বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 227 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??
26:1 নং আয়াহ : ত্বা সীন মীম [15:1]।
26:2 নং আয়াহ : ঐ গুলো সুস্পষ্ট কিতাব (লৌহে মাহফুজ্ব/ কুরআনের) আয়াত [31:1-2]।
আল্লাহ নাবী (সা) কে কটাক্ষ করলেন।
26:3 নং আয়াহ : আপনি হয়ত এই চিন্তায় নিজেকে শেষ করে ফেলবেন যে, তারা ইমান আনছে না [18:6, 10:99, 6:106-7, 2:119]।
# আসলে মাক্কাহর নাবী জীবনের প্রথম দিকে কেউই ইসলাম মেনে নিতে চাইছিল না। তাই নাবী (সা) বিরক্ত ও পেরেশান হয়ে বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন (বুখারী, হাদীশ 6982)। তাই এখানে আল্লাহ নাবী (সা) কটাক্ষ করছেন এবং পরের আয়াহতে সান্ত্বনা দিয়ে সত্যটা বোঝাচ্ছেন।
ইসলাম ‛না পালন’ করার স্বাধীনতা।
26:4 নং আয়াহ : যদি আমরা চাইতাম তাহলে মহাশূন্য থেকে বিশেষ কোনও নির্দশন [29:51] নাযিল করতে পারতাম, যাতে তাদের ঘাড় গুলো তার (আল্লাহর) প্রতি অবনত হয়ে যেত [41:40, 32:13, 2:256]।
অন্য নাবীদের উম্মতও আল্লাহ বিধান অস্বীকার করেছিল।
26:5 নং আয়াহ : তাদের কাছে যখনই সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) পক্ষ থেকে এমন কোনও যিকির/ বিধান [43:43-44] আসে নি, যারা তখনই তা হতে শুধুমাত্র মুখ ফিরিয়ে [21:2] নেয় নি [6:34-35, 68:48]।
সত্য অস্বীকারের পরিণতি শুধুই ধ্বংস, আর ধ্বংস।
26:6 নং আয়াহ : সুতরাং তারা সত্য অস্বীকার করেছে, এখন শীঘ্রই (সত্য অস্বীকার করার) পরিণতির সংবাদ তাদের কাছে আসবে [23:44]। (অর্থাৎ) তারা যে বিষয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করত, সেই বিষয়ে [78:40, 84:11-12]
গ্ৰহের মতো গ্ৰহ বা গ্ৰহের বিপরীতে গ্ৰহ রয়েছে।
26:7 নং আয়াহ : তারা কি গ্ৰহ গুলোর প্রতি দৃষ্টি দেয় না?? দিলে দেখতে পেত, সেখানে (মহাবিশ্বে) অগণিত পরিমাণ গ্ৰহ সৃষ্টি করেছি। আর প্রত্যেক গ্ৰহের মতো/ গ্ৰহের বিপরীতে সম্মানজনক গ্ৰহ [51:22] রয়েছে।
26:8 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বিষয় সমূহের মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই সত্য অস্বীকারকারী [12:105]।
26:9 নং আয়াহ : যদিও নিশ্চয়ই আপনার রব/ প্রভু মহা শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
মূসা (আ) কে ফিরআউনের কাছে যাওয়ার নির্দেশ।
26:10 নং আয়াহ : আর (শুনুন) যখন আপনার রব/ প্রভু মূসাকে ডেকে বলেছিলেন- “আপনি অত্যাচারী জাতির [89:9-12] কাছে যান,
26:11 নং আয়াহ : ফিরআউনের [20:43-44]” জাতির কাছে”। তারা কি তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করবে না??
মূসা ও হারূন (আ) ভয় পাচ্ছিলেন, কিন্তু কেন??
26:12 নং আয়াহ : (মূসা) বললেন- “আমার ভয় হয় যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে [20:45],
ভয় পেলে মস্তিষ্ক সংকোচিত হয়।
26:13 নং আয়াহ : আমার মস্তিষ্ক সংকোচিত হচ্ছে, আর না (সঠিক সময়ে) আমার জিহ্বা [20:25-28] চলবে। সুতরাং আপনি হারূনকেও রিসালাত [20:29-32, 19:53] দিন/ রাসূল বানান।
মূসা (আ) এর দ্বিতীয় ভয়।
26:14 নং আয়াহ : আর তাদের কাছে আমার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলাও [28:15-28] রয়েছে। সুতরাং আমার ভয় হচ্ছে যে, তারা আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেবে [28:33]।
আল্লাহ মূসা ও হারূন (আ) কে সান্ত্বনা দিলেন।
26:15 নং আয়াহ : (আল্লাহ) বললেন- “কখনই নয়। আপনারা দুজনে আমাদের নিদর্শন সহ যান। আমরা আপনাদের সঙ্গে শ্রোতা [57:4, 20:46] হিসাবে আছি।
বানী ইসরাঈলের মুক্তির ব্যাবস্থা
26:16 নং আয়াহ : এখন আপনারা দুজন ফিরআউনের কাছে যান। অতঃপর উভয়ে বলবেন- “নিশ্চয়ই আমরা রাব্বিল আলামীন (মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালকের) পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল।
26:17 নং আয়াহ : আপনি বানী ইসরাঈলকে (মুক্তি দিন), আমাদের সঙ্গে (তাদেরকে তাদের স্বদেশে) পাঠানের [28:4-6] ব্যবস্থা করুন” [7:105, 20:47]।
ফিরআউন মূসা (আ) কে কাফির/ অকৃতজ্ঞ বলল।
26:18 নং আয়াহ : (ফিরআউন) বলল- “আমরা কি শৈশবে আমাদের মাঝে রেখে তোমার প্রতিপালন করি নি?? এবং তুমি আমাদের মাঝে কাটিয়েছ জীবন বেশ কয়েক বছর [28:9-14]।
26:19 নং আয়াহ : আর তুমি যে কর্ম করার করেছ, তুমি একজন কাফির/ অকৃতজ্ঞ”।
মূসা (আ) প্রথম জীবনে পথপ্রাপ্ত ছিলেন না।
26:20 নং আয়াহ : (মূসা) বললেন- “সেই সময় আমি যা করেছিলাম (তা না জানার কারণে)। আর আমি তখন পথভ্রষ্টদের একজন ছিলাম।
হিকমা অর্থ ওহীও হয়, তার প্রমাণ।
26:21 নং আয়াহ : অতঃপর আমি তোমাদের ভয়ে এখান থেকে পালিয়ে [28:15] গিয়েছিলাম। অতঃপর আমার রব/ প্রতিপালক আমাকে হিকমা/ ওহী দিলেন [20:11-14, 28:30] দান করলেন। এবং আমাকে রাসুলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।
ফিরআউনের দাবির পেক্ষিতে মূসা (আ) এর জবাব।
26:22 নং আয়াহ : আর আপনি আমার উপর যেই দয়া ও অনুগ্রহের [26:19] কথা বলছেন, তা তো এই- আপনি বানী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছেন, (এটা আপনার দয়া ও অনুগ্রহের নমুনা)”??
‛রাব্বুল আলামীন’সম্পর্কে ফিরআউনের প্রশ্ন।
26:23 নং আয়াহ : (ফিরআউন) বলল- “রাব্বুল আলামীন (মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক) আবার [26:16] কে” [20:49]??
রাব্বুল আলামীন কে??
26:24 নং আয়াহ : (মূসা) বললেন- “তিনি মহাবিশ্ব সমূহ, পৃথিবী ও যা কিছু আছে উভয়ে, সেই সমস্ত কিছুর প্রতিপালক [1:1, । যদি আপনারা ইয়াকীনকারী (দৃঢ় বিশ্বাসী) হয়ে থাকেন”।
মূসা (আ) এর উত্তরে ফিরআউন ব্যঙ্গ করে প্রতিক্রিয়া দিল।
26:25 নং আয়াহ : (ফিরআউন) তার আশেপাশে থাকা (তার মন্ত্রী পরিষদ) দের বলল- “তোমরা কি শুনছ (কি বলছে মূসা)”??
26:26 নং আয়াহ : (মূসা) বললেন- “তিনি তোমাদের রব/ প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও রব/ প্রতিপালক, যারা অতিক্রান্ত হয়েছে।
ফিরআউন মূসা (আ) কে ‛পাগল’ বললেন।
26:27 নং আয়াহ : (ফিরআউন) বলল- তোমাদের কাছে প্রেরিত রাসূলটি (১) অবশ্যই পাগল [51:39, 51:52]।
১) এখানে দুজন রাসূল ছিলেন, মূসা (আ) ও হারূন (আ)। তবুও ফিরআউন তাদেরকে ‛একজন’ গণ্য করলেন কেন?? আসলে মূসা (আ) ও হারূন (আ) এর বার্তা ছিল একই, এখানে তাদেরকে একজন গণ্য করা হয়েছে। এটা কুরআনের একটা সাধারণ নিয়ম। বিস্তারিত 73:15 থেকে জেনে নিন।
‛প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে’ পৃথিবী বিভক্তির ভবিষ্যৎ বাণী।
26:28 নং আয়াহ : (মূসা এও) বললেন- “(শুশু আজ নয়, ভবিষ্যতেও) তিনিই থাকবেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের রব/ প্রভু (১)। আর যা উভয়ের মধ্যে আছে, সেই সবেরও। যদি আপনারা মস্তিষ্কের ব্যবহার করেন, (তাহলে বুঝতে পারতেন)।
১) অর্থাৎ যদিও পাশ্চাত্যের দেশ গুলো নিজেদের রব/ প্রভু মনে করবে, তবুও তাদের রব/ প্রভু আল্লাহই, যিনি মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক।
ফিরআউন নিজেকে ‛ইলাহা’ মনে করত।
26:29 নং আয়াহ : (ফিরআউন) বলল- “যদি তুমি আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে ইলাহা (মৌলিক বিধানদাতা) হিসাবে গ্ৰহণ [79:24, 28:38] কর, তাহলে আমি তোমাকে কারাগারে বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত করব।
মূসা (আ) ফিরআউনকে নিদর্শন দেখাতে চাইলেন।
26:30 নং আয়াহ : (মূসা) বললেন- “যদি আপনাদের কাছে সুস্পষ্ট কিছু (নিদর্শন) নিয়ে আসি [17:101] তবুও কি (অস্বীকার করবেন)”??
ফিরআউন নিদর্শন দেখাতে বলল।
26:31 নং আয়াহ : (ফিরআউন) বলল- “তবে নিসে এস তা (নিদর্শন), যদি হয়ে থাক সত্যবাদী”।
মূসা (আ) দুটি নিদর্শন পেশ করলেন।
26:32 নং আয়াহ : অতঃপর (মূসা) তার লাঠি ছুঁড়ে দিল, তখনই তা হয়ে গেল [20:17-20, 7:107] এক সুস্পষ্ট অজগর/ এনাকোন্ডা।
26:33 নং আয়াহ : এবং (মূসা, বগল থেকে) তার হাত বের করল, তখনই তা দর্শকদের জন্য হয়ে গেল চকচকে উজ্জ্বল সাদা [20:22, 7:108]।
ফিরআউন মূসা (আ) কে ‛জাদুকর’ বলল।
26:34 নং আয়াহ : (ফিরআউন) তার চারপাশে থাকা (মন্ত্রী পরিষদদের) কে উদেশ্য করে বলল- “এ তো (মূসা) বিচক্ষণ/ সুদক্ষ/ জ্ঞানী জাদুকর” [51:39, 7:109]।
ফিরআউন মূসা (আ) এর বিরুদ্ধে বানী ইসরাঈলকে ভড়কাচ্ছে।
26:35 নং আয়াহ : সে (মূসা) তার জাদুর সাহায্যে তোমাদেরকে দেশ থেকে বের [20:57] করতে চায়। অতঃপর (হে মন্ত্রী পরিষদ) তোমাদের [7:110] পরামর্শ কি?”?
# মূসা (আ) দাবি ছিল- বানী ইসরাঈলকে আমার সঙ্গে যেতে দিন (7:105), তাদেরকে দিয়ে আর গোলামী করাবেন না। কিন্তু ফিরআউন বলছে- “মূসা তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে চায়”। এখানে তোমাদের বলতে, কাদের?? নিশ্চয়ই বানী ইসরাঈলের কথা বলা হচ্ছে। এর মানে, ফিরআউন তার মন্ত্রী পরিষদে বানী ইসরাঈলের কয়েকজনকে রেখেছিল। যেমন, বর্তমান ভারতের ‛বিজেপি’ নামক রাজনৈতিক দল তাদের দলে 2-1 জন মুসলিমকে রেখেছে (এখন 2025, ডিসেম্বর)।
মন্ত্রী পরিষদরা ফিরআউনে পরামর্শ দিল।
26:36 নং আয়াহ : তারা (মন্ত্রী পরিষদ) বলল- “তাকে এবং তার ভাইকে অবকাশ দিন। এবং মাদাঈন/ শহরে লোক পাঠান [7:111, 20:58]।
26:37 নং আয়াহ : তারা আপনার কাছে বিচক্ষণ/ সুদক্ষ/ জ্ঞানী জাদুকর নিসে আসুক” [7:112]।
নির্ধারিত দিনে জাদুকররা একত্রিত হল।
26:38 নং আয়াহ : অতঃপর নির্ধারিত দিনের নিদিষ্ট সময়ে একত্রিত করা হল জাদুকরদের [20:59]।
সমাবেশে জনসাধারণ অংশগ্রহণ করন হল।
26:39 নং আয়াহ : আর সাধারণ মানুষকে বলা হল- “তোমরাও কি সমাবেশে অংশ নেবে”??
26:40 নং আয়াহ : (জনসাধারণ বলল) আমরা জাদুকরদের ধর্মের অনুসরণ করব, যদি তারা বিজয়ী হয়।
ফিরআউন জাদুকরদের জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করল।
26:41 নং আয়াহ : অতঃপর যখন জাদুকররা সমাবেশে একত্রিত হল, তখন ফিরআউনের উদেশ্যে বলল- আমরা যদি বিজয়ী হই, তাহলে কি আমাদের জন্য পুরষ্কার থাকবে তো [7:113]??
26:42 নং আয়াহ : (ফিরআউন) বলল- “হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তোমরা আমার ঘনিষ্ঠ বলে গণ্য হবে” [7:114]।
মূসা (আ) জাদুকরদেরকে আগে সুযোগ দিলেন।
26:43 নং আয়াহ : মূসা তাদের (জাদুকরদের) উদেশ্যে বললেন- “তোমরা যা [7:1115-1116] কিছু নিক্ষেপ করতে চাও নিক্ষেপ করতে পার”।
জাদুকরদের আত্মবিশ্বাস ছিল সুদৃঢ়।
26:44 নং আয়াহ : অতঃপর তারা ছুঁড়ে দিল তাদের দড়ি ও লাঠি। আর বলল- “ফিরআউনের ইজ্জত/ মর্যাদার শপথ, নিশ্চয়ই আমরাই বিজয়ী হব”।
# জাদুকররা দড়ি ও লাঠি নিক্ষেপ করেছিল, তাদের দড়ি ও লাঠি সাপে পরিণত হয়েছিল। জাদুকরদের জাদু দেখে মূসা (আ) ভয় পেয়ে ছিলেন [20:66-67]। তারপর আল্লাহ তাকে সাহস দেন, যা এখানে উল্লেখ না থাকলেও উল্লেখ রয়েছে তে 20:68 তে। অর্থাৎ 26:44 এর পরবর্তী বর্ণনা রয়েছে 20:68:69 তে।
মূসা (আ) এর লাঠি অজগর/ এনাকোন্ডা হয়ে সব খেয়ে নিল।
26:45 নং আয়াহ : অতঃপর মূসা তার লাঠি ছুঁড়ে দিল (তা অজগর/ এনাকোন্ডা হয়ে গেল), তখন তারা (জাদুকররা) কৃত্রিম যা কিছু সৃষ্টি করে ছিল, সেগুলো খেয়ে ফেলতে লাগল।
জাদুকররা ‛সত্য স্বীকার’ করতে বাধ্য হল।
26:46 নং আয়াহ : তখন জাদুকররা [7:120, 20:70] সিজদায় পড়ে গেল।
26:47 নং আয়াহ : তারা বলল- “আমরা বিশ্বাস করে নিলাম রাব্বিল আলামীন/ মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালককে [1:1, 7:121]।
26:48 নং আয়াহ : (যিনি) মূসা ও হারূনের [20:70, 7:122] প্রতিপালক”।
জাদুকররা ইমান আনায় ফিরআউনের ধমকি।
26:49 নং আয়াহ : (ফিরআউন) বলল- “আমি অনুমতি দিই নি, তার পূর্বেই ‛সত্য স্বীকার’ করে নিলে! নিশ্চয়ই সে-ই (মূসা) তোমাদের সর্বোচ্চ নেতা, যে তোমাদেরকে জাদু শিখিয়েছে! এতএব শীগ্রই এর পরিণতি জানতে পারবে যে, অবশ্যই আমি তোমাদের হাত গুলো ও পা গুলোকে কাটব বিপরীত দিক থেকে এবং অবশ্যই তোমাদের সবাইকে শূলে/ গাছে চড়াব [7:123-124, 20:70:71]।
জাদুকরদের ‛ইমানপূর্ণ’ জবাব।
26:50 নং আয়াহ : তারা বলল- “কোনও ক্ষতি নেই, নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের দিকেই তো ফিরে [7:125, 2:156] যাব (এতে ভয়ের কি আছে)??
26:51 নং আয়াহ : আমরা আশাবাদী যে, নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক আমাদের ভুলত্রুটি গুলোকে ক্ষমা করবেন [15:49, 39:53]। এজন্য যে, আমরা হলাম (এখানে উপস্থিতদের) মধ্যে প্রথম [7:126] মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী”।
# এখানে শেষ নয়, জাদুকরদের আরও বক্তব্য রয়েছে, যা এখানে উল্লেখ হয় নি, যা উল্লেখ রয়েছে 20:72-76 এ। যান, গিয়ে একবার দেখে আসুন। আপনার ইমান বৃদ্ধি পাবে, ইনশাআল্লাহ। আমার ইমান বৃদ্ধি পেল, সুবহানআল্লাহ।
বনী ইসরাঈলকে মুক্তির জন্য মূসা (আ) কে ওহী দেওয়া হল।
26:52 নং আয়াহ : আর আমরা মূসার কাছে ওহী প্রেরণ করলাম [20:77] যে, রাতে আমার বান্দাদের নিয়ে বের হয়ে যাও। নিশ্চয়ই তারা (ফিরআউন বাহিনী) তোমাদের পিছু নেবে।
ফিরআউন বানী ইসরাঈলকে আঁটকানোর চেষ্টা শুরু করল।
26:53 নং আয়াহ : অতঃপর ফিরআউন শহর গুলোতে সৈন সংগ্ৰহের জন্য ‛সৈন্য সংগ্রহকারী দল’ প্রেরণ করল।
ফিরআউন ছিল আত্মবিশ্বাসী।
26:54 নং আয়াহ : (এই বলে প্রেরণ করল যে), তারা অতি অল্প মানুষের ক্ষুদ্র একটি দল।
26:55 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তারা আমাদের মধ্যে রাগ সৃষ্টি করেছে।
26:56 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই আমরা সবাই সর্বদা সতর্ক (শাসক গোষ্ঠী)।
মিশর ছিল নদনদী ও ঝর্ণা সমূহে ভরা ভূখন্ড।
26:57 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা তাদের (শাসক গোষ্ঠী) কে বের করলাম সুসজ্জিত বাগান ও ঝর্ণা সমূহ (১) থেকে [43:51]।
১) এই মাত্র কিছুদিন পূর্বে এই সত্যটি বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন। যদিও গত 200 বছর ধরেই বিজ্ঞানীরা ভাবছিলেন যে, মিশরের মতো মরুভূমিতে এত উন্নত সভ্যতা কিভাবে তৈরি হয়েছিল! সুতরাং অনুমান তো ছিলই। এখন ভূ বিজ্ঞানীরা প্রমাণও পেয়েছেন। গুগলে গিয়ে সার্চ করে দেখে নিন যে, একটা নদী তো Great Pyramids of Giza’র পাশ দিয়েই প্রবাহিত হতো। আর ঐ নদী দিয়েই পিরামিডের পাথর বয়ে আনা হয়েছিল। যাইহোক, পিরামিড সম্পর্কে কুরআনেও কথা বলা হয়েছে বেশ কয়েক জায়গায়। যেমন 11:100, 38:12, 89:10 আয়াতে।
26:58 নং আয়াহ : ধনভাণ্ডার ও মর্যদা সম্পন্ন প্রাসাদ গুলো থেকে।
26:59 নং আয়াহ : এমনই ঘটেছিল। এবং আমরা বানী ইসরাঈলকে তার (মিশরের) উত্তরাধিকারী [17:104] বানিয়েছিলাম (১)।
১) মানে, বানী ইসরাঈল Gulf of Suez অতিক্রম করে সিনাই উপত্যকায় পৌঁছে যায়, ফিরআউন ডুবে যায় (26:63)। তারপর বানী ইসরাঈল ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে যায় নি, তাদেরকে মিশরেই কিছু সময় থাকতে বলা হয়েছিল।
ফিরআউন মূসা (আ) সহ বানী ইসরাঈলের পিছু নিল।
26:60 নং আয়াহ : অতঃপর তারা (ফিরআউনের সৈন্য দল) তাদের পিছু নিল সূর্য উদয়ের সময়ে।
ফিরআউন ও তার দলবল বানী ইসরাঈলের প্রতিক্রিয়া।
26:61 নং আয়াহ : অতঃপর যখন দুই দল একে অপরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গী সাথীরা বলল- “নিশ্চয়ই আমরা ‛ধরা পড়ে’ গেলাম”।
বানী ইসরাঈলে মূসা (আ) এর জবাব।
26:62 নং আয়াহ : (মূসা) বলল- “কখনও না, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক ‛আমার সঙ্গে’ [57:4] আছেন। আমার প্রতিপালক শীঘ্রই আমাকে পথ দেখাবেন/ উপায় বলে দেবেন।
# মূসা (আ) আরও বক্তব্য রেখেছিলেন, যা এখানে উল্লেখ হয় নি। তবে তা রয়েছে 7:128-129 এ।
লোহিত সাগর লাঠির আঘাতে যেভাবে বিভক্ত হল।
26:63 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা মূসার কাছে ওহী করলাম যে, “আপনার লাঠি দিয়ে (লোহিত) সাগরে (১) আঘাত করুন”। অতঃপর সমুদ্র দুভাগে বিভক্ত হল, আর প্রতি ভাগ দেখতে বড় পাহাড়ের মতো হয়ে গেল।
১) লোহিত সাগর বলতে! আসলে এখন লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে সুয়েজ খাল দ্বারা। তখন সুয়েজ খাল ছিল না। তখন মূসা (আ) Gulf of Suez এর মধ্যবর্তী স্থানে মিশরের মূল ভূখণ্ডে অবস্থান করছিলেন। তাদের কাছে একমাত্র উপায় ছিল Gulf of Suez অতিক্রম করে সিনাই উপত্যকায় পৌঁছে যাওয়া। আর সেটাই হয়েছিল।
ফিরআউনের দলবল মূসা (আ) এর কাছাকাছি এল।
26:64 নং আয়াহ : এবং আমরা শেষ (ফিরআউনের) দলটিকে নিকটে আনলাম।
মূসা (আ) সহ বানী ইসরাঈল লোহিত সাগর অতিক্রম করলেন।
26:65 নং আয়াহ : এবং আমরা মূসা ও তার সমস্ত সঙ্গী সাথীদের উদ্ধার করলাম।
ফিরআউন দলবল সহ ডুবে গিয়েছিল।
26:66 নং আয়াহ : তারপর আমরা ডুবিয়ে দিলাম শেষ (ফিরআউনের) দলটিকে [10:90-92]।
# অর্থাৎ বানী ইসরাঈলকে নিয়ে মূসা (আ) এর মিশর ত্যাগ ছিল একটি নাটক। বলা ভাল, এটা ছিল আল্লাহর কৌশল (3:54, 52:42)। আল্লাহ ফিরআউনকে শাস্তি দিতে চাইছিলেন। কেননা, ফিরআউন বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়াত (89:11-13)। আর আল্লাহ সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না (28:77)। আল্লাহ কি ভিন্ন ভাবে তাকে শাস্তি দিতে পারতেন না?? পারতেন, তবে তিনি কিভাবে শাস্তি দেবেন, এটা তার সিদ্ধান্ত (85:16)।
26:67 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। কিন্তু তাদের অনেকেই ‛সত্য স্বীকারকারী’ নয়।
আল্লাহ সীমাহীন শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
26:68 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই আপনার রব/ প্রতিপালক সীমাহীন শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
ইবরাহীম (আ) সম্পর্কে তথ্য পরিবেশিত হচ্ছে।
26:69 নং আয়াহ : যাইহোক তাদেরকে পাঠ করে শুনিয়ে দিন ইবরাহীম সম্পর্কিত নাবা/ তথ্য।
ইবরাহীম (আ) তার জাতিকে ‛উপাসনা’ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন।
26:70 নং আয়াহ : যখন তিনি (ইবরাহীম) তার পিতা ও তার জাতিকে বলেছিলেন- “তোমরা কার ইবাদত/ উপাসনা করছ”??
তাঁর জাতির উত্তর- আমরা মূর্তিদের ‛উপাসনা’ করি।
26:71 নং আয়াহ : তারা বলল- “আমরা বেশ কিছু মূর্তির ইবাদত উপাসনা করি। অতঃপর আমরা তাদেরকে নিষ্ঠার সঙ্গে আঁকড়ে ধরে থাকি” [6:22-23, 30:35]।
তাঁর পরের প্রশ্ন- মূর্তিরা ‛ডাক’ শোনে??
26:72 নং আয়াহ : (ইবরাহীম) বললেন- “যখন তোমরা তাদেরকে ডাক, তখন তারা কি তোমাদের ডাক শুনতে পায় [46:4-5]??
তাঁর পরের প্রশ্ন- মূর্তিরা ‛উপকার বা ক্ষতি’ করতে পারে??
26:73 নং আয়াহ : অথবা তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি [21:66] করতে পারে” [25:3]??
ইবরাহীম (আ) এর জাতির উত্তর ছিল- ‛বাপদাদা’।
26:74 নং আয়াহ : তারা বলল- “না বরং আমাদের বাপদাদা এরকম করতেন [7:28, 2:170]”।
ইবরাহীম (আ) ‛উপাসনা’ সম্পর্কে দ্বিতীয় প্রশ্ন করলেন।
26:75 নং আয়াহ : (ইবরাহীম) বললেন- “তোমরা তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের ইবাদত/ উপাসনা কর??
26:76 নং আয়াহ : তোমরা ও তোমাদের বাপদাদারা, যারা গত হয়েছে [21:67, 37:95]??
মূর্তিরা (মিথ্যা উপাস্যরা) মানুষ জাতির শত্রু।
26:77 নং আয়াহ : মনে রেখ, নিশ্চয়ই তারা (মূর্তিরা) আমার শত্রু, মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক ছাড়া।
# মূর্তিরা ‛কেন ও কিভাবে’ মানুষের শত্রু?? উত্তর রয়েছে যজুর্বেদের 40:9 এ। বলা হচ্ছে- “যারা প্রাকৃতিক বস্তু সমূহের পূজা করে, তারা অন্ধকারে প্রবেশ করে। আর যারা ‛মানুষের তৈরি বস্তুর’ (মূর্তির) পূজা করে, তারা গভীর অন্ধকারে প্রবেশ করে”। এই বক্তব্য রয়েছে ঈশ উপনিষদের 9 ও 12 নং মন্ত্রে। সুতরাং একজন বুদ্ধিমান মানুষ মূর্তিদের শত্রুই তো ভাববে!
যিনি সৃষ্টি করবেন, পথ তিনিই দেখাবেন, এটাই যৌক্তিক।
26:78 নং আয়াহ : যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে পথ [92:12] দেখিয়েছেন [19:43]।
মানব শরীরে খাদ্য ও পানি আলাদা ভাবে শোষিত হয়।
26:79 নং আয়াহ : এবং (আল্লাহ) তিনি, যিনি আমার ‛খাদ্য’ ও ‛পানি’ শোষণের ব্যবস্থা করেছেন।
# আসলে আমাদের শরীরে খাদ্য ও পানি আলাদা ভাবে শোষিত হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয় খাদ্য, বৃহদান্ত্রে শোষিত হয় পানি। এখানে সেটাই বলা হচ্ছে। বিস্তারিত 16:66 তে উল্লেখ করা হয়েছে গবাদি পশুর দুধ উৎপাদন প্রসঙ্গে, গিয়ে দেখে আসুন।
আল্লাহ রোগ দেন না, বরং আল্লাহ সুস্থ করেন।
26:80 নং আয়াহ : এবং যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই সুস্থতা (১) প্রদান করেন।
১) আল্লাহ কিভাবে সুস্থ করেন?? আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ এবং রোগকে হারিয়ে আমাদের শরীর ‛নিজে নিজেই’ সুস্থ হতে পারে। আর এটা আল্লাহর তৈরি ব্যবস্থা। সেটাই এখানে বলা হচ্ছে।
‛পুনরুত্থান’ প্রসঙ্গে ইবরাহীম (আ) এর বক্তব্য।
26:81 নং আয়াহ : এবং তিনিই আমাকে মৃত্যু দেবেন, তারপর আমাকে জীবিতও করবেন [2:28, 69:16-17]।
# বর্তমানে তাওরাতে ‛ইবরাহীম (আ) এর’ বিস্তারিত জীবনী রয়েছে। তবুও বর্তমান তাওরাতে পুনরুত্থান সম্পর্কে কোনও বক্তব্যই পাওয়া যায় না। কিন্তু কেন?? কারণ, তাওরাত বিকৃত। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যান 87:17-19 তে।
ইবরাহীম (আ) এরও ভুলত্রুটি হোত।
26:82 নং আয়াহ : এবং (আল্লাহ তিনিই) যার কাছে আমি আশা করি যে, তিনি আমার ভুলত্রুটি গুলো বিচার দিবসে ক্ষমা [39:53] করবেন।
# নাবী (সা) এরও ভুলত্রুটি হোত। যদিও অনেকেই তা অস্বীকার করেন। কিন্তু এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 47:19 এ। যান, গিয়ে দেখে আসুন। এছাড়াও বিভিন্ন হাদীশও রয়েছে। যেমন, বুখারী 401 নং হাদীশ।
ইবরাহীম (আ) ‛বিজ্ঞানের জ্ঞান’ প্রার্থনা করছেন।
26:83 নং আয়াহ : (তারপর বললেন) হে আমার প্রভু, আমাকে ‛বিজ্ঞানের জ্ঞান’ প্রদান করুন এবং আমাকে মিলিত করুন পূণ্যবাদদের সঙ্গে।
ইবরাহীম (আ) ভবিষ্যতের জন্য সুখ্যাতি চাইছেন।
26:84 নং আয়াহ : আর পরবর্তীদের মধ্যে ‛সত্যিকার অর্থে’ আমার সুখ্যাতি [37:108] ছড়িয়ে দিন।
# এই ধরণের একটি আয়াহ/ বক্তব্য রয়েছে 94:4 এ। যা মুহাম্মাদ (সা) এর পেক্ষিতে এসেছে। যান, গিয়ে একবার দেখে আসুন।
ইবরাহীম (আ) নিজের জন্য ‛জান্নাত’ প্রার্থনা করছেন।
26:85 নং আয়াহ : আর আমাকে নিয়ামতে পূর্ণ জান্নাতের ওয়ারিশদের একজন বানিয়ে দিন।
ইবরাহীম (আ) ‛মুশরিক’ পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।
26:86 নং আয়াহ : এবং ক্ষমা করুন আমার পিতাকে, নিশ্চয়ই তিনি পথভ্রষ্টদের একজন [19:47, 14:41]।
# ইবরাহীম (আ) তার মুশরিক পিতার জন্য দুয়া করলেও আল্লাহ মুশরিকদের জন্য ‛ক্ষমা প্রার্থনা’ করতে নিষেধ করেছেন 9:113-114 তে। সুতরাং যা আল্লাহ বিশেষ ভাবে ‛নিষেধ’ করেছেন, তা আর করা যাবে না। তাহলে ইবরাহীম (আ) কেন করলেন?? 9:113-114 তে যান, উত্তর রয়েছে ওখানে।
বিচার দিবসে ‛অপমান’ থেকে বাঁচতে ইবরাহীম (আ) এর দুয়া।
26:87 নং আয়াহ : আর আমাকে অপমানিত করবেন না পুনরুত্থান দিবসে।
বিচার দিবসে ধনসম্পদ ও সন্তান সন্ততি কাজে আসবে না।
26:88 নং আয়াহ : সেদিন না উপকারে আসবে ধনসম্পদ, আর না সন্তান সন্ততি” [58:17]।
# ইবরাহীম (আ) বক্তব্য এখানে শেষ। এরপর আল্লাহ নিজের বক্তব্য রাখছেন।
জান্নাত পাওয়ার অন্যতম শর্ত- ‛শান্তিপূর্ণ মস্তিষ্ক’।
26:89 নং আয়াহ : তবে যে আসবে ‛শান্তিপূর্ণ মস্তিষ্ক’ নিয়ে [28:83, 25:63], তার [89:27-28] ব্যাপারটা [50:33] ভিন্ন (তার এত দুয়া করার প্রয়োজন (১) নেই)।
# দুটি হাদীশ দেখাই, দেখুন “উগ্ৰ, ঝগড়াটে ও অহংকারী ব্যক্তিরা জাহান্নামী” (বুখারী, হাদীশ 6657)। আরও একটি হাদীশ দেখুন- “নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন”(হাকাম, হাদীশ 435)।
১) “তাহলে কি ইবরাহীম (আ) এর মস্তিষ্ক শান্তিপূর্ণ ছিল না”?? ছিল, তবুও আল্লাহ তা বলে দিলেন। “ছিল তো বললেন, প্রমাণ কোথায়”?? ভাই, এই কুরআনেই আছে, আপনাকে যেতে 37:84 তে, যান।
জান্নাতকে ‛একত্রিত পৃণ্ডের’ নিকটে আনা হবে।
26:90 নং আয়াহ : এবং জান্নাতকে মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের নিকটে আনা (১) হবে [50:31, 81:13]।
১) কেন?? আমরা জানি- আমাদের মহাবিশ্ব সংকোচিত হবে, সমস্ত গ্যালাক্সি গুলো মহাবিশ্বের কেন্দ্রে এসে মিলিত হবে। তৈরি হবে একত্রিত পৃণ্ড, এই পৃণ্ডের উপরেই হবে পুনরুত্থান (69:16-17, 89:21-22)। এও জানি- আমাদের মহাবিশ্বই দ্বিতীয় ‛বিগ ব্যাঙ’ এর মধ্যে (21:104) দিয়ে জাহান্নামে পরিণত হবে (89:23, 19:71-72, 77:31-33)। তবে দ্বিতীয় ‛বিগ ব্যাঙ’ হওয়ার আগেই একত্রিত পৃণ্ডের উপর বিচার সম্পন্ন করা হবে, জান্নাতকে নিকটে এনে জান্নাতীদেরকে জান্নাতে প্রেরণ করা হবে।
একত্রিত পৃণ্ড জাহান্নামে পরিণত হবে।
26:91 নং আয়াহ : এবং পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নাম তৈরি করে দেওয়া হবে।
মুশরিকদেরকে যে যে প্রশ্ন করা হবে।
26:92 নং আয়াহ : আর তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে- “তোমরা যাদের ইবাদত/ উপাসনা করতে, তারা কোথায়” [6:22, 40:73]??
26:93 নং আয়াহ : আল্লাহকে বাদ দিয়ে (তোমরা যাদের উপাসনা করতে, তারা কোথায়)?? তারা কি তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে?? অথবা তারা নিজেরা নিজেদেরকে বাঁচাতে পারে [22:73]??
মিথ্যা ঈশ্বর দাবিদার, তাদের উপাসকদের পরিণতি জাহান্নাম।
26:94 নং আয়াহ : অতঃপর তাদেরকে (মিথ্যা ঈশ্বর দাবিদারকে) অধোমুখে নিক্ষেপ [21:98-99, 37:22-23] করা হবে তার (জাহান্নামের) মধ্যে এবং পথভ্রষ্ট (উপাসক) দেরকেও।
# মিথ্যা ঈশ্বর বলতে! ঈশা (আ) এর মতো?? না, তিনি নিজেকে ঈশ্বর দাবি করেন নি। এখানে “মিথ্যা ঈশ্বর” দাবিদারদের কথা বলা হচ্ছে। যেমন?? যেমন, শ্রী সত্য সাঈ।
ইবলীশের বাহিনীর পরিণতিও জাহান্নাম।
26:95 নং আয়াহ : এবং ইবলীশের সমস্ত বাহিনী গুলোকেও [58:19, 7:27]।
মিথ্যা ঈশ্বর ও তাদের উপাসকদের মধ্যে ঝগড়া হবে।
26:96 নং আয়াহ : তারা তার (জাহান্নামের) মধ্যে ঝগড়া করতে থাকবে।
# এই রকম ঝগড়ার বর্ণনা 37:27-34 এ রয়েছে। তবে প্রসঙ্গটা ভিন্ন। চাইলে, গিয়ে একবার জাহান্নামীদের ঝগড়াটা দেখে আসুন। আমি আনন্দ পেয়েছি, আপনিও পাবেন।
মিথ্যা ঈশ্বরের উপাসকরা ‛ভুল স্বীকার’ করবে।
26:97 নং আয়াহ : (বলবে) “আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই আমরা ছিলাম সুস্পষ্ট [40:11] বিভ্রান্তির মধ্যে [67:11, 89:23]
26:98 নং আয়াহ : আমরা তোমাদের (মিথ্যা ঈশ্বরদের) কে মনে করতাম মহাবিশ্ব সমূহের রব/ প্রতিপালকের সমকক্ষ [40:12]।
মিথ্যা ঈশ্বরের উপাসকরা আল্লাহকে যা বলবে।
26:99 নং আয়াহ : এবং আমাদেরকে এই অপরাধী (মিথ্যা ঈশ্বর দাবিদার) গুলো ছাড়া অন্য কেউ পথভ্রষ্ট করেনি [16:86]।
মিথ্যা ঈশ্বরের উপাসকরা নিজেদের মধ্যে আফসোস করবে।
26:100 নং আয়াহ : এতএব আমাদের জন্য ‛শাফায়াত কারীদের অন্তর্ভুক্ত’ [7:53, 39:43] কোনও শাফায়াতকারী [10:18, 40:18] নেই,
26:101 নং আয়াহ : আর না [70:10, 43:67] আছে কোনও একজন সত্যিকার বন্ধু/ রক্ষাকারী [69:35 25:28, 40:18]।
মিথ্যা ঈশ্বরের উপাসকরা ইহজীবনে ফিরে আসতে চাইবে।
26:102 নং আয়াহ : যদি একবার পূর্বের জীবনে ফিরে যেতে পারতাম, তাহলে আমরা মূমীনদের [6:27-28, 23:99-100] অন্তর্ভুক্ত হতাম।
26:103 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। কিন্তু তাদের অনেকেই ‛সত্য স্বীকারকারী’ নয়।
26:104 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই আপনার রব/ প্রতিপালক সীমাহীন শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
কুরআনের ব্যাকারণগত ভুল।
26:105 নং আয়াহ : নূহের জাতি রাসূলদেরকে (১) অস্বীকার করেছিল।
১) প্রশ্ন হবে- “কুরআন থেকে জানতে পারি যে, নূহ (আ) এর জাতির কাছে শুধু একজনই রাসূল গিয়েছিল, আর তিনি হলেন নূহ (আ) নিজেই। তাহলে এখানে বহু রাসূলের কথা বলা হচ্ছে কেন?? এটা তো ব্যাকারণগত ভুল”। না, ভুল নয়। বরং এটা কুরআনের ভাষাগত অলংকার, সৌন্দর্য্য। আর কুরআনে সর্বত্রই তা দেখা যাবে। কেমন?? আপনাকে যেতে হবে 73:15 তে, ওখানে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
কাফির/ অমুসলিমও মুসলিমদের ভাই
26:106 নং আয়াহ : যখন ‛তাদের ভাই নূহ’ তাদেরকে বলেছিলেন- “তোমরা কি তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন [49:13] করবে [23:23] না??
# আল্লাহ এখানে কাফিরদেরকে ‛নূহ (আ) এর ভাই’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নূহ (আ) পাগল ছিলেন না, যদিও তাকে পাগল বলা হোত।
26:107 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য ‛বাস্তবিকই’ (১) একজন রাসূল।
১) এমন কথা নূহ (আ) কেন বললেন?? কারণ, তাকে পাগল বলা হচ্ছিল। তাই তিনি বললেন- “আমি তোমাদের জন্য ‛বাস্তবিকই’ একজন রাসূল”। অর্থাৎ আমি পাগল নই (23:25, 54:9)। আর প্রত্যেক নাবী রাসূলকে পাগল বলা হয়েছে (51:52)।
26:108 নং আয়াহ : এতএব তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর [49:13] এবং আমার অনুসরণ কর [26:110, 71:3]।
নূহ (আ) কোনও প্রতিদান/ পারিশ্রমিক চান নি।
26:109 নং আয়াহ : আর আমি তোমাদের থেকে কোনও প্রতিদান/ পারিশ্রমিক চাই না [38:86]। আমার প্রতিদান শুধু মহাবিশ্ব সমূহের রব/ প্রভুর কাছে জমা থাকল।
26:110 নং আয়াহ : এতএব তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর [49:13] আর আমার অনুসরণ কর” [26:108, 71:3]।
নূহ (আ) এর যুগে বর্ণভেদ ও জাতিভেদ প্রথা ছিল।
26:111 নং আয়াহ : (তারা) বলল- “আমরা কি ‛তোমাকে সত্যকে বলে’ গণ্য করব, অথচ তোমাকে অনুসরণ করছে শুধু ‛নিচু জাতের ছোট কাজ করা গরীব’ [49:13, 53:32] মানুষরা”!
নূহ (আ) এর জবাব
26:112 নং আয়াহ : (নূহ) বললেন- “তারা কি কাজ করে তা আমার জানার প্রয়োজন নেই”।
26:113 নং আয়াহ : (যদি তারা ভুল কাজ/ পেশায় গিয়ে থাকে, তাহলে) তাদের থেকে হিসাব গ্ৰহণ করা আমার রব/ প্রভুর দায়িত্ব [4:6, 14:51। যদি তোমরা বুঝতে!
26:114 নং আয়াহ : আর আমি মূমীনদেরকে তাড়িয়ে দিতে পারি না [6:52]।
নূহ (আ) নিজের অবস্থান সুস্পষ্ট করলেন।
26:115 নং আয়াহ : আর আমি তো সুস্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া কিছুই নই” [71:2]।
# কেন নিজের অবস্থান ‛সুস্পষ্ট’ করতে হল?? উত্তর রয়েছে 23:24 তে।
নূহ (আ) কে পাথর মেরে হত্যার ধমকি দেওয়া হল।
26:116 নং আয়াহ : (তারা) বলল- “যদি তুমি বিরত না হও, তাহলে তোমাকে ‛পাথরের আঘাতে’ [36:18] নিহতদের মধ্যে একজন হতে হবে (অর্থাৎ তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে)।
নূহ (আ) এর ‛চূড়ান্ত’ প্রার্থনা।
26:117 নং আয়াহ : (নূহ) বললেন- “হে আমার রব/ প্রভু, নিশ্চয়ই আমার জাতি আমাকে অস্বীকার করেছে/ মিথ্যাবাদী বলছে [23:26]।
26:118 নং আয়াহ : এতএব আমার ও তাদের মধ্যে মিমাংসা করে দিন, চূড়ান্ত মিমাংসা। আর আমাকে আমাকে রক্ষা করুন এবং আমার সঙ্গে যে সমস্ত মূমীন আছে, তাদেরকেও” [71:28]।
# এখানে নূহ (আ) এর সম্পূর্ণ বক্তব্যটি আল্লাহ তুলে আনেন নি, কিছু বাদ রয়েছে। এটা বিস্তারিত রয়েছে 71:5-28 এ।
আল্লাহ নূহ (আ) এর প্রার্থনা কবুল করলেন।
26:119 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা বোঝাই নৌকায় তাকে রক্ষা করলাম এবং আর তার সঙ্গে যারা ছিল, তাদেরকেও।
26:120 নং আয়াহ : তারপর আমরা ডুবিয়ে দিলাম অন্যান্য সবাইকে।
# তবে বহু বর্ণনা বাদ পড়েছে, যা বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে 23:27-28, 11:36-38 এ।
26:121 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। কিন্তু তাদের অনেকেই ‛সত্য স্বীকারকারী’ নয়।
26:122 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই আপনার রব/ প্রতিপালক সীমাহীন শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
কুরআনের ব্যাকারণগত ভুল।
26:123 নং আয়াহ : আদ জাতি রাসুলদেরকে অস্বীকার করেছিল [26:105, 11:59, 73:15]।
কাফির/ অমুসলিমও মুসলিমদের ভাই।
26:124 নং আয়াহ : যখন ‛তাদের ভাই হুদ’ তাদেরকে বলেছিল- “তোমরা কি তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন [49:13] করবে না” [26:106]??
হুদ (আ) পাগল ছিলেন না, যদিও তাকে পাগল বলা হোত।
26:125 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য বাস্তবিকই [26:107] একজন রাসূল [51:52]।
26:126 নং আয়াহ : এতএব তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন [49:13] কর এবং আমার অনুসরণ কর [36:21]।
হুদ (আ) কোনও প্রতিদান/ পারিশ্রমিক চান নি।
26:127 নং আয়াহ : আর আমি তোমাদের থেকে কোনও প্রতিদান/ পারিশ্রমিক চাই না [38:86, 11:51]। আমার প্রতিদান শুধু মহাবিশ্ব সমূহের রব/ প্রভুর কাছে জমা থাকল।
আদ জাতি মাজার তৈরি করত, কিন্তু তা হারাম।
26:128 নং আয়াহ : তোমরা কি উঁচু উঁচু স্মৃতি ভবন/ মাজার নির্মাণ (১) করছ?? তোমরা অনর্থক কাজ করছ।
১) হাদীশ- “নাবী (সা) কবর পাকা করতে, তার উপর কোন কিছু লিখতে বা কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন” (তিরমিযী, হাদীশ 1052)। এখানেই শেষ নয়, নাবী (সা) মাজার ভেঙে দিতে বলেছেন- “কোনও ধরণের উঁচু কবরকে সমান না করে ছাড়বে না” (তিরমিযী, হাদীশ 1049)।
আদ জাতি জনগণের টাকার অপব্যবহার করত।
26:129 নং আয়াহ : আর তোমরা (জনগণের টাকায়) নির্মাণ করছ প্রাসাদের উপর প্রসাদ। যেন তোমরা/ তোমাদের শাসন চিরস্থায়ী হবে!
আদ জাতি সবলদের উপর আইন প্রয়োগ করত না।
26:130 নং আয়াহ : এবং তোমরা যখন (দুর্বল শ্রেণীর মানুষদের উপর) শাস্তি দাও, তখন কঠোর শাস্তি দিয়ে থাক (অথচ সবল মানুষদের ছেড়ে দাও, এ কেমন নীতি তোমাদের)??।
# হাদীশ- “জাবীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : মাখযূম গোত্রের এক নারী চুরি করলে তাকে নাবী (সা) এর কাছে উপস্থিত করা হল। সে (চোর) উম্মুল মূমিনীন উম্মে সালামা (রা) এর নিকট আশ্রয় নিল। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন : এ যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও হোত, তবুও তার হাত কাটার আদেশ দিতাম। সুতরাং তার হাত কাটা হল” (নাসাঈ, হাদীস 4891)।
আসলে ঐ নারী চুরি করেছিলেন। নাবী (সা) এর প্রিয় জন ছিলেন উসামা বিন যায়েদ (রা), তিনি নাবী (সা) এর দত্তক পুত্র যায়েদ (রা) এর পুত্র। ঐ নারীর গোত্রের মানুষজন উসামা বিন যায়েদ (রা) মাধ্যমে নাবী (সা) এর কাছে “ক্ষমার জন্য” সুপারিশ করেন। তখন নাবী (সা) বলেন- “যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও হোত, তবুও তার হাত কাটার আদেশ দিতাম”।
তারপর বলেন- “তোমাদের পূর্বের জাতিসমূহকে এই নোংরা কাজই ধ্বংস করেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোনও বিশিষ্ট লোক চুরি করত, তখন তারা বিনা সাজায় তাকে ছেড়ে দিত। অন্যদিকে যখন কোন অসহায় গরীব সাধারণ লোক চুরি করত, তখন তার উপর হদ/ শাস্তি প্রয়োগ করত”। বুখারীর 3475 নং হাদীশে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
26:131 নং আয়াহ : এতএব তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর এবং আমার অনুসরণ কর [36:21]।
আদ জাতি পেয়েছিল উন্নত সভ্যতা নির্মাণের জ্ঞান।
26:132 নং আয়াহ : আর ভয় কর তাকে, যিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন উন্নত সভ্যতা নির্মাণের জ্ঞান [46:26], যা তোমরা নিজেরাও জান।
তখন ছিল পশু শিক্ষা স্কুল ও সাধারণ স্কুল।
26:133 নং আয়াহ : তোমাদেরকে দিয়েছেন গবাদি পশু সহ সন্তান সন্ততির জন্য শিক্ষালয়।
26:134 নং আয়াহ : আর ফলের বাগান ও ঝর্ণাধারা সমূহ।
বছরের দীর্ঘতম দিনে আজ জাতির উপর শাস্তি এসেছিল।
26:135 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উপর বছরের দীর্ঘতম দিনে [43:38] শাস্তি আসার আশঙ্কা করছি।
# উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন 21 শে জুন, আর দক্ষিণ গোলার্ধে 22 শে ডিসেম্বর।
আদ জাতির প্রতিক্রিয়া।
26:136 নং আয়াহ : তারা বলল- “তুমি আমাদেরকে ওয়াজ্ব/ উপদেশ দাও বা না দাও, আমাদের জন্য উভয়ই সমান।
26:137 নং আয়াহ : এটা (উপদেশ দেওয়া) আমাদের পূর্ববর্তীদের অভ্যাস/ স্বভাব ছাড়া কিছুই নয়।
26:138 নং আয়াহ : এবং আমরা (আল্লাহর) শাস্তির শিকার হব না [46:24]।
আদ জাতি হুদ (আ) কে অস্বীকার করে ধ্বংস হল।
26:139 নং আয়াহ : অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল [11:57, 11:59] এ কারণে আমরা তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম [69:6-8, 46:25]। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। কিন্তু তাদের অনেকেই ‛সত্য স্বীকারকারী’ নয়।
26:140 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই আপনার রব/ প্রতিপালক সীমাহীন শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
কুরআনের ব্যাকারণগত ভুল।
26:141 নং আয়াহ : সামূদ জাতি রাসুলদেরকে অস্বীকার করেছিল [26:105, 73:15]।
কাফির/ অমুসলিমও মুসলিমদের ভাই।
26:142 নং আয়াহ : যখন তাদের ভাই সালেহ তাদেরকে বলেছিল- “তোমরা কি তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন [49:13] করবে না [26:106]”??
সালেহ (আ) জাদুগ্ৰস্থ ছিলেন না, তবুও বলা হোত।
26:143 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য বাস্তবিকই একজন [26:107] রাসূল (জাদুগ্ৰস্থ [51:52] নই)।
সুতরাং অপকর্ম থেকে দূরে এবং নাবীর অনুসরণই পথ।
26:144 নং আয়াহ : এতএব তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর [49:13] এবং আমার অনুসরণ কর [26:150]।
সালেহ (আ) কোনও ধরণের প্রতিদান/ পারিশ্রমিক চান নি।
26:145 নং আয়াহ : আর আমি তোমাদের থেকে কোনও প্রতিদান/ পারিশ্রমিক চাই না [38:86, 52:40]। আমার প্রতিদান শুধু মহাবিশ্ব সমূহের রব/ প্রতিপালকের কাছে জমা থাকল।
অন্যায় করলে আল্লাহ তাকে ‛নিরাপদে’ ছাড়বেন না।
26:146 নং আয়াহ : তোমাদেরকে কি সেই সবের মধ্যে (অন্যায় ভাবে ভোগ করার জন্য) নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হবে, এখানে যা কিছু (ভোগ সামগ্রী) রয়েছে??
26:147 নং আয়াহ : বাগান সমূহ ও ঝর্ণা সমূহের মধ্যে??
26:148 নং আয়াহ : শস্যক্ষেত এবং রসে ভরা খেঁজুর গাছ ও সুকোমল খেঁজুরে ভরা খেঁজুর বাগানে??
26:149 নং আয়াহ : আর তোমরা পাহাড় পর্বত সমূহ [7:74] কেটে নৈপুণ্যের (১) সঙ্গে যে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছ, তাতে??
১) এভাবে ঘরবাড়ি তৈরির উদ্দেশ্য বসবাস করা ছিল না। উদেশ্য শুধুমাত্র নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা।
সুতরাং অপকর্ম থেকে দূরে এবং নাবীর অনুসরণই পথ।
26:150 নং আয়াহ : এতএব তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর [49:13] এবং আমার অনুসরণ কর [26:144]।
উগ্ৰদের/ আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের অনুসরণ নিষিদ্ধ।
26:151 নং আয়াহ : আর অনুসরণ কর না মুসরিফ/ উগ্ৰদের [28:83, 18:28]।
সন্ত্রাসীদের অনুসরণ নিষিদ্ধ।
26:152 নং আয়াহ : তাদেরও (অনুসরণ নিষিদ্ধ), যারা গ্ৰহে/ উপগ্রহে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে [7:56, 28:83] ও নিজেদেরকে সংশোধন করে না”।
সামূদ জাতি সালেহ (আ) কে জাদুগ্ৰস্থ ট্যাগ দিল।
26:153 নং আয়াহ : তারা বলল- “প্রকৃতপক্ষে তুমি একজন জাদুগ্ৰস্থ [51:52]।
সামূদ জাতি সালেহ (আ) এর থেকে নিদর্শন চাইল।
26:154 নং আয়াহ : তুমি আমাদের মতো মানুষ ছাড়া কিছুই (অর্থাৎ নাবী) নও [14:10-11]। আর তুমি একটি নিদর্শন নিয়ে এস, যদি তুমি হয়ে থাক সত্যবাদীদের একজন/ অন্তর্ভুক্ত”।
সামূদ জাতিকে নিদর্শন দেওয়া হল।
26155 নং আয়াহ : বললেন- “তোমাদের জন্য (নিদর্শন) স্বরূপ রইল উটনি’টি [11:64] তার জন্য পানি পান করাবার পালা থাকবে। তোমাদের (প্রত্যেকের) উপর একেক একদিন পানি পান করানোর পালা আসবে।
সালেহ (আ) এর হুশিয়ারি।
26:156 নং আয়াহ : আর তোমরা তাকে খারাপ উদেশ্য নিয়ে স্পর্শ কর না, করলে এক দীর্ঘতম দিনে শাস্তি তোমাদেরকে ধরে ফেলবে” [7:73, 11:64]।
তবুও তারা উটনি’কে হত্যা করল।
26:157 নং আয়াহ : তারা তাকে (উটনিকে) হত্যা করে ফেলল [54:29] কিন্তু পরিণতি ভেবে (কেউ কেউ) অনুতপ্ত [11:65, 11:73] হল।
সামূদ জাতির উপর শাস্তি নেমে এসেছিল দীর্ঘতম দিনে।
26:158 নং সূরাহ : অতঃপর তাদের শাস্তি ধরে ফেলল [11:78, 69:5, 11:67-68]। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। কিন্তু তাদের অনেকেই ‛সত্য স্বীকারকারী’ নয়।
আল্লাহ সীমাহীন শক্তিশালী হলেও করুণাময়।
26:159 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই আপনার রব/ প্রতিপালক সীমাহীন শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
কুরআনের ব্যাকারণগত ভুল।
26:160 নং আয়াহ : লূতের জাতি রাসুলদেরকে অস্বীকার করেছিল [73:15]।
কাফির/ অমুসলিমও মুসলিমদের ভাই।
26:161 নং আয়াহ : যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলেছিল- “তোমরা কি তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন [49:13] করবে না” [26:106]??
লূত (আ) কে অস্বীকার করায় তার প্রতিক্রিয়া।
26:162 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য বাস্তবিকই একজন রাসূল [26:107]।
অপকর্ম থেকে দূরে এবং নাবীর অনুসরণই পথ।
26:163 নং আয়াহ : এতএব তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর [49:13] এবং আমার অনুসরণ কর।
লূত (আ) কোনও ধরণের প্রতিদান/ পারিশ্রমিক চান নি।
26:164 নং আয়াহ : আর আমি তোমাদের থেকে কোনও প্রতিদান চাই না [38:86, 52:40]। আমার প্রতিদান শুধু মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালকের কাছে জমা থাকল।
লূত (আ) এর জাতি ছিল সমকামী।
26:165 নং আয়াহ : সমগ্র সৃষ্ট জগতের মধ্যে তোমরা (প্রথম জাতি যে) পুরুষ হয়ে (যৌনতার জন্য) পুরুষের কাছে যাচ্ছ!
26:166 নং আয়াহ : আর তোমরা পরিহার করছ তোমাদের স্ত্রীদের! যা তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন [30:21]। না, বরং তোমরা নিয়মনীতি ভঙ্গকারী জাতি [27:55]”
লূত (আ) কে বহিষ্কারের হুমকি দিল তার জাতি।
26:167 নং আয়াহ : তারা বলল- “হে লূত, যদি তুমি বিরত না (১) হও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে (এই জনপদ) বের করে দেওয়া হবে”[27:56, 7:82]।
১) অর্থাৎ যদি তুমি আমাদের বিরোধিতা করা না বন্ধ কর, তাহল তোমাকে …।
লূত (আ) সমকামিতাকে ঘৃণা করতেন।
26:168 নং আয়াহ : (লূত) বললেন- “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের (এই) কুকর্মকে ঘৃণাকারীদের একজন/ অন্তর্ভুক্ত”।
লূত (আ) এর দুয়া/ প্রার্থনা।
26:169 নং আয়াহ : (পরে এও) বললেন- “হে আমার রব/ প্রভু, আমাকে রক্ষা করুন, আমার পরিবার কেও। তারা যে কুকর্ম করে চলেছে, তা হতে [29:30]”।
আল্লাহ লূত (আ) এবং তার পরিবারকে উদ্ধার করলেন।
26:170 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা তাকে রক্ষা করলাম, তার গোটা পরিবারকেও [51:35-36]।
তবে লূত (আ) এর স্ত্রীকে উদ্ধার করা হল না।
26:171 নং আয়াহ : তবে এক বৃদ্ধা (লূতের স্ত্রী) ছাড়া। সে ছিল পিছনে অবস্থানকারীনি [11:81, 66:10]।
সমকামিদের জনপদ উল্টে দেওয়া হয়েছিল।
26:172 নং আয়াহ : তারপর আমরা অন্য সবাইকে ধ্বংস করে দিলাম [11:82]।
লূত (আ) এর জাতির উপর গ্ৰহাণু বৃষ্টি হয়েছিল।
26:173 নং আয়াহ : তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম এক শাস্তিমূলক বৃষ্টি [29:34, 7:84]। যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের জন্য এই বৃষ্টি ছিল- খুবই নিকৃষ্টতম বৃষ্টি।
26:174 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। কিন্তু তাদের অনেকেই ‘সত্য স্বীকারকারী’ নয়।
আল্লাহ সীমাহীন শক্তিশালী হলেও সীমাহীন করুণাময়।
26:175 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই আপনার রব/ প্রতিপালক সীমাহীন শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
কুরআনের ব্যাকারণগত ভুল।
26:176 নং আয়াহ : আইকাবাসীরা রাসুলদেরকে অস্বীকার করেছিল [73:15]।
26:177 নং আয়াহ : যখন শুয়াইব তাদেরকে বলেছিল- “তোমরা কি তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করবে [49:13] না” [26:106]??
শুয়াইব (আ) জাদুগ্ৰস্থ ছিলেন না, তবুও বলা হোত।
26:178 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য বাস্তবিকই [51:52] একজন রাসূল [26:185, 26:143]।
অপকর্ম থেকে দূরে এবং নাবীর অনুসরণই প্রকৃত পথ।
26:179 নং আয়াহ : এতএব তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর [49:13] এবং আমার অনুসরণ কর [7:90]।
শুয়াইব (আ) কোনও ধরণের প্রতিদান/ পারিশ্রমিক চান নি।
26:180 নং আয়াহ : আর আমি তোমাদের থেকে কোনও প্রতিদান চাই না [38:86]। আমার প্রতিদান শুধু মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালকের কাছে জমা থাকল [52:40]।
আইকাবাসীরা জনগণকে ঠকিয়ে ব্যাবসা করত।
26:181 নং আয়াহ : তোমরা মাপ/ ওজন পূর্ণ কর, মাপে/ ওজনে কম দাতাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না [7:85, 83:1-3]।
‛ডিজিটাল’ মাপন দণ্ডের ভবিষ্যৎ বাণী।
26:182 নং আয়াহ : আর ওজন করা হবে ‛বাটখারা বিহীন মাপন দণ্ড’ দ্বারা।
দুর্ণীতিকারীরা মূলত সন্ত্রাসীদের মতোই।
26:183 নং আয়াহ : আর মানুষকে ‛তাদের প্রাপ্য বস্তু’ কে কমিয়ে দেবে না। এবং সন্ত্রাসীদের মতো গ্ৰহে/ উপগ্রহে দুর্ণীতি সৃষ্টি কর না [11:85, 29:36]।
শুক্র গ্ৰহে একসময় ‛মানব গোষ্ঠী’ ছিল।
26:184 নং আয়াহ : আর তোমরা তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর। তার জন্য, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছিলেন তোমাদের পূর্ববর্তী (শুক্র) গ্ৰহের মানব গোষ্ঠীদেরকে [42:29, 65:12]।
# আজ শুক্র গ্ৰহ মানব বসবাসের অযোগ্য। সেখানকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা 400 ℃ প্রায়। আর বিজ্ঞানীরা মনে করেন, তা হয়েছিল- অত্যাধিক কার্বন জ্বালানির ফলে। অবাক করা ব্যাপার হল- আমরা পৃথিবীবাসী একই দিকে এগিয়ে চলেছি। এই সম্পর্কে কুরআনে কথা বলা হয়েছে। দেখুন 55:35 এ। তবে, পৃথিবীবাসীদের চিন্তার কিছুই নেই, দেখুন 51:22-23 আয়াত।
শুয়াইব (আ) কে জাদুগ্ৰস্থ ট্যাগ দিল।
26:185 নং আয়াহ : তারা বলল- “মূলত তুমি একজন জাদুগ্ৰস্থ ব্যক্তি” [26:153, 51:52]।
শুয়াইব (আ) কে ‛মিথ্যাবাদী’ মনে করল আইকাবাসী।
26:186 নং আয়াহ : আর তুমি আমাদের মতো মানুষ ছাড়া কিছুই নও [14:10-11, 18:110] এবং আমরা ধারণা করছি যে, তুমি মিথ্যাবাদীদের একজন/ অন্তর্ভুক্ত [29:37]।
শুয়াইব (আ) কে গ্ৰহাণু ফেলে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ দিল।
26:187 নং আয়াহ : এতএব তুমি আমাদের উপর সৌর জগতের কোনও পৃণ্ড/ গ্ৰহাণু ফেলে দাও [17:92, 52:44], যদি হয়ে থাক সত্যবাদী”।
শুয়াইব (আ) এর জবাব।
26:188 নং আয়াহ : শুয়াইব বললেন- “আমার রব/ প্রভু জানেন, যে সমস্ত আমল/ কর্ম তোমরা করছ [13:38]।
আইকাবাসীর উপর শাস্তি এসেছিল দীর্ঘতম দিনে।
26:189 নং আয়াহ : অতঃপর তারা তাকে (শুয়াইব কে) অস্বীকার করল। অতঃপর তাদেরকে ধরে ফেলল [29:37] মেঘলা দিনের শাস্তি [7:91, 11:94]। নিশ্চয়ই তা ছিল দীর্ঘতম দিনে আসা শাস্তি [26:135]।
26:190 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। কিন্তু তাদের অনেকেই ‛সত্য স্বীকারকারী’ নয়।
আল্লাহ সীমাহীন শক্তিশালী হলেও সীমাহীন করুণাময়ও।
26:191 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই আপনার রব/ প্রতিপালক সীমাহীন শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়।
কুরআন নাযিল হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে।
26:192 নং আয়াহ : যাইহোক, নিশ্চয়ই তা (কুরআন) নাযিল করা হচ্ছে মহাবিশ্ব সমূহের রব/ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে [10:37, 32:2]।
কুরআন বহন করে নিয়ে আসেন জিবরীল (আ)।
26:193 নং আয়াহ : বিশ্বস্ত রূহ (জিবরীল) তা নিয়ে নামে/ অবতরণ করে [6:2, 81:19-21]।
কুরআন নাযিল হোত সরাসরি ‛নাবী (সা) মস্তিষ্কে’।
26:194 নং আয়াহ : নাযিল/ অবতরণ করেন সরাসরি আপনার মস্তিষ্কে [2:97]। যেন আপনি হতে পারেন সতর্ককারীদের [88:22] একজন/ অন্তর্ভুক্ত [53:56]।
কুরআন ‛সুস্পষ্ট’ আরবি ভাষায়।
26:195 নং আয়াহ : যা সুস্পষ্ট [18:1] আরবি [39:28] ভাষায় [41:3 14:4]।
কুরআনের উল্লেখ আছে ‛পূর্ববর্তী গ্ৰন্থ’ গুলোতে।
26:196 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই তার (কুরআনের) উল্লেখ রয়েছে/ ছিল পূর্বের কিতাব সমূহে।
# যেমন হিন্দু ধর্মে, বেদে নাবী (সা) ও কুরআন সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ রয়েছে। বেদের মধ্যে অথর্ব বেদে কুরআন সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে। অথর্ব বেদের ‛কুন্তাপ সুক্ত’ নামে খ্যাত। যা অথর্ব বেদের 20 তম কাণ্ডের 127 নং সুক্ত। এই সক্তের 6 নং মন্ত্রে বলা হয়েছে- “রেভ প্রশংসাকারী স্তুতি পাবে, যা প্রেরণ করা হবে বুদ্ধি/ জ্ঞান চক্ষু হিসাবে। যা ঈশ্বরের সামনে পাঠ করা হবে” (20:127:6)।
‛রেভ’ বলতে! ‛প্রশংসাকারী’। এটাকে আরবিতে বলা হবে ‛আহমাদ’। এটা নাবী (সা) এর দ্বিতীয় নাম, কুরআনের 61:6 দেখে আসুন। ‛প্রশংসাকারী স্তুতি’ বলতে! এমন আয়াত, যাতে আল্লাহর প্রশংসা আছে। মানে, এখানে সূরাহ ফাতিহাহর কথা বলা হচ্ছে। প্রেরিত ‛বুদ্ধি/ জ্ঞান চক্ষু’ বলতে! কুরআনের কথা বলা হচ্ছে। আর 6:104 এ কুরআনকে ‛জ্ঞান চক্ষু’ বলা হয়েছে। তারপর বলা হয়েছে- “তা ঈশ্বরের সামনে পাঠ করা হবে”। আর সূরাহ ফাতিহাহ ও কুরআন নামাজে পাঠ করা হয়।
এছাড়াও 20:127:7 এ বলা হয়েছে- “মানুষ সেই শাসকের শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রশংসা করবে”। এটাও প্রমাণিত যে, অমুসলিমরাও নাবী (সা) এর প্রশংসা ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন। বিস্তারিত জানতে চলে আসুন কুরআনের 13:43 এ।
বাইবেলে ‛কুরআন সম্পর্কে’ আগে থেকেই বলা ছিল।
26:197 নং আয়াহ : এটা তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় যে, বানী ইসরাঈলের উলেমা (আলেম সমাজ) তা জানে??
# সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে বাইবেলের Book of Isaiah এর 29:12 তে, যা বুখারীর 3 নং হাদীশের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। যেখানে প্রথম ওহী বিষয়ক ঘটনা রয়েছে। এছাড়াও দেখতে পারেন বাইবেলের Book of Deuteronomy এর 18:18-19 পদ। এছাড়াও দেখুন কুরআনের 73:15 আয়াহ। মানে, নাবী (সা) এবং কুরআন আসবে, এটা ইহুদী পণ্ডিতরা জানতেন। খৃষ্টান পণ্ডিতরাও জানতেন, এটা পাবেন- 61:6 আয়াহতে।
কুরআন আরবিতে নাযিল করার অন্যতম কারণ।
26:198 নং আয়াহ : আর যদি আমরা তা (কুরআন) নাযিল করতাম অনারব কোনও ব্যক্তির উপর,
# যদিও আরবিতে কুরআন নাযিলের অন্যতম কারণ উল্লেখ করা হয়েছে 12:2 এ। যান, যান, গিয়ে দেখে আসুন।
26:199 নং আয়াহ : অতঃপর যদি তাদের কাছে তা (কুরআন) পাঠ করা হোত, তবুও তারা তাকে বিশ্বাস/ স্বীকার করত না [41:44]।
# মক্কাবাসীদের একটি দাবি ছিল- “অনারবের প্রতি কুরআন নাযিল হলে আমরা মেনে নিতাম”।
কেউ কেউ সত্য জেনেও ‛গ্ৰহণ করতে’ পারে না কেন??
26:200 নং আয়াহ : এভাবেই আমরা অপরাধীদের মস্তিষ্ক সমূহ তা (সত্য গ্রহণের সাহস) তুলে দিই [2:17, 2:26]।
26:201 নং আয়াহ : তারা তার (কুরআনের) সত্যতা স্বীকার করবে না [41:53], যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা দেখে নেবে কষ্টদায়ক আযাব/ শাস্তি।
আল্লাহর শাস্তির কোনও সুনির্দিষ্ট সময় হয় না।
26:202 নং আয়াহ : অতঃপর যখন হঠাৎ করে তাদের উপর তা (কষ্টদায়ক আযাব/ শাস্তি) এসে যাবে, তারা অনুভবও করতে পারবে না,
মানুষ শাস্তি দেখতে চায়, শাস্তি এলে যা বলবে।
26:203 নং আয়াহ : তখন বলবে- “এখন কি আমরা একটু অবকাশ/ সুযোগ পাব না”??
তা সত্ত্বেও শাস্তি আনার জন্য তাড়াহুড়ো করত।
26:204 নং আয়াহ : তবে কি তারা আমাদের শাস্তি আসার ব্যাপারে [51:59] তাড়াহুড়ো [17:11, 15:7-8] করছে [29:53-54]??
# কেউ কেউ বলতেন- “যে শাস্তির কথা তুমি বলছ, তা আসছে না কেন”?? তাই এখানে তাদের কথা বলা হচ্ছে।
শাস্তি এলে যারা অবকাশ চাইবে, তাদের জবাব-
26:205 নং আয়াহ : আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যদি আমরা তাদেরকে বহু বছর ভোগ বিলাসের অবকাশ/ সুযোগ দিই,
26:206 নং আয়াহ : এরপর তাদের কাছে আসে তা (কষ্টদায়ক আযাব/ শাস্তি), যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে,
26:207 নং আয়াহ : তাহলেও কি (অবকাশ) তাদের কোনও উপকারে আসবে, ডুবে থাকা ভোগ বিলাস থেকে বিরত হবে??
আল্লাহ সতর্ক না করে কাউকে শাস্তি দেন না।
26:208 নং আয়াহ : আর আমরা কোনও সভ্যতাকে ধ্বংস করি না [28:59], যতক্ষণ না তাদের জন্য পাঠাই সতর্ককারীদের [17:15, 35:24],
সতর্ক না করে শাস্তি দেওয়া ‛অবিচার’ করার সমান।
26:209 নং আয়াহ : পথ নির্দেশনার জন্য। আর আমরা জ্বালিম/ অবিচারকারী নই [10:44, 20:134]।
কুরআন কি শাইত্বানরা বহন করে নিয়ে আসত??
26:210 নং আয়াহ : যাইহোক, শাইত্বানরা তা (কুরআন) নিয়ে অবতীর্ণ [2:97, 26:193] হয় নি [56:78-79]।
# মাক্কাহর মুশরিক নেতারা অপবাদ দিতেন যে, কুরআন বহন করে নিয়ে আসে শাইত্বানরা। সেই পেক্ষিতেই আল্লাহ এখানে (26:210-212) জবাব দিচ্ছেন। আর জবাবটা মারাত্মক সুন্দর।
শাইত্বানরা কুরআন বহনের সার্মথ্য রাখে না।
26:211 নং আয়াহ : আর না তাদের জন্য তা শোভনীয়, না তারা এর সার্মথ্য রাখে।
নাযিলের পূর্বে জিনদেরকে কুরআন থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
26:212 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তাদেরকে তার/ কুরআনের (সৌরজগতে থাকাকালীন কুরআনের) শ্রবণ থেকেও দূরে রাখা হয়েছে [72:8-10]।
নাবী (সা) কে ‛এক ঈশ্বরের’ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ।
26:213 নং আয়াহ : এতএব আপনি (তাদের কথায় অস্থির [73:10 হয়ে) আল্লাহর সঙ্গে কোনও ইলাহা/ ঈশ্বরকে [6:163] ডাকবেন না [6:19, 23:91]। তাহলে আপনি শাস্তি প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
# আসলে নাবী (সা) মাঝে মধ্যে অস্থির হয়ে ভাবতে শুরু করতেন যে, “আমি ভুল এবং মাক্কাবাসী সঠিক নয়ত”?? তাই এখানে নাবী (সা) বিশেষ ভাবে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দলিলের জন্য যান 17:74 এ।
কাছের মানুষকে আগে সতর্ক করার নির্দেশ।
26:214 নং আয়াহ : আর (আগে) সতর্ক করুন আত্মীয় স্বজনদের, যারা একেবারে আপনার কাছের।
অনুসারীদের জন্য নাবী (সা) কে ‛সদা সর্বদা’ সাহায্যের নির্দেশ।
26:215 নং আয়াহ : বিনয় সহ আপনার সাহায্যের হাত তাদের জন্য প্রসারিত করুন, মূমীনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করে [15:88]।
মূমীনদের প্রতি নাবী (সা) এর দায়িত্ব।
26:216 নং আয়াহ : কিন্তু যদি তারা আপনার অবাধ্য হয়, তাহলে বলে দিন- “নিশ্চয়ই আমি দায়মুক্ত তা হতে, যে সমস্ত আমল/ কর্ম [6:52] তোমরা করছ [28:55, 42:25]”।
# অর্থাৎ আমার দায়িত্ব ছিল তোমার/ তোমাদের কাছে ইসলাম পৌঁছে দেওয়া, তা করেছি (16:82)। এখন আমি আমার দায়িত্ব (2:119) হতে মুক্ত (39:19)।
‛নির্ভরতা’ শুধু সীমাহীনের উপর।
26:217 নং আয়াহ : এবং আপনি নির্ভর [65:3] করুন সীমাহীন শক্তিশালী ও সীমাহীন করুণাময়ের উপর।
# আমরা সাধারণত নির্ভর করি আমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী অথবা আমাদের চেয়ে বেশি করুণাময়ের উপর। কিন্তু তারাও তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী অথবা তাদের চেয়ে বেশি করুণাময়ের উপর নির্ভর করে। তাই নির্ভরতা শুধু সীমাহীনের থাক।
নামাজ আদায়কারীর প্রতি আল্লাহ দৃষ্টি রাখেন।
26:218 নং আয়াহ : (তিনিই আল্লাহ) যিনি আপনাকে দেখেন, যখন আপনি (নামাজের জন্য) দাঁড়ান।
বে-নামাজীদের সঙ্গে ‛উঠাবসা’ অনুচিত।
26:219 নং আয়াহ : আর আপনার ‛উঠাবসা’ তো সিজদা কারীদের সঙ্গে।
26:220 নং আয়াহ : তিনি মহা সমস্ত কিছু শোনেন, সমস্ত কিছুই জানেন।
শাইত্বানরা কার কাছে আসে??
26:221 নং আয়াহ : (বলুন) “তোমাদেরকে কি জানিয়ে দেব যে, শাইত্বানরা কার কাছে আসে??
# নাবী যত ভবিষ্যৎ বাণী করতেন, সেগুলো ঘটে যেত। তাই মাক্কাবাসী নাবী (সা) কে ‛জ্যোতিষ’ বলে অপবাদ দিতে থাকে। তারা এও বলতেন যে, নাবী (সা) যত ভবিষ্যৎ বাণী করেন, তা শাইত্বানদের সহায়তায় করে থাকেন এবং নাবী (সা) শাইত্বানরা উপস্থিত থাকে।
26:222 নং আয়াহ : আসে প্রত্যেক মিথ্যাবাদী ও পাপীর উপর।
26:223 নং আয়াহ : যারা কান পেতে (শাইত্বানদের কথা) শোনে এবং তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মিথ্যা বলে।
# এখানে জ্যোতিষদের কথা বলা হচ্ছে। তাদের কাছে শাইত্বানরা আসে (5:90)। একটা হাদীস- “কয়েকজন লোক নাবী (সা) এর নিকট গণকদের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন : ওরা কিছুই না। তারা আবার বললে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ ওরা কিছুই না। তারা আবার বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! তারা তো কোনও সময় এমন কথা বলে দেয়, যা বাস্তবে ঘটে যায়। নাবী (সা) কথাটি জ্বীন থেকে পাওয়া। জিনেরা তা আসমানের (ফেরেশতাদের থেকে) ছোঁ মেরে নিয়ে এসে তাদের বন্ধু গণকদের কানে তুলে দেয়, যেভাবে মুরগী তার বাচ্চাদের মুখে দানা তুলে দেয়। তারপর এ গণকরা এর সঙ্গে আরও শতাধিক মিথ্যা কথা মিলিয়ে দেয়” (বুখারী, হাদীশ 6213)। এছাড়াও দেখতে 72:9 আয়াহ।
কোন ধরণের কবিদের অনুসরণ নিষিদ্ধ??
26:224 নং আয়াহ : তবে (জেনে রেখ) কবিদের কথা অনুসরণ [36:69] করে ভ্রান্তরা [69:40-43]।
# অর্থাৎ নাবী (সা) কবি নন, আর তার অনুসারীরা ভ্রান্তও নন/ নয়।
26:225 নং আয়াহ : আপনি কি দেখেন নি যে, তারা (ঐ কবিরা) প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরছে।
26:226 নং আয়াহ : এবং তারা (ঐ কবিরা) এমন সব কথা বলে, যা নিজেরা করে না [61:2-3]।
# অর্থাৎ নাবী (সা) যা বলেন, তা নিজে করেন। সুযোগ নাবী (সা) ঐ ধরণের কবি নন।
জুলুমআরী/ অত্যাচারীদের পরিণতি।
26:227 নং আয়াহ : তবে যারা সত্য স্বীকার করে এবং সৎকর্ম করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আল্লাহকে স্মরণ করে [2:152] এবং জুলুম/ নির্যাতনের পর প্রতিশোধ নেয় [16:126, 42:42-43]। আর যারা জুলুম/ নির্যাতন করেছে, শীঘ্রই তারা জানতে পারবে যে, তারা কোন প্রত্যাবর্তন স্থানে ফিরে আসবে [14:42, 84:6]।
জুলুমআরী না হয়ে জুলমকারী হতো ২৬:২২৭ এর Headline দেখুন !