২৯ নং সূরাহ | সূরাহ আনকাবুত | Surah no 29 | Surah Ankabut |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 69 টি।

বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??

29:1 নং আয়াহ : আলিফ লাম মীম [31:1-2]।

‘সত্য স্বীকার করেছি’ বলাই যথেষ্ট নয়।

29:2 নং আয়াহ : মানুষ‌রা কি ভেবেছে যে, “আমরা সত্য স্বীকার করেছি” বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে?? তাদেরকে পরীক্ষা [67:2, 2:214] করা হবে না??

# একটি হাদীশ। “সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস বলেন- আমি কোন মানুষ‌কে সবচেয়ে কঠিন ভাবে পরীক্ষা করা হয়?? তিনি বললেন- নাবীগণকে। তারপর মর্যাদার দিক থেকে তাদের পরবর্তীদের, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণকে পরীক্ষা করা হয়। তারপর বান্দাকে তার দীনদারী অনুযায়ি পরীক্ষা করা হয়” (ইবনু মাজাহ, হাদীশ 4023)।

প্রতিটা মূমীন পরীক্ষা দিচ্ছে, পরীক্ষা দিতে বাধ্য।

29:3 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা পরীক্ষা করেছি তাদের পূর্ববর্তী‌দেরকে। এত‌এব অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে জেনে নেবেন, যারা সত্য বলছে। এবং অবশ্যই জেনে  নেবেন মিথ‍্যাবাদীদের‌কে‌ও।

# প্রতিটা মূমীন পরীক্ষা দিচ্ছে, পরীক্ষা দিতে বাধ্য। কিন্তু সমস্যা হল- কেউ সিলেবাস অনুযায়ি পরীক্ষা দিচ্ছে, উত্তর‌ও দিচ্ছে সিলেবাস অনুযায়ি। আর কেউ সিলেবাস বহির্ভূত।

# প্রশ্ন হবে- আল্লাহ কি জানেন না?? পরীক্ষা করার পর জানবেন?? আল্লাহ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব‌ই জানেন (2:255)। সেই জন‍্যেই মহাবিশ্ব গুলো সৃষ্টির পূর্বে তিনি সমস্ত কিছু লাওহে মাহফুজ্বে লিখে নিয়েছিলেন (50:4, 57:22)। আর এখানেই শেষ নয়, মানুষ যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন আবার‌ও লেখা হয় যে, যে মানুষ ভবিষ্যতে কি কি করবে (বুখারী, হাদীশ 3208)।

   কিন্তু এখানে সেই ‘জানার’ কথা বলা হচ্ছে না। কেননা, সেই ‘ডেটা’ যদি বিচারের দিন বান্দার কর্ম হিসাবে তার সামনে পেশ করা হয়, তা কি বান্দা স্ব‌-ইচ্ছায় মেনে নেবে?? মোটেও মেনে নেবে না। তাই এখানে পরীক্ষা দ্বারা জানার কথা বলা হচ্ছে। যাতে মানুষের কর্মকে প্রমাণ হিসাবে পেশ করা যায়।

   তাহলে কি দরকার! বান্দা যে কর্ম করে, তা ব‌ই হিসাবে লিখিত থাকা দরকার (18:49)। যাকে আমরা ‛আমলনামা’ বলে থাকি (45:29, 17:14)। কিন্তু আমলনামা‌ও বান্দা অস্বীকার করবে। কেননা, তা আল্লাহ লিখিয়েছেন। তাই বান্দার কর্ম সমূহের ভিডিও রেকর্ডিং দরকার (78:40)। কিন্তু মানুষ তাও অস্বীকার করবে। যদিও সে জানবে যে, তা সত্য। কিন্তু তাও অস্বীকার করবে। তারপর তাদের হাত ও পা সাক্ষ্য দেবে (36:65, 41:20-22)। এ কারণে‌ এখানে মানুষকে পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ‛আমল/ কর্ম জানার কথা’ বলা হচ্ছে।

আল্লাহ‌র ধরা ছোঁয়ার বাইরে যাওয়া অসম্ভব।

29:4 নং আয়াহ : যারা অসৎ কর্ম করে, তারা কি এই ধারণা রাখে যে, তারা আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে [36:32, 69:16-17]?? তাদের এই ধারণা খুবই নিকৃষ্ট।

মহাবিশ্বের সংকোচন ও বিগক্রাঞ্চ অবশ্যই ঘটবে।

29:5 নং আয়াহ : যে আল্লাহর সাক্ষাত [84:6] কামনা করে (সে জেনে রাখুক), আল্লাহর নির্ধারিত সময় [17:99, 21:104] অবশ্যই আসবে [69:16-17]। এবং তিনি সমস্ত কিছুই শোনেন এবং সমস্ত কিছুই জানেন।

# মহাবিশ্বের সংকোচন ও বিগক্রাঞ্চের এত গুরুত্ব কেন?? সংকোচিত মহাবিশ্বের উপর‌ই বিচার দিবস প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং বিচার দিবস প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবিশ্বের সংকোচন ও বিগক্রাঞ্চ জরুরি। এখানে সেটাই বলা হচ্ছে।

জিহাদ শুধু নিজের কল‍্যাণের জন্য।

29:6 নং আয়াহ : আর যে অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ/ সংগ্ৰাম করে, সে তার নিজের (কল্যাণেই) জন্যে‌ই জিহাদ/ সংগ্ৰাম [45:15] করে (এতে আল্লাহর কল‍্যাণ নেই)। নিশ্চয়ই আল্লাহ (টিকে থাকার জন্য) সৃষ্টিকুলের উপর নির্ভরশীল নন।

# একটি হাদীস, নাবী (সা) বলেছেন- “সর্বোত্তম জিহাদ হল, নিজের খারাপ ইচ্ছা গুলোর বিরুদ্ধে জিহাদ করা” (সাহীহুল জামে, হাদীশ 1099)। এর কাছাকাছি শব্দে আরও একটি হাদীশ, নাবী (সা) বলেছেন- “সর্বোত্তম জিহাদ হল, যে আল্লাহর জন্য নিজের খারাপ ইচ্ছা গুলোর বিরুদ্ধে জিহাদ করে (সিলসিলা সাহীহাহ, হাদীশ 1491)।

# ইসলাম বিদ্বেষী‌রা ইসলাম‌কে সবচেয়ে বেশি বদনাম করেছে ‛জিহাদ’কে হাতিয়ার করে। তারা বলেন- “জিহাদ মানে অমুসলিম হত্যা”। উপরের হাদীশ গুলো দেখে বিচার করুন তো, জিহাদ মানে কি অমুসলিম হত্যা?? হ‍্যাঁ, যুদ্ধ অর্থেও জিহাদ শব্দের ব‍্যবহার হয়। কিন্তু পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ভাবে মুসলিম পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, যদি অমুসলিম পক্ষ যুদ্ধ শুরু করে, তবেই মুসলিম পক্ষ যুদ্ধ করতে পারবে (2:190)। অর্থাৎ মুসলিম পক্ষ যুদ্ধ শুরু করতে পারবে না। আর যদি যুদ্ধ চলাকালীন অমুসলিম পক্ষ শান্তি কামনা করে, তাহলে যুদ্ধ বন্ধ করা মুসলিম‌দের ফরজ/ বাধ‍্যতামূলক (8:61, 4:90)

   জিহাদ সম্পর্কে আরও একটি হাদীশ- “এক ব্যক্তি নাবী (সা) এর কাছে নিকট এসে জিহাদে যাবার অনুমতি প্রার্থনা করল। তখন তিনি বললেন- তোমার মাতাপিতা কি জীবিত আছেন?? সে বলল- হ্যাঁ। নাবী (সা) বললেন- তাহলে ফিরে যাও, তাদের জন্য জিহাদ (খিদমত/ সেবা) করো” (বুখারী, হাদীশ 3004)‌।

   আরও একটি হাদীশ- “সর্বোত্তম জিহাদ হল অত‍্যাচারী শাসকের সামনে তার বিরুদ্ধে সত্য ও ন‍্যায়ের পক্ষে কথা বলা”(তিরমিযী, হাদীশ 2174)। এই হাদীশ গুলোর দেখার পর আমার মনে হয় আপনার ধারণা বদলাবে।

ইমান ও সৎকর্ম অসৎকর্ম গুলোকে মিটিয়ে দেয়।

29:7 নং আয়াহ : আর যারা সত্য স্বীকার করবে ও সৎকর্ম করবে, তাদের (পূর্ব জীবনের) অসৎকর্ম গুলো মিটিয়ে/ মুছে দেব [11:114, 25:70]। এবং আমরা শুধুমাত্র তাদের উত্তম কাজ গুলোর প্রতিদান দেব, যে (উত্তম) কাজ তারা করবে [28:84, 6:160]।

আর যাইহোক, মাতা পিতার কথায় শিরক করা যাবে না।

29:8 নং আয়াহ : এবং আমরা মানুষ‌কে নির্দেশ দিয়েছি তার মাতা-পিতার সঙ্গে উত্তম ব‍্যবহারের [31:14, 46:15, 17:23-24]। কিন্তু যদি তারা দু জনে চাপ দেয় যে, যেন তুমি আমার সঙ্গে শিরক করো, যে সম্পর্কে তোমার কোনও জ্ঞান নেই, তাহলে (এই বিষয়ে) তাদের কথা মান‍্য করবে না [31:15, 16:43]। আমার দিকেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে [69:16-17]। তখন আমি তোমাদের‌কে জানাবো, তোমরা কি কর্ম করেছিলে [17:14]।

ইমান ও সৎকর্মের বিনিময়ে নাবীদের সঙ্গী হ‌ওয়া।

29:9 নং আয়াহ : এবং যারা সত্য স্বীকার করে ও সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমরা তাদেরকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত [3:46, 4:69] করবো।

29:10 নং আয়াহ : আর মানুষের মধ্যে অনেকেই বলে- “আমরা আল্লাহকে স্বীকার করেছি”। অতঃপর যখন তারা আল্লাহর পথে নির্যাতিত হয়, তখন মানুষ দ্বারা নির্যাতন‌কে আল্লাহর শাস্তি বলে গণ্য করে [4:72]। এবং যদি কোনও সাহায্য আসে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে, তখন তারা অবশ্যই বলবে- “নিশ্চয়ই আমরা তো তোমাদের সঙ্গে ছিলাম” [4:141]।  আল্লাহ কি সেই বিষয় ভালো ভাবেই জানেন না, যা রয়েছে সৃষ্টিকুলের মস্তিষ্ক [50:16] সমূহে??

আল্লাহ মূমীন ও মুনাফিক‌দের পৃথক করতে চান।

29:11 নং আয়াহ : এবং আল্লাহ অবশ্যই [29:2-3] জেনে নেবেন, কারা সত্য স্বীকার করেছে এবং অবশ্যই জেনে নেবেন [29:2-3] কারা মুনাফিক [4:142-145]।

# এজন্য জেনে নেবেন যে, আল্লাহ মুনাফিক‌দের থেকে মূমীনদের‌কে আলাদা রাখতে চান। আর এই সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলা হয়েছে 3:179, 47:31 তে। আয়াত দুটি গিয়ে দেখে আসুন।

সাধারণ ভাবে কেউ কারোর পাপ বহন করবে না।

29:12 নং আয়াহ : আর যারা সত্য অস্বীকার করেছে তারা, যারা সত্য স্বীকার‌ করেছে, তাদেরকে বলে- “তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ করো, (যদি আমাদের পথ ভুল হয়, তাহলে) অবশ্যই তোমাদের ভুলত্রুটি/ পাপ [28:63] আমরা বহন [35:18] করবো। কিন্তু তারা তোমাদের ভুলত্রুটি/ পাপের কিছুই বহন [70:10-14] করতে চাইবে না [34:21-32]। নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।

কাউকে পথভ্রষ্ট করলে, তার পাপ বহন করতে হবে।

29:13 নং আয়াহ : অবশ্যই তারা বহন করবে নিজেদের (পাপের) বোঝা, তার সঙ্গে সঙ্গে অন‍্য [33:67-68, 7:38] অনেকে‌র (পাপের) বোঝাও তারা বহন করবে [4:85, 16:25]। এবং অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের‌কে জিজ্ঞাসা করা হবে সেই সম্পর্কে, যে মিথ্যা তারা বানাতো।

না, নূহ (আ) নয়’শ পঞ্চাশ বছর জীবিত ছিলেন না।

29:14 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই নূহকে আমরা তার জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর (950 বছর)। যাইহোক, (তাকে অস্বীকার করায়) প্লাবন তাদেরকে গ্ৰাস করেছিল। কেননা, তারা ছিল অত‍্যাচারী/ সীমালঙ্ঘনকারী।

# অনেক ইসলাম বিদ্বেষী বলেন- “950 বছর আয়ু হ‌ওয়া বৈজ্ঞানিক ভাবে অসম্ভব”। হ‍্যাঁ, তা সত‍্য। তবে এখানে এটা বলাই হচ্ছে না যে, “তিনি 950 বছর জীবিত ছিলেন”। বলা হচ্ছে- “তিনি তাদের মধ্যে 950 বছর অবস্থান করেছিলেন”। হতে পারে এখানে তার নবুওয়াতের কথা বলা হচ্ছে। যার স্থায়িত্বকাল ছিল 950 বছর। অর্থাৎ তার নবুওয়াত তার জাতির মধ্যে ছিল 950 বছর। এই 950 বছরে অন্য কোনও নাবী রাসূল তার জাতির মধ্যে আসেন নি।

   এখানে কেউ বলতে পারেন- “তার জাতি তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল”। ভুল, বেশিরভাগ মানুষ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। যারা নৌকায় তার সঙ্গী ছিলেন, তারাও তার জাতির অন্তর্ভুক্ত (29:15)। সুতরাং তার জাতি পুরোপুরি ধ্বংস হয় নি। যারা অবশিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে তার নবুওয়াত 950 বছর টিকে ছিল। তারপর পরবর্তী নাবী রাসূল আসেন।

নূহ (আ) এর নৌকার অস্তিত্ব বর্তমানে প্রমাণিত।

29:15 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা প্লাবন থেকে রক্ষা করে ছিলাম তাকে (নূহকে) এবং তার নৌকার সঙ্গীদের‌কে [11:25-48, 71:5-28]। এবং আমরা তা (সেই ঘটনা‌কে) হাজির করেছি মহাবিশ্ব সমূহের বাসিন্দা‌দের জন্য নির্দশন/ প্রমাণ [54:13-15] হিসাবে।

# সত্যিই প্রমাণিত! হ‍্যাঁ, সত্যি‌ই প্রমাণিত। এই সম্পর্কে আমরা ‘সূরাহ কামার’ এ বিস্তারিত কথা বলেছি। যান, গিয়ে একবার 54:13-15 আয়াত সহ টিকাটা দেখে আসুন। যান।

ইবরাহীম (আ) তার জাতিকে কি কি বলেছিলেন??

29:16 নং আয়াহ : এবং যখন ইবরাহীম তার জাতিকে বলেছিলেন- “তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর [21:25] এবং তার জন্যই তাক‌ওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর [49:13]। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে!

29:17 নং আয়াহ : প্রকৃতপক্ষে তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে/ বাদ দিয়ে মূর্তি গুলোর ইবাদত [23:91] করছ এবং (ইবাদতের) মিথ্যা নিয়ম তৈরি করছ। নিশ্চয়ই আল্লাহ‌কে ছেড়ে/ বাদ দিয়ে তোমরা যাদের ইবাদত করছ, তারা তোমাদের‌কে রিযিক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না [19:82, 46:4-5]। সুতরাং তোমরা আল্লাহর থেকে রিযিক চাও, তার‌ই ইবাদত [20:14] কর এবং তার‌ই নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর [76:3]। আর (জেনে রেখ) তার‌ দিকেই ফিরে যেতে হবে [69:16-17]।

29:18 নং আয়াহ : আর যদি তোমরা সত্য অস্বীকার কর, তবে অবশ্যই তোমাদের পূর্বে‌ও বহু জাতি সত্য অস্বীকার করেছিল (সত্য অস্বীকার নতুন কিছু নয়)। এবং (এও জেনে রাখ) রাসূলের উপর ‛সুস্পষ্ট ভাবে প্রচার’ করা ছাড়া [16:82] আর কোনও দায়িত্ব নেই” [16:35, 36:17]।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিগব‍্যাঙ।

29:19 নং আয়াহ : যাইহোক, তারা কি জানে না, আল্লাহ কিভাবে (প্রথম বিগব‍্যাঙ দ্বারা) সৃষ্টির [56:62] সূচনা করেছেন [30:11, 30:27], তারপর পুনরায় (দ্বিতীয় বিগব‍্যাঙ দ্বারা) সৃষ্টি করবেন [77:32-33, 21:104]?? নিশ্চয়ই ওটা আল্লাহ‌র জন্য খুবই সহজ [69:16-17]।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিগব‍্যাঙ সম্পর্কে আল্লাহ চ‍্যালেঞ্জ করলেন।

29:20 নং আয়াহ : বলুন- “(চাইলে) পৃথিবী ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ- তিনি কিভাবে (প্রথম বিগব‍্যাঙ দ্বারা) সৃষ্টির সূচনা করেছিলেন, তারপর কিভাবে (দ্বিতীয় বিগব‍্যাঙ দ্বারা) আল্লাহ পরের বার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত কিছু‌র উপর ক্ষমতাবান।

# এখানে বলা হচ্ছে- “দেখ”। অর্থাৎ দেখলেই বিগব‍্যাঙ সম্পর্কে জানা যাবে। আর 1929 সালে বিজ্ঞানী এড‌উইন হাবল দেখলেন যে, প্রতিটা গ‍্যালাক্সি অন্য গ‍্যালাক্সি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সামনে এল মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের তত্ত্ব (81:15)। সম্প্রসারণ হচ্ছে মানেই কোনও একটা সময়ে গ‍্যালাক্সি গুলো একত্রিত ছিল। সামনে এল সিংগুলারিটি ও বিগব‍্যাঙ তত্ত্ব (51:47)। যা আজ প্রমাণিত সত্য। সুতরাং ‛দেখার নির্দেশের’ গুরুত্ব মনে হয় বুঝে গেছেন। বুঝেছেন??

ক্ষমা বা শাস্তি আল্লাহর ইচ্ছাধীন।

29:21 নং আয়াহ : (মহাবিশ্ব সংকোচনের পর সংকোচিত মহাবিশ্বের উপর বিচার দিবস প্রতিষ্ঠা হবে, তখন) তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিতে, যাকে ইচ্ছা করুণা করতে পারেন [2:284]। আর তার দিকেই ফিরতে হবে [69:16-17]।

আল্লাহ‌কে হারিয়ে দেওয়া/ ব‍্যর্থ করা সম্ভব নয়।

29:22 নং আয়াহ : এবং না তোমরা (আল্লাহকে) পৃথিবীতে হারিয়ে দিতে পারবে [72:12], আর না মহাবিশ্বে [112:2]। আর (পরবর্তী জীবনে) না থাকবে আল্লাহ ছাড়া তোমাদের অন্য কোনও ওলী/ অভিভাবক [41:31], আর না থাকবে কোনও সাহায্য‌কারী [4:45]।

আল্লাহর দয়া থেকে ‛নিরাশ’ হ‌ওয়া হারাম/ নিষিদ্ধ।

29:23 নং আয়াহ : আর যারা আল্লাহর আয়াত সমূহ ও তার সাক্ষাৎ অস্বীকার করে, তারা আল্লাহর করুণা থেকে নিরাশ [12:86, 39:53]। আর তাদের জন্য থাকবে কষ্টদায়ক শাস্তি।

ইবরাহীম (আ) এর জাতি তাকে পুড়াতে চাইল।

29:24 নং আয়াহ : তার জাতির এই ছাড়া কোনও জবাব ছিল না যে, “তাকে (ইবরাহীম‌কে) হত্যা কর কিংবা আগুনে পোড়াও”। অতঃপর আল্লাহ তাকে আগুন হতে রক্ষা করলেন [21:68-69, 37:97]। এর (এই ঘটনার) মধ্যে নিদর্শন আছে সত্য গ্ৰহণকারী কাওম/ সম্প্রদায়ের জন্য।

ভারতীয় মুসলিম‌ সেলিব্রেটি‌দের অস্ত্র ‛মূর্তি পূজা’।

29:25 নং আয়াহ : তিনি বলেছিলেন- “তোমরা মূলত আল্লাহ‌কে বাদ দিয়ে মূর্তি গুলোকে [6:81, 30:35] ইহজীবনে নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব বজায় রাখার ‛উপায়’ [43:67] হিসাবে গ্ৰহণ করেছ। কিন্তু কিয়ামত দিবসে তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে [70:10-11] এবং একে অপরকে অভিশাপ দিতে থাকবে [7:38, 33:67-68]। তোমাদের আবাস হবে আগুন (জাহান্নাম)। আর তোমাদের জন্য থাকবে না কোনও ধরণের সাহায্য‌কারী” [2:107]।

ইবরাহীম (আ) এর কথায় লূত (আ) ইমান আনলেন।

29:26 নং আয়াহ : তখন (তাঁর কথা শুনে) লূত তাঁকে ‛সত্য হিসাবে স্বীকার’ করলেন। তখন (ইবরাহীম) বললেন- “নিশ্চয়ই আমি আমার রর/ প্রভুর উদ্দেশ্যে হিজরত [4:100, 37:99] করছি। নিশ্চয়ই তিনি শক্তিশালী ও বিজ্ঞানী”।

ইবরাহীম (আ) এর বংশধর।

29:27 নং আয়াত : আর আমরা তাঁকে (পুত্র) ইসহাক এবং (নাতি) ইয়াকুবকে প্রদান করলাম [21:72]। এবং আমরা তা‌ঁর (ইয়াকুব) বংশে (১) প্রেরণ করেছি নাবুওয়াত ও কিতাব [45:16]। আর আমরা তাঁকে (ইবরাহীমকে) পৃথিবীতে প্রতিদান দিয়েছি, নিশ্চয় তিনি পরবর্তী জীবনে হবেন সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।

১) ইয়াকুব (আ) এর দ্বিতীয় নাম ছিল- ইসর‌ঈল‌ তাই তাঁর বংশ‌ধরদেরকে বলা হয়- বাণী ইসরাঈল। এই শব্দ দুটি কুরআন ও বাইবেলে ব‍্যবহৃত হয়েছে শতশত বার, বহু বার।

লূত (আ) এর জাতি সমকামিতা‌য় লিপ্ত ছিল।

29:28 নং আয়াহ : আর যখন লূত তার জাতির উদেশ্যে বলেছিলেন- “নিশ্চয়ই তোমরা এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে মহাবিশ্ব সমূহে কেউ করেনি [7:80]।

তাঁর জাতি শুধু সমকামিতা নয়, ডাকাতি‌ও করত।

29:29 নং আয়াহ : “নিশ্চয়ই তোমরা যৌনতার জন্য পুরুষদের কাছে যাচ্ছ, রাস্তা-ঘাটে ডাকাতি করছ এবং তোমরা তোমাদের বৈঠক সমূহে ঘৃণ্য‌কর্ম করে যাচ্ছ”। তখন তার জাতির কাছে এই ছাড়া অন্য কোনও জবাব ছিল না যে, “আমাদের জন্য নিয়ে এস আল্লাহর শাস্তি, যদি তুমি হয়ে থাক সত‍্যবাদী” [54:36]।

তাঁর জাতি ‛সন্ত্রাস সৃষ্টি‌ও’ করত।

29:30 নং আয়াহ : তখন তিনি (লূত) বললেন- “প্রভু, এই ‛সন্ত্রাস সৃষ্টি‌কারী জাতির’ বিরুদ্ধে [2:11, 7:56] আমাকে সাহায্য [11:80-81] করুন”।

লূত (আ) এর জাতির ধ্বংসের খবর পৌঁছাল।

29:31 নং আয়াহ : যখন আমাদের রাসূল/ ফেরেস্তা‌রা ইবরাহীমের কাছে সুসংবাদ নিয়ে পৌঁছাল, তখন ফেরেস্তা‌রা (ইবরাহীম‌কে) বললেন- “নিশ্চয়ই আমরা এই শহরের বাসিন্দাদের ধ্বংস করে দেব [11:74-76, 51:32-33]। নিশ্চয়ই তার বাসিন্দা‌রা জ্বালিম/ সীমালঙ্ঘন‌কারী” [7:81, 17:16, 21:11]।

ফেরেস্তাদের কথা শুনে ইবরাহীম (আ) ভয় পেলেন।

29:32 নং আয়াহ : (ইবরাহীম) বললেন- “তাতে (শহরে) লূত আছে”। (ফেরেস্তা‌রা) বললেন- “আমরা জানি সেই সম্পর্কে যে, তাতে (শহরে) কারা আছে! অবশ্যই তার স্ত্রীকে [66:10] ছাড়া আমরা তাকে ও তার পরিবার‌কে রক্ষা করব। কেননা, সে (লূতের স্ত্রী) ছিল পিছনে অবস্থানকারী” [7:84]।

ফেরেস্তা‌দেরকে ‛মানুষ ভেবে’ লূত (আ) ভয় পেলেন।

29:33 নং আয়াহ : এবং যখন  ফেরেস্তা‌গণ লূতের কাছে পৌঁছাল, তখন তাদের জন্য (লূত) চিন্তিত হয়ে পড়ল এবং তাদের‌কে (সমকামী‌দের হাত থেকে রক্ষা করার) শক্তি নেই বলে নিজেকে অসহায় মনে করল [11:78-80, 54:37]। তারা (ফেরেস্তা‌রা) বললেন- “(আমাদের জন্য) ভয় করবেন না, দুঃখিত‌ও হবেন না। নিশ্চয়ই আমরা আপনার স্ত্রীকে ছাড়া আপনাকে ও আপনার পরিবারকে রক্ষা করব। কেননা, সে ছিল পিছনে অবস্থান‌কারী [66:10]।

গ্ৰহাণু বৃষ্টি হয়েছিল লূত (আ) এর জাতির উপর।

29:34 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা এই জনপদ/ শহরের বাসিন্দাদের উপর সামায়া/ সৌরজগৎ হতে শাস্তি বর্ষণ করব [7:84, 11:82]। এ কারণে যে, তারা ছিল ফাসিক/ পাপাচারী” [15:74, 51:33]।

মৃত সাগর একটি নিদর্শন।

29:35 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা ছেড়েছি সেই স্থানে একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন (১)। ঐ সম্প্রদায়ের জন্য, যারা আকাল/ মস্তিষ্কের ব‍্যবহার করে [8:22, 10:100]।

১) এখানে কোন নিদর্শনের কথা বলা হচ্ছে তা জানি না। তবে আমি ধারণ করছি যে- মৃত সাগর‌ই হয়ত সেই নিদর্শন। কেননা, মৃত সাগরের আশেপাশে লূত (আ) ও তার জাতির এর বসবাস ছিল। আর মৃত সাগর মৃত ছিল না। আমরা 11:82 থেকে জানি- “ওখানকার জনপদটি উল্টে দেওয়া হয়েছিল, ঐ জন্য সম্ভবত মৃত সাগর অন্য সাগরের সংস্পর্শ হতে বিচ্ছিন্ন/ বঞ্চিত হয়ে যায়। ফলত মৃত পাগর ধীরে ধীরে মৃত সাগরে পরিণত হয়।

দুর্ণীতি‌কারীরা মূলত সন্ত্রাসী‌দের মতোই।

29:36 নং আয়াহ : আর মাদইয়ানের দিকে পাঠালাম তাদের ভাই শুয়াইবকে। তিনি (শুয়াইব) বললেন- “হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর [7:85] ও পরবর্তী জীবনে (আল্লাহর) দয়ার আশা রাখ। আর সন্ত্রাসীদের মতো গ্ৰহে/ উপগ্রহে [26:183] দুর্ণীতি সৃষ্টি কর না [11:85, 28:83]।

শুয়াইব (আ) এর জাতির পরিণতি যেমন হয়েছিল।

29:37 নং আয়াহ : তারা (তার জাতি) তাকে মিথ‍্যাবাদী ঘোষণা করল [26:186]। তখন তাদেরকে গ্ৰাস করল ভূমিকম্প [7:91] এর ফলে তারা তাদের ঘরবাড়ির মধ্যে‌ই নতজানু অবস্থায় মরে [11:94] পড়ে র‌ইল [26:189]।

আদ ও সামূদ জাতির মানুষরা ছিল বুদ্ধিজীবী।

29:38 নং আয়াহ : আরও (ধ্বংস করেছি) আদ ও সামূদ জাতি‌কেও [69:5-7]। নিশ্চয়ই তাদের অবস্থান তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট। শাইত্বান তাদের কাজকর্ম গুলোকে তাদের কাছে ‛সভ‍্য’ হিসাবে তুলে ধরেছিল এবং সঠিক পথ গ্ৰহণে বাধা সৃষ্টি করেছিল। যদিও তারা ছিল (দুনিয়াবী) বুদ্ধিজীবী [30:7, 42:20]।

কারূন, ফির‌আউন ও হামান, কেউ বাঁচাতে পারে নি।

29:39 নং আয়াহ : আর কারূন [28:76-81], ফির‌আউন ও হামানকেও ধ্বংস করেছি 28:38-41]। নিশ্চয়ই মূসা তাদের কাছে গিয়েছিল সুস্পষ্ট নিদর্শন/ প্রমাণ সমূহ নিয়ে। তারা (সভ‍্যতার উন্নতি নিয়ে) দম্ভ করত কিন্তু তারা (আমার চেয়ে) অগ্ৰগামী ছিল না (অর্থাৎ শাস্তি থেকে বাঁচতে [23:44] পারল না)।

খুব প্রয়োজনে আল্লাহ ইহজীবনেও শাস্তি দেন।

29:40 নং আয়াহ : শেষ পর্যন্ত প্রত‍্যেক‌কে অপরাধের জন্য (ইহজীবনে‌ই) শাস্তি দিয়েছি [68:33]।

আল্লাহ ছাড়া ‛মিথ্যা আউলিয়া‌’ গুলো কেমন??

29:41 নং আয়াহ : যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে/ অন‍্যদেরকে আউলিয়া/ অভিভাবক হিসাবে গ্ৰহণ [41:31] করেছে, তাদের উদাহরণ হলো- মাকড়সার মতো। সে ‛ঘর হিসাবে’ মাকড়সার ঘরকে গ্ৰহণ করেছে। অথচ নিশ্চয়ই ঘর গুলোর মধ্যে মাকড়সার ঘর‌ই সবচেয়ে দুর্বল ঘর। যদি তারা বিষয়টি জানত!

29:42 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন যে, তারা তাকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুকে ডাকে [25:3]। তিনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।

কুরআনের ‛উদাহরণ’ গুলো জ্ঞানী‌দের জন্য।

29:43 নং আয়াহ : আর আমরা ঐ ‛উদাহরণ গুলো’ পেশ করি মানব জাতিরজন্য। তবে, আলিমরা/ জ্ঞানী‌রা ছাড়া অন‍্যরা তা বুঝতে পারে না [35:28, 58:11]।

মহাবিশ্বে বিরাজ করছে সুক্ষ্মাতি সুক্ষ্ম‌ অনুপাত।

29:44 নং আয়াহ : আল্লাহ গ‍্যালাক্সি গুলো ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন সুক্ষ্মাতি সুক্ষ্ম‌ অনুপাত সহ। নিশ্চয়ই এর (সুক্ষ্মাতি সুক্ষ্ম অনুপাতে‌র) মধ্যে নিদর্শন/ প্রমাণ রয়েছে সত্য স্বীকার‌কারীদের জন্য।

‛আল্লাহর বিধান‌ই’ অশ্লীলতা ও অসভ্যতা আঁটকায়।

29:45 নং আয়াহ : কিতাব [56:77-78] থেকে আপনার প্রতি যা ওহী করা হচ্ছে/ হয়েছে, তা পাঠ করুন। আর (সেই মুতাবিক) প্রতিষ্ঠা করুন স্বালাত/ আল্লাহর বিধান। নিশ্চয়ই স্বালাত/ আল্লাহর বিধান‌ই অশ্লীলতা ও অসভ্য‌তা থেকে দূরে রাখে/ রাখতে পারে [6:151, 7:28]। কেননা, আল্লাহ বিধান‌ই সর্বশ্রেষ্ঠ [5:50, 39:22-23]। আর আল্লাহ জানেন, (আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করার জন্য) তোমরা যা কিছু করছ।

ভিন্ন ধর্মীয়‌দের সঙ্গে ‛ডিবেট’ কিভাবে করতে হবে??

29:46 নং আয়াহ : যা ‛উত্তম পন্থা’, তা ছাড়া আহলে কিতাব (ধর্মগ্রন্থ‌ধারী) দের যেন সঙ্গে বিতর্ক/ ডিবেট করবে না। তবে তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘন‌কারী তাদের সঙ্গে নয় [25:63, 28:55]। (ডিবেট করতে চাইলে) তাদেরকে বলে দাও- “আমরা ঐ বিষয়‌টা স্বীকার করেছি, যা আমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে এবং তোমাদের প্রতি নাযিল হয়েছিল। আমাদের ইলাহা/ ঈশ্বর ও তোমাদের ইলাহা/ ঈশ্বর এক‌ই [6:19, 29:91]। এবং আমরা তার‌ কাছেই নিজেদের সমর্পণ‌কারী” [3:64]।

সত্য অস্বীকার‌কারীরাই ‛সংশয়বাদী‌’ সাজে।

29:47 নং আয়াহ : আর এভাবেই আমরা আপনার কাছে কিতাব নাযিল করেছি। এত‌এব যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছিলাম, তারা যেন তাকে (কুরআনকে) স্বীকার করে, যেন এদের (আরবদের) মধ্য হতেও তাকে (কুরআনকে) স্বীকার করে। আর কাফির/ সত্য অস্বীকার‌কারীরা ছাড়া কেউই আমাদের আয়াত সমূহে সংশয় প্রকাশ করে না [40:4, 29:49]।

নাবী (সা) পড়া-লেখা জানতেন না, তিনি নিরক্ষর ছিলেন।

29:48 নং আয়াহ : আর না আপনি পূর্বে কোনও কিতাব পাঠ করেছেন, আর না আপনি আপনার ডান হাত দিয়ে কোনও কিছু রচনা করেছেন [7:157, 62:2]। (যদি আপনি পড়া লেখা জানতেন), তখন মিথ‍্যাচারীরা অবশ্যই সন্দেহ [25:4-5] করতে পারত (আর সেটা যৌক্তিক হোত)।

কুরআন অস্বীকার করে ‛মূর্খ‌ গুলোই’।

29:49 নং আয়াহ : বরং তার (কুরআনের), আয়াত সমূহ সুস্পষ্ট। যাদের মস্তিষ্কে জ্ঞান প্রদান [17:107, 34:6] করা হয়েছে, (তারা জানে কুরআন সত্য)। আর মূর্খ‌ গুলো ছাড়া কেউ আমাদের আয়াত সমূহ অস্বীকার [40:4, 29:47] করে না।

তারা নাবী (সা) এর থেকে ‛নিদর্শন’ চাইছিল।

29:50 নং আয়াহ : তারা বলে- “তাঁর কাছে তার প্রভুর পক্ষ থেকে নিদর্শন সমূহ নাযিল হয় না [20:133] কেন”?? বলুন- “নিদর্শন সমূহ তো আল্লাহর কাছে [13:38]। নিশ্চয়ই আমি শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ক‌কারী মাত্র” [25:1]।

আল্লাহ বললেন- “নিদর্শন হিসাবে কুরআন যথেষ্ট”।

29:51 নং আয়াহ : (নিদর্শন হিসাবে) তাদের কাছে কি যথেষ্ট নয় যে, আমরা আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়?? নিশ্চয়ই তাতে রয়েছে সর্বোচ্চ ‛দয়া ও জ্ঞান’ সত্য স্বীকারকারী সম্প্রদায়ের জন‍্য।

# একটি হাদীশ- “প্রত‍্যেক নাবীকে তার যুগের প্রয়োজন মুতাবিক মুজেজা/ নিদর্শন দেওয়া হয়, যা দেখে মানুষরা সত্য স্বীকার করেছিল। কিন্তু আমাকে মুজেজা/ নিদর্শন হিসাবে দেওয়া হয়েছে ওহী (ওহীর সবচেয়ে বড় অংশ হল- কুরআন)। আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন আমার অনুসারী‌র সংখ্যা হবে সর্বাধিক”(বুখারী, হাদীশ 4981)।

# হাদীশ অস্বীকারকারীরা এই আয়াহ দেখিয়ে বলেন যে, এখানে বলা হয়েছে- “তাদের (মূমীনদের) জন্য কুরআন যথেষ্ট”। ক) কিন্তু এখানে ‛তাদের’ বলতে, মূমীনদেরকে বোঝানো হয় নি। আগের আয়াহ (29:50) দেখলে বোঝা যাবে যে, এখানে ‛তাদের’ বলতে, মূমীনদেরকে নয়, বরং কাফির‌দেরকে বোঝানো হয়েছে।

খ) বলা হয়েছে- “কুরআন নিদর্শন হিসাবে যথেষ্ট”। বলা হচ্ছে না যে, ‛বিধান হিসাবে যথেষ্ট’। আর এর সমর্থনে হাদীশ‌ও রয়েছে। এখানে কেউ বলতে পারেন- “হাদীশ মানি না, তা মানবরচিত”। উত্তরে বিনম্র ভাবে বলব- “কুরআন বিধান হিসাবে যথেষ্ট”- এটা আপনার ব‍্যাখ‍্যা। আপনি‌ও মানুষ, আপনার ব‍্যাখ‍্যা‌ও মানবরচিত”। আপনার ব‍্যাখ‍্যা নেব কেন?? গ) এখানে ‛কিতাব’ বলা হয়েছে, ‘কুরআন’ বলা হয় নি। কিতাব বলতে, কুরআন- সেটাও তো আপনার ব‍্যাখ‍্যা। আপনার ব‍্যাখ‍্যা‌ও তো মানবরচিত! আপনার ব‍্যাখ‍্যা নেব কেন?? 

যারা নাবী (সা) কে ‛মিথ্যা’ বলতেন, তাদের জবাব।

29:52 নং আয়াহ : আপনি বলুন- “আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহ‌‌ই যথেষ্ট [13:43]। তিনি জানেন, যা কিছু আছে মহাবিশ্বে [23:17]। যারা স্বীকার করে বাত্বিল/ মিথ্যা এবং অস্বীকার করে আল্লাহকে [31:30, 22:62], তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

যারা তাড়াতাড়ি শাস্তি চায়, তাদের দাবি ও উত্তর।

29:53 নং আয়াহ : তারা আপনার নিকট তাড়াতাড়ি আযাব/ শাস্তি নিয়ে আসার দাবি করে [26:204]। যদি না (আযাব/ শাস্তির সময়) নির্ধারিত থাকত, তবে তাদের উপর আযাব/ শাস্তি এসে পড়ত [15:4-5]। আর অবশ্যই তাদের উপর হঠাৎ করে আসবে (আযাব/ শাস্তি), তারা তখন বুঝতেও পারবে না।

29:54 নং আয়াহ : তারা আপনার নিকট তাড়াতাড়ি আযাব/ শাস্তি নিয়ে আসার দাবি করে [26:204]! তবে নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের‌কে ঘিরে [85:20] রেখেছে [40:7]।

যারা তাড়াতাড়ি শাস্তি চায়, তাদেরকে কঠিন জবাব।

29:55 নং আয়াহ : সেদিন আযাব তাদের‌কে ঢেকে ফেলবে উপর থেকে এবং পায়ের নিচে থেকে। তখন তিনি বলবেন- “এখন স্বাদ নাও (আযাব/ শাস্তির), যে সমস্ত আমল/ কর্ম তোমরা [36:54] করতে [52:13-14]।

পৃথিবী গ্ৰহ হিসাবে খুব ছোট নয়, আকারে বেশ বড়।

29:56 নং আয়াহ : হে আমার বান্দারা, তোমরা যারা হত্যা স্বীকার করেছ। (জেনে রেখো) নিশ্চয়ই আমার এই পৃথিবী [39:10] বেশ বড় (যদি আমার ইবাদাতে কেউ সমস্যা সৃষ্টি করে, তবে অন‍্যত্রে চলে যাও)। আর শুধুমাত্র আমার‌ই ইবাদাত [10:3, 23:91] কর।

মৃত্যু থেকে বাঁচার কোনও উপায় নেই।

29:57 নং আয়াহ : প্রত‍্যেক জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে [56:60]। তারপর আমাদের দিকেই ফিরে [69:16-17] আসবে [2:28, 62:8]।

জান্নাতে‌র নদনদী গুলো জান্নাতী‌র নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

29:58 নং আয়াহ : যারা সত্য স্বীকার করে এবং সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমরা তাদের‌কে বসবাস করতে দেব জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদ সমূহে। যেখানে তার (জান্নাতী‌র) নিয়ন্ত্রাধীনে প্রবাহিত হবে নদনদী সমূহ। তারা তারমধ্যে থাকবে সুদীর্ঘকাল। (সৎ) আমল/ কর্ম‌কারীদের প্রতিদান/ পুরষ্কার কত‌ই না উত্তম!

নিয়ন্ত্রণাধীন ‛নদনদী গুলো’ কাদের জন্য??

29:59 নং আয়াহ : (তাদের জন্যে) যারা ধৈর্য্যধারণ করে এবং তাদের রব/ প্রতিপালকের উপর নির্ভর [65:3] করে।

খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি‌তে জীব ‛দুই প্রকারের’।

29:60 নং আয়াহ : আর তোমাদের মতো অনেক জীব আছে, যারা নিজেদের রিযিক/ খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না [81:18]। আল্লাহ‌ই তাদের রিযিক/ খাদ্যের ব‍্যবস্থা করেন এবং তোমাদের‌ও (১)। এবং তিনি সমস্ত কিছুই শোনেন ও সমস্ত কিছুই জানেন [23:17]।

১) যেমন গাছ। নিজেই সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে নিজের খাদ্য তৈরি করে। কিছু ব‍্যাকটেরিয়া‌ও নিজেদের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করে। কিন্তু মানুষ সহ বহু সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না। তারা অন‍্যের উপর নির্ভর‌শীল। এখানে সেটাই বলা হল।

অনেকেই ‛আল্লাহ’ সম্পর্কে ধারণা রেখেও শিরক করে।

29:61 নং আয়াহ : আর যদি আপনি তাদের‌কে জিজ্ঞাসা করেন- “গ‍্যালাক্সি সমূহ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন?? আর সূর্য ও চন্দ্রকে কে নিদিষ্ট নিয়মের অধীন করে রেখেছেন”?? অবশ্যই তারা বলবে- “আল্লাহ” [39:38, 12:106]। তাহলে (এগুলো বুঝেও) তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে!

আল্লাহ ‛চাইলে’ রিযিক কন্ট্রোল করতে পারেন।

29:62 নং আয়াহ : আল্লাহ চাইলে তার বান্দাদের মধ্যে যার ইচ্ছা, তার রিযিক/ জীবন উপকরণ প্রশস্ত করে দিতে পারেন এবং যার ইচ্ছা, তার (রিযিক) সংকীর্ণ করে দিতে পারেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত‍্যেক‌টা বিষয়ের আলিম/ জ্ঞানী।

পানি পৃথিবীর নয়, ‛মহাকাশ’ থেকে এসেছে।

29:63 নং আয়াহ : আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন- “কে সামায়া/ মহাকাশ থেকে পানি নামিয়েছেন?? অতঃপর কে তা দিয়ে জীবনহীন পৃথিবী‌কে জীবনময় [41:39] করেছেন”?? তখন অবশ্যই তারা বলবে- “আল্লাহ”। আপনি বলুন- “আলহামদুলিল্লাহ” [45:36]। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেক‌ই মস্তিষ্কের ব‍্যবহার [8:22, 10:100] করে না।

# পৃথিবী সৃষ্টির পর পৃথিবীতে পানি ছিল না, সৌরগজতে অবস্থিত ধূমকেতুর মাধ্যমে পৃথিবীতে পানি এসেছে। তবেই পৃথিবী জীবনময় হতে পেরেছে (21:30, 24:45)। এজন্য বলা হয়- পৃথিবীর পানির বয়স পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি।

পৃথিবীর জীবন হারজিতের খেলা ও অভিনয়।

29:64 নং আয়াহ : ইহজীবন মূলত হারজিতের খেলা ও অভিনয় ছাড়া অন্য কিছু‌ই নয় [57:20]। এবং নিশ্চয়ই পরবর্তী জীবনের আবাস‌ই হল- ‛প্রকৃত জীবন’ [6:32, 47:36]। যদি তারা জানত!!

মুশরিকদের দুমুখো নীতি।

29:65 নং আয়াহ : অতঃপর তারা যখন (আকাশে ও পানিতে) ভাসমান যান সমূহে উঠে বিপদে পড়ে, তখন খালিস্ব/ বিশুদ্ধ ভাবে আল্লাহ‌কে ডাকে, (ভাবে) তার‌ই অধিকার রয়েছে দীন/ জীবন বিধান দেওয়ার [7:54, 12:40]। অতঃপর যখন তাদের‌কে উদ্ধার করে স্থলে নিয়ে আসেন, তখন তারা শিরক করতে শুরু করে।

এই জন‍্যেও অনেকে কুরআন ও হাদীশ অস্বীকার করে।

39:66 নং আয়াহ : আমরা তাদেরকে যা (ওহী) দিয়েছি, সেই বিষয় [4:113, 42:17] অস্বীকার তার করে, যাতে তারা শোষণের [102:1, 104:2] মাধ্যমে ‛বিলাসিতা‌য় মত্ত’ থাকতে পারে। তবে, শীঘ্রই তারা (তাদের পরিণতি) জানতে পারবে [14:30, 39:8, 77:46]।

‛কাবা চত্বর’ মূমীন/ সত্য স্বীকার‌কারীদের কেন্দ্র।

29:67 নং আয়াহ : তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমরা ‛হারাম’ (কাবা চত্বর) সত্য স্বীকারকারীদের কেন্দ্র বানিয়েছি [2:127-129, 22:26-27]। তবুও তারা (মাক্কাহর মুশরিক‌রা) তার আশেপাশে মানুষদের উপর আক্রমণ করছে! আবার‌ কি তারা বাত্বিল/ মিথ্যা‌য় (মূর্তি‌দের) বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর নিয়ামত/ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?? 

আল্লাহর ও ইসলামের মিথ্যাচারের শাস্তি জাহান্নাম।

29:68 নং আয়াহ : আর তার চেয়ে বড় সীমালঙ্ঘন‌কারী আর কে আছে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যাচার/ মিথ‍্যারোপ করে অথবা তাদের প্রতি আগত সত‍্যের (ইসলামের) প্রতি মিথ্যাচার/ মিথ‍্যারোপ করে [6:21]?? কাফির/ সত্য অস্বীকার‌ কারীদের আবাস [22:22] কি জাহান্নাম নয় [35:36, 5:37]??

সফলতার পথ পেতে চাইলে ‛চেষ্টা সাধনা’ করতে হবে।

29:69 নং আয়াহ : এবং যারা আমাদের পথে জিহাদ/ চেষ্টা সাধনা [53:39] করে, অবশ্যই আমরা তাদেরকে আমাদের মহা সফলতার পথ দেখাব [17:9, 34:6]। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্ম‌শীলদের পক্ষেই থাকেন/ আছেন।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

“২৯ নং সূরাহ | সূরাহ আনকাবুত | Surah no 29 | Surah Ankabut |”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন