বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 182 টি।
নামাজীদের শপথ।
37:1 নং আয়াহ : শপথ তাদের, যারা সারিবদ্ধ/ কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়।
# অনেকেই নামাজে ইমামের পিছনে সারিবদ্ধ/ কাতাববদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াতের দলিল খুঁজে পান না। এই 37:1-3 আয়াত গুলো তাদের জন্য। অনেকে 37:1-3 আয়াত গুলোকে ফেরেস্তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখান। যা ‛ভুল এবং ধরে নেওয়া’। ইসলামে ধরে নেওয়ার কোনও জায়গা নেই।
# প্রশ্ন হবে- “আল্লাহ নামাজীদের শপথ করলেন কেন”?? নামাজে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। এই তিলাওয়াত থেকে ইমামদের পবিত্র কুরআন হিফজ শক্তিশালী হয়, ধীরে ধীরে নামাজীদেরও পবিত্র কুরআন হিজব হয়ে যায়। এছাড়াও পবিত্র কুরআনের সঙ্গে সাধারণ মুসলিমদের পরিচয় ঘটে, তৈরি হয় পবিত্র কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক। এই ছাড়াও আল্লাহর আদেশ নিষেধ গুলো সাধারণ মুসলিমরা জানতেও পারে (যদিও আরবিতে তিলাওয়াতের জন্য ভারত উপমহাদেশের মুসলিমরা পবিত্র কুরআন বোঝে না, এমনকি ইমামও)। এভাবে মুসলিমদেরকে ইসলাম পালনের প্রতি উদ্ধুদ্ধ হতেও দেখা যেতে পারে।
যাইহোক, সবচেয়ে বড় দিক হল- নামাজের মাধ্যমে এবং নামাজীদের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন সংরক্ষণ করা হয়। নাবী (সা) এই ব্যবস্থাই করে গিয়েছেন (লেখা ও হিফজ)। এভাবে নামাজের মাধ্যমে নাবী (সা) এর যুগে তৈরি হয়ে গিয়েছিল হাজার হাজার হাফিজ। এরমানে হল- একজন নামাজী মূলত পবিত্র কুরআন রক্ষা করার সৈনিক। এখানে কোনও হাদীশ অস্বীকারকারী বলতে পারেন- “কুরআন হিফাজতের দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন” (15:9)।
আপনাকে জানিয়ে রাখি- 15:9 এ এমন কিছু বলাই হয় নি। ওখানে পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে- “নিশ্চয়ই আমরা ‛যিকির’ নাযিল করেছি, আমরাই তা রক্ষা করব”। যিকির অর্থ- বিধান, সংবিধান, স্মরণিকা ইত্যাদি। ধরে নেওয়া হয়- যিকির বলতে, কুরআন। কিন্তু আপনি ধরে নেবেন কেন! এই ধরে নেওয়াটা কি মানবরচিত নয়?? যা আল্লাহ বলেন নি, তা আল্লাহর নামে চালিয়ে দেওয়া কুফরী নয়??
তবে আরও বলি- হাদীশ অস্বীকারকারীরা নিজেদের আহলে কুরআন বলতে পছন্দ করেন বা তাদেরকে আহলে কুরআন বলা হয়ে থাকে। যদিও তারা আহলে কুরআন নন, বরং আহলে কিতাব বা খৃষ্টান। আর একারণেই হাদীশ অস্বীকারকারীরা নামাজ অস্বীকার করেন, মুসলিমদেরকে নামাজ থেকে বিরত রাখতে চান। যাতে কুরআনকে বিকৃত করতে পারে। যাতে নষ্ট হয়ে যায় পবিত্র কুরআন রক্ষার মাধ্যমটা। আর এভাবে অল্প জানা/ না জানা মুসলিমদেরকে পবিত্র কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে বাইবেলের কাছাকাছি আনতে চায় বা খৃষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করতে চায়। আর এভাবেই তারা সহজ সরল মনা মুসলিমদেরকে খৃষ্টান বানাচ্ছে। আর সত্যি এটাই- এভাবে মুসলিমদেরকে খুব সহজে খৃষ্টান বানান যাচ্ছে। খৃষ্টান ধর্ম প্রচার করার এই পদ্ধতিটা নতুন এবং সবচেয়ে হিসাবে কার্যকর।
পদ্ধতিটা এরকম- প্রথমে মুসলিমদেরকে হাদীশ বিদ্বেষী তৈরি করা হবে। তারপর মুসলিমদেরকে কুরআন প্রেমী তৈরি করা হবে। তারপর বলা হবে- কুরআনে কোথাও বলা নেই যে, “নাবী মুহাম্মাদ (সা) সুপারিশ করবেন। কিন্তু পবিত্র কুরআন সুস্পষ্ট ভাবে বলে যে, ঈশা (আ) সুপারিশ করবেন (5:117-118)। এতএব ঈশা (আ) কে মেনে চলতে হবে, তবেই মুক্তি”।
এরপর নাবী মুহাম্মাদ (সা) কে নিকৃষ্ট চরিত্রের দেখানোর চেষ্টা করা হবে এবং নাবী (সা) কে ঘৃণা করতে শেখান হবে। তারপর নাবী মুহাম্মাদ (সা) এর অস্তিত্ব অস্বীকার করতে শেখান হবে। তারপর বলা হবে- “কুরআনের মুহাম্মাদ আলাদা, কুরআনের মুহাম্মাদ শব্দের অর্থ হল- প্রশংসিত ব্যক্তি। ওটা কারোর নাম নয়। যে আয়াত প্রচার করে, সেই হল মুহাম্মাদ। মুহাম্মাদ কারোর নাম নয়, মুহাম্মাদ নামের কেউ ছিল না”। ইত্যাদি ইত্যাদি।
জাতির প্রতি ইমামদের দায়িত্ব।
37:2 নং আয়াহ : অতঃপর শপথ তাদের, যারা (জাতিকে) কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে বেঁধে রাখেন।
# এমনটা আজ আর দেখা যায় না। তবে একটা এমন সময় ছিল, যখন ইমামরাই মুসলিম জাতিকে কঠিন নিয়ম শৃঙ্খলার বেধে রাখত। ফলে মুসলিম জাতি হয়ে উঠেছিল সুসভ্যের প্রতীক। গোটা পৃথিবীকে সভ্যতা শিখিয়ে সুসভ্যে পরিণত করছিল। এ বিষয়ে সত্যটা ফুটে উঠেছিল স্বামী বিবেকানন্দের কলমে, তিনি লিখছেন- “স্পেনে মূর নামক মুসলিম জাতি সুসভ্য রাজত্ব স্থাপন করল। স্থাপন করল বিশ্ববিদ্যালয়। ইউরোপ সভ্যতার ছোঁয়া পেল। ধীরে ধীরে ইউরোপ সুসভ্য হয়ে উঠল” (স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, খণ্ড 6, পৃষ্ঠা 162, উদ্ভোধন কার্যালয়, কলকাতা)।
আজ সেই ইউরোপ নিজেদেরকে সুসভ্য এবং পৃথিবীকে অসভ্য দাবি করে। তাদের দাবি- “আমরা শুধু সম্রাজ্য বিস্তার ও পৃথিবী শাসন করি নি, বরং পৃথিবীকে সুসভ্য বানিয়েছি। আজকের সুসভ্য পৃথিবী আমাদের দান”। কিন্তু তারা ভুলে যায়- তাদের সুসভ্য বানিয়েছে এই মুসলিম জাতি। যাদেরকে এখন তারা অসভ্য বলে মনে করে! বলা ভাল- তারা অকৃতজ্ঞ, কৃতজ্ঞতাটুকু স্বীকার করে নি। তবে স্বামী বিবেকানন্দ মুসলিম জাতির এই অবদান ভোলে নি। তারমানে, মুসলিমদের থেকে ইউরোপ সুসভ্য হয়েছে, তারপর ইউরোপ পৃথিবীকে সুসভ্য বানিয়েছে। তারমানে, আজকের সুসভ্য পৃথিবী মুসলিমদের দান।
নামাজে ইমামদের কুরআন তিলাওয়াত।
37:3 নং আয়াহ : অতঃপর শপথ তাদেরও, যারা যিকির/ বিধান (কুরআন) তিলাওয়াত করে শোনায় [7:204]।
আল্লাহর একত্ববাদে কোনও সন্দেহ নেই।
37:4 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তোমাদের ঈশ্বর/ উপাস্য পরম একক-ই, যা সন্দেহহীন [21:22, 23:91]।
সূর্য প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে উদিত হয়।
37:5 নং আয়াহ : তিনি মহাবিশ্ব, পৃথিবী ও যা আছে উভয়ে, সেই সমস্ত কিছুর প্রভু। আর তিনি সমস্ত উদয় স্থান গুলোরও প্রভু [70:40]।
# ‛সমস্ত উদয় স্থান’ বলতে, বক্তব্যটি পৃথিবীর দৃষ্টিকোণ থেকে পেশ করা হচ্ছে। মূলত সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত বলে কিছু নেই, হয় না। পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে সূর্য মূলত পৃথিবীর আড়ালে যায়। যা পবিত্র কুরআন অন্যত্রে তা সুস্পষ্ট করে দিয়েছে, যেমন 78:10, 38:32 ও 91:4 তে।
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে রয়েছে গ্ৰহাণু বেল্ট।
37:6 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা পৃথিবীর আশপাশের সৌরজগৎকে ঘিরে [67:5] রেখেছি কাওকাব/ গ্ৰহাণু দ্বারা।
শাইত্বানদের থেকে কুরআন হিফাজত করা হয়েছিল।
37:7 নং আয়াহ : এবং অবাধ্য শাইত্বান থেকে (কুরআন হিফাজতের কাজে গ্ৰহাণু গুলোকে) ব্যবহার করি।
শাইত্বানদেরকে কুরআন শুনতেও দেওয়া হয় নি।
37:8 নং আয়াহ : যেন তারা শুনতে না পায় উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন কোনও কথা [26:210-212]। শুনতে চাইলেই প্রত্যেক দিক থেকে (গ্ৰহাণু) নিক্ষেপ করা যায়,
# শুনতে দেওয়া হয় নি বলতে, কুরআন নাযিলের পূর্বে তাদেরকে শুনতে দেওয়া হোত। বিস্তারিত জানতে 72:10 এর টিকা দেখুন।
শাইত্বানদের তাড়ানোর জন্য গ্ৰহাণু নিক্ষেপ করা হোত।
37:9 নং আয়াহ : তাদেরকে তাড়ানোর জন্য। আর তাদের জন্য থাকবে অবিরাম আযাব/ শাস্তি।
# ছোট একটি প্রশ্ন- “তখন নাহলে শাইত্বানদের তাড়ানোর জন্য গ্ৰহাণু নিক্ষেপ করা হোত, তাহলে এখন কেন গ্ৰহাণু পতন হয়”?? এখন এবং কুরআন নাযিলের পূর্বে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই গ্ৰহাণু পতন হোত। কুরআন নাযিলের সময় গ্ৰহাণু গুলোকে শাইত্বানদের তাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হোত। তবে উপরিউক্ত 4 টি আয়াত বুঝতে সমস্যা হলে 72:10 এর টিকা দেখুন।
উল্কা আসলে কি??
37:10 নং আয়াহ : তবে যে কিছু শোনার চেষ্টা করে, তখন তাকে ধাওয়া করে শিহাব/ উল্কা, যা (বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে) জ্বলে ওঠে [72:8-9]।
# আসলে ‛উল্কা’ বলে কিছু হয় না। বস্তুটা হল গ্ৰহাণু, যা 37:6-37:10 পর্যন্ত পড়লে বোঝা যাবে। যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ঘর্ষণের জন্য জ্বলে ওঠে এবং টুকরো টুকরো হয়ে যায়। আমরা এটাকেই বলি ‛উল্কা’।
মহাবিশ্ব সৃষ্টি তুলনায় মানুষ সৃষ্টি করা অনেক সহজ।
37:11 নং আয়াহ : তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন- “সৃষ্টির দিক থেকে তাদের সৃষ্টি করা কঠিন, নাকি অন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছি, সেগুলো [40:57]?? নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠাল [32:7] কাদামাটি মাটি থেকে।
# সুতরাং আল্লাহ যদি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে পারেন, তাহলে মানুষ সৃষ্টি করতে পারবেন না কেন?? এখানে কেউ বলতে পারেন- “মহাবিশ্ব সৃষ্টির জন্য আল্লাহর/ স্রষ্টার প্রয়োজন ছিল না”। যদিও তাদের এই দাবি হাস্যকর! কেননা, এমনি এমনি কোনও কিছু সৃষ্টি হয় না। এমনি এমনি থিওরি মূলত প্রকৃতি বিরোধী। ক্রিয়া ছাড়া প্রতিক্রিয়া হয় না, এটা অবাস্তব, নিউটনের সুত্র বিরোধী।
যদিও ক্রিয়া ছাড়া প্রতিক্রিয়া হয়, তবুও তা অলৌকিকতা বলে গণ্য হবে। আর অলৌকিকতা ধর্মের অঙ্গ, নাস্তিকতার নয়। অথচ তারা এই অলৌকিকতা স্বীকার করলেও, ধর্ম অস্বীকার করে! যা হাস্যকর। যদিও আমাদের পরিচিত স্রষ্টা ও আল্লাহর মধ্যে পার্থক্য অতুলনীয় (112:4)।
বলতে পারেন- “মহাবিশ্ব শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে”। সত্যিই তো, পবিত্র কুরআনও তাই বলে (2:117)। শূন্য থেকে সৃষ্টি হল কেন?? কারণ কি?? উত্তর আছে আপনার কাছে?? পবিত্র কুরআনে উত্তর রয়েছে 21:16 তে। আপনি কোনও কিছু “শূন্য” থেকে সৃষ্টি করে দেখান। বিশ্বাস করে নেব যে, মহাবিশ্বও শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
নাবী (সা) কে তারা ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করত।
37:12 নং আয়াহ : বরং আপনি অবাক হচ্ছেন, কেননা তারা (আপনাকে) ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করছে [15:11, 43:7]।
তারা আল্লাহর আইন/ বিধান বুঝতে চাইত না।
37:13 নং আয়াহ : আর যখন তাদেরকে বিধান/ আইন সম্পর্কে বোঝান হয়, তখন তারা বুঝতে চায় না।
# অথচ আল্লাহর আইন ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আল্লাহর আইন বলতে- সৌদি আরব, ইরান বা পাকিস্তানের আইন নয়। আল্লাহর আইন বলতে- আল্লাহ ও রাসূল প্রদত্ত আইন (47:33)।
আয়াত সম্পর্কে সেই সময়ের নাস্তিকদের বক্তব্য।
37:14 নং আয়াহ : এবং তারা আয়াত সমূহ দেখলেই ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে [21:2]।
37:15 নং আয়াহ : আর বলে- “এ তো সুস্পষ্ট জাদু ছাড়া কিছুই নয়” [34:43]।
পুনরুত্থান সম্পর্কে সেই সময়ের নাস্তিকদের প্রশ্ন।
37:16 নং আয়াহ : (আরও বলে) যখন আমরা মারা যাব, যখন আমরা পরিণত হব গ্ৰহের/ উপগ্রহের উপাদানে এবং হাড়ে, তখন কি নিশ্চিতরূপে আমাদেরকে নিঁখুত ভাবে পুনরুত্থিত করা হবে [75:3-4]??
37:17 নং আয়াহ : আমাদের পিতৃপুরুষদেরও??
পুনরুত্থান সম্পর্কে প্রশ্নের জবাব।
37:18 নং আয়াহ : বলুন- হ্যাঁ [23:15-16]। আর (তার সঙ্গে সঙ্গে) লাঞ্ছিত [69:16:17] করাও হবে [84:1-5]।
একটি মাত্র নির্দেশেই পুনরুত্থান কার্যকর হবে।
37:19 নং আয়াহ : মূলত তা একটি নির্দেশ [31:28], অতঃপর তারা তখন দেখবে [79:13, 36:51],
পুনরুত্থান দিবসে মানুষের প্রতিক্রিয়া।
37:20 নং আয়াহ : এবং (বলবে) হায় ধ্বংস আমাদের, এটা তো বিচার দিবস [36:52]।
আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ার জবাব।
37:21 নং আয়াহ : (তখন বলা হবে) “এটাই মিমাংসা দিবস [22:69], যাকে তোমরা অস্বীকার করতে [83:11-12]”।
মিথ্যা/ ভণ্ড ঈশ্বর দাবিদারদের পরিণতি জাহান্নাম।
37:22 নং আয়াহ : (বলা হবে) “একত্রিত কর তাদেরকে, যারা সীমালঙ্ঘনকারী, সীমালঙ্ঘনে তাদেরকে সাহায্যকারী [45:19]। আর তাদেরকে (মিথ্যা/ ভণ্ড ঈশ্বর দাবীদার গুলোকে), যাদের ইবাদত/ উপাসনা (১) তারা করত [21:98-99, 26:94],
১) ঈশা/ যিশু (আ) কি এর মধ্যে গণ্য হবেন?? না, তিনি এর মধ্যে গণ্য হবেন না। কেননা, তিনি নিজেকে ঈশ্বর দাবি করেন নি। তার মিথ্যা অনুসারীরা তাকে ঈশ্বর বানিয়েছে। বাইবেলে ঈশা (আ) বলেছেন- “I can of Myself do nothing. As I hear, I judge; and My judgment is righteous, because I do not seek My own will but the will of the Father who sent Me” (Jhon, 5:30)। এর অর্থ হল- “আমি নিজ হতে কিছুই করতে পারি না। যেমন শুনি, তেমন বিচার করি এবং আমার বিচার সঠিক। কারণ হল- আমি নিজের ইচ্ছায় কিছুই করি না। কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, সেই পিতার/ ঈশ্বরের ইচ্ছা মতো চলি”।
এর অর্থ তিনি নিজেকে ঈশ্বর দাবি করেন নি, বরং তিনি নাবী, রাসূল ও মানুষ হওয়ার জন্য নিজের অপারগতা প্রকাশ করেছেন। বিচার দিবসে ঈশা/ যিশু (আ) খৃষ্টানদের ইবাদত অস্বীকার করবেন (46:5, 19:82)। শুধু ঈশা/ যিশু (আ) নন, বিচার দিবসে খৃষ্টানরাও পরিস্থিতি দেখে তাকে ঈশ্বর বলে মেনে নেবে না (30:13)। যাইহোক, যাদেরকে জোর করে ঈশ্বর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা কেউই 37:22 এর অন্তর্ভুক্ত হবেন না। যেমন, ভগবান শ্রী রাম এবং গৌতম বুদ্ধ (আমার জানা মতে- তারা নিজেকে ঈশ্বর দাবি করেন নি)।
তাদেরকে জাহান্নামের পথ দেখিয়ে দেওয়া হবে।
37:23 নং আয়াহ : আল্লাহকে বাদ দিয়ে। সুতরাং তাদেরকে জাহান্নামের পথ দেখিয়ে দাও” [50:24]।
জাহান্নামে দেওয়ার আগে তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।
37:24 নং আয়াহ : তারপর (বলা হবে) তাদেরকে একটু দাঁড় করাও এবং জিজ্ঞাসা কর,
প্রশ্নটা কি??
37:25 নং আয়াহ : কি ব্যাপার তোমরা (১) একে অপরকে সাহায্য করছ না কেন??
১) তোমরা, কারা?? সীমালঙ্ঘনকারী, সীমালঙ্ঘনে তাদেরকে সাহায্যকারী 37:22 দ্রঃ। অর্থাৎ ইহজীবনে তো একে অপরকে সাহায্য করেছিলে, এখানে করছ না কেন??
সেদিন তারা আত্মসমর্পণ করতে চাইবে।
36:26 নং আয়াহ : (কিছুই বলবে না) বরং আজ তারা আত্মসমর্পণ [16:28, 39:54] করতে চাইবে (এবং তারা শুধুই অনুতাপ [43:39, 89:23] করতে থাকবে)।
# কিন্তু এই আত্মসমর্পণ কোনও কাজে লাগবে না, এটা ইহজীবনে করা উচিৎ ছিল (39:54)।
অপরাধীরা একে অপরের মুখোমুখি হবে।
37:27 নং আয়াহ : আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হবে এবং একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে,
নেতারা সহযোগীদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ভুল বোঝায়।
37:28 নং আয়াহ : (সাহায্যকারীরা) বলবে- “নিশ্চয়ই তোমরা (সীমালঙ্ঘনকারী) তোমাদের ‛সর্বশক্তি প্রয়োগ করে’ আমাদের (ভুল বোঝাতে) আসতে [34:31, 40:47, 33:67]।
# এখানে আরবি শব্দ “আনিল ইয়ামীন”। যার সাধারণ অর্থ হল- ডান দিক থেকে। তবে একাধিক অর্থ করা হয়। কেউ করেছেন- দীন/ ধর্ম নিয়ে, কেউ করেছেন- মতবাদ নিয়ে, কেউ করেছেন- শক্তি/ সামর্থ্য দ্বারা। তবে আমি করেছি- “সর্বশক্তি প্রয়োগ করে”।
নেতারা মূর্খ ও উগ্র অনুসারীদের সম্পর্কে যা বলবে।
37:29 নং আয়াহ : তারা (সীমালঙ্ঘনকারীরা) বলবে- “না, বরং তোমরা নিজেরাই [7:39] সত্য স্বীকারকারী ছিলে না।
37:30 নং আয়াহ : আর তোমাদের উপর আমাদের বিশেষ কোনও কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা নিজেরাই ছিলে [34:32] উগ্র (আমরা শুধু তোমাদের উগ্ৰতাকে ব্যবহার করেছি মাত্র)।
37:31 নং আয়াহ : এতএব আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রভুর কথাই সত্যে পরিণত হল। নিশ্চয়ই এখন আমাদেরকে আযাব/ শাস্তির স্বাদ উপভোগ [40:48] করতে হবে।
37:32 নং আয়াহ : তবে, আমরা নিজেরা ভ্রান্তিতে ছিলাম, এ কারণে নিশ্চিতই তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি।
অন্ধ অনুসারীরাও নেতার শাস্তির অংশীদার হবে।
37:33 নং আয়াহ : অতঃপর তারা শাস্তিতে একে অপরের অংশিদার হবে [7:38, 33:68]।
37:34 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা আপরাধীদের সঙ্গে এমনই করে থাকি [77:18, 10:13, 17:77]।
কেন এমন করা হবে অপরাধীদের সঙ্গে??
37:35 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যখন তাদেরকে বলা হোত- “আল্লাহ ছাড়া কোনও ঈশ্বর/ উপাস্য নেই” [21:22, 23:91], তখন তারা অহংকার (অস্বীকার) করত।
37:36 নং আয়াহ : আর বলত- “আমরা আমাদের ঈশ্বর/ উপাস্য গুলোকে এক কবি [69:41] ও পাগলের [68:2, 51:52] কথায় পরিত্যাগ করব”??
নাবী (সা) কবি ও পাগল নন, তার প্রমাণ দিচ্ছেন আল্লাহ।
37:37 নং আয়াহ : না, বরং তিনি সত্য নিয়ে এসেছেন এবং রাসূলদের সত্যতা স্বীকার করেন।
# যদি তিনি কবি হতেন, তাহলে কবিতার মাধ্যমে নিজের বড়াই করতে পারতেন। যদি পাগল হতেন, তাহলে অন্যান্য নাবী রাসূলদের সম্পর্কে “সত্য ও সঠিক তথ্য” বলছেন কিভাবে?? তিনি বিভিন্ন নাবী রাসূলদের অনুসারীদের থেকে নিজের প্রতি কুমন্তব্য ও গালাগালি শোনার পরও অতিষ্ঠ হয়ে তাদের নাবী রাসূলদেরকে গালাগালি করা তো দূরের কথা, তাদের সম্পর্কে কুমন্তব্য পর্যন্ত করছেন না কেন?? পাগল হলে এমনটাই করতে পারতেন। বরং তিনি সর্বদা অন্য নাবী রাসূলকে নিজের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান হিসাবে দেখিয়েছেন।
একটা হাদীশ দেখুন, খানিকটা বুঝতে পারবেন- “এক ইহুদী ও এক মুসলিম পরস্পর গলাগলি করল। মুসলিম বলল : তার শপথ, যিনি মহাবিশ্ব সমূহের জন্য মুহাম্মাদ (সা) কে নির্বাচিত করেছেন। ইহুদী বলল- শপথ তার, যিনি মূসা (আ) কে নির্বাচিত করেছেন মহাবিশ্ব সমূহের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন- এমন সময় মুসলিম হাত তুলল এবং ইয়াহুদীর গালে চড় মারল। অতঃপর ঐ ইহুদী রাসূল (সা) এর নিকট গেল এবং তার ও মুসলিমের ঘটনা বলল। রসূল (সা) বললেন : তোমরা আমাকে মূসার উপর মর্যাদা দিও না। কেননা, মানুষেরা যখন (বিচার দিবসে) বেহুশ হবে। সর্বপ্রথম আমি হুশ ফিরে পাব, তখন দেখতে পাব যে, মূসা (আ) আরশের কিনারা ধরে রয়েছেন। জানি না, তিনি কি বেহুশ হয়ে আমার আগেই হুশ ফিরে পেয়েছেন, নাকি যারা বেহুশ হননি তিনি তাদের মধ্যে রয়েছেন” (মুসলিম, হাদীশ 2373/3)।
তাদের জন্য থাকবে কষ্টদায়ক শাস্তি।
37:38 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তোমরা কষ্টদায়ক শাস্তির স্বাদ উপভোগ করবে ।
বিচার দিবসে শুধুমাত্র কর্মের প্রতিফল পাওয়া যাবে।
37:39 নং আয়াহ : আর তোমরা যা করতে, সেই আমল/ কর্মের প্রতিফল পাবে [36:54, 21:47]।
জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবে কারা??
37:40 নং আয়াহ : তবে আল্লাহর খালিস্ব/ বিশুদ্ধ বান্দারা রক্ষা পাবে।
জান্নাতে কি কি, কেমন, কিভাবে থাকবে??
37:41 নং আয়াহ : তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিযিক/ জীবিকা।
37:42 নং আয়াহ : তাদের জন্য থাকবে বিভিন্ন ধরণের ফলমূল [69:23, 56:20, 56:32-33] সমূহ। আর তারা হবে সম্মানিত [70:35]।
37:43 নং আয়াহ : তারা থাকবে নিয়ামতে ভরা [39:75, 56:12] জান্নাতে।
37:44 নং আয়াহ : তারা আসনের উপর পরস্পরের দিকে মুখোমুখি হয়ে বসবে [56:15-16]।
জান্নাতী মদ কেমন হবে??
37:45 নং আয়াহ : তাদেরকে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে মদের ঝর্ণা [47:15] থেকে তুলে আনা পানপাত্র ভর্তি মদ [56:18]।
37:46 নং আয়াহ : যা হবে উজ্বল সাদা, যা পানকারীদের জন্য সুপেয় [47:15]।
37:47 নং আয়াহ : তাতে না হবে কোনও মস্তিষ্ক বিকৃতি, আর না হবে কোনও ক্ষতি [56:19]।
# জান্নাতে মদ কারা পাবেন, সবাই?? না। তবে, তারা কারা?? উত্তর রয়েছে 56:14-26 আয়াতে।
আর থাকবে হুর।
37:48 নং আয়াহ : তাদের কাছে থাকবে সুন্দর চোখ বিশিষ্ট দৃষ্টি নতকারী [56:22, 44:54] পুরুষ/ নারী (হুর)।
জান্নাতীরা ‛দেখতে’ কেমন হবে??
37:49 নং আয়াহ : তারা (জান্নাতীরা) হবে এমন, যেন ডিমের আস্তরণের ভিতরে থাকা সুরক্ষিত কুসুম [55:70]।
জান্নাতে ইহজীবন সম্পর্কে আলোচনা হবে।
37:50 নং আয়াহ : তারপর তারা একে অপরের দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করবে,
37:51 নং আয়াহ : তাদের মধ্যে হতে একজন বক্তা বলবে- “নিশ্চয়ই (পূর্ব জীবনে) আমার একজন সঙ্গী ছিল”।
জান্নাতীরা কাফিরদের ব্যঙ্গ করবেন।
37:52 নং আয়াহ : সে (আমাকে) বলত- “তুমি কি (নাবী মুহাম্মাদের) আনা সত্য স্বীকার করেছ”??
37:53 নং আয়াহ : “(বলত) আমরা যখন মারা যাব, অন্যান্য পদার্থে বিলীন হয়ে যাব, হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমরা কর্মফল পাব”??
ফেরেস্তারাও আলোচনায় অংশগ্ৰহণ করবেন।
37:54 নং আয়াহ : (ফেরেস্তারা) বলবে- “আপনারা কি তাকে দেখতে চান”??
37:55 নং আয়াহ : তারপর সে [37:51] উঁকি দিয়ে দেখবে- “সে (সেই কাফির) এখন জাহান্নামের মাঝখানে”।
তারপর সেই জান্নাতী, এই জাহান্নামীকে যা যা বলবে।
37:56 নং আয়াহ : সে [37:51] বলবে- “আল্লাহর শপথ, তুমি (জাহান্নামী) তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করেই ফেলে ছিলে!!
37:57 নং আয়াহ : যদি না আমার প্রভু অনুগ্রহ করতেন, তাহলে আমিও হতাম (জাহান্নামে) উপস্থিতদের একজন”।
■ ফেরেস্তাদেরকে প্রশ্ন ■ পুনর্জন্ম নেই।
37:58 নং আয়াহ : (জান্নাতীরা বলবে) “আচ্ছা আমরা আর মরব না তো??
37:59 নং আয়াহ : আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর মৃত্যু [44:56] নেই তো! আর কোনও শাস্তির সম্মুখীন হব না তো”??
# অনেকেই ‛অনুবাদ কুরআন’ পড়ে পণ্ডিত হওয়ার বলে থাকেন- “কুরআনে বহু আয়াত রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, পুনর্জন্ম আছে এবং তা সত্য। যেমন 2:28 নং আয়াত, এছাড়াও আরও বহু আয়াত রয়েছে”। এখন আমি আমার পাঠকদের বলব- গিয়ে একবার 2:28 দেখে আসুন তো, ঐ আয়াহ কি সত্যিই পুনর্জন্মের কথা বলছে!
যাইহোক, এখন এই আয়াহ (37:59) সুস্পষ্ট বলছে যে, “প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কোনও মৃত্যু নেই”। অর্থাৎ মৃত্যু শুধু একবার হবে, দ্বিতীয় মৃত্যু নেই। আরবি শব্দ গুলো খেয়াল করুন- “ইল্লা মাওতাতানাল উলা”। যদি আরবির জ্ঞান না থাকে, তাহলে কমপক্ষে কুরআনের ক্ষেত্রে নিজেকে পণ্ডিত ভাবা মূর্খতা।
আল্লাহ নিজে জান্নাতীদের উত্তর দেবেন।
37:60 নং আয়াহ : (জবাবে আল্লাহ বলবেন) নিশ্চয়ই এটাই তাদের (জান্নাতীদের) জন্য মহাসাফল্য” [4:13, 5:119]।
আমাদের জন্য আল্লাহর বার্তা।
37:61 নং আয়াহ : সুতরাং এই ধরণের সাফল্যের জন্য আমল/ কর্মকারীদের আমল/ কর্ম করা উচিৎ।
আল্লাহ জাহান্নামীদের ব্যঙ্গ করলেন।
37:62 নং আয়াহ : এটা কি উত্তম আপ্যায়ণ, নাকি কুল গাছের কাঁটা??
37:63 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা তা (কুল গাছ) অত্যাচারকারীদের জন্য করেছি ফিতনা/ বিপদ [17:60]।
জাহান্নামে কুলগাছের অবস্থান।
37:64 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তা এমন একটি গাছ, যা জাহান্নামের তলদেশ হতে বের হবে।
ঐ কুলগাছের ফল গুলো কেমন হবে??
37:65 নং আয়াহ : এর ফল গুলো হবে শাইত্বানের মাথা সমূহের মতো।
জাহান্নামীদের একমাত্র খাদ্য হবে কুল গাছের কাঁটা।
37:66 নং আয়াহ : অতঃপর নিশ্চয়ই তারা (জাহান্নামের বাসিন্দারা) তা খাবে, আর এভাবেই তাদের পেট ভর্তি হবে [56:52-53]।
জাহান্নামীদের পানীয় কেমন হবে??
37:67 নং আয়াহ : এরপর তাদের জন্য থাকবে নক্ষত্রের প্লাজমা [56:54-55] মিশ্রিত পানীয় [38:57, 47:15]।
বাপ-দাদাদের অন্ধ অনুসারীরা জাহান্নামী হবে।
37:68 নং আয়াহ : তারপর তাদেরও গন্তব্য হবে জাহান্নাম।
37:69 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তারা তাদের পিতৃপুরুষ/ বাপ দাদাদের পেয়েছিল পথভ্রষ্ট।
37:70 নং আয়াহ : তারপরও তারা তাদের পথেই চলে/ ছুটে ছিল [2:170, 5:104]।
আরবীয়দের পূর্বপুরুষদেরকে ‛সতর্ক’ করা হয়েছিল।
37:71 নং আয়াহ : আর অবশ্যই তাদের পূর্বেই তাদের পূর্বপুরুষদের অনেকেই পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
37:72 নং আয়াহ : এবং অবশ্যই আমরা তাদের মধ্যে সতর্ককারীদেরকে [35:24] প্রেরণ করেছিলাম [17:15]।
# প্রশ্ন হবে- “কমপক্ষে বেশ কিছু আয়াত রয়েছে, যা বলছে যে, নাবী (স) এর সময়ে যারা ছিল, সেই সমস্ত আরবীয়দের পূর্বপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয় নি” (13:30, 32:3, 36:6)। এখন এই দুই আয়াত কি পরস্পর বিরোধী হয়ে গেল না?? না। না কেন?? ঐ সমস্ত আয়াত গুলোতে নাবী (সা) থেকে ইসমাঈল (আ) পর্যন্ত ধরা হয়েছে। কিন্তু এখানে ইসমাঈল (আ) এর পূর্বের পূর্বপুরুষদের কথা বলা হয়েছে। মানে ইবরাহীম (আ) এবং নূহ (আ) এর যুগের কথা বলা হয়েছে। যা পরবর্তী আয়াত গুলোতে (যেমন 37:83 তে) বলা হয়েছে।
সতর্ক না হওয়ার পরিণতি।
37:73 নং আয়াহ : অতঃপর দেখুন- যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, (সতর্ক না হওয়ায়) তাদের কি করুণ পরিণতি কি হয়েছে!
# অর্থাৎ যদি আবারও সতর্ক না হয়, তাহলে এদেরও হবে করুণ পরিণতি!
37:74 নং আয়াহ : তবে আল্লাহর খালিস্ব/ বিশুদ্ধ বান্দাদের কথা ভিন্ন।
নূহ (আ) এর উদাহরণ পেশ করা হচ্ছে।
37:75নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই নূহ আমাদেরকে ডেকে ছিল [54:10], সুতরাং আমরা কতই না উত্তম ভাবে সাড়া [2:186, 40:60] দিই।
নূহ (আ) এর সময়ে বন্যায় কারা কারা জীবিত ছিল??
37:76 নং আয়াহ : আমরা তাকে ও তার পরিবারকে উদ্ধার করেছিলাম মহাবিপদ হতে।
# পরিবার বলতে, পরিবারের কে কে?? তার স্ত্রী ও এক পুত্র বাদে আর যারা ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন নূহ (আ) এর পিতামাতা, অল্প কিছু সাধারণ মূমীনরা। রেফারেন্স গুলো দেখে আসুন- 66:10, 11:45, 71:28 আয়াত।
পৃথিবীর কোন অংশে নূহ (আ) এর সময়ে বন্যা হয়েছিল??
37:77 নং আয়াহ : এবং (ঐ এলাকার অন্য কেউ জীবিত ছিল না) শুধুমাত্র তার বংশধরদের (১) অবশিষ্ট রাখলাম।
# পৃথিবীর কোন এলাকায় নূহ (আ) এর সময়ে বন্যা হয়েছিল?? নূহ (আ) এর নৌকা থামে জূদী (11:45) পর্বতে। যা বর্তমানে তুর্কীতে অবস্থিত। তারমানে, তুর্কির আশেপাশে কোথাও এই বন্যা হয়েছিল। কিন্তু কোথায়?? আজ থেকে 7500 বছর আগের ভূমধ্যসাগরে কৃষ্ণ সাগরের প্লাবন/ বন্যাকেই নূহ (আ) এর সময়ে ঘটে যাওয়া বন্যা হিসাবে গণ্য করা হয়।
অনেকে আবার মনে করেন- “আজ থেকে 9000 বছর আগে কৃষ্ণ সাগরের জলস্তর কমপক্ষে 100 মিটার কম ছিল। ফলত যে অঞ্চল গুলো আজ পানির নিচে চলে গেছে, সেগুলো 9000 বছর আগে মানুষ বসবাস করত। তারপর কোনও এক ধূমকেতু পড়ে ভূমধ্যসাগরে। ফলত জলোচ্ছ্বাস হয়, কৃষ্ণ সাগরে হু হু করে পানি ঢুকে পড়ে। ফলত বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়, হতে পারে তখন প্রচুর মাত্রায় বৃষ্টিপাতও হয়েছিল”। তবে সেই সময়ে গিয়ে দেখা সম্ভব নয় যে, কিভাবে সব কিছু ঘটেছিল। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান আরও উন্নত হবে, তখন হয়ত বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে পারব।
১) নূহ (আ) এর বংশধররা হলেন ইবরাহীম (আ)। আর ইবরাহীম (আ) এর বংশ দুই ভাগে বিভক্ত। বানু ইসমাঈল ও বানু ইসহাক। বানু ইসমাঈল হলেন আরবরা বা সৌদি আরবের মানুষরা। এবং বানু ইসহাকরা পরবর্তীতে বানু ইসরাঈল নামে পরিচিত লাভ করে, আর তারা হলেন বর্তমান ফিলিস্তিনের মানুষরা।
37:78 নং আয়াহ : আর আমরা তার পরবর্তীদের মধ্যে তার সুখ্যাতি ছেড়েছি।
অন্যান্য নাবী রাসূলদের উপর কিভাবে দরুদ পড়তে হবে??
37:79 নং আয়াহ : (সুতরাং বলুন) মহাবিশ্ব সমূহের মধ্যে অবস্থিত ‛নূহের উপর শান্তি’।
# হাদীশ অস্বীকারকারীগণ এই ধরণের আয়াত গুলো দেখিয়ে বলেন- “অন্যান্য নাবী রাসূলদের নাম উচ্চারিত হলে বলতে হবে যে, ‛সালামুন আলা নূহ’ ইত্যাদি”। কিন্তু এখানে তো বলা হচ্ছে না যে, দরুদের পদ্ধতিটা কেমন হবে! বলা হচ্ছে- (সুতরাং বলুন) মহাবিশ্ব সমূহের মধ্যে অবস্থিত সালামুন আলা নূহ। আসলে এরা মূর্খ। বিস্তারিত জানতে দেখুন- 13:24 ও 56:26 আয়াত।
নূহ (আ) ছিলেন সৎকর্মশীল ও মূমীন।
37:80 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা সৎকর্মশীলদের এভাবেই প্রতিদান দিই।
37:81 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন আমাদের মূমীন বান্দাদের একজন।
37:82 নং আয়াহ : এরপর আমরা ডুবিয়ে দিই (নূহ ও তার পরিবার [37:76] ছাড়া) অন্যদেরকে [11:37:48]।
ইবরাহীম (আ) ছিলেন নূহ (আ) এর পথের অনুসারী।
37:83 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিল তার (নূহের) পথের অনুসরণকারী [3:68]।
ইবরাহীমের (আ) এর মস্তিষ্ক কি রকম ছিল??
37:84 নং আয়াহ : (শুনুন সেই সময়ের কথা) যখন তার প্রতিপালকের কাছে এসেছিলেন বিশুদ্ধ মস্তিষ্ক [26:89] নিয়ে।
জাতি ও পিতাকে ইবরাহীম (আ) এর কিছু প্রশ্ন।
37:85 নং আয়াহ : যখন তিনি তার পিতা ও তার জাতিকে বলেছিলেন- “তোমরা কিসের ইবাদত/ উপাসনা করছ??
37:86 নং আয়াহ : তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে মিথ্যা ঈশ্বর/ উপাস্যদের [46:28] পেতে চাও??
37:87 নং আয়াহ : মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের ধারণা [1:1] কি??
পিতা ও জাতির মূর্খতা দেখে ইবরাহীম (আ) বিরক্ত হলেন।
37:88 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি (ইবরাহীম) নক্ষত্র সমূহের দিকে (আকাশের দিকে) তাকালেন।
37:89 নং আয়াহ : অতঃপর (তার পিতা ও তার জাতির পথভ্রষ্টতা দেখে) বললেন- “আমি (এসব মূর্খতা দেখে দেখে) অসুস্থ হয়ে পড়ব [6:74]”।
37:90 নং আয়াহ : অতঃপর তারা (তার পিতা ও জাতির মানুষজন) তার থেকে পিঠ ফিরিয়ে চলে [21:57-58] গেল।
ইবরাহীম (আ) মূর্তি গুলোকে ‛দুটি’ প্রশ্ন করলেন।
37:91 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি তাদের ঈশ্বর/ উপাস্য গুলোর কাছে গেলেন এবং বললেন- “তোমরা খাচ্ছ না কেন??
37:92 নং আয়াহ : তোমাদের কি হয়েছে, তোমরা কথা বলছ না কেন”??
উত্তর না পেয়ে ইবরাহীম (আ) মূর্তি ভাঙা শুরু করলেন।
37:93 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং ডানহাত দিয়ে খুব আঘাত [21:59-62] করলেন।
# মূর্তি ভাঙার বিধান রহিত (রদ) করা হয়েছে 6:108 দ্বারা। সুতরাং এখন মূর্তি ভাঙা তো দূরের কথা, মূর্তিদেরকে কটুক্তি বা গালাগালি দেওয়াও নিষিদ্ধ।
ইবরাহীমের পিতা ও জাতির মানুষরা ছুটে এল।
37:94 নং আয়াহ : অতঃপর তারা (তার পিতা ও তার জাতির মানুষজন) তার দিকে ছুটে এল [21:59-68]।
ইবরাহীম (আ) মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন।
37:95 নং আয়াহ : তিনি (ইবরাহীম) বললেন- “তোমরা কি তাদের উপাসনা কর, যাকে তোমরা নিজেরাই তৈরি করেছ [25:3, 16:20-21]??
37:96 নং আয়াহ : অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরও, (যাদের মূর্তি) তোমরা [7:194] তৈরি করেছ” [21:63-67]।
তারা ইবরাহীম (আ) অগ্নিকুণ্ডে ফেলে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিল।
37:97 নং আয়াহ : তারা (কিছুক্ষণ আলোচনার পর) বলল- “তোমরা প্রাচীর ঘেরা অগ্নিকুণ্ড তৈরি কর এবং তাতে তাকে (ইবরাহীমকে) জলন্ত আগুনে [21:68] ফেলে দাও”।
ইবরাহীম (আ) আল্লাহ আগুন স্পর্শ হতে দিলেন না।
37:98 নং আয়াহ : আর তারা তার (ইবরাহীমের) বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র [6:123, 52:42] করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা তাদের (ষড়যন্ত্রকে) ব্যর্থ করে [21:69-70] দিলাম।
তারা ইবরাহীম (আ) অগ্নিকুণ্ডে ফেলে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিল।
37:97 নং আয়াহ : তারা (কিছুক্ষণ আলোচনার পর) বলল- “তোমরা প্রাচীর ঘেরা অগ্নিকুণ্ড তৈরি কর এবং তাতে তাকে (ইবরাহীমকে) জলন্ত আগুনে [21:68] ফেলে দাও”।
ইবরাহীম (আ) কে আল্লাহ আগুন স্পর্শ হতে দিলেন না।
37:98 নং আয়াহ : আর তারা তার (ইবরাহীমের) বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র [6:123, 52:42] করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা তাদের (ষড়যন্ত্রকে) ব্যর্থ করে [21:69-70] দিলাম।
ইবরাহীম নিজ এলাকা, পিতা ও জাতি ত্যাগ করলেন।
37:99 নং আয়াহ : তারপর (অগ্নিকুণ্ড থেকে বের হয়ে ইবরাহীম) বললেন- “আমি আমার প্রভুর দিকে চললাম, তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন” [92:12, 76:3]।
# অগ্নিকুণ্ড থেকে বের হয়ে পিতার কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার পিতা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এর উল্লেখ রয়েছে 19:41-47 দেখুন। এই ঘটনার পর তিনি কোনও একটা সময়ে বিবাহ করেন কিন্তু সন্তান হচ্ছিল না।
সন্তান না হওয়ায় ইবরাহীম (আ) দুয়া করলেন।
37:100 নং আয়াহ : (পরবর্তীতে সন্তান না হওয়াতে তিনি বললেন) হে প্রভু, আমাকে একটি পূণ্যবান সন্তান (১) দিন [37:112]।
১) ইবরাহীম (আ) পূণ্যবান সন্তান চেয়েছিলেন, তার দুয়া কবুলও হয় 37:112 তে। কিন্তু তার আগে ইবরাহীম (আ) কে আল্লাহ তার পক্ষ থেকে সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দেন। আর তিনি হলেন ইসমাঈল (আ)। যার উল্লেখ রয়েছে 37:101 এ।
ইসমাঈল (আ) এর জন্মের ভবিষ্যৎ বাণী।
37:101 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা তাকে একটি সহনশীল পুত্রের (ইসমাঈলের) সুসংবাদ দিলাম।
# এই পুত্র জন্মায় ইবরাহীম (আ) এর দ্বিতীয় স্ত্রী হাজেরা (আ) এর মাধ্যমে। বর্তমান আরবীয়রা হাজেরার সন্তান। আর হাজেরা (আ) প্রথমে ছিলেন ইবরাহীম (আ) এর দাসী, পরে ইবরাহীম (আ) তাকে বিবাহ করে দাসীত্ব হতে মুক্তি দেন। এজন্য ইহুদী ও খৃষ্টানগণ আরবীয়দের দাসীর বংশধর বলে কটাক্ষ করতেন। করতেন নয়, বরং এখনও করেন। এই বাইবেলের প্রথম পুস্তক জেনেসিসের 16 নং অধ্যায়ে বিস্তারিত কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও 16:10 এ বলা হয়েছে- “ইসমাঈলের বংশ এত বড় হবে যে, যা গণনা করে শেষ করা অসম্ভব হবে”। তারমানে, একদিন গোটা পৃথিবীতে মুসলিম জনসংখ্যা হৈ হৈ বাড়বে। যদিও ‛পিউ রিসার্চ সেন্টার’র রিপোর্ট সেই সাক্ষ্যই দেয়।
বলে রাখি- বাইবেলের পুরাতন নিয়মে আরব ভূমিকে পারান ভূমি (Paran) বলা হয়েছে। বাইবেলের জেনেসিসে 21:21 এ ইসমাঈল (আ) কে পারান ভূমির বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে খৃষ্টানগণ বলেন- “পারান ভূমি মিশর বা সিনাই এর মরুভূমিতে অবস্থিত”। যদিও তাদের এই দাবি মিথ্যা। কেননা, বাইবেলের দ্বিতীয় বিবরণের 1:1 এ বলা হয়েছে- “পারান ভূমি জর্ডানের পূর্বদিকে”। জর্ডানের পূর্বদিকে রয়েছে আরব ভূমি বা বর্তমান সৌদি আরব। অথচ মিশর ও সিনাই জর্ডানের পশ্চিমে। এছাড়াও বাইবেলের গণনা পুস্তকের 10:12 বলছে- “বানী ইসরাঈল সিনাই হতে পারান ভূমিতে যাত্রা করল”। তারমানে, পারান ভূমি মিশর ও সিনাইয়ে অবস্থিত নয়। এছাড়াও বাইবেলের নতুন টেষ্টামেন্টের গালাতীয়’তে বলা হয়েছে- “আরবীয়রা হাজেরার সন্তান” (4:24-25)।
ইসমাঈল (আ) কে যাবেহ করার নির্দেশ দেওয়া হল।
37:102 নং আয়াহ : অতঃপর তার (ইবরাহীমের) পুত্র তার সঙ্গে বড় হয়ে জ্ঞান সম্পন্ন অবস্থায় পৌঁছাল। তখন বললেন- “হে আমার পুত্র, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যাবেহ করছি। সুতরাং ভেবে দেখ, এখন তোমার দৃষ্টিভঙ্গি/ মতামত কি”?? (ইসমাঈল) বললেন- “হে আমার পিতা, আপনি তা করুন, যা আপনাকে আদেশ করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীলদের অন্যতম পাবেন”।
# খৃষ্টানগণ বলেন : বাইবেলে বলা হয়েছে- “ইবরাহীম (আ) কে আদেশ করা হয়েছিল ইসহাককে কুরবানী/ যাবেহ করার জন্য”। শুধু এইটুকু নয়, তারা এও বলেন- “কুরআনে ইসমাঈল (আ) কে কুরবানী/ যাবেহ করা হয়েছিল, একথা নেই”।
আসলে এটা তাদের মিথ্যাচার ও বাইবেলের সুস্পষ্ট অসংগতি। প্রমাণ দিচ্ছি- “Then He said : Take now your son, your only son Isaac, whom you love, and go to the land of Moriah, and offer him there as a burnt offering on one of the mountains of which I shall tell you”(Book of Genesis)।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল- “Take now your son, your only son Isaac অর্থাৎ “তুমি তোমার পুত্রকে নাও, তোমার Only son Isaac বা বড়/ অদ্বিতীয় পুত্র ইসহাককে নাও”। প্রশ্ন হল- ইসহাক (আ) তো বড়/ অদ্বিতীয় পুত্র ছিলেন না। তিনি ছোট পুত্র, তাহলে অদ্বিতীয় হলেন কিভাবে?? লক্ষ্য করুন- জেনেসিসের 16 নং অধ্যায়ে ইসমাঈল (আ) এর জন্ম, 21 নং অধ্যায়ে ইসহাক (আ) এর জন্ম হচ্ছে। তাহলে ইসহাক (আ) বড়/ অদ্বিতীয় পুত্র হলেন কিভাবে?? বিস্তারিত রয়েছে 37:112 তে।
37:103 নং আয়াহ : অতঃপর উভয়ে (আল্লাহর প্রতি) অনুগত/ সমর্পণকারী হলেন। এবং তিনি তাকে (ইসমাঈলকে) উপুড় করে শুইয়ে দিলেন।
পুত্রকে যাবেহ করতে আল্লাহ বাধা দিলেন।
37:104 নং আয়াহ : তখন আমরা তাকে ডাকলাম যে, হে ইবরাহীম,
37:105 নং আয়াহ : অবশ্যই আপনি স্বপ্নকে সত্য করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আমরা এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি সৎকর্মশীলদের।
# অর্থাৎ আল্লাহ যাবেহ করতে দিলেন না, তাতে বাধা দিলেন।
পুত্র যাবহের নির্দেশ ছিল ইবরাহীম (আ) এর জন্য পরীক্ষা।
37:106 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই এটা ছিল তার জন্য সুস্পষ্ট পরীক্ষা [18:7, 29:2, 67:2]।
# একটি হাদীশ- “সাদ (রা) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম : হে আল্লাহর রাসূল, মানুষদের মধ্যে কার বিপদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়?? তিনি বললেন : নবীদের বিপদের পরীক্ষা” (তিরমিযী, হাদীশ 2398)।
ইসমাঈল (আ) এর স্থানে পশু যাবেহ।
37:107 নং আয়াহ : এবং আমরা তাকে (ইসমাঈলকে) মুক্তি দিই একটি ‛মহান পশু’ (১) জাবেহর মাধ্যমে।
# মনে রাখা দরকার যে, এই ঘটনার সঙ্গে ঈদুল আদ্বহার পশু কুরবানীর কোনও সম্পর্ক নেই। ঈদুল আদ্বহার পশু কুরবানী কেন করতে হয়, তা সুস্পষ্ট ভাবে 22:36 এ বলা হয়েছে। বলা হয়েছে- “গরীব মানুষদের মাংস খাওয়ানই হল পশু কুরবানীর উদ্দেশ্য”।
১) মনে করা হয়- তা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত দুম্বা। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- এখানে শিশু ইসমাঈল (আ) এর স্থানে দুম্বা এল কোথায় থেকে এবং কিভাবে?? উত্তর খুব সহজ- টেলিপোর্টের মাধ্যমে। তা কি বিজ্ঞানসম্মত?? হ্যাঁ, তা সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ভিত্তিক। কিছুদিন আগেই টেলিপোর্টের মাধ্যমে আলোর কণা স্থানান্তরিত করা সম্ভব হল। চাইলে গুগলে যান, সার্চ করে দেখে নিন।
37:108 নং আয়াহ : আর আমরা তার পরবর্তীদের মধ্যে তার (ইবরাহীমের) সুখ্যাতি ছেড়েছি।
নাবীদের উপর কিভাবে দরুদ পড়তে হবে??
37:109 নং আয়াহ : (সুতরাং বলুন) ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
ইবরাহীম (আ) ছিলেন সৎকর্মশীল ও মূমীন।
37:110 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা সৎকর্মশীলদের এভাবেই প্রতিদান দিই।
37:111 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন আমাদের মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
ইবরাহীম (আ) ইসহাক (আ) এর সুসংবাদ পেলেন।
37:112 নং আয়াহ : এবং আমরা তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের [37:100]। যে ছিল পূণ্যবাদদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী।
# খৃষ্টানগণ কুরআন থেকে প্রমাণ করতে চান- “আল্লাহ ইসহাক (আ) কে যাবেহ করতে বলেছিলেন। কিন্তু তখন ইসহাক (আ) এর জন্মই হয় নি, যখন যাবেহর ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ যাবেহ’র বহু বছর পর ইসহাক (আ) জন্ম হয়। যাবেহর ঘটনা হয়, 37:102-104 নং আয়াতে। আর ইসহাক (আ) এর জন্মের সুসংবাদ এল 37:112 তে। তবে বিস্তারিত রয়েছে 37:102 এ।
ইসহাক (আ) ও ইসমাঈল (আ) এর বর্তমান অবস্থা।
37:113 নং আয়াহ : আর আমরা সমৃদ্ধি দিলাম তাকে (ইসমাঈলকে) ও ইসহাককে। দুজনের বংশধরদের মধ্যে কিছু সৎকর্মশীল, আর কিছু নিজেদের ক্ষতি [23:103] করার সুস্পষ্ট ভাবে এগিয়ে।
মূসা (আ) ও হারূন (আ) এর প্রতি আল্লাহর দয়া করেছিলেন।
37:114 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা মূসা ও হারূনকে বিশেষ অনুগ্রহ করেছিলাম।
37:115 নং আয়াহ : এবং আমরা তাদের দুজনকে ও তাদের জাতিকে উদ্ধার করেছি মহাকষ্ট/ মহা সংকট থেকে।
মূসা (আ) ও হারূন (আ) আল্লাহর সাহায্যে বিজয়ী হলেন।
37:116 নং আয়াহ : এবং তাদেরকে আমরা সাহায্য করেছি, অতঃপর তারা বিজয়ী [3:160] হয়েছিলেন [37:173]।
মূসা (আ) ও হারূন (আ) উভয়কে কিতাব দেওয়া হয়েছিল।
37:117 নং আয়াহ : আর তাদের দুজনকে (১) দিয়েছি সুস্পষ্ট কিতাব।
১) দুজনকে বলতে! মূসা (আ) ও হারূন (আ) এর কথা বলা হচ্ছে। হারূন (আ) কে কোন কিতাব দেওয়া হয়েছিল?? তার নাম কি?? আল্লাহ বলেন নি, তাই আমিও বলতে পারছি না। দুঃখিত! তবে প্রত্যেক নাবী রাসূলকে ওহী এবং কিতাব দেওয়া হয়েছিল (2:213, 16:43, 21:7, 57:25)।
37:118 নং আয়াহ : এবং তাদের দুজনকেই চূড়ান্ত সফলতার পথ দেখিয়েছিলাম।
37:119 নং আয়াহ : আর আমরা তার পরবর্তীদের মধ্যে তাদের দুজনের সুখ্যাতি ছেড়েছি।
নাবীদের উপর কিভাবে দরুদ পড়তে হবে??
37:120 নং আয়াহ : (সুতরাং বলুন) মূসা ও হারূনের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
মূসা (আ) ও হারূন (আ) ছিলেন সৎকর্মশীল ও মূমীন।
37:121 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা সৎকর্মশীলদের এভাবেই প্রতিদান দিই।
37:122 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তারা দুজনে ছিলেন আমাদের মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
ইলিয়াস (আ) তার জাতিকে যা যা বলেছিলেন।
37:123 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই ইলিয়াসও ছিলেন রাসূলদের একজন [6:185]।
37:124 নং আয়াহ : যখন তিনি তার জাতিকে বলেছিলেন- “তোমরা কি তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করবে না??
37:125 নং আয়াহ : তোমরা কি ডাকবে ‛বাআল’কে, আর পরিত্যাগ করবে ‛উত্তম স্রষ্টা’ (আল্লাহ) কে??
# ইলিয়াস (আ) দামেষ্কের পশ্চিমে ‛বাআ’লা বাক্কা’ অঞ্চলের বানু ইসরাইলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। এই সময় হযরত সুলাইমান (আ) এর উত্তরসুরীদের অপকর্মের দরুণ বানু ইসরাঈলের সাম্রাজ্য দু ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এক ভাগকে ‘ইয়াহুদিয়াহ বা যিহুদিয়াহ’ বলা হোত, তাদের রাজধানী ছিল- বাইতুল মুকাদ্দাসে। অপর ভাগের নাম ছিল- ‘ইসরাঈল’। তাদের রাজধানী ছিল তৎকালীন সামেরাহ এবং বর্তমান নাবলুসে (নাবীদের কাহীনি, ড. আসাদুল্লাহ আল গালীব)। সম্ভবত ‛বাআল’ দেবতার নাম অনুসারে ঐ এলাকার নাম হয়- ‛বাআ’লা বাক্কা’।
‛বাল দেবতা’ বাইবেলেও কথা বলা হয়েছে একাধিক জায়গায়। যেমন- Numbers 22:41, Numbers 25:3, Deuteronomy 4:3, 1 Kings 16:31-32, 1 Kings 18:18-19, 2 Kings 1:16, Jeremiah 2:8, Jeremiah 2:23, Jeremiah 7:9 অনুচ্ছেদ। এছাড়া নিউ টেষ্টামেন্টেও রয়েছে Romans 11:4 এ। এছাড়াও রয়েছে আরও বহু অনুচ্ছেদে। তবে বাইবেলের Judges এর 2:11-13 তে বলা হয়েছে, নাবী জোশুয়া/ ইউসা (আ) এর মৃত্যুর পর মূর্তি পূজা সহ ‛বাল দেবতার’ প্রচার প্রসার বেড়ে গিয়েছিল। তবে নাবী ইলিয়াস (আ) এর সময়ে ‛বাল দেবতা’ সম্পর্কে একটা মজার কাহিনী বর্ণিত রয়েছে বাইবেলের 1 Kings 18:22-40 এ।
37:126 নং আয়াহ : আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও প্রতিপালক, যারা গত হয়েছে”।
সত্য অস্বীকারের পরিণতি।
37:127 নং আয়াহ : তারা তাকে অস্বীকার করল, আর এ কারণে নিশ্চয়ই তাদেরকে (শাস্তির জন্য) উপস্থিত করা হবে।
যারা আল্লাহর শাস্তি থেকে বেঁচে যাবেন।
37:128 নং আয়াহ : তবে আল্লাহর বিশুদ্ধ/ একনিষ্ঠ বান্দাদের ব্যাপারটা ভিন্ন (তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে না)।
37:129 নং আয়াহ : আর আমরা তার পরবর্তীদের মধ্যে তার সুখ্যাতি ছেড়েছি।
নাবীদের উপর কিভাবে দরুদ পড়তে হবে??
37:130 নং আয়াহ : (সুতরাং বলুন) ইলিয়াসের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
ইলিয়াস (আ) মূমীন ও সৎকর্মশীল।
37:131 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন আমাদের মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
37:132 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা সৎকর্মশীলদের এভাবেই প্রতিদান দিই।
লূত (আ) এর পরিবারের সবাইকে আল্লাহ উদ্ধার করলেন।
37:133 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই লূতও ছিলেন রাসুলদের একজন।
37:134 নং আয়াহ : যখন আমরা উদ্ধার করেছিলাম তাকে এবং তার পরিবারের সবাইকে।
লূত (আ) এর স্ত্রীকে উদ্ধার করা হয় নি।
37:135 নং আয়াহ : তবে এক বৃদ্ধা (তার স্ত্রী) ছাড়া, সে ছিল পিছনে অবস্থানকারী [11:81]।
লূত (আ) এর জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।
37:136 নং আয়াহ : তারপর আমরা ধ্বংস করেছিলাম অন্য সবাইকে [11:82]।
37:137 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই এখন তোমরা (১) তাদের ধ্বংস স্থানের উপর দিয়েই যাতায়াত করে থাক সকালে,
১) এখানে তোমরা বলতে, ইহুদীদেরও বোঝান হতে পারে, আবার মাক্কাবাসীদেরও বোঝান হতে পারে। তবে 11:83 তে মাক্কাবাসীদের বোঝান হয়েছে। তবে এখানে সম্ভবত ইহুদীদের বোঝান হয়েছে। কেননা, লূত (আ) কে পাঠান হয়েছিল জর্ডান ও বায়তুল মুকালদ্দাসের মধ্যবর্তী ‘সাদূম’ অঞ্চলের অধিবাসীদের পথ প্রদর্শনের জন্য। আর এখানে ইহুদীদের বসবাস ছিল। অন্যদিকে মাক্কাবাসীরা এজন্য নয় যে, তাদের দ্বারা সকালে ও রাতে সাদূমে যাওয়া অসম্ভব ছিল।
37:138 নং আয়াহ : এবং রাতেও। তবুও কি তোমরা মস্তিষ্কের ব্যবহার করবে না??
ইউনূস (আ) আল্লাহর উপর রাগ করে পালিয়ে যাচ্ছিলেন।
37:139 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই ইউনূসও ছিলেন রাসূলদের একজন [6:86]।
37:140 নং আয়াহ : যখন তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন বোঝাই নৌকার [21:87] দিকে।
# বাইবেলে খুব ছোট একটা পুস্তকে ইউনূস (আ) এর ঘটনাটা বর্ণিত রয়েছে। তা এখানে তুলে দিলাম খুব ছোট করে, বুজতে সুবিধা হতে পারে- “সদাপ্রভুর এই বাক্য অমিত্তাইয়ের পুত্র যোনা/ ইউনূসের কাছে উপস্থিত হইল। (বলা হল) তুমি ওঠ, নীনবীতে যাও, সেই মহানগরে যাও। আর নগরের বিরুদ্ধে (সত্য) ঘোষণা কর, কেননা তাহাদের দুষ্টতা আমার সম্মুখে উঠিয়াছে। কিন্তু যোনা/ ইউনূস সদাপ্রভুর সম্মুখ হইতে তর্শীশে পলাইয়া যাইবার নিমিত্ত উঠিলেন এবং তিনি যাফোতে নামিয়া গিয়া, তর্শীশে যাইবে, এমন এক জাহাজ পাইলেন। তখন জাহাজের ভাড়া দিয়া সদাপ্রভুর সম্মুখ হইতে নাবিকদের সহিত তর্শীশে যাইবার জন্য সেই জাহাজে প্রবেশ করিলেন।
কিন্তু সদাপ্রভু সমুদ্রে প্রচণ্ড বায়ু/ ঝড় পাঠাইয়া দিলেন, সমুদ্রে ভারী ঝড় উঠিল। এমনকি জাহাজ ভাঙ্গিয়া যাইবার উপক্রম হইল। তখন নাবিকেরা ভীত হইল, প্রত্যেক জন আপন আপন দেবতার কাছে কাঁদিতে লাগিল, আর ভার লাঘবের নিমিত্ত জাহাজের মাল সমুদ্রে ফেলিয়া দিল। কিন্তু যোনা জাহাজের খোলে নামিয়াছিলেন, শয়ন করিয়া ঘোর নিদ্রায় মগ্ন ছিলেন।
তখন জাহাজের অধ্যক্ষ তাহার নিকটে আসিয়া কহিলেন : ওহে, তুমি যে ঘুমাইতেছ, তোমার কি হইল?? উঠ, তোমার ঈশ্বরকে ডাক, হয়ত ঈশ্বর আমাদের বিষয় চিন্তা করিবেন এবং আমরা বিনষ্ট হইব না।
পরে নাবিকেরা পরস্পর কহিল : আইস আমরা লটারি করি, তাহা হইলে জানিতে পারিব যে, কাহার দোষে আমাদের প্রতি এই অমঙ্গল ঘটিতেছে। পরে তাহারা লটারি করিল, আর যোনার নামে ‛গুলি’ উঠিল। তখন তাহারা তাহাকে কহিল : বল দেখি- কাহার দোষে আমাদের প্রতি এই অমঙ্গল ঘটিতেছে?? তোমার ব্যবসা কি?? কোথায় হইতে আসিয়াছ? তুমি কোন দেশের লোক?? কোন জাতির??
তিনি তাহাদিগকে কহিলেন : আমি ইব্রীয়/ হিব্রু, আমি সদাপ্রভুকে ভয় করি, তিনি স্বর্গের ঈশ্বর, তিনি সমুদ্র ও স্থল নির্ম্মাণ করিয়াছেন। তখন সেই লোকেরা অতিশয় ভীত হইয়া তাঁহাকে কহিল : তুমি এ কি কর্ম্ম করিয়াছ?? কেননা তিনি যে সদাপ্রভুর সম্মুখ হইতে পলাইতেছেন, ইহা তাহারা জ্ঞাত ছিল, কারণ তিনি তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন। পরে তাহারা তাহাকে বলিল : আমরা তোমাকে কি করিলে সমুদ্র আমাদের প্রতি ক্ষান্ত হইতে পারে?? কেননা সমুদ্র উত্তরোত্তর প্রচণ্ড হইয়া উঠিতেছিল। তিনি তাহাদিগকে কহিলেন : আমাকে ধরিয়া সমুদ্রে ফেলিয়া দাও, তাহাতে সমুদ্র তোমাদের পক্ষে ক্ষান্ত হইবে। কেননা, আমি জানি- আমারই দোষে তোমাদের উপরে এই ভারী ঝড় উপস্থিত হইয়াছে (যোনাহর পুস্তক, 1:1-12)।
লটারিতে হেরে যাওয়ায় ইউনূস (আ) কে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হল।
37:141 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি লটারিতে অংশ গ্ৰহণ করলেন এবং হেরে গেলেন।
37:142 নং আয়াহ : (সে কারণে তাকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হল) অতঃপর তাকে গিলে নিল একটি বৃহদাকার মাছ/ তিমি। তারপর তিনি নিজেকে ধিক্কার দিতে শুরু করলেন।
ইউনূস (আ) আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হন এবং প্রার্থনা করেন।
37:143 নং আয়াহ : অতঃপর যদি তিনি আল্লাহর পবিত্রতা [21:87, 68:48] বর্ণনা না করতেন,
37:144 নং আয়াহ : তাহলে তিনি অবশ্যই তার (মাছ/ তিমির) পেটে থেকে যেত [21:88] পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।
আল্লাহ ইউনূস (আ) কে মুক্তি দিলেন।
37:145 নং আয়াহ : অতঃপর তাকে আমরা নিক্ষেপ করলাম তৃণহীন প্রান্তরে [68:49] খুবই দুর্বল অবস্থায়।
শারীরিক ভাবে খুবই দুর্বল ব্যক্তির খাদ্য হল- শসা।
37:146 নং আয়াহ : এবং আমরা তার উপর একটি শসা গাছ উৎপন্ন করলাম (তাকে খেতে দেওয়ার জন্য) ।
ইউনূস (আ) কে পুনরায় নাবী মনোনীত করা হয়।
37:147 নং আয়াহ : এবং তাকে (আবারও) প্রেরণ করি এক লক্ষ বা তার চেয়ে বেশি মানুষের [68:50] কাছে (যেখান থেকে তিনি বিরক্ত হয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন)।
ইউনূস (আ) এর জাতি দ্বিতীয় বারে ইমান এনেছিল।
37:148 নং আয়াহ : এবং সত্য স্বীকার [10:98] করল। অতঃপর তাদেরকে ইহজীবন উপভোগ করতে দিলাম নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত [71:4, 63:10-11]।
# প্রথম বারে ইউনূস (আ) এর জাতি ইউনূস (আ) কে অস্বীকার করে, তাই রাগে, দুঃখে ও আল্লাহর প্রতি অভিমান করে ইউনূস (আ) ঐ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন।
নাবী (সা) এর যুগে ফেরেস্তাদেরকে ‛নারী’ গণ্য করা হোত।
37:149 নং আয়াহ : যাইহোক তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন তো- “আপনার প্রভুর জন্য কন্যা, আর তাদের জন্য পুত্র”??
ফেরেস্তাদেরকে ‛নারী’ গণ্য প্রসঙ্গে আল্লাহ যে জবাব দিলেন।
37:150 নং আয়াহ : অথবা আমরা ফেরেস্তাদেরকে নারী রুপে সৃষ্টি করেছি, তারা কি (ফেরেস্তা সৃষ্টির প্রক্রিয়া) দেখেছে [43:19]??
# ফেরেস্তাদের সৃষ্টি কখন ও কি থেকে ফেরেস্তাদের সৃষ্টি করা হয়েছিল?? ফেরেস্তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে ‛আলো’ থেকে (মুসলিম, হাদীশ 2996)। কখন, তাই তো?? Big bang এর পরক্ষণেই যে ‛ফোটন কণা’ (ফোটন হল আলোর কণা) সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকেই আল্লাহ ফেরেস্তাদের সৃষ্টি করেছেন। তারপর নক্ষত্রের আগুন থেকে জিনদের এবং গ্ৰহ সৃষ্টির পর তা থেকে মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে (15:26-27)।
37:151 নং আয়াহ : (সাবধান) নিশ্চয়ই তারা মনগড়া কথা বলছে যে,
আল্লাহ সন্তান জন্ম দেন নি।
37:152 নং আয়াহ : “আল্লাহ সন্তান [19:92] জন্ম দিয়েছেন”। কিন্তু নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী [6:101, 72:3, 43:81]
আল্লাহর দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ সমান।
37:153 নং আয়াহ : তিনি কি কন্যাদের পরিবর্তে পুত্রদের মনোনীত করেছেন??
# অর্থাৎ তিনি তো লিঙ্গ বৈষম্য করেন না। তিনি পুরুষ ও নারীকে একে অপরের সমান বলে ঘোষণা করেছেন 3:195 এ। তাহলে তোমরা কেন পুত্রদের পছন্দ কর?? তিনি তো কন্যাদের পরিবর্তে পুত্রদের মনোনীত করেন নি!
লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে আল্লাহ অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন।
37:154 নং আয়াহ : কি হয়েছে তোমাদের?? কেমন বিচার তোমাদের??
# অর্থাৎ তোমরা লিঙ্গ বৈষম্য কিভাবে করতে পার! অথচ নারী ও পুরুষ (3:195) একে অপরের সমান।
চিন্তা ভাবনা/ গবেষণায় উৎসাহ।
37:155 নং আয়াহ : তোমরা কি কখনও চিন্তা ভাবনা/ গবেষণা করবে না??
ফেরেস্তারা নারী, তা আল্লাহ প্রেরিত কোনও কিতাবে নেই।
37:156 নং আয়াহ : নাকি তোমাদের কাছে কোনও সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে??
প্রমাণ নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ।
37:157 নং আয়াহ : তাহলে নিয়ে এস তোমাদের সেই কিতাব [46:4], যদি হয়ে থাক সত্যবাদী!
জিনরা আল্লাহর আত্মীয় নয়, তাদেরও বিচার হবে।
37:158 নং আয়াহ : আর তারা তার (আল্লাহর) এবং জিনদের মধ্যে বংশীয় সম্পর্ক স্থির করেছে [6:100]। অথচ জিনরা জানে- নিশ্চয়ই তাদেরকে (বিচারের জন্য) উপস্থিত করা হবে [6:128]।
37:159 নং আয়াহ : আল্লাহ তা হতে পবিত্র, যা তারা (তার প্রতি) আরোপ করে [6:100]।
জিনরাও আল্লাহর বান্দা।
37:160 নং আয়াহ : তারা (জিনরা) আল্লাহর বান্দা ছাড়া ভিন্ন কিছু নয় [51:56]।
মিথ্যা ঈশ্বর গুলো ও তাদের উপাসক গুলো ব্যর্থ হবে।
37:161 নং আয়াহ : সুতরাং নিশ্চয়ই তোমরা ও তোমার যাদের [22:73, 14:36] উপাসনা কর [17:81, 26:94, 37:22], তারা-
শুধু জাহান্নামীকে আল্লাহ সম্পর্কে কাউকে ধোকা দেওয়া সম্ভব।
37:162 নং আয়াহ : তোমরা তার (আল্লাহর) সম্পর্কে কাউকে ধোকা দিতে পারবে না।
37:163 নং আয়াহ : তবে তাকে (ধোকা দিতে পারবে) যে জাহান্নামী হতে চায় [39:19]।
একজন মুসলিম যা ভাবে!
37:164 নং আয়াহ : আর (একজন মুসলিম যা ভাবে, তা হল) আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার দায়িত্ব নির্ধারিত নেই (এরমানে, প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে)।
সেই নির্ধারিত দায়িত্ব কি??
37:165 নং আয়াহ : এবং নিশ্চয়ই আমরা (নামাজে) সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকি।
37:166 নং আয়াহ : এবং নিশ্চয়ই আমরা (নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর) পবিত্রতা ঘোষণা করতে থাকি।
মাক্কাবাসীদের আজব দাবি।
37:167 নং আয়াহ : আর তারা (মক্কাবাসীরা) বলে বেড়ায়-
37:168 নং আয়াহ : যদি আমাদের কাছে পূর্ববর্তীদের কোনও সংবিধান/ বিধান টিকে [43:28, 74:52] থাকত,
37:169 নং আয়াহ : তাহলে আমরা অবশ্যই হতাম আল্লাহর একনিষ্ঠ/ বিশুদ্ধ বান্দা [6:157]।
37:170 নং আয়াহ : কিন্তু (যখন তাদের কাছে বিধান/ সংবিধান এল) তারা সত্য অস্বীকার করল, শীঘ্রই তারা (এর পরিণতি) জানতে পারবে [6:157]।
আল্লাহ তার রাসূলদের জন্য যা ঘোষনা করলেন।
37:171 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমাদের বান্দা ও প্রেরিত রাসূলদের জন্য এ কথা সত্য যে,
37:172 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তাদেরকে (আমাদের পক্ষ থেকে) সাহায্য করা হবে।
আল্লাহর বাহিনী বিজয়ী হওয়ার প্রতিশ্রুতি।
37:173 নং আয়াহ : আর (জেনে রেখ) নিশ্চয়ই আমাদের বাহিনীই বিজয়ী হবে [58:21, 3:139]।
যারা বুঝতে চায় না, তাদের জন্য আল্লাহর নির্দেশনা।
37:174 নং আয়াহ : সুতরাং কিছু সময়ের [23:54, 37:178] জন্য তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন [6:106]।
37:175 নং আয়াহ : আর তাদেরকে দেখতে থাকুন, তারাও খুব শীঘ্রই দেখতে [110:1-2] পাবে [9:32-33]।
37:176 নং আয়াহ : আচ্ছা তারা কি আমাদের শাস্তি সম্পর্কে তাড়াহুড়ো [6:67, 29:54, 51:59]করছে??
37:177 নং আয়াহ : অতঃপর যখন তা (শাস্তি) নেমে আসবে তাদের আঙিনায়। যাদের সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের সেই সকাল খুবই খারাপ হবে।
যারা বুঝতে চায় না, তাদের জন্য আল্লাহর নির্দেশনা।
37:178 নং আয়াহ : আর কিছু সময়ের [23:54, 37:174] জন্য তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন [6:106]।
37:179 নং আয়াহ : আর তাদেরকে দেখতে থাকুন, তারাও খুব শীঘ্রই দেখতে [37:175] পাবে।
ঈশ্বর হিসাবে সম্মান পাওয়ার দাবিদার শুধু আল্লাহ।
37:180 নং আয়াহ : (আর বলবেন) তা হতে পবিত্র আপনার প্রতিপালক, তারা (তার প্রতি) যা আরোপ। করে। কেননা, (ঈশ্বর হিসেবে তিনিই) ইজ্জত/ সম্মানের মালিক (১)।
১) অর্থাৎ মিথ্যা ঈশ্বর এবং মূর্তি গুলো সম্মান পাওয়ার দাবিদার হতে পারে না, আল্লাহই ইজ্জত/ সম্মানের মালিক (1:1)।
নাবী রাসূলদের জন্য পর ‛দরুদ’ পড়ার নির্দেশনা।
37:181 নং আয়াহ : এবং শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলদের উপর [37:79]।
মহাবিশ্ব একাধিক, অসংখ্য, অগণিত।
37:182 নং আয়াহ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, কেননা তিনি ‛মহাবিশ্ব সমূহের’ প্রতিপালক [45:36, 16:18, 17:99]।
zxfdvvzkojqsfirdfszdmjxrmvjnok