হোসেন কুরানী’র স্মার্ট তাফসীর।

FB IMG 1736065873241 3

হোসেন কুরানী’র ড্রিম প্রোজেক্ট স্মার্ট তাফসীর।

স্মার্ট তাফসীর হল- হোসেন কুরানী’র ড্রিম প্রোজেক্ট। এই স্মার্ট তাফসীর ভবিষ্যতে ইসলামের গতিপথ বদলে দিতে পারে, ইসলাম সম্পর্কে মানুষের (মুসলিম, অমুসলিম‌দের) চিরাচরিত ধ‍্যান ধারণা বদলে দেবে, আর মানুষ‌কে (মুসলিম, অমুসলিম‌কে) আসল/ প্রকৃত ইসলামের সন্ধান দেবে, ইনশাআল্লাহ।

   স্মার্ট তাফসীরের ভাবনা শুরু হয়েছিল ডিসেম্বর 2018 তে। এর পিছনে ছোট একটা কাহিনী রয়েছে। আপনারা হয়ত জানেন যে, হানী নামের একটা মেয়ের সঙ্গে হোসেন কুরানী’র সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। যা পরবর্তীতে প্রেমের রূপ নিয়েছিল। হোসেন কুরানী ও হানী সর্বক্ষণ ‛ভয়েস কল বা ভিডিও কল’ এ যুক্ত থাকতেন, সারাক্ষণ কথা বলতেন। 

   কথা বলতে বলতেই ঘুমিয়ে পড়তেন, ঘুম থেকে উঠে আবার কথা বলতেন। হানী তো মাঝে মধ্যে ঘুমের ঘোরে ভুল ভাল বকতেন এবং হাস‍্যকর সব কথা বলতেন। অপর দিকে হানী হোসেন কুরানী’কে বলেন- “আপনি ঘুমের ঘোরে ভুল ভাল বকেন। আমি ভুল বকি না”।

   যাইহোক, একদিন হানী সাধারণ সমস্ত কথা বলতে বলতে জিজ্ঞাসা করে‌ন- “আপনি কতগুলো তাফসীর পড়েছেন?? আর তাফসীর গুলোর মধ্যে কোনটা সবচেয়ে ভালো”?? এর উত্তরে হোসেন কুরানী বলেন- “একটাও তাফসীর এতটা উন্নত মানের নয় যে, যা বর্তমান যুগের জন্য প্রাসঙ্গিক। আজকের যুগে এই তাফসীর গুলো পড়লে যে কেউ নাস্তিক হয়ে যাবে। সুতরাং আজকের যুগে এই তাফসীর গুলো মানুষ নাস্তিক বানানো‌র জন্য যথেষ্ট। আর তাফসীর গুলো এত বড় যে, তা সময় পড়ার মতো মানুষ আজকের যুগে নেই”।

   হানী বলেন- “তাহলে খুব সহজে ইসলাম সম্পর্কে জানা যাবে এবং তা পড়ে মানুষ ইসলাম গ্ৰহণে বাধ্য হবে, এমন তাফসীর আপনি করুন”। এর উত্তরে হোসেন কুরানী বলে ছিলেন- “ঠিক আছে, কিন্তু সময় লাগবে কমপক্ষে 10-15 বছর মতো। হানীর সঙ্গে হোসেন কুরানী’র পরিচয় ফেব্রুয়ারি 2018 তে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে অক্টোবর 2018 থেকে, যা চলে অক্টোবর 2019 এর 13 তারিখ পর্যন্ত।

   হানী ধোকা দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করে নিলেও হোসেন কুরানী আজ‌ও (2025) বিয়ে করেন নি। হোসেন কুরানী জীবনে কখনও প্রতিশ্রুতি কখনও ভঙ্গ করেন না। হানীকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি তিনি আজও পূরণ করে চলেছেন। তারমধ্যে অন‍্যতম প্রতিশ্রুতি হল- এই স্মার্ট তাফসীর। আর এই প্রতিশ্রুতি‌ও পূরণ হতে চলেছে/ হচ্ছে।

স্মার্ট তাফসীর কেন প্রয়োজন, বিশেষত্ব কি??

আজকের যুগ যুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। আর হোসেন কুরানী’র স্মার্ট তাফসীর অবশ্যই বর্তমান যুগের চাহিদা পূরণ করবে। শুধুমাত্র বর্তমান যুগ নয়, ভবিষ্যৎ যুগেও তা পুরাতন/ সেকেলে হবে না। কেননা, পবিত্র কুরআন সর্বকাল তথা মানব ও জিন জাতির ইহকালীন জীবনের বিধান। এ জন্য তা কখনও পুরাতন/ সেকেলে হতে পারে না। আর পবিত্র কুরআন নিজেই তা ঘোষণা করে রেখেছেছে- “এবং নিশ্চয়ই তা (কুরআন) সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য সুদৃঢ় সত্য”(69:51)।

   অথচ প্রচলিত সমস্ত তাফসীর গুলো বর্তমান যুগের জন্য পুরাতন/ সেকেলে। আকারেও অনেক বড়। জয়ীফ ও জাল হাদীশ‌ও রয়েছে। যে কারণে অনেক সময় মানুষ ইসলাম‌কে ঘৃণা করতে শুরু করে। যেমন, অনেক তাফসীরে 66:1 নাযিলের পেক্ষাপটে তাফসীরে নাষাই থেকে জয়ীফ হাদীশ তুলে এনে বলা হয়ে থাকে- “নাবী (সা) মারিয়া নামক দাসীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতেন। আইশাহ (রা) ও হাফসাহ (রা) জেনে যাওয়ায় নাবী (সা) তাকে নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন। তাই 66:1 নাযিল হয়েছিল”। কিন্তু বুখারী‌তে এর বিপক্ষে সহীহ হাদীশ রয়েছে, যা আইশাহ (রা) বর্ণনা করেছেন।

   এছাড়াও প্রচলিত তাফসীর গুলোতে অপ্রয়োজনীয় হাদীশে পরিপূর্ণ। যা তাফসীর গুলো‌র আকার বড় হ‌ওয়ার জন্য দায়ি। অন‍্যদিকে হোসেন কুরানী’র তাফসীর পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভুল অনুবাদ ও পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট তাফসীর হতে চলেছে।

   এই স্মার্ট তাফসীর আকারে খুব বেশি হলে অনুবাদের দ্বিগুণ পৃষ্ঠা থাকবে (সব মিলিয়ে 500-700 মতো)। আর মানুষ যাতে পড়তে গিয়ে বিরক্ত ‛না হন’, সেই জন্য অনুবাদ ও তাফসীর করতে গিয়ে সাইকোলজি‌ক‍্যাল বিষয় গুলো মাথায় রেখে অনুবাদ ও তাফসীর করা হচ্ছে/ হয়েছে।

   শেষ কথা- আধুনিক বিজ্ঞান এমন কোনও তথ্য দিতে পারে নি, যা স্মার্ট তাফসীরে/ পবিত্র কুরআনে আপনি দেখতে পাবেন না। প্রতিটা আয়াত পড়বেন, অবাক হবেন। যদি কোনও গোঁড়ামি ও কুসংস্কার মুক্ত মানুষ যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞান স্বীকারকারী হয়ে থাকেন, তিনি ইসলাম গ্ৰহণে বাধ্য হবেন।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন