বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 60 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??
30:1 নং আয়াহ : আলিফ লাম মীম [31:1-2]।
রোমানদের পরাজিত হওয়ার পর বিজয়ের ভবিষ্যৎ বাণী।
30:2 নং আয়াহ : (তৎকালীন) রোমানরা (তৎকালীন পারস্য বা ইরানের কাছে) পরাজিত হয়েছে,
# তৎকালে রোমানরা খৃষ্টান ধর্মের অনুসারী ছিল। আর ইরানীয়রা আগুনের পূজারী (মুশরিক) ছিল। যেহেতু মাক্কাহর মানুষরাও মুশরিক ছিল। তাই তারা ইরানীয়দের বিজয়ে খুব খুশি হয়েছিল এবং আল্লাহ, জিবরীল ও ঈশা (আ) কে নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করছিল।
অন্যদিকে মুসলিম মনে রোমানদের প্রতি সহানুভূতি ছিল। কেননা, তারা আল্লাহ, জিবরীল ও ঈশা (আ) কে যথেষ্ট সম্মান করতো। যদিও খৃষ্টানদের কোনও কোনও দল বাড়াবাড়িও করতো। যখন মাক্কাহর মানুষরা রোমানদের পরাজয়ে আল্লাহ, জিবরীল ও ঈশা (আ) কে নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করছিল। তার উত্তরে নাযিল হয় এই সূরাহ। আর 30:3 রোমানদের বিজয়ের ভবিষ্যৎ বাণী করা হয়।
মৃত সাগর পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থান।
30:3 নং আয়াহ : স্থলভাগের মধ্যে সবচেয়ে নিচু ১ স্থানে। কিন্তু তারা পরাজয়ের পর শীঘ্রই জয়লাভ করবে ২,
১ ‛স্থলভাগের মধ্যে সবচেয়ে নিচু স্থান’ বলতে আসলে কি?? আসলে মৃত সাগর এলাকা পৃথিবীর স্থলভাগের মধ্যে সবচেয়ে নিচু স্থান। পবিত্র কুরআন আজ থেকে 1500 বছর আগে ঘোষণা করে মৃত সাগর এলাকা স্থলভাগের সবচেয়ে নিচু স্থান। যা বিজ্ঞানীরা জেনেছেন আজ। চাইলে গুগলে গিয়ে সার্চ করে দেখে নিন।
২ রোমানরা হিজরতের 5 বছর আগে হেরে যায়। এই সূরাহ নাযিলও হয় হিজরতের 5 বছর পূর্বেই। ভবিষ্যৎ বাণী করা হয় যে, 1-9 বছরের মধ্যে রোমানরা বিজয়ী হয়। ভবিষ্যৎ বাণী পূর্ণতা লাভ করে।
রোমানদের বিজয় ও বদর যুদ্ধ জয়ের ভবিষ্যৎ বাণী।
30:4 নং আয়াহ : এক সংখ্যার কয়েক ১ বছরের মধ্যে। এর পূর্বেও সিদ্ধান্ত আল্লাহর ছিল, এর পরেও (আল্লাহর সিদ্ধান্তই চলবে)। আর সেই দিন মূমীনরা খুশি/ উল্লাসিত হবে ২,
১ এখানে ‛এক সংখ্যা’ বলতে?? এখানে ব্যবহৃত আরবি শব্দ ‛বিদ্বয়ী সিনীনা’। যার অর্থ 1-9 বছরও হতে পারে, আবার 3-9 বছরও হতে পারে। হিজরতের এক বছর পর রোমানরা বিজয়ী হয়।
২ ‛সেদিন মূমীনরা খুশি হবে’ বলতে- বদরের যুদ্ধের দিনই রোমানরা বিজয়ী হয় (তিরমিযী, হাদীশ 3193)। সেদিন মুসলিমরা দ্বিগুণ খুশি হোন। A) বদর/ নিজেদের বিজয়ের খুশি, B) রোমানদের বিজয়ের খুশি। এখানে প্রশ্ন হবে- রোমানদের বিজয়ে মুসলিমরা খুশি হচ্ছিল কেন?? 30:2 এর টিকা দেখুন। এছাড়াও এই বিজয়ের ভবিষ্যৎ বাণী সম্পর্কেও মাক্কাহর মানুষরা মুসলিমদের সঙ্গে বাজি ধরে। যেহেতু রোমানরা বিজয়ী হয়, সেহেতু মুসলিমরা বাজি জিতে যায়। এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে তিরমিযীর 3193 ও 3194 নং হাদীশে। হাদীশটা দুটি দেখে আসুন।
30:5 নং আয়াহ : আল্লাহর সাহায্যে [3:123-125]। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন [3:126]। আর তিনি মহা শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
আল্লাহ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।
30:6 নং আয়াহ : আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, তিনি কখনও তার ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই তা জানে না।
নাস্তিকরা শুধু ইহজীবনটাই জানে।
30:7 নং আয়াহ : তারা ইহজীবনের শুধুমাত্র বাহ্যিক দিকটাই জানে [42:20]। তারা পরবর্তী জীবন [4:134] সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভাবে উদাসীন [29:38]।
মহাবিশ্ব পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত সুক্ষ্মতা সহ সৃষ্ট।
30:8 নং আয়াহ : তারা কি চিন্তা ভাবনা/ গবেষণা করে না যে, আল্লাহ মহাবিশ্বে, পৃথিবীতে ও উভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, সমস্ত কিছু পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত সুক্ষ্মতার সৃষ্টি করেছেন [45:22]। নিদিষ্টসময়ের জন্য [51:47, 69:16-17]। তবে বেশিরভাগ মানুষই তাদের প্রভুর সাক্ষাৎ কে [32:14] অস্বীকার করে।
পূর্বে উন্নত ও শক্তিশালী সভ্যতা ছিল।
30:9 নং আয়াহ : তারা কি কখনও মাটির ভিতরে প্রবেশ করে ১ নি?? করলে দেখতে পেত- তাদের কি পরিণতি হয়েছিল, যারা ছিল তাদের পূর্বে। তারা ছিল তাদের (মাক্কাবাসীদের) চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী [19:74]। তারা জমিতে চাষাবাদ করতো এবং তারা (নাবীর সময়ের মানুষরা) যতটা পৃথিবীকে সৌন্দর্য্য মণ্ডিত করেছে, তারা অনেক বেশি সৌন্দর্য মন্ডিত করেছিল [30:42]। আর তাদের কাছে তাদের রাসুলগণ এসেছিল সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে। সুতরাং আল্লাহ তাদেরকে কষ্ট/ শাস্তি দিতে চান নি, তারাই (রাসূলদেরকে অস্বীকার করার মাধ্যমে) নিজেদের উপর কষ্ট/ শাস্তি চাপিয়ে নিয়েছিল।
১ এটা আরবি বাকরীতি। যার অর্থ- মাটি খোঁড়ে নি?? বা মাটি সরিয়ে দেখে নি??
# পবিত্র কুরআন এখানে হরপ্পা মহেঞ্জোদোরোর মতো উন্নত সভ্যতার কথা বলছে না। বর্তমান মানবজাতির চেয়েও উন্নত ও শক্তিশালী মানব সভ্যতা ছিল। এমনকি মানুষ মঙ্গল গ্ৰহেও যাতায়াত করতো। এই সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কথাও বলা হয়েছে 17:69 এ।
প্রশ্ন হবে- “তাহলে নিশ্চয়ই বড় বড় বিল্ডিং ছিল, উন্নত যন্ত্রপাতি ছিল! আমরা সেই সমস্ত কিছুর প্রমাণ পাচ্ছি না কেন”?? এর কারণ হল- পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেট সঞ্চালন। ভাবুন, 5 কোটি বছর পূর্বে পৃথিবী ডাইনোসরে পূর্ণ ছিল। তাদের আকার ছিল 20 টি হাতির সমান। কিন্তু আমরা তাদের কতগুলো ফসিল পেয়েছি??
না পাওয়ার মতো। তাই না?? বড় বড় বিল্ডিং ও যন্ত্রপাতি পাওয়া যাবে, তা ভাবলেন কিভাবে?? আজ যদি মানবজাতির ধ্বংস হয়ে যায়, মাত্র 20 লক্ষ বছর পর যদি আবারও মানব সভ্যতা পৃথিবীতে বিকশিত হয়, তাহলে তারা আমাদের অস্তিত্বের পক্ষে কোনও প্রমাণ পাবে?? পাবে না। কারণ, টেকটোনিক প্লেট সঞ্চালন। এই সঞ্চালন সমস্ত কিছুকে গ্ৰাস করে ফেলবে।
মাত্র 300 বছরের মধ্যে সমস্ত বড় বড় বিল্ডিং গুলো অস্তিত্ব হারিয়ে হয়ে যাবে। আর 2-4 হাজার বছরের মধ্যে 99% বিল্ডিং গুলোর প্রমাণও মুছে যাবে। 20-30 হাজার বছরের মধ্যে ধাতুর তৈরি উন্নত যন্ত্রপাতি গুলো পুরোপুরি অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে, এমনকি প্রমাণ পাওয়া যাবে না। যদি সামান্য কিছু প্রমাণ থেকেও যায়, সেই সভ্যতার মানুষরা তা বিশ্বাস করতে চাইবে না। 20 লক্ষ বছর পর কোনও প্রমাণ পাওয়া যাবে না। আমাদের তৈরি মানব সভ্যতা পৃথিবী হতে পুরোপুরি মুছে যাবে।
তবে যদি আমরা 20-50 কিমি খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারতাম, তাহলে হয়ত কিছু প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই টেকনোলজি আমাদের হাতে নেই। অথচ আমরা কত অহংকারের সঙ্গে জীবন যাপন করছি! বিষয়টি কিন্তু খুব ভাবার।
খারাপের পরিণতি খারাপই হবে।
30:10 নং আয়াহ : যারা খারাপ কর্ম করেছিল, তাদের পরিণতি খারাপ হয়েছিল [42:40]। এ জন্য যে, তারা আল্লাহর আয়াত সমূহকে অস্বীকার করেছিল। আর তারা তা (আয়াত সমূহ) সম্পর্কে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতো।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিগব্যাঙ।
30:11 নং আয়াহ : আল্লাহ (বিগব্যাঙ 1 এর মাধ্যমে) সৃষ্টির সূচনা [51:47] করেন, তিনিই (বিগব্যাঙ 2 এর মাধ্যমে) পুনঃসৃষ্টি করবেন [21:104]। তারপর (সৃষ্টি ও পুনঃসৃষ্টির মধ্যে দিয়েই) তোমরা তার দিকে ফিরে যাবে [69:16-17]।
মহাবিশ্বের সংকোচনে অপরাধীরা হতাশ হবে।
30:12 নং আয়াহ : এবং সেদিন যখন মহাবিশ্বের সংকোচন শুরু হবে, তখন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে।
# এজন্য যে, তারা যে সমস্ত বিষয়কে মিথ্যা ভেবেছিল, সেই সবই তাদের সামনে সত্য প্রমাণিত হয়ে যাবে।
বিচার দিবসে সমস্ত মিথ্যা ঈশ্বর গুলোর ধরা পড়ে যাবে।
30:13 নং আয়াহ : আর তাদের শরিকরা তাদের জন্য কোনও শাফায়াত [7:53, 40:18] করতে পারবে না [10:18, 18:52]। আর তারা তাদের শরিকদের (ঈশ্বরত্ব) অস্বীকার [41:29] করবে (১)।
১) শরিকদের অবস্থা (37:22-23) দেখে তারা বুঝতে পারবেন যে, এরা আসল ঈশ্বর/ উপাস্য নয় (40:74)। আবার এর বিপরীত আয়াতও রয়েছে 19:82 ও 46:5 তে।
সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে।
30:14 নং আয়াহ : যেদিন বিচার দিবস সমাগত হবে, সে দিন তারা বিভিন্ন দলে [56:7-10] বিভক্ত হয়ে যাবে।
সত্য স্বীকার ও সৎকর্মকারীর পরিণতি।
30:15 নং আয়াহ : পক্ষান্তরে যারা সত্য স্বীকার করেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে পরিতুষ্ট করা হবে [43:70] ফলতঃ তারা আনন্দিত/ উল্লাসিত হবে।
সত্য অস্বীকারকারীর পরিণতি।
30:16 নং আয়াহ : অপরদিকে যারা সত্য অস্বীকার করেছে আমাদের আয়াত গুলোকে এবং পরবর্তী জীবনের সাক্ষাৎ কে, তাদেরকে শাস্তির (জাহান্নামের) মধ্যে রাখা হবে।
মাগরিব ও ফজরের স্বালাত।
30:17 নং আয়াহ : এতএব আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো, যখন সন্ধ্যা হয়/ মাগরিবে, আর যখন ভোর হয়/ ফজরে [11:114]
আসর ও জ্বোহরের স্বালাত।
30:18 নং আয়াহ : মহাবিশ্বে (ঈশ্বর হিসাবে) সমস্ত প্রশংসা তার জন্যই [1:1, 46:36]। সুতরাং (তার পবিত্রতা বর্ণনা করো) বিকালে/ আসরে [17:78] ও জোহরে [2:238, 24:58]।
■ জীবন সৃষ্টির উপাদান ■ গ্ৰহ/ পৃথিবী জীবনহীন ছিল।
30:19 নং আয়াহ : তিনি জীবন সৃষ্টি করেন জীবনহীন পদার্থ (অ্যামিনো অ্যাসিড) থেকে এবং জীবন্ত জীব থেকেই বের করেন জীবন হীন পদার্থ (কয়লা, খনিজ তেল)। আর তিনিই জীবনহীন গ্ৰহকে জীবনময় করে তোলেন। এভাবেই (তোমাদের কে মৃত্যুর পর) জীবিত করে তুলবেন।
# “তিনিই জীবনহীন গ্ৰহকে জীবনময় করে তোলেন”- এই টুকু অংশ প্রমাণ করে মহাবিশ্ব জুড়ে জীবনময় গ্ৰহ অহরহ তৈরি হচ্ছে।
মানুষ মহাবিশ্ব ব্যাপি ছড়িয়ে রয়েছে।
30:20 নং আয়াহ : আর তার নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল- তিনি তোমাদেরকে গ্ৰহের উপাদান থেকে সৃষ্টি করেছেন। এবং তোমরা মহাবিশ্ব ব্যাপি [5:18, 42:29] ছড়িয়ে পড়েছো
জীবন সঙ্গী/ সঙ্গীনির গুরুত্ব।
30:21 নং আয়াহ : এবং তার নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল- তিনি তোমাদের (মানবজাতির) মধ্যে থেকেই তোমাদের জন্য সঙ্গী/ সঙ্গীনি সৃষ্টি করেছেন। যেন তার কাছে (শারীরিক ও মানসিক ভাবে) প্রশান্তি পাও। আর তিনি পরস্পরের মধ্যে হাজির করেন দয়া ও প্রেম ভালোবাসা। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে বহু নিদর্শন। তাদের জন্য, যারা চিন্তা ভাবনা/ গবেষণাকারী সম্প্রদায়।
মহাবিশ্ব সৃষ্টি, ভাষা ও গায়ের রঙে নিদর্শন রয়েছে।
30:22 নং আয়াহ : এবং তার নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল- মহাবিশ্বের সৃষ্টি [51:47]। তোমাদের ভাষা ও তোমাদের (গায়ের) রঙের পার্থক্য [49:13]। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্য, যারা জ্ঞানবান।
# একটি হাদীশ- “হে মানুষ জাতি, নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু একজন। তোমাদের আদি পিতাও একই। সুতরাং না আরবের মানুষ অনারব মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আর না অনারব মানুষ আরবের মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কালো রঙের মানুষের উপর সাদা রঙের মানুষের কোনও শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর না সাদা রঙের মানুষের উপর উপর কালো রঙের মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তবে আল্লাহর নিকট সম্মানিত সে, যে তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করে জীবন যাপন করে” (সিলসিলা সহীহাহ, হাদীশ 2700)।
রাত ও দিনে ঘুমের দলিল।
30:23 নং আয়াহ : এবং তার নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল- রাতে ও দিনে তোমাদের ঘুম [24:58]। (রাতে ও দিনে) তার অনুগ্রহ (রিযিক) সন্ধান। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্য, যারা (মনযোগ সহ কথা) শোনে [39:18]।
# অনেকেই আছেন যারা দিন/ দুপুরের ঘুমকে কুড়েঁমি বলে মনে করেন। আসলে দুপুরের ঘুম শরীরের জন্য খুব উপকারী। যদিও তা 30 মিনিটের জন্য হয়, তবুও। জাপান ও চিনে দুপুরের ঘুমকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে কার্য ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে যায়।
বজ্রপাতের ফলে মাটি উর্বর হয়।
30:24 নং আয়াহ : এবং তার নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল- তিনি তোমাদের বিদ্যুৎ ঝলক দেখান ভয় ও আশা হিসাবে। আর তিনি বায়ুমণ্ডল থেকে বৃষ্টি নামান। অতঃপর তা দ্বারা ভূমিকে অনুর্বরতার পর উর্বর করে তোলেন। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্য, যারা মস্তিষ্কের ব্যবহার [8:22, 10:100] করে।
# ‘বিদ্যুৎ ঝলক দেখান ভয় ও আশা হিসাবে’ বলতে কি?? আসলে বিদ্যুৎ ঝলক দেখলে ভয়/ মৃত্যুর ভয় তো লাগবেই, সেটা ভিন্ন। তবে ‘আশা’ কেন বলা হয়েছে, সেটার অবশ্যই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। আসলে বজ্রপাত হলে মাটিতে নাইট্রোজেন অক্সাইড প্রবেশ করে। এবং বৃষ্টির মাধ্যমে তা ধীরে ধীরে অনেক বড় এলাকাতে ছড়িয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে মাটি উর্বর হয়। কারণ, তা প্রাকৃতিক সার হিসাবে কাজ করে। এ কারণে আশা জাগে যে, ফলন ভালো হবে। এ জন্য বলা হয়েছে, “তা ভূমিকে অনুর্বতার পর উর্বর করে তোলেন করেন”।
পুনরুত্থান খুবই সহজ বিষয়।
30:25 নং আয়াহ : আর তার নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল- তিনি মহাবিশ্ব ও পৃথিবী তার নির্দেশ/ নিয়মের অধীনে [7:54, 25:2] প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং যখন তিনি (তোমাদের মৃত্যুর পর) তোমাদেরকে ডাক দেবেন, তখন তোমরা একত্রিত ভূমি [69:16-17] থেকে বের [70:43] হয়ে আসবে [64:7]।
মহাবিশ্বের সমস্ত কিছু আল্লাহর অনুগত।
30:26 নং আয়াহ : মহাবিশ্বে যা কিছু আছে, সেই সমস্ত কিছুই তার অনুগত [7:54, 25:2]।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিগব্যাঙ।
30:27 নং আয়াহ : আর (আল্লাহ তিনিই) যিনি (বিগব্যাঙ 1 এর মাধ্যমে) সৃষ্টির সূচনা [51:47] করেছেন, এবং তিনিই (বিগব্যাঙ 2 এর মাধ্যমে) পুনঃসৃষ্টি করবেন [30:11, 21:104]। আর তার কাছে তা খুবই সহজ [64:7]। মহাবিশ্বে তিনিই সর্বোচ্চের উদাহরণ [16:74]। আর তিনিই সীমাহীন শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।
তাওহীদের পক্ষে সর্বোত্তম যুক্তি।
30:28 নং আয়াহ : তিনি তোমাদের নিজেদের মধ্যে থেকে একটি উদাহরণ দিচ্ছেন- আমরা তোমাদের যে রিযিক দিয়েছি, তোমাদের ডানহাত যাদের মালিক হয়েছে (তোমাদের দাসদাসী), তারা কি (ঐ রিযিকে) সমান ভাগ পাবে?? তোমরা কি তাদেরকে ঐ রকম ভয় করবে, যেমন নিজেদের আত্মীয় স্বজনকে (সম্পত্তির ভাগ দিতে) ভয় করো?? এভাবেই আমরা আয়াত সমূহ বহু অর্থবোধক হিসাবে বর্ণনা করি তাদের জন্য, যারা মস্তিষ্কের ব্যবহার [8:22, 10:100] করে।
# যা বলতে চাওয়া হয়েছে, তা হল- দাসদাসীরা তোমাদের মতোই দেখতে, তোমাদের মতোই মানুষ। তারা যদি তোমাদের সমান না হয়, যদি তোমাদের সম্পদ সম্পত্তিতে অংশিদার হিসাবে না হয়, তাহলে আল্লাহর বান্দা (দাস দাসীকে) কিভাবে আল্লাহর সমান হিসাবে গ্ৰহণ করছো?? আল্লাহ কেন তাদেরকে অংশিদার হিসাবে গ্ৰহণ করবেন?? এই সাধারণ বুদ্ধিটুকু কি তোমাদের নেই??
জ্ঞানহীনরাই নিজেদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করে।
30:29 নং আয়াহ : না, বরং সীমালঙ্ঘনকারীরা তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করে, জ্ঞানের প্রয়োগ না করেই। সুতরাং কে পথ দেখাবে তাকে, যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন [2:26]। আর তাদের জন্য কোনও সাহায্যকারী নেই/ থাকবে না [18:17]।
প্রকৃতি আল্লাহর সৃষ্ট, তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
30:30 নং আয়াহ : এতএব আপনার মুখমন্ডলকে (নিজেকে) একনিষ্ঠ ভাবে দীনের উপর প্রতিষ্ঠা করুন [30:43, 6:79]। সেই আল্লাহর সৃষ্ট ফিতরাত/ প্রকৃতির (১) উপর, যেই প্রকৃতির উপর তিনি মানবজাতিকে (২) সৃষ্টি করেছেন [36:22]। আল্লাহর সৃষ্টি (প্রকৃতিকে) পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ওটাই প্রতিষ্ঠিত দীন/ বিধান। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই জানে না।
১) প্রশ্ন হবে- ‛আল্লাহর সৃষ্ট ফিতরাত/ প্রকৃতি’ বলতে কি?? মহাবিশ্বের মৌলিক নিয়মনীতি, যাকে আমরা পদার্থের ধর্ম বলি। তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এই সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে 7:54 ও 25:2 এ।
২) একটি হাদীশ- “প্রতিটা শিশুই জন্মগ্রহণ করে ফিতরাত/ প্রকৃতির উপর। তারপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদী, খৃষ্টান, মূর্তিপূজক বা অগ্নিপূজক বানিয়ে দেয়” (বুখারী, হাদীশ 1358)।
# এছাড়াও ভালো ভাবে আয়াহটি বোঝার চেষ্টা করলে দেখতে পাওয়া যাবে- “আল্লাহর সৃষ্ট সেই ফিতরাত/ প্রকৃতিই হল- ইসলাম”। মানে, ইসলাম প্রচলিত কোনও ধর্ম নয়, বরং আমরা যাকে প্রকৃতি প্রকৃতি করে চেল্লাই, সেই প্রকৃতিই হল- ইসলাম।
আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা ‛না থাকলে’ মানুষ মুশরিক হবেই।
30:31 নং আয়াহ : তোমরা তার (আল্লাহর) দিকে ফিরে এসো এবং তার জন্যই তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করো। স্বালাত/ আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করো। আর মুশরিক [12:106] হয়ে যেও না।
# এই সম্পর্কে নাবী (সা) এর ভবিষ্যৎ বাণী যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদীশ রয়েছে। তা হল- “আমার উম্মতের কিছু মানুষ মূর্তিপূজা করবে এবং কিছু মানুষ মুশরিকদের দলে যোগ দেবে” (ইবনু মাজাহ, হাদীশ 3952)। বলে রাখা দরকার যে, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে মুশরিক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই উক্ত আয়াহতের শেষাংশে বলা হয়েছে- “আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করো। আর মুশরিক হয়ে যেও না”।
বর্তমান মুসলীম সমাজের বাস্তবতা।
30:32 নং আয়াহ : যারা তাদের দীনকে বিভক্ত করে এবং তৈরি করবে বিভিন্ন দল উপদল [3:105]। প্রতিটা দল নিজেদের মতাদর্শ নিয়ে খুশি/ উল্লাসিত থাকবে [30:43]।
মানুষের স্বভাব, বিপদে পড়লে আল্লাহকে বিশুদ্ধ ভাবে ডাকে।
30:33 নং আয়াহ : আর যখন মানুষকে দুঃখ কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তাদের প্রভুকে ডাকে বিশুদ্ধ ভাবে, তারই দিকে ফিরে আসে। তারপর যখন তিনি তার পক্ষ থেকে রহমতের স্বাদ উপভোগ করান, তখন তাদের মধ্য হতে একদল তাদের প্রভুর সঙ্গে শরিক করা শুরু করে।
মানুষ কেন আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে??
30:34 নং আয়াহ : যেন তারা অস্বীকার করতে পারে তা, যে (রহমত) তাদেরকে আমরা দান করেছিলাম। সুতরাং তোমরা ভোগ করে নাও (কিছু সময়), অতঃপর শীঘ্রই (এর পরিণতি) জানতে পারবে [47:12]।
শিরক করার পক্ষে কোনও দলিল আল্লাহ দেন নি।
30:35 নং আয়াহ : আমরা কি তাদের কাছে সেই বিষয়ে কোনও দলিল/ প্রমাণ নাযিল [43:21, 46:4] করেছি, যা তাদেরকে তার সঙ্গে শরিক [3:79-80] করতে বলে [6:81, 7:191]??
মানুষের স্বভাব, বিপদে পড়লে হতাশ হয়ে পড়ে।
30:36 নং আয়াহ : এবং যখন মানুষকে রহমতের স্বাদ উপভোগ করান, তখন খুশি হয়/ উল্লাস করে। আর তাদের হাত আগে যা (অসৎ কর্ম) পাঠিয়েছে, সে জন্য যদি তাদের উপর কোনও বিপদ আসে, তখন তারা হতাশ [2:156, 31:17] হয়ে পড়ে [41:51]।
আল্লাহ চাইলে রিযিক প্রশস্ত/ সীমিত করতে পারেন।
30:37 নং আয়াহ : তারা কি দেখে/ ভাবে না যে, আল্লাহ যাকে চান, তার রিযিককে প্রশস্ত করে দিতে পারেন। যাকে চান, তার রিযিক সংকীর্ণ করে দিতে পারেন [29:62, 42:27]। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্য, যারা সত্য স্বীকারকারী সম্প্রদায়।
‛মানুষের অধিকার’ আদায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ??
30:38 নং আয়াহ : এতএব কাছের মানুষ/ আত্মীয়দেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার দাও, গরীবকে এবং রাস্তার পুত্রদেরদেও ১। ওটা তাদের জন্য উত্তম, যারা আল্লাহর মুখমণ্ডল/ সন্তুষ্টি চায় [92:20-21]। তারাই সফল।
১ এটা আরবি বাকরীতি। যার অর্থ- পথে যাদের বসবাস, পথই যাদের ঠিকানা।
# সালমান ফারসি (রা) এর বক্তব্য, যা নাবী (সা) সমর্থন করেছেন, তা হল- “প্রত্যেককে তাদের হক/ অধিকার দিয়ে দাও” (বুখারী, হাদীশ 1968)। এই প্রসঙ্গে আরও একটি হাদীশ- “মানুষ যদি তার ভাইয়ের (অন্য মানুষের) উপর কোনও ভাবে অত্যাচার করে (তার অধিকার নষ্ট করে), বিচার দিবসে তার পূণ্য তার থেকে কেড়ে অত্যাচারিতকে দিয়ে দেওয়া হবে। যদি অত্যাচারীর পূণ্য না থাকে, তাহলে যার উপর অত্যাচার করেছে, তার পাপ তার থেকে নিয়ে অত্যাচারীর উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে” (বুখারী, হাদীশ 6534)।
আধুনিক অর্থশাস্ত্র/ অর্থব্যবস্থার মূলমন্ত্র।
30:39 নং আয়াহ : আর তোমরা সুদ হিসাবে যা কিছু দিয়ে থাকো, যেন মানুষের ধনসম্পদ বৃদ্ধি পায়। মূলত আল্লাহর কাছে তা মোটেও বৃদ্ধি নয়। তবে আল্লাহর মুখমণ্ডল/ সন্তুষ্টি কামনা করে যে যাকাত/ ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করে থাকো, তাতেই (মানুষের ধন সম্পদ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে)। এতএব (যাকাত প্রদানে) তারাই সমৃদ্ধশালী হবে (যাকাত প্রদান করবে)।
# এজন্যই আধুনিক অর্থব্যবস্থায় বলা হয়ে থাকে- রাষ্ট্রকে ₹ 10 টাকা প্রদান করলে, তা প্রদানকারীর কাছে ₹ 10 হাজার টাকা হয়ে ফিরে আসবে। সুতরাং ট্যাক্স প্রদানে রাষ্ট্রের উন্নতি হবেই, সঙ্গে সঙ্গে নিজের উন্নতিও হবে। ট্যাক্স ছাড়া রাষ্ট্রের ও নিজের উন্নতি ও অস্তিত্ব কল্পনা করা বোকামি। পবিত্র কুরআন তা 1500 বছর আগে ঘোষণা করে রেখেছিল।
জীবন সৃষ্টি, রিযিক, পুনরুত্থান, আল্লাহর বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
30:40 নং আয়াহ : আল্লাহ (হলেন তিনি) যিনি তোমাদের কে সৃষ্টি [30:19, 30:50] করেছেন, তোমাদের রিযিক/ জীবন যাপন সামগ্রী [10:55] প্রদান করেন। তারপর তোমাদেরকে মৃত্যু দেবেন, তারপর তোমাদেরকে আবার জীবিত করবেন [84:1-5, 16:21]। আছে কি তোমাদের শরিকদের মধ্যে কেউ, যে ঐ গুলোর মধ্যে একটিও করতে পারে?? তিনি পবিত্র ও সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে তা হতে, তারা যাদেরকে তার সঙ্গে শরিক করে।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর পরিণতি।
30:41 নং আয়াহ : প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছড়িয়ে পড়বে [55:35, 44:10-11] স্থলভাগে ও জলভাগে। (আর তা) মানব জাতির নিজ হাতের অর্জন। যেন তিনি তাদেরকে তাদের কর্মের কিছুটা শাস্তি দিতে পারেন, যাতে সঠিক পথে ফিরে [32:21] আসে।
বিভিন্ন সভ্যতা ধ্বংস হয়েছিল ‛মূর্তি পূজার’ কারণে।
30:42 নং আয়াহ : বলুন- “মাটির ভিতরে প্রবেশ করো ১। অতঃপর দেখো তাদের কি পরিণতি হয়েছিল, যারা ছিল তোমাদের পূর্বে [19:74]। তাদের বেশিরভাগই ছিল মুশরিক/ মূর্তি পূজারী” ২।
১ এটা আরবি বাকরীতি। যার অর্থ- মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করো, মাটি সরিয়ে দেখো।
২ অনেক হিন্দু ভাই বলেন- “আমাদের ধর্ম প্রাচীন। কেননা প্রাচীন সভ্যতা গুলোতে মূর্তিপূজা হোত। পাওয়া যাচ্ছে কতশত মূর্তি”। এখানে বলতে চাইব- A) আজ যদি কোনও কারণে ভারত ধ্বংস হয়ে যায় (এমনটা না হোক), 2 হাজার বছর পর মাটি খুঁড়লেই মূর্তি পাওয়া যাবে। তারমানে কি এই যে, ভারতে মুসলিম ছিল না?? আসলে মুসলিমরা মূর্তিপূজা করে না, তাই মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করলে মুসলিমদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
B) পবিত্র কুরআন নিজেই বলছে- ঐ সভ্যতা গুলোতে মূর্তিপূজা হোত। সুতরাং মূর্তি পাওয়া নতুন কোনও বিষয় নয়। আপনারা এসব তথ্য মাটি খুঁড়ে জানার আগেও আমরা এ বিষয়ে জানতাম যে, ঐ সভ্যতা গুলোতে মূর্তিপূজার চল ছিল। আর আমরা এও জানি- মূর্তি পূজার জন্যেই ঐ সভ্যতা গুলো ধ্বংস হয়েছিল।
C) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- মূর্তি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, হিন্দুধর্ম প্রাচীন। কেননা, হিন্দুধর্ম কট্টর ভাবে মূর্তিপূজা বিরোধী ধর্ম। যজুর্বেদ একেবারে পরিষ্কার ভাবে বলছে- “ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি হয় না” (32:3)। আর এই তথ্য শ্বেতাশ্বেতর উপনিষদের 4:19 এ রয়েছে।
কেন উপনিষদেও একই ধরণের বক্তব্য রয়েছে। বলা হচ্ছে- “ঈশ্বরকে চোখ দ্বারা দেখা যায় না, বাক্য দ্বারা প্রকাশ করা যায় না, মন দ্বারা কল্পনা করা যায় না। তিনি ইন্দ্রিয়ের অতীত”(1:3)। আরও বলা হচ্ছে- “যাকে বাক্য দ্বারা প্রকাশ করা যায়, চোখ দ্বারা দেখাঐ যায়, তিনি ঈশ্বর নন” (1:5)।
এছাড়াও যজুর্বেদ আরও বলছে- “যারা প্রাকৃতিক বস্তু সমূহের উপাসনা করে, তারা গভীর অন্ধকারে প্রবেশ করে। আর যারা মানব সৃষ্ট বস্তু সমূহের উপাসনা করে, তারা আরও গভীর অন্ধকারে প্রবেশ করে” (40:9)। এই তথ্য ঈশ উপনিষদের 12 নং মন্ত্রেও রয়েছে।
এছাড়াও গীতা বলছে- “কামনা বাসনা দ্বারা যাদের বিবেক বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, তারা প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ি অপদেবতার পূজা/ মূর্তিপূজা করে” (7:20)। এছাড়াও 7:21-23 শ্লোক গুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বলে রাখা দরকার যে, ঈশ উপনিষদের 9 নং মন্ত্রেও তা উল্লেখ রয়েছে।
যা বলতে চাইছি, তা হল- প্রাচীন সভ্যতা গুলোয় মূর্তি ও মূর্তিপূজার প্রমাণ পাওয়া, মোটেও হিন্দু ধর্মের প্রাচীনত্ব প্রমাণ করে না। বরং ঐ সভ্যতা ছিল হিন্দু ধর্ম বিরোধী, সেটাই প্রমাণ করে এবং সেই কারণেই ঐ সভ্যতা গুলো ধ্বংস হয়েছিল।
বর্তমান সময়ের ভবিষ্যৎ বাণী।
30:43 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি নিজের মুখমণ্ডল/ নিজেকে দীনের উপর প্রতিষ্ঠা করুন [30:30, 6:79]। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন দিন আসার পূর্বে, যেদিনকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। সেদিন তারা (মুসলীমরা) বিভিন্ন দলে বিভক্ত [6:159] হয়ে পড়বে ।
প্রত্যেকের প্রত্যেকটা পদক্ষেপই তাদের নিজেদের জন্য।
30:44 নং আয়াহ : আর যারা সত্য অস্বীকার, তার সত্য অস্বীকারের কুফল তার উপরেই বর্তাবে [74:38]। আর যে সৎকর্ম করে, তা নিজেদের জন্যেই (জান্নাতে) সুখের পথ তৈরি করে [35:18, 41:46]।
তাওবার পর সত্য স্বীকার ও সৎকর্মের পরিণতি।
30:45 নং আয়াহ : (তাওবার পর) যারা সত্য স্বীকার করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ নিজ দয়ায় [25:70] তাদেরকে প্রতিদান দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি সত্য অস্বীকারকারীদের পছন্দ [39:7] করেন না।
বায়ুই সামুদ্রিক বাষ্পকে বহন করে নিয়ে স্থলভাগে নিয়ে আসে।
30:46 নং আয়াহ : এবং তার নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল- তিনি বায়ুকে সুসংবাদ দাতা হিসাবে প্রেরণ করেন, যেন তিনি তোমাদেরকে তার রহমতের স্বাদ উপভোগ করাতে পারেন [32:27, 30:48]। আর জলযান চলে তারই নির্দেশ মুতাবিক [42:32]। যেন তোমরা তার অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো। যাতে তোমরা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।
প্রতিটা রাসূল কিতাব পেয়েছিল।
30:47 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা আপনার পূর্বে রাসূল দেরকে তাদের জাতির/ সম্প্রদায়ের প্রতি [10:47, 13:27, 35:24] প্রেরণ করেছি। তারা তাদের কাছে এসেছিল সুস্পষ্ট প্রমাণ (কিতাব) সহ [2:213, 57:25]। তারপর যারা (রাসূলদের প্রতি) অপরাধ করে, তাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হয়। কেননা মূমীনদেরকে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব [10:103]।
মেঘ, বৃষ্টি ও আধুনিক বিজ্ঞান।
30:48 নং আয়াহ : আল্লাহ (হলেন তিনি) যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে বহন করে নিয়ে আসে [32:27]। অতঃপর আকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খন্ড বিখন্ড মেঘমালাকে একত্রিত করেন। যেমনটা তিনি চান। অতঃপর আপনি দেখতে পাবেন তার/ মেঘের ভিতর থেকে বের হয় বরফের কণা ১। অতঃপর তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাকে চান, তার কাছে তা (বাতাস দ্বারা বৃষ্টি) পৌঁছে দেন ২। তখন তারা আনন্দিত হয়।
১ আসলে মেঘ থেকে সরাসরি বৃষ্টি হয় না, মেঘ থেকে প্রথমে বরফ কণা সৃষ্টি হয়, তারপর ঐ বরফ ভূ-পৃষ্ঠে আসতে আসতে গলে পানিতে হয়। তাকেই আমরা বৃষ্টির ফোটা বলে থাকি।
২ “যাদের কাছে চান, তাদের কাছে পৌঁছে দেন” হওয়া উচিৎ ছিল। কারণ, বৃষ্টি তো আর একজনের প্রতি/ জন্যে হয় না। সুতরাং ব্যাকারণের দৃষ্টিতে এটা ভুল। তবে এটা কুরআনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য। বিস্তারিত জানতে দেখুন 51:38 ও 73:15 এর টিকা।
30:49 নং আয়াহ : যদিও এর পূর্বে, বৃষ্টি নামানোর [56:69] আগে অবশ্যই তারা ছিল নিরাশ [42:28]।
প্রতিটা গ্ৰহ প্রথমে জীবনহীন থাকে।
30:50 নং আয়াহ : সুতরাং দেখুন/ ভাবুন- কিভাবে আল্লাহ তার রহমত বিস্তার করেন, কিভাবে জীবনহীন গ্ৰহকে জীবনময় করে তোলেন! ঐ ভাবেই তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন। কেননা, তিনি সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতা মূলত মূর্খতা।
30:51 নং আয়াহ : আর যদি আমরা পাঠাই হলুদ রঙের গ্যাস/ ক্লোরিন গ্যাস, যা তারা দেখতে পেত। তাহলে তারা অবশ্যই ঐ ঘটনার পর কাফির/ অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ত।
# উপরিউক্ত দুই আয়াতের মূল বক্তব্য হল- আল্লাহ গ্ৰহকে জীবনময় করে তুলেছেন। যদি তিনি ক্লোরিন গ্যাস প্রেরণ করে আবার জীবনহীন করে দেন, তাতে আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতার কিছুই নেই। কেননা, যিনি জীবনময় করেছেন, তিনি জীবনহীনও করতে পারেন। মূমীনের বৈশিষ্ট্য হল- সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি খুশি থাকা এবং ‛আলহামদুলিল্লাহ’ বলা (2:156)।
মৃত ব্যক্তি/ সত্ত্বা শুনতে পায় না।
30:52 নং আয়াহ : যাইহোক আপনি মৃতদেরকে শোনাতে পারবেন না [27:80, 46:5]। আর না পারবেন বধিরকে আপনার ডাক শোনাতে, যখন তারা তাদের পিঠ সমূহ দেখিয়ে চলে যায়।
নাবী (সা) এর ডাক/ হাদীশ কাদেরকে শোনানো সম্ভব??
30:53 নং আয়াহ : আর অন্ধ/ গোঁড়াদেরকে তাদের ভ্রষ্টতা থেকে বের করে আনার জন্য পথ দেখাতে পারবেন না। আপনি শুধু তাকে শোনাতে পারেন, যে আমাদের আয়াত সমূহকে স্বীকার করেছে। আর যারা মুসলিম।
আল্লাহ যেভাবে চেয়েছেন, সেভাবে সৃষ্টি করেছেন।
30:54 নং আয়াহ : আল্লাহ (হলেন তিনি) যিনি তোমাদের কে দুর্বল অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন। দুর্বলতার পর তিনি শক্তি প্রদান করেন। শক্তি প্রদানের পর আবার দুর্বলতা হাজির করেন এবং বৃদ্ধতা প্রদান করেন। তিনি যেভাবে চান/ চেয়েছেন, সেভাবে সৃষ্টি করেন/ করেছেন [3:47]। আর তিনি সীমাহীন জ্ঞানী, সীমাহীন ক্ষমতাবান।
# অনেক নাস্তিক/ ইসলাম বিদ্বেষী বলেন- “সমস্ত কিছু যেভাবে ঘটে, তা কি ভিন্ন ভাবে সৃষ্টি করার স্বাধীনতা আল্লাহর ছিল?? বিশেষতঃ মহাবিশ্ব”! উত্তর সহজ- যদি আল্লাহ ভিন্ন ভাবে সৃষ্টি করতেন, তখনও আপনি এই প্রশ্নই করতেন। আপনার প্রশ্নের জন্য তিনি সৃষ্টি প্রক্রিয়া বদলাবেন কেন??
দ্বিতীয়ত, বর্তমান পদার্থের ধর্ম/ আইন আল্লাহর সৃষ্ট (30:30)। সুতরাং তিনি স্বাধীন ভাবে, নিজ ইচ্ছায় পদার্থের ধর্ম/ আইন সৃষ্টি করেছেন। তৃতীয়ত, তিনি যেভাবে চেয়েছেন, সেভাবে সৃষ্টি করেছেন (30:54)।
সময়ের আপেক্ষিকতা সত্য।
30:55 নং আয়াহ : আর যেদিন বিচার দিবস সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে- “তারা (বারযাখে) এক সেকেন্ড/ মিনিট/ ঘন্টার বেশি অবস্থান করে নি” [10:45, 46:35]। ঠিক এভাবেই তারা ইহজীবন ধোকার মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে।
# প্রশ্ন হবে- এখানে বলা হচ্ছে যে, তাদের মনে তারা এক ঘন্টার বেশি অবস্থান করে নি। কিন্তু অন্যত্রে বলা হয়েছে- “সামান্য কিছু সময় অবস্থান করেছিল” (17:52)। উত্তর সহজ- আসলে 17:52 তে বলা হয়েছে- সামান্য কিছু সময়। সেই সামান্য কিছু সময় হল- এক ঘন্টা। অর্থাৎ 17:52 এর ব্যাখ্যা হল 30:55 আয়াহ।
কিন্তু 20:102-104 তে বলা হচ্ছে- কেউ বলবে 10 দিন, কেউ বলবে একদিন। এর উত্তর কি হবে?? উত্তর খুবই সহজ- A) এটা বিচার দিবসের কথা নয়, এটা শিংগায় ফুঁ দেওয়ার সময়ের কথা বলা হচ্ছে। B) এটা আল্লাহ বলেন না, তাদের কথা আল্লাহ তুলে ধরেছেন। তারা যা বলবে, আল্লাহ সেটাই উল্লেখ করেছেন। C) অসৎ মানুষরা বলবে 10 দিন, তাদের মধ্যে তাদের তুলনায় সৎ/ উত্তম মানুষটি বলবে একদিন। আর এই আলোচনাটা তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে করবে। যাইহোক, একই বক্তব্য রয়েছে 79:46 এ।
আর 23:112-113 এর কি হবে! কিছুই হবে না। পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে বিচার দিবসের কথা বলা হচ্ছে। আর মানুষ যখন/ যে পরিস্থিতিতে থাকে, সেই পরিস্থিতির পেক্ষিতে সমস্ত কিছু বিচার করে। শিংগায় ফুঁ দেওয়ার সময়টা অশান্ত ও কঠিন পরিবেশ। কিন্তু এখানে বিচার দিবসের কথা বলা হচ্ছে। আর তা খানিকটা শান্ত পরিবেশ। এই অবস্থায় আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন- “তোমরা ইহজীবনে কত বছর ছিলে”?? তখন উত্তরে তারা খানিকটা চিন্তা ভাবনা করে, ভেবে চিন্তে উত্তর দেবে যে, “একদিন বা একদিনের কিছু অংশ”।
জ্ঞানীরাই শুধু সময়ের আপেক্ষিকতা সম্পর্কে বুঝতে পারবে।
30:56 নং আয়াহ : আর যাদেরকে দেওয়া হয়েছিল জ্ঞান এবং ছিল ইমান, তারা বলবে- “আল্লাহর লিখিত বিধান মুতাবিক তোমরা (বারযাখে) ছিলে পুনরুত্থান পর্যন্ত [23:100]। আর এটাই পুনরুত্থান দিবস [36:52]। কিন্তু তোমরা কখনও (সত্য) জানার চেষ্টা করো নি।
বিচার দিবসে অজুহাত ও তাওবার সুযোগ থাকবে না।
30:57 নং আয়াহ : এতএব যারা সীমালঙ্ঘন করেছিল, সেদিন তাদের কোনও অজুহাত কাজে আসবে (40:52] না। আর না তাদেরকে (তওবা করে) আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার কোনও সুযোগ দেওয়া হবে।
কুরআনে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের উদাহরণ।
30:58 নং আয়াহ : এবং অবশ্যই আমরা মানবজাতিকে বোঝানোর জন্য কুরআনে বিভিন্ন ধরণের উদাহরণ পেশ করেছি। আর আপনি তাদের জন্য কোনও নিদর্শন নিয়ে [13:38] আসেন, তাহলে যারা সত্য অস্বীকার করেছে, তারা অবশ্যই এটাই বলবে- “তোমরা ১ বাত্বিলপন্থী/ মিথ্যাবাদী”।
১ এখানে ‛তুমি’ হওয়া উচিৎ ছিল। কেননা, আল্লাহর পক্ষ থেকে আয়াত নাবী (সা)-ই আনতে পারতেন। সুতরাং ব্যাকারণের দৃষ্টিতে এটা ভুল। তবে এটা কুরআনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য্য। বিস্তারিত জানতে দেখুন 51:38 ও 73:15 এর টিকা।
কিন্তু তবুও ছোট করে বলি। আসলে এখানে তোমরা বলতে ‘নাবী (সা) সহ সমস্ত রাসূলদের কথা’ বলা হয়েছে। কারণ নাবী (সা) এর সঙ্গে যা ঘটছিল, সেই সবই অন্যান্য রাসূলদের সঙ্গেও ঘটেছিল (22:42-45)। তাই এখানে ‛তুমি’ না বলে ‛তোমরা’ বলা হয়েছে। আসলে এখানে ‛তোমরা’ শব্দের ব্যবহার করে রাসূলদের ইতিহাসও বর্ণনা করা হয়েছে। কি দারুণ, তাই না!
মূর্খতা অতি ঘৃণ্য, মূর্খতার পরিণতি।
30:59 নং আয়াহ : এভাবেই আল্লাহ তাদের মস্তিষ্ক সমূহে চিন্তা ভাবনার পথ অবরুদ্ধ করে দেন, যারা জানতে চায় না [8:22, 10:100]।
ধৈর্য্য ধারণ করলেই আল্লাহর ওয়াদা সত্য হয়ে সামনে আসবে।
30:60 নং আয়াহ : সুতরাং ধৈর্য্য ধারণ করুন, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য [110:1-2]। তারা আপনাকে বিচলিত না করতে পারে, যারা ইয়াকীন/ সত্য গ্ৰহণকারী নয় [5:41]।