীশ 4941)।

■ সহনশীলতা‌র নির্দেশ। ■ উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা হারাম।

31:19 নং আয়াহ : আর সহনশীল‌ [25:63] ভাবে (১) জীবন যাপন কর [2:143, 28:83]। আর তোমার দ্বারা সৃষ্ট শব্দ‌ মাত্রা কম রাখো [2:262, 17:64]। নিশ্চয়ই শব্দ সমূহের মধ্যে গাধার দ্বারা সৃষ্ট শব্দ (২) সবচেয়ে শ্রুতিকটু”।

১) নাবী (সা) এর একটি হাদীশ, যা এখানে উল্লেখ করতেই হবে। আর তা হল- “চরমপন্থা/ কট্টরতা হতে সাবধান। চরমপন্থা/ কট্টরতা অবলম্বন‌কারী ধ্বংস হয়ে গেছে” (আবূ দাউদ, হাদীশ 4608)।

২) অর্থাৎ এখানে পরোক্ষভাবে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি‌কারীকে মূলত গাধা বলা হল। আমাদের কানের সহনীয় শব্দ মাত্রা হল- 50 ডেসিবেল। আর 90 ডেসিবেলের বেশি শব্দ মাত্রা আমাদের কানের জন্য ক্ষতিকর। নাবী (সা) বলেছেন- “মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ো না”(বুখারী, হাদীশ 2518)।

মহাবিশ্বের সমস্ত কিছু ধীরে ধীরে মানুষের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

31:20 নং আয়াহ : তোমরা কি দেখো/ ভাবো না যে, আল্লাহ মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুকে ধীরে ধীরে তোমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন [45:13] করে দিচ্ছেন?? এবং তিনি তোমাদের উপর প্রকাশিত ও গোপন নিয়ামত সমূহ সম্পূর্ণ করে দিচ্ছেন। কিন্তু মানুষের মধ্যে এমন‌ও কিছু মানুষ আছে, যারা আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করে জ্ঞান ছাড়াই। আর না তাদের কাছে আছে নিদিষ্ট পন্থা, আর না তাদের কাছে আছে কোনও আলো প্রতিফলন‌কারী কিতাব [22:8-9]।

বাপদাদা/ পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুসরণ নিষিদ্ধ।

31:21 নং আয়াহ : যখন তাদের‌কে বলা হয়- আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তার অনুসরণ করো। (তখন) তারা বলে- “না, বরং আমরা অনুসরণ করবো বাপদাদা/ পূর্বপুরুষকে যার উপর পেয়েছি, তা”। যদিও শাইত্বান তাদের‌কে জলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে ডাকে, তবুও কি (তারা তা‌র‌ই অনুসরণ [2:170] করবে)??

শক্ত হাতল আসলে কি??

31:22 নং আয়াত : সুতরাং যে মুখমণ্ডলকে/ নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে এবং সে সৎকর্ম‌শীল‌ও হয়, তাহলে সে যেন সুদৃঢ় হাতল ধরলো। আর আল্লাহর আইন [25:2, 7:54] মুতাবিক‌ই সমস্ত কিছু পরিণতি পায়।

ইসলাম অস্বীকারকারীর জন্য চিন্তিত না হ‌ওয়া।

31:23 নং আয়াহ : আর যে সত্য অস্বীকার [76:3, 64:2] করে, তার সত্য অস্বীকার যেন আপনাকে চিন্তিত না করে [26:4, 10:99, 16:35]। আমাদের দিকেই ফিরে আসতে হবে, তখন আমরা তাদের‌কে জানিয়ে দেব সেই সমস্ত বিষয়ে, যে সমস্ত আমল/ কর্ম তারা করতো। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন তাদের মস্তিষ্ক সমূহের অবস্থা [2:115, 50:16]।

31:24 নং আয়াহ : আমরা তাদের‌কে অল্প কিছু কাল ভোগ করতে দেব [39:8], তার‌পর আমরা তাদের‌কে বাধ্য [52:13] করে নিয়ে যাবো কঠিন শাস্তির [54:48, 26:94] দিকে।

অনেকেই মনে করেন- আল্লাহ‌ই মহাবিশ্বের স্রষ্টা।

31:25 নং আয়াহ : আর যদি আপনি তাদের‌কে জিজ্ঞাসা করেন- “মহাবিশ্বকে কে সৃষ্টি করেছে”?? তারা অবশ্যই বলবে- “আল্লাহ”। বলুন- “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর” [1:1, 45:36]। কিন্তু তাদের মধ্যে বেশিরভাগই (সত্যটা) জানে না (সেই জন্য শিরক [12:106] করে)।

আল্লাহ অভাব মুক্ত।

31:26 নং আয়াহ : মহাবিশ্বে যা কিছু আছে, সেই সমস্ত কিছু আল্লাহর‌ই [36:83]। নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাব [47:38] মুক্ত ও প্রশংসিত [45:36]।

মহাসাগর সাতটি।

31:27 নং আয়াহ : যদি পৃথিবীর সমস্ত গাছ কলম সমূহে পরিণত হয়, আর সাতটি মহাসাগর কালিতে পরিণত হয়, তার সঙ্গে আরও সাতটি মহাসাগরের পানি কালিতে পরিণত হয়, তবুও আল্লাহর (প্রশংসার) কথা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিশালী ও বিজ্ঞানী।

# প্রশ্ন হবে- “আমরা তো জানি যে মহাসাগর 5 টি। তাহলে পবিত্র কুরআন 7 টি বলছে কেন?? আসলে পবিত্র কুরআন আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর‌কে উত্তর এবং দক্ষিণে ভাগ ক‍রেছে। যা বহু সমুদ্র বিজ্ঞানী এবং সমুদ্র বিজ্ঞান সম্পর্কিত গবেষণা সংস্থা‌ও মনে করেন। পবিত্র কুরআন এখানে সেটাই বলছে।

পুনরুত্থান কঠিন কোনও বিষয় নয়।

31:28 নং আয়াহ : তোমাদের সকলের সৃষ্টি ও তোমাদের সকলের পুনরুত্থান শুধুমাত্র একটি প্রাণী সৃষ্টি ও তার পুনরুত্থানের [30:25] মতোই [64:7, 69:16-17]। নিশ্চয়ই আল্লাহ শোনেন এবং দেখেন।

সূর্য ও চন্দ্র মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে যাবে।

31:29 নং আয়াহ : আপনি কি দেখেন/ ভাবেন নি যে, আল্লাহ রাতকে দিনের সীমায় ঠেকিয়ে দেন এবং দিনকে রাতের সীমায় ঠেকিয়ে দেন?? এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে তোমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে দেবেন, যা নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত চলতেই থাকবে [31:20]। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই সমস্ত বিষয়ে জ্ঞান রাখেন, যে সমস্ত আমল/ কর্ম তোমরা করছো।

আল্লাহ কেন সত্য?? আল্লাহ‌ই কেন সত্য??

31:30 নং আয়াহ : ঐ কারণে আল্লাহ‌ই সত্য। এও (সত্য) যে, তারা তাকে বাদ দিয়ে যাকে ডাকে, তা মিথ্যা [22:62, 29:52] এও (সত্য) যে, আল্লাহ হলেন সর্বোচ্চ ও তুলনাহীন শ্রেষ্ঠ।

# “ঐ কারণে আল্লাহ সত্য”- কোন কারণে আল্লাহ সত্য?? সূর্য ও চন্দ্র মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন হ‌ওয়ার ভবিষ্যৎ বাণীর কারণে আল্লাহ সত্য (যা আগের আয়াহতে বলা হয়েছে)। কেননা, আজ থেকে 1500 বছর আগে এই ভবিষ্যৎ বাণী করার ক্ষমতা অন্য কারোর ছিল না। অবাক করা বিষয় হল- আজ‌ও এগুলো কল্পনা করলে মানুষ তাকে পাগলা বলবে!

জলযান সমুদ্রে বিচরণ করে আল্লাহর অনুগ্রহে।

31:31 নং আয়াহ : আপনি কি দেখেন/ ভাবেন নি যে, জলযান গুলো সমুদ্রে বিচরণ করছে আল্লাহর অনুগ্রহে। যেন তিনি তোমাদের‌কে দেখাতে পারেন তার কিছু নিদর্শন। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বিষয়ে‌র মধ্যে রয়েছে নিদর্শন, প্রত‍্যেক ধৈর্য্য ধারণকারী ও কৃতজ্ঞের জন্য।

# প্রশ্ন হবে- “সমুদ্রে জলযান বিচরণের মধ্যে কোন নিদর্শন রয়েছে”?? উত্তর খোঁজার দরকার নেই, এ প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন 42:32-33 তে। এক কাজ করুন, যান গিয়ে একবার দেখে আসুন। পবিত্র কুরআনে‌র প্রেমে পড়ে যাবেন।

কারা কুরআন অস্বীকার করে??

31:32 নং আয়াহ : এবং যখন উত্তাল সমুদ্রে টেউ তাদের কে চাঁদোয়ার মতো ঘিরে ধরে, তখন তারা আল্লাহ‌কে ডাকে বিশুদ্ধ ভাবে, তার দীন অনুসরণের মাধ্যমে (যেভাবে তাকে ডাকা উচিৎ)। অতঃপর তিনি যখন তাদের‌কে স্থলে উদ্ধার করেন, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ সত‍্যিই দীন অনুসরণ করা শুরু করে। কেউ কেউ অস্বীকার করে। তবে জ্ঞানহীন ও অকৃতজ্ঞ ছাড়া কেউ আমাদের আয়াত অস্বীকার করে না।

ইসলাম বিদ্বেষী‌দের প্রতারণা হতে সাবধান।

31:33 নং আয়াহ : হে সম্মানিত মানবজাতি, তোমাদের প্রভুর জন্য তাক‌ওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করো এবং ভয় করো সেই (বিচারের) দিনকে, (যেদিন) পিতা পুত্রের জন্য কিছু করতে পারবে না, পুত্র তার পিতার জন্য কিছু করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ‌র ওয়াদা সত্য। সুতরাং ইহজীবন তোমাদের‌কে ধোকায় না ফেলে। আর না আল্লাহ সম্পর্কে [82:6] তোমাদেরকে ধোকায় ফেলতে পারে কোনও (ইসলাম ও আল্লাহ) বিদ্বেষী।

# এই আয়াহকে অনেকেই শাফায়াত বিরোধী দলিল হিসাবে পেশ করেন। কিন্তু শাফায়াতের পক্ষে বহু দলিল পবিত্র কুরআনে রয়েছে। যেমন 19:87, 20:109, 34:23 আয়াত। এছাড়াও আরও।

   পিতা পুত্রের জন্য, পুত্র পিতার জন্য কিছুই ক‍রতে পারবে না। তাহলে করতে পারবে কে?? তিনি হলেন নাবী মুহাম্মাদ (সা) তিনি বলেছেন- “ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ মূমীন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কাছে আমি পিতা, পুত্র ও সমস্ত কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হ‌ই”(বুখারী, হাদীশ 15)।

আল্লাহর চ‍্যালেঞ্জ, মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধ‌তা।

31:34 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছেই আছে কিয়ামতের জ্ঞান [20:15]। আর তিনিই নামান বিশেষ ধরণের জ্ঞান [42:28, 57:20]। জরায়ু সমূহের ভিতরে কি (মূমীন নাকি কাফির) রয়েছে, তা‌ তিনি‌‌ জানেন। আর (জরায়ু‌তে থাকাকালীন তার সম্পর্কে) কেউ জানতে পারবে না যে, সে আগামীতে কি অর্জন করবে। এবং (জরায়ু‌তে থাকাকালীন তার সম্পর্কে) কেউ জানতে পারবে না যে, সে কোন ভূ ভাগে মৃত্যু বরন করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জ্ঞানী ও সমস্ত বিষয়ে‌র জ্ঞান রাখেন।

3/5 - (2 votes)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন