বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 30 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??
32:1 নং আয়াহ : আলিফ লাম মীম [31:1-2]।
কুরআন কার পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে??
32:2 নং আয়াহ : কিতাবটি (কুরআন) নাযিল হচ্ছে মহাবিশ্ব সমূহের প্রভুর পক্ষ থেকে [69:43], এতে কোনও সন্দেহ নেই [2:2]।
নাবী (সা) আরবে এলেন কেন??
32:3 নং আয়াহ : তারা কি বলছে- “সে (মুহাম্মাদ) তা (কুরআন) মিথ্যা রচনা করছে” [29:48]?? না, বরং তা সত্য। (যা নাযিল হয়েছে) আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে। যেন আপনি সতর্ক করেন এমন এক কাওম (আরব জাতি) কে, যাদের কাছে আপনার পূর্বে (এদের পূর্বপুরুষ ইসমাঈলের পরে) কোনও সতর্ককারী আসে নি [13:30, 36:6]। যাতে তারা সঠিক পথ পেতে পারে [5:19, 4:165]।
সমগ্ৰ মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে ছয়টি পর্যায়ে।
32:4 নং আয়াহ : আল্লাহ (হলেন তিনি), যিনি মহাবিশ্ব ও মহাবিশ্বে যা কিছু আছে, সেই সবই সৃষ্টি করেছেন ছয়টি পর্যায়ে। তারপর তিনি আরশের উপর সমাসীন হন [11:7, 7:54]। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনও ওলি/ অভিভাবক নেই [2:107, 4:45]। আর না আছে কোনও সাফায়াতকারী। তবুও কি তোমরা (গোঁড়ামি ও কুসংস্কার ছেড়ে) জ্ঞান অর্জন করবে না??
মহাবিশ্ব সংকোচনের সময় ‛সময়ের গতি’ কেমন হবে??
32:5 নং আয়াহ : তিনি মহাবিশ্ব পরিচালনা করেন এবং তোমরা উত্থিত হয়ে তারই দিকে ফিরে যাবে (মহাবিশ্বের সংকোচনের মাধ্যমে) এমন একদিনে [84:1-5], যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় (চন্দ্র বছর অনুযায়ী) এক হাজার বছরের সমান।
দৃশ্য ও অদৃশ্য পদার্থ সমূহকে আল্লাহ জানেন।
32:6 নং আয়াহ : উনিই (মহাবিশ্বের) অদৃশ্য ও দৃশ্য পদার্থ সমূহকে জানেন [49:18]। তিনি মহা শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
মানুষ আল্লাহর সর্বশেষ গণ্যকারী সৃষ্টি।
32:7 নং আয়াহ : যিনি প্রত্যেকটা বস্তু/ জীবকে (বিবর্তনের মাধ্যমে) উত্তম রুপে সৃষ্টি করেছেন [21:30, 24:45]। এবং তারপর মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন পচা মাটি থেকে।
# আজ বিজ্ঞানে তা প্রমাণিত। বিবর্তনের মাধ্যমে জীব জন্তুতে পৃথিবী ভরে গিয়েছিল। তারপর বেশ কয়েকবার (5 বার) জীবদের গণবিলুপ্তিও ঘটেছিল। আবার বিবর্তনের মাধ্যমে জীব জন্তু সৃষ্টি হয়েছিল। তারপর সাজানো গোছানো পৃথিবীতে মানুষ আসে।
বীর্যে থাকা পানি সবচেয়ে ‛বিশুদ্ধ পানি’।
32:8 নং আয়াহ : তারপর তার বংশধারা অব্যাহত রেখেছেন বিশুদ্ধ পানি [77:20] দ্বারা।
ভ্রুণ প্রথমে শ্রবণশক্তি, পরে দৃষ্টিশক্তি পায়।
32:9 নং আয়াহ : এরপর তাকে বিভিন্ন পর্যায়ে আকৃতি প্রদান করেন এবং (মাতৃগর্ভে 4 মাস বয়সে) তার মধ্যে রূহ দেন [2:28]। এবং প্রথমে তাকে দেন শ্রবণশক্তি সমূহ, তারপর দেন দৃষ্টিশক্তি সমূহ [76:2]। আর তাকে মস্তিষ্ক সমূহও প্রদান করেন। কিন্তু তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাকো।
আল্লাহকে অস্বীকারের কারণ কি??
32:10 নং আয়াহ : আর তারা বলে- “আমরা যখন (মৃত্যুর পর) ভূ পৃণ্ডের সঙ্গে মিশে যাবো, তখন কি আমরা আবার নতুন ভাবে সৃষ্টি [37:16-18, 69:16-17 ] হবো”?? বরং তারা শুধুমাত্র তাদের প্রভুর সাক্ষাৎ কে অস্বীকারকারী।
প্রত্যেকের উপর নিয়োজিত রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মৃত্যুর ফেরেস্তা।
32:11 নং আয়াহ : আপনি বলুন- “তোমাদের প্রাণ হরণের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন একজন (প্রধান) মৃত্যুর ফেরেস্তা”। তারপর তোমাদেরকে তোমাদের প্রভুর দিকেই ফিরে আসতে হবে।
# এখানে বলা হয়েছে- প্রাণ হরণ করে ‛মালাকুল মাওত/ মৃত্যুর ফেরেস্তা’। যা একবচন। অন্যাত্রে বলা হয়েছে- প্রাণ হরণ করে ফেরেস্তারা (4:97, 16:32, 47:27)। তারমানে হল- প্রাণ হরণকারী প্রধান ফেরেস্তা একজন। তবে তার অধীনে রয়েছে বহু ফেরেস্তা। যারা প্রাণ হরণের কাজ করে। অর্থাৎ প্রত্যেকের উপর ভিন্ন ভিন্ন মৃত্যুর ফেরেস্তা নিয়োজিত রয়েছেন। যেমন জাহান্নামের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন বহু ফেরেস্তা। তাদের মধ্যে প্রধান ফেরেস্তার নাম ‛মালিক ফেরেস্তা’ (43:77)।
বিচার দিবসে সত্য অস্বীকারকারীদের আবদার/ আবেদন।
32:12 নং আয়াহ : যদি আপনি দেখতে পেতেন (সেই সময়ের অবস্থা) যখন অপরাধীরা তাদের প্রভুর সামনে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকবে। (এবং বলবে) “হে আমাদের প্রভু, আমরা দেখেছি ও শুনেছি। এখন আমাদেরকে ফেরত পাঠান, আমরা ভালো কাজকর্ম করবো। নিশ্চয়ই আমাদের ইয়াকীন/ দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে গেছে” [63:10-11]।
মানুষের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান।
32:13 নং আয়াহ : আর (তখন তাদেরকে বলা হবে) যদি আমরা চাইতাম [26:4] তাহলে সবাইকে (জোরজবরদস্তি) সঠিক দেখাতাম [10:99, 76:3]। কিন্তু সত্য প্রমাণিত হলো আমার কথা যে, আমি জিন ও মানুষ [11:119] দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবো [7:18, 38:85]।
যারা আল্লাহকে ভুলে ছিল, আল্লাহও তাদের ভুলে যাবেন।
32:14 নং আয়াহ : (বলা হবে) “এখন তোমরা স্বাদ গ্রহণ করতে থাকো। তোমরা এই দিনের সাক্ষাৎ কে ভুলে গিয়ে ছিলে, নিশ্চয়ই আমরাও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম [7:51, 45:34]! এখন তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে থাকো অনন্তকাল ধরে, যে আমল/ কর্ম তোমরা করেছিলে তার বিনিময়ে”।
বিনীত জ্ঞানীরা কুরআন স্বীকার করবে।
32:15 নং আয়াহ : মূলত আমাদের আয়াত গুলো তারাই স্বীকার করবে, যাদেরকে জ্ঞান পরিবেশন করলে বিনীতভাবে তা গ্ৰহণ করে [17:107]। এবং (কুরআন স্বীকার করার পর) প্রশংসা সহ তাদের প্রভুর পবিত্রতা ঘোষণা করবে। আর তারা অহংকার করবে না।
❤️ সিজদাহর আয়াহ ❤️
তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব।
32:16 নং আয়াহ : (রাতে) তাদের পিঠ গুলো (বেশ কিছু সময়ের জন্য) তাদের বিছানা থেকে আলাদা থাকবে [76:26, 17:79]। তারা তাদের প্রভুকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকবে। এবং আমরা তাদেরকে রিযিক হিসাবে যা দিয়েছি, তা হতে (মানব কল্যাণে) খরচ করবে।
জান্নাতে অজানা, লুকানো ও অগণিত প্রতিদান থাকবে।
32:17 নং আয়াহ : আর কেউ জানে না, যে সমস্ত আমল/ কর্ম তারা করতো, তার প্রতিদান হিসেবে তাদের জন্য (যা যা বলা হয়েছে, তা ছাড়াও) চোখ সমূহ শীতলকারী আর কি কি সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখা হয়েছে!
মূমীন ও ফাসিক সমান নয়।
32:18 নং আয়াহ : যে মূমীন (সত্য স্বীকারকারী), সে কি একজন ফাসিক (সত্য ত্যাগীর) সমান?? তারা সমান হতে পারে না [64:2, 88:22]।
জান্নাত পাওয়ার উপায়।
32:19 নং আয়াহ : অপরদিকে যারা সত্য স্বীকার ও সৎ কর্ম করে, তাদের জন্য আপ্যায়ণ হিসেবে বসবাসের জন্য থাকবে জান্নাত। তাদের ঐ আমল/ কর্মের বিনিময়ে, যা তারা করতো [43:72]।
ইসলামের ত্যাগের জন্য পৃথিবীতে কোনও শাস্তি নেই।
32:20 নং আয়াহ : আর যারা সত্য ত্যাগ করে/ করেছে, তাদের ববসবাসের জন্য থাকবে আগুন। এবং যখনই তারা তা হতে বের হওয়ার ইচ্ছা করবে, তাদেরকে তার মধ্যে [22:22] ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাদের উদেশ্য বলা হবে- “তোমরা স্বাদ নাও সেই আগুনের শাস্তির, যা তোমরা অস্বীকার করতে”।
# ইসলাম ত্যাগ করলেও পৃথিবীতে তার কোনও শাস্তি নেই, মুরতাদ হত্যা বলতে ইসলামে কিছুই নেই- এই আয়াহ তার প্রমাণ। আর আমরা এই সম্পর্কে 4:137 এ বিস্তারিত কথা বলেছি, যান গিয়ে একবার দেখে আসুন।
ছোট ছোট শাস্তি আল্লাহর দিকে ফেরার ইঙ্গিত।
32:21 নং আয়াহ : এবং অবশ্যই আমরা বড় শাস্তির পূর্বে তাদেরকে ছোট শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো, যাতে তারা (সত্যের দিকে) ফিরে [30:41, 4:147] আসে।
কুরআনের আয়াত গুলো জ্ঞানপূর্ণ।
32:22 নং আয়াহ : আর তার চেয়ে বড় সীমালঙ্ঘনকারী আর কে আছে, যাকে তার প্রভুর পক্ষ থেকে আসা জ্ঞানপূর্ণ আয়াত [36:2, 54:5] সমূহ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়?? নিশ্চয়ই আমরা (এই ধরণের) অপরাধীদের থেকে (মস্তিষ্ক ব্যবহার না করার জন্য) প্রতিশোধ নেব।
কুরআন সম্পর্কে নাবী (সা) এর মনে সন্দেহ হয়েছিল।
32:23 নং আয়াহ : এবং আমরা (আপনার পূর্বে) মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম। সুতরাং আপনি তা (কুরআন) পাওয়ার ব্যাপারে সন্দেহে থাকবেন না। এবং আমরা তাকে (তাওরাতকে) বানী ইসরাঈলের জন্য পথনির্দেশ বানিয়েছিলাম।
# ওহী হিসাবে নাবী (সা) এর কাছে যা আসতো, তা মূসা (আ) এর মতোই কিতাব কিনা, সেই সম্পর্কে নাবী (স) এর সন্দেহ হয়েছিল। এখানে আল্লাহ সেই সম্পর্কেই কথা বলেছেন।
মুজাদ্দিদ জামান আসার দলিল।
32:24 নং আয়াহ : আর আমরা তাদের মধ্য হতে অনেক নেতা মনোনীত করেছিলাম। তারা আমাদের নির্দেশ (কিতাব) অনুযায়ি পথ দেখাতো, যখন তারা (বানী ইসরাঈল) ধৈর্য্য ধারণ করেছিল। আর তারা (বানী ইসরাঈল) তখন ছিল আমাদের আয়াত গুলোর উপর ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) করতো।
# এই আয়াহ বলছে- আল্লাহ নাবী/ রাসূল ছাড়াও উম্মাহকে পথ দেখানোর জন্য নেতা মনোনীত করেন। এই পেক্ষিতে নাবী (সা) বলেছেন- “নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মাতের জন্য প্রতি একশত বছরের শেষে এমন লোকের আর্বিভাব ঘটাবেন, যিনি এই উম্মাতের দ্বীনকে তার জন্য সঞ্জীবিত (গোঁড়ামি ও কুসংস্কার দূর) করবেন”(আবু দাউদ, হাদীশ 4291)।
যারা পৃথিবীতে বিতর্কিত বিষয়ের মিমাংসা চান না।
32:25 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আপনার প্রভু কিয়ামত দিবসে তাদের মাঝে মিমাংসা করে দেবেন ঐ বিষয়ে, যে বিষয়ে (পরবর্তী জীবন সম্পর্কে/ ঈশা বা যিশু সম্পর্কে/ কিয়ামাত সম্পর্কে) তারা মতভেদ করেছিল।
মাটির নিচে চাপা রয়েছে লক্ষ লক্ষ মানবসভ্যতা।
32:26 নং আয়াহ : (এটাও) কি তাদেরকে পথ দেখায় না যে, আমরা তাদের পূর্বে মানব জাতির মধ্যে বহু মানব সভ্যতা ধ্বংস [30:42] করেছি?? তারা এখন তাদেরই বাসভূমির উপর হাঁটাচলা করে। নিশ্চয়ই তাতে রয়েছে নিদর্শন সমূহ। তবুও কি তারা (সত্য) শুনবে না??
বৃষ্টি কেন ও কিভাবে হয়, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
32:27 নং আয়াহ : তারা কি দেখে/ চিন্তা ভাবনা না যে, আমরা (বায়ু দ্বারা) পানিকে বহন করে নিয়ে যাই গরম (নিম্নচাপ যুক্ত) ভূমির দিকে। তারপর তা (বৃষ্টির পানি) দ্বারা বের করি শস্য। তা (শস্য) হতে খায় তাদের পশুগুলো এবং তারা নিজেরাও। তবুও কি তারা দেখবে না/ চিন্তা ভাবনা করবে না??
# বৃষ্টি কেন হয়?? এর অন্যতম একটা কারণ হল- ভূমিতে লাগাতার সূর্য তাপ পড়ার কারণে সেখানকার বায়ু গরম হয়ে উপরে উঠে যায় এবং যেখানে নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়। গরম বায়ু সমুদ্রে পৌঁছে যায়। কেননা, সমুদ্র তুলনামূলক ভাবে শীতল।
তারপর সমুদ্রে উচ্চ চাপ সৃষ্টি হয়। তারপর যে ভূমিতে নিম্ন চাপ সৃষ্টি হল, সেই খালি স্থান দখল করার জন্য সমুদ্র হতে বায়ু আসবে। আসার সময় বাষ্প সঙ্গে নিয়ে আসবে। তারপর বৃষ্টি শুরু হবে।
এখানে পবিত্র কুরআন তাই বলছে। ভারত উপমহাদেশ সহ পৃথিবীর বহু জায়গায় এভাবেই বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। ভারত উপমহাদেশে যে বায়ু বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে মৌসুমী বায়ু বলা হয়। এখানে অবাক করা ব্যাপার হল- মৌসুমী বায়ুকে চিহ্নিত করেছিলেন মুসলীম বিজ্ঞানীরাই। মৌসুমী শব্দটাই আরবি শব্দ। যার অর্থ ঋতু বা বৃষ্টির ঋতু।
নাবী (সা) কে বিচার দিবস সম্পর্কে প্রশ্ন।
32:28 নং আয়াহ : আর তারা বলে- “মিমাংসা (বিচার) দিবস [51:12-13] কবে আসবে [7:187-188, 20:15]?? (বল) যদি হয়ে থাকো সত্যবাদী”।
বিচার দিবসে মানুষ ইসলাম স্বীকার করে বাঁচতে চাইবে।
32:29 নং আয়াহ : বলুন- “যারা সত্য অস্বীকার করেছে, মিমাংসা (কিয়ামত) দিবসে সত্য স্বীকার তাদের কোনও উপকারে আসবে না [32:12]। আর না (তখন) তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হবে” [63:10-11]।
পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
32:30 নং আয়াহ : সুতরাং তাদেরকে উপেক্ষা করুন [73: 10]। আপনিও অপেক্ষা করুন, তারাও অপেক্ষা [52:31, 10:102] করছে।